সংস্কার
মোফাজ্জল করিম
প্রকাশ : ০৩ নভেম্বর ২০২৪ ০৮:৩৩ এএম
মোফাজ্জল করিম
নাগরিক সেবা সুনিশ্চিত করা এবং সরকারের প্রশাসনিক কার্যক্রমে গতি আনতে জনপ্রশাসনে সংস্কার অত্যন্ত জরুরি। ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে দেশের পরিবর্তিত প্রেক্ষাপটে দায়িত্ব গ্রহণ করে অন্তর্বর্তী সরকার। দায়িত্ব গ্রহণের পরই সরকার নানামুখী সংস্কারের উদ্যোগ নিয়েছে। তার অংশ হিসেবেই সরকারের তরফে প্রশাসনিক সংস্কারেও আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। জনমুখী, জবাবদিহিমূলক, দক্ষ ও নিরপেক্ষ জনপ্রশাসনব্যবস্থা গড়ে তোলার লক্ষ্যে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ ইতোমধ্যে জনপ্রশাসন সংস্কার কমিশনও গঠিত হওয়ার প্রজ্ঞাপন জারি করেছে। ৩ অক্টোবর কার্যক্রম শুরু করা কমিশনে এরই মধ্যে আরও কয়েকজন সদস্য অর্ন্তভুক্ত হয়েছেন। কমিশন ৯০ দিনের মধ্যে তাদের প্রস্তুতকৃত প্রতিবেদন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টার কাছে হস্তান্তর করবে।
সরকার প্রশাসনিক
সংস্কার কার্যক্রম শুরু করলেও মনে হচ্ছে প্রশাসনিক সংস্কারের ক্ষেত্রে তারা এখনও কিছুটা
সিদ্ধান্তহীনতায় ভুগছে। সাম্প্রতিক সময়ে প্রশাসনে গৃহীত কিছু সিদ্ধান্ত থেকে বিষয়টি
পরিষ্কার হয়। সংবাদমাধ্যমের খবরেই আমরা দেখছি, সচিব পদে ঘন ঘন পরিবর্তন আনা হচ্ছে।
একটি মন্ত্রণালয়ে একজন সচিবকে দায়িত্ব দেওয়ার অল্প সময়ের ব্যবধানেই তাকে সরিয়ে দেওয়া
হচ্ছে, কখনও মন্ত্রণালয় পরিবর্তন করা হচ্ছে, এমনকি বাধ্যতামূলক অবসরেও পাঠানো হয়েছে
কাউকে কাউকে। আবার কিছু কিছু মন্ত্রণালয়ের সচিবের পদ এখনও শূন্য রাখা হয়েছে। শুধু তাই
নয়, সংবাদমাধ্যমেরই খবরÑ এখনও দেশের কয়েকটি জেলার জেলা প্রশাসনের পদও শূন্য রয়েছে।
প্রশাসনিক কার্যক্রমের নিয়মিত অংশ হিসেবে বিভিন্ন জেলায় জেলা প্রশাসক পদে রদবদল এবং
মাঠ থেকে কাউকে কাউকে তুলে আনা হলেও অনেক জেলায়ই মাঠ পর্যায়ের গুরুত্বপূর্ণ এ পদটি
পূর্ণ করা হয়নি। এমন বেশ কিছু বিষয় থেকে ধারণা করা যায় প্রশাসনিক বিষয়ে সরকারের সিদ্ধান্তহীনতার
বিষয়টি।
মূলত রাজনৈতিক
পট পরিবর্তনে স্থানীয় সরকার কাঠামো অনেকটাই ভেঙে পড়ে। সে অবস্থা থেকে ঘুরে দাঁড়িয়ে
প্রশাসনে গতি আনার দায়িত্ব অন্তর্বর্তী সরকারের। মাঠ প্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ পদ উপজেলা
নির্বাহী কর্মকর্তা এবং জেলা প্রশাসক। উপজেলা এবং জেলায় তারাই সরকারের পক্ষে প্রশাসনিক
দায়িত্ব পালন করেন। এখন মাঠ প্রশাসনে সরকারের সর্বোচ্চ কর্মকর্তার পদই যদি শূন্য থাকে,
