প্রজন্মের ভাবনা
ইতি পারভীন
প্রকাশ : ০১ নভেম্বর ২০২৪ ১৪:৫৩ পিএম
আপডেট : ০১ নভেম্বর ২০২৪ ১৫:১৮ পিএম
শিশুদের চিন্তা, যুক্তি, সমস্যা সমাধান এবং সৃজনশীলতার ক্ষমতা উন্নয়নের প্রক্রিয়ার জন্য সুষ্ঠু পরিবেশ তৈরিতে অভিভাবকের দায়িত্ব অপরিসীম। শিশুর বিকাশের পর্যায় শুরু জন্মের পরই। শিশু ছোটবেলা থেকেই বিভিন্ন অভিজ্ঞতা, শিক্ষা ও পরিবেশের মাধ্যমে প্রভাবিত হয়। শিশুর মেধা বিকাশে খেলা, শিক্ষামূলক কার্যক্রম ও সামাজিক সম্পর্কের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সমাজের যেকোনো পরিবর্তন বা অস্থিতিশীলতা শিশুর বিকাশে বড় প্রতিবন্ধকতা তৈরি করে। দেশে বিদ্যমান সামাজিক ও রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা এবং অপরিকল্পিত নগরায়ণসহ নানা কারণে শিশুর মেধার বিকাশ বাধার সম্মুখীন হচ্ছে। অপর্যাপ্ত শিক্ষা, স্কুলের মান, শিক্ষক এবং শিক্ষাসামগ্রী যদি পর্যাপ্ত না হয়, তবে শিশুর শেখার ক্ষেত্রে সমস্যা সৃষ্টি হয়।
পারিবারিক পরিবেশও শিশুর মেধা বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। যদি পরিবার শিশুর প্রতি সহানুভূতিশীল না হয়, তাহলে শিশুর মেধার বিকাশ বাধাগ্রস্ত হতে পারে। শারীরিক ও মানসিক অসুস্থতা এবং আর্থিক সংকটের কারণে শিশুরা প্রয়োজনীয় শিক্ষা উপকরণ ও সুযোগ থেকে বঞ্চিত হতে পারে। সহিংসতা বা নির্যাতনের পরিবেশ শিশুর বিকাশে নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। এমনকি শিশুর চাহিদা তার সময় অনুসারে পরিবর্তিত হয়। বাবা-মা তাদের ভাবমূর্তি শিশুর ওপর চাপিয়ে দিতে গেলে অনেক ক্ষেত্রেই নেতিবাচক ফল পাওয়া যায়। প্রযুক্তির ওপর ব্যাপক নির্ভরশীলতা আমাদের শিশুদের মেধার বিকাশে নতুন সম্ভাবনা নিয়ে এসেছে। অনলাইন শিক্ষা ও শিক্ষামূলক অ্যাপ্লিকেশন ব্যবহার করে শিশুরা নতুন কিছু শিখতে পারছে। ভালো মানসিক স্বাস্থ্য শিশুর সৃজনশীলতা ও সমস্যা সমাধানের দক্ষতা বাড়ায়। শিশুদের আবেগের ভিত্তিতে শিক্ষা পদ্ধতি এবং সামাজিক ও আবেগীয় দক্ষতার বিকাশ শিশুর সামগ্রিক মেধার উন্নতিতে সহায়ক।
শিশুর মেধা বিকাশের জন্য আমাদের করণীয় ব্যাপক। নিয়মিত বই পড়া এবং গল্প শোনার মাধ্যমে তাদের কল্পনা ও দক্ষতা বাড়ানো যায়। ব্লক, চিত্রাঙ্কন দেওয়ার মাধ্যমে সৃজনশীলতা এবং সমস্যা সমাধানের দক্ষতা বিকাশে সাহায্য করা সম্ভব। প্রকৃতির প্রতি শিশুদের আকর্ষণ বাড়াতে পার্কে নিয়ে যাওয়া এবং গাছপালা ও প্রাণী সম্পর্কে শেখানো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সংগীত ও নৃত্যের মাধ্যমে মস্তিষ্কের বিকাশ ও শারীরিক সক্ষমতা বৃদ্ধি পায়। অন্যান্য শিশুর সঙ্গে খেলাধুলা ও সামাজিক সুযোগ তৈরির মাধ্যমে শিশুরা নিজেদের দক্ষতা বৃদ্ধি করতে পারে। শিশুদের প্রশ্নের উত্তর দিতে এবং নতুন কিছু জানতে উৎসাহিত করতে হবে, যাতে তারা স্বাধীনভাবে শিখতে পারে।
অন্য শিশুদের সঙ্গে খেলাধুলা এবং সামাজিকীকরণের মাধ্যমে তাদের সামাজিক দক্ষতা ও আবেগগত বুদ্ধিমত্তা বৃদ্ধি পায়। শিশুদের অগ্রগতি ও দুর্বলতা মূল্যায়ন করে তাদের প্রয়োজন অনুযায়ী সমর্থন দেওয়া জরুরি। মোবাইল ও টেলিভিশনের ব্যবহার সীমিত রাখা এবং ডিজিটাল মাধ্যমের জন্য নির্দিষ্ট সময় ঠিক করে দেওয়া উচিত। শিশুর মানসিক ও শারীরিক স্বাস্থ্য, সঠিক খাদ্য, ঘুম ও শারীরিক ক্রিয়াকলাপের প্রতি মনোযোগ দেওয়া শিশুর মেধার বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এ উদ্যোগগুলো একত্র হয়ে শিশুদের মেধার বিকাশে এক নতুন সূর্যের আলো ছড়াবে। একটি সমৃদ্ধিশালী ও সৃজনশীল আগামী গঠনের জন্য আসুন আমরা আমাদের দায়িত্ব পালন এবং শিশুর মেধার বিকাশে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করি। শিশুরা আমাদের আগামীর অমূল্য রত্ন; তাদের বিকাশে আমাদের সবারই অবদান রাখা উচিত।
শিক্ষার্থী, মনোবিজ্ঞান বিভাগ
রাজশাহী কলেজ