তাহলে পদ শূন্য থাকা নির্দিষ্ট এলাকার প্রশাসনিক কার্যক্রমে স্থবিরতা আসতে বাধ্য। সেসব
স্থানে প্রশাসনিক কার্যক্রম গতিশীল করাও কঠিন।
সচিব, জেলা প্রশাসকসহ
বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিদের স্বচ্ছতা, সততা ও জবাবদিহির ওপর প্রশাসনিক
কাঠামোর গতিশীলতা নির্ভরশীল। বিগত সরকারের আমলে প্রশাসনিক গুরুত্বপূর্ণ পদে নিয়োগ কিংবা
পদায়নে রাজনৈতিক বিবেচনাই গুরুত্ব পেয়েছে বেশি, এমন অভিযোগ অনেক আগে থেকেই আলোচনায়
ছিল। অথচ প্রশাসনিক গুরুত্বপূর্ণ পদে কাউকে নিয়োগ দেওয়ার ক্ষেত্রে রাজনৈতিক বিবেচনার
চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ওই ব্যক্তির সততা, স্বচ্ছতা ও দায়িত্বনিষ্ঠ হওয়ার বিষয়গুলো এবং এসব
দিক যাচাই করা আবশ্যক। কিন্তু বিগত পনেরো বছরে এ বিষয়গুলো উপেক্ষিতই থেকেছে। এজন্য
প্রশাসনিক পর্যায়ে প্রশ্নবিদ্ধ অনেক ব্যক্তিও পদোন্নতি পেয়েছেন। এ ধরনের নিয়োগের ফলে
হারিয়ে যেতে বসেছিল প্রশাসনিক কাঠামোর স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতা। অন্তর্বর্তী সরকারের
হাতে সুযোগ এসেছে ওই সংকট থেকে বেরিয়ে আসার। একজন কর্মকর্তা তার কর্মদক্ষতা ও যোগ্যতার
ভিত্তিতে পদায়ন পাবেন, পদোন্নতি পাবেন এবং দায়িত্ব পাওয়ার পরও তাকে প্রতিনিয়ত জবাবদিহির
আওতায় রাখতে হবে।
প্রশাসনে সংস্কার
করতে হলে এ বিষয়গুলোর প্রতি সর্বাধিক গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন। পদায়ন এবং পদোন্নতির ক্ষেত্রে
সততা, কর্মদক্ষতা ও নিরপেক্ষতাÑ এ তিনটি গুণ সামনে রাখতে হবে। আমরা দেখেছি, অতীতে প্রশাসনে
এ তিনটি গুণের ভিত্তিতে পদায়ন না দেওয়ায় যে সংকটের সূচনা হয়েছিল, তাতে প্রশাসনিক স্থবিরতাও
দেখা গেছে। বর্তমান সরকারকে এ বিষয়গুলোর প্রতি যথাযথ নজর দিয়েই সংস্কার কার্যক্রমের
দিকে এগোতে হবে। এ ক্ষেত্রে ঢালাওভাবে পরিবর্তন নয় বরং প্রশাসনের স্থিতিশীলতা ধরে রাখার
প্রয়োজনেই দক্ষতা, যোগ্যতা ও সততাকে মাপকাঠি করতে হবে। সচিব ও জেলা প্রশাসকসহ সরকারের
কোনো পদেই যেন কোনো ধরনের দলীয়করণ কিংবা রাজনৈতিক প্রভাব স্পর্শ না করে সে দিকটিও নিশ্চিত
করতে হবে। ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের মাধ্যমে যে সংস্কারের প্রতি মানুষ আগ্রহী, সেই
জনআকাঙ্ক্ষাকে গুরুত্ব দিয়ে পক্ষপাতদুষ্ট প্রশাসনিক ব্যবস্থা থেকে বেরিয়ে আসার সময়
এসেছে। এ ক্ষেত্রে সততা, যোগ্যতা, দক্ষতা এবং প্রশাসনে দায়িত্বরত ব্যক্তির অভিজ্ঞতাকে
মাপকাঠি হিসেবে বিচার করে বাছাইয়ে মনোযোগ দিলেই সমস্যার অনেকাংশেই সমাধান সম্ভব। ফলপ্রসূভাবে
প্রশাসনে একদিকে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনা এবং অন্যদিকে কাজের গতিশীলতা সমান্তরালভাবে
কীভাবে নিশ্চিত করা যায় সে বিষয়েও ভাবতে হবে।
প্রশাসনে অনেক
কর্মকর্তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন সময়ে নানা অভিযোগ উঠেছে। আমরা দেখেছি, অতীতে অভিযোগ উঠলেও
তা যথাযথভাবে তদন্ত হয়নি, অভিযুক্ত ব্যক্তির শাস্তি নিশ্চিত হয়নি, যা প্রশাসনিক শৃঙ্খলা
বজায় রাখার পথে অন্তরায় হিসেবেই চিহ্নিত। তাই দায়িত্ব পালনকালে যারা প্রশাসনিক কার্যক্রমে
গাফিলতি, অনিয়ম-দুর্নীতির আশ্রয় নিয়েছিলেন তাদের চিহ্নিত করে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিতে
হবে। ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা থেকে বলতে পারি, অনেক সময় প্রশাসনে কোনো কর্মকর্তার বিরুদ্ধে
অভিযোগ উঠলে অভিযোগপত্র গঠন, তদন্ত কার্যক্রম শুরু হলেও সেখানে বড় বাধা হয়ে দাঁড়ায়
দীর্ঘসূত্রতা; যা প্রশাসনে অনিয়ম-দুর্নীতি বন্ধে সুশাসনের যাত্রা প্রলম্বিত করে, ন্যায়বিচারের
প্রত্যয় অনেক সময় মুখ থুবড়ে পড়ে। তাই যদি কোনো কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অনিয়ম-দুর্নীতির
অভিযোগ ওঠে, তাহলে সুনির্দিষ্ট এবং যৌক্তিক সময়ের মধ্যেই তদন্ত কার্যক্রম শেষ করে অপরাধ
প্রমাণসাপেক্ষে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। প্রশাসনে সুশাসন প্রতিষ্ঠার
ক্ষেত্রে অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে খতিয়ে দেখে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার
মাধ্যমেই প্রশাসনে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি ফিরিয়ে আনা এবং গতিশীল করা সম্ভব। যদি তা না
করা যায়, তাহলে প্রশাসনে সুশাসন প্রতিষ্ঠা কঠিন হয়ে পড়বে।
প্রশাসনিক সংস্কারের
বিষয়ে বিভিন্ন সময় আলোচনা হয়েছে। যে ধরনের আইনকানুন ও বিধিমালার ভিত্তিতে সরকার প্রশাসন
পরিচালনা করছে তা ইতিবাচক দৃষ্টিকোণে দেখা প্রয়োজন। তবে সেই সঙ্গে প্রশাসনে গতিশীলতা
ও কাঠামোর স্থিতিশীলতা আনতেও কার্যকর এবং সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা থাকা জরুরি। প্রশাসনিক
কাঠামোর দায়িত্বশীল ব্যক্তিরা সংস্কারের ক্ষেত্রে বড় চালক বলেই বিবেচিত হন। তবে এ কথা
মনে রাখা জরুরি, সংস্কার কোনো স্থায়ী ব্যবস্থা নয়। সময়ের সঙ্গে সঙ্গতি রেখে বিদ্যমান
কাঠামোয় পরিবর্তন আনাই সংস্কার। সংস্কারেরও গতিশীলতা রয়েছে। বর্তমানে অন্তর্বর্তী সরকার
যে ব্যবস্থা তৈরি করবে সে ব্যবস্থা আগামী ১০ বছর পর সময়ের তাগিদে পাল্টানোর প্রয়োজন
দেখা দিতে পারে। প্রশাসনিক সংস্কার একবার করলেই সুশাসন নিশ্চিত হবে এমনটি ভাবলে ভুল
হবে। বরং এ সংস্কার কার্যক্রমের ধারাবাহিকতা যেন থাকে সে পথযাত্রার নির্দেশনাও থাকতে
হবে। সংস্কারের ক্ষেত্রে প্রশাসনকে দলীয়করণ কিংবা রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত করার বিষয়টিও
ব্যাপক আলোচনায় এসেছে। কাজটি কঠিন নয়। এ ক্ষেত্রে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্বে যারা
থাকবেন তারা পক্ষপাতিত্বকে ঠাঁই দেবেন না। যখন তারা রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব নেন
তখন শপথ পাঠ করেন। সেখানে তারা পক্ষপাতদুষ্ট সিদ্ধান্ত পরিহারের প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত
করেন। কিন্তু বিষয়টিকে আনুষ্ঠানিকতাসর্বস্ব ভাবলে হবে না। বরং রাষ্ট্রের কল্যাণকামিতার
বিষয়টিই স্থির প্রতিজ্ঞা হিসেবে লালন করতে হবে।
প্রশাসনকে তার
নিয়ম অনুসারে চলতে দিতে হবে। প্রশাসনে পদায়ন, পদোন্নতি বা গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তের
ক্ষেত্রে পূর্বোল্লিখিত বিষয়গুলোর যথাযথ প্রতিপালনের মধ্য দিয়েই নীতিনির্ধারকদের মধ্যে
প্রশাসনে সুশাসন প্রতিষ্ঠার বিষয়ে দেওয়া প্রতিশ্রুতির প্রতিফলন ঘটবে। প্রশাসনে বড় ধরনের
দলীয়করণের সূত্রপাত ঘটে ১৯৯৬ সালে। ওই সময় আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় ফেরার পর প্রশাসনের
তথাকথিত চৌকশ ও উচ্চাভিলাষী কিছু কর্মকর্তা রাজনৈতিক অনুকম্পা ও আশ্রয়প্রশ্রয় পাওয়ার
চেষ্টা শুরু করেন। ‘জনতার মঞ্চ’ গড়ে প্রশাসনিক শৃঙ্খলা ও ঐতিহ্য সম্পূর্ণরূপে ভেঙে
ফেলার কুনজির স্থাপন করেন। তারা রাজনৈতিক সুবিধা আদায়ের জন্য রাজনৈতিক দল ও রাজনীতিবিদদের
সঙ্গে আঁতাত করায় আমাদের প্রশাসনিক সংস্কৃতিতে রাজনৈতিক প্রভাব আস্তে আস্তে জেঁকে বসে।
গোটা উপমহাদেশের প্রশাসনিক ইতিহাসে এটি বিরল ঘটনা। কারণ ব্রিটিশ আমল, পাকিস্তান আমল
এমনকি স্বাধীনতার পরবর্তী দুই দশকেও প্রশাসন রাজনৈতিক দলের সঙ্গে আঁতাত করেনি। প্রশাসন
তার স্বাভাবিক গতিতেই এগিয়েছে। সামান্য কিছু রাজনৈতিক স্বার্থসিদ্ধির জন্য প্রশাসন
ক্ষমতাসীন দলের প্রতি আনুগত্য দেখায়নি। এমনটি দেশের জন্যও কল্যাণকর নয়।
দেশে এখন পরিবর্তনের
যে ছোঁয়া লাগতে শুরু করেছে এবং এই প্রেক্ষাপটে আগের এ অবস্থা থেকে বেরিয়ে আসতে কার্যকর
পদক্ষেপ নেওয়া বাঞ্ছনীয়। এজন্য প্রশাসনকে দলীয়করণের চেষ্টা করলে আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে
হবে, সে যে-ই হোন না কেন। প্রশাসনিক কর্মকর্তার ক্ষেত্রে প্রশাসনিক নিয়ম অনুসারে এবং
রাজনৈতিক দলের নেতার ক্ষেত্রে দলীয় সিদ্ধান্তের মাধ্যমে প্রতিবিধান নিশ্চিত করতে হবে।
রাজনৈতিক সদিচ্ছা থাকলেই প্রশাসন দলীয়করণ কিংবা রাজনীতির প্রভাবমুক্ত করা সম্ভব। প্রশাসন
দলীয়করণ কিংবা রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত করা না গেলে ন্যায়বিচার কিংবা জনসেবা পাওয়া সম্ভব
হবে না।
সংবাদমাধ্যমের
বরাতেই আমরা জেনেছি, অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রশাসনের নানা স্তরে শৃঙ্খলাভঙ্গের
ঘটনা ঘটেছে। হঠাৎই যেন প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরের কিছু কর্মকর্তা স্বাধীন হয়ে গেছেন।
অর্থাৎ জবাবদিহির বিষয়টি তারা তোয়াক্কা করছেন না। প্রশাসনে ‘যা খুশি তাই’ এমন আচরণ
বরাবরই অকল্পনীয়, অচিন্তনীয়। এমনটি চললে প্রশাসনিক কার্যক্রম পুরোপুরি ব্যাহত হবে।
প্রশাসনের প্রত্যেক অংশীজনেরই কিছু দাবিদাওয়া থাকতে পারে। নিয়মতান্ত্রিক পথে তার সমাধানও
রয়েছে। সম্প্রতি আমরা আনসার-ভিডিপিসহ সরকারি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত আউটসোর্সিং কর্মকর্তাদের
আন্দোলন প্রত্যক্ষ করেছি। জেলা প্রশাসক নিয়োগ নিয়েও একশ্রেণির কর্মকর্তার শৃঙ্খলাবহির্ভূত
কর্মকাণ্ডের কথা সংবাদমাধ্যমে এসেছে। এ রকম অনেক ক্ষেত্রেই যে ত্রুটি লক্ষ করা গেছে
তা হলো, কোনো ক্ষেত্রেই সরকার কঠোর ব্যবস্থা নেয়নি। দাবিদাওয়ার যৌক্তিকতার বিষয়টি
সরকার অবশ্যই বিবেচনা করবে, কিন্তু সে দাবিদাওয়া উপস্থাপন করতে গিয়ে যদি কেউ শৃঙ্খলাভঙ্গ
করে, তাহলে তার বা তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতেই হবে।
অন্তর্বর্তী সরকার এসব দাবিদাওয়ার আন্দোলনে শৃঙ্খলাভঙ্গের বিষয়ে তেমন পদক্ষেপ না নেওয়ায় প্রশাসনের বিভিন্ন গোষ্ঠী একের পর এক আন্দোলন করার অন্যায় সুযোগ নিয়েছে; যা সরকারের স্বাভাবিক কাজে যেমন প্রতিবন্ধকতা বাড়িয়েছে, তেমন জনদুর্ভোগও বাড়িয়েছে। ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের পর যে আদর্শের মঞ্চে এ সরকার গঠিত হয়েছে, সেখানে এমন সিদ্ধান্তহীনতা দুঃখজনক। প্রশাসনে শৃঙ্খলার বিচ্যুতি যেন না ঘটে সেজন্য অবশ্যই সরকারকে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হবে। প্রশাসনে যেন শৃঙ্খলাভঙ্গ না হয় সেজন্য সরকারকে সজাগ-সতর্ক ও কঠোর থাকতে হবে।