× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

সম্পাদকীয়

শিশুর স্বাস্থ্য সুরক্ষায় গুরুত্ব দিন

সম্পাদকীয়

প্রকাশ : ৩১ অক্টোবর ২০২৪ ০৮:১৯ এএম

শিশুর স্বাস্থ্য সুরক্ষায় গুরুত্ব দিন

মার্কিন কবি-শিক্ষাবিদ হেনরি ওয়ার্ডসওয়ার্থ লংফেলো বলেছিলেন, ‘প্রত্যেকটি শিশুই নতুন করে পৃথিবী শুরু করে।’ আর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ৩১তম প্রেসিডেন্ট হার্বার্ট হুভার বলেন, ‘শিশুরা আমাদের সবচেয়ে মূল্যবান সম্পদ।’ শিশুদের নিয়ে এমন গুরুত্বপূর্ণ উক্তি আরও অনেকেই করেছেন। কিন্তু আজকের শিশু যারা ভবিষ্যতের কর্ণধার তারা গুরুতর স্বাস্থ্যঝুঁকি নিয়ে বেড়ে উঠছেÑ এই বার্তা শুভবোধসম্পন্ন যেকোনো মানুষকে উদ্বিগ্ন না করে পারে না। এনভায়রনমেন্ট অ্যান্ড সোশ্যাল ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশনের (এজডোর) গবেষণায় দেখা গেছে, শিশুদের দৈনন্দিন ব্যবহৃত পণ্য ও খেলনায় উচ্চমাত্রায় সিসাসহ বিষাক্ত রাসায়নিক পদার্থ পাওয়া গেছে। এসব রাসায়নিক সরাসরি প্রভাব ফেলছে শিশুস্বাস্থ্যে। ‘দ্য সাইলেন্ট পয়জন : ট্রেসেস অব লেড ইন চাইল্ডহুড ট্রেজার্স’ শীর্ষক গবেষণা এজডর ২০১৩ সাল থেকে ধারাবাহিকভাবে করে আসছে। সংস্থাটির নির্বাহী পরিচালক বলেছেন, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে, রক্তে সিসার কোনো নিরাপদ মাত্রা নেই। যেকোনো পরিমাণে সিসা শরীরের জন্য ভয়াবহ ক্ষতিকর, শিশুদের ক্ষেত্রে তা আরও বেশি ক্ষতিকর। অথচ শিশুর ব্যবহৃত ৫৯ শতাংশ পণ্যে উচ্চমাত্রায় সিসা রয়েছে। ৩০ অক্টোবর প্রতিদিনের বাংলাদেশ-এ এজডোর এই গবেষণা প্রতিবেদন উপস্থাপিত হয়েছে। ২৯ অক্টোবর রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে আয়োজিত এক সেমিনারে এজডোর তাদের গবেষণা প্রতিবেদন উপস্থাপন করে।

ফিডার, মগ, খেলনাসহ শিশুর ব্যবহৃত নানা উপকরণে সিসাসহ বিষাক্ত রাসায়নিকের যে উপস্থিতি পাওয়া গেছে তা শিশুস্বাস্থ্য তো বটেই, সামগ্রিকভাবে জনস্বাস্থ্যের জন্যও চরম হুমকি। দেখা গেছে, রাসায়নিক পদার্থমুক্ত নয় আমদানি করা কোনো খেলনাই। গবেষকরা ২৫০টি নমুনার ওপর পরীক্ষা করে দেখেছেন, শিশুস্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর পদার্থ রয়েছে প্লাস্টিকজাত পণ্য ও ধাতব পদার্থে। শিশুরা পুতুল বা যেকোনো ধরনের খেলনা পছন্দ করতেই পারে এবং এটাই তাদের স্বভাবজাত বৈশিষ্ট্য। কিন্তু এই খেলনাগুলোই শিশুর যাপিত জীবন ও ভবিষ্যতের জন্য চরম ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে অদৃশ্য হুমকি থেকে মুক্ত করতে এ ব্যাপারে দায়িত্বশীল সব পক্ষকে অনতিবিলম্বে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া অত্যন্ত জরুরি। গবেষণা প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, দেশের একটি নামকরা শপিং মল থেকে সংগ্রহ করা একটি পুতুল সেটে ৫০০ পিপিএম সিসা পাওয়া গেছে, যা প্রমাণ করে উচ্চমানের পণ্যও সিসা থেকে মুক্ত নয়। একটি বর্ণমালা সেটের উজ্জ্বল অক্ষরে ৬৬০ পিপিএম সিসা পাওয়া গেছে। সংবাদমাধ্যমে জানা গেছে, শিশুদের সুরক্ষায় এ অঞ্চলের দেশ ভারত, নেপাল, শ্রীলঙ্কা ও দূরান্তের দেশ অস্ট্রেলিয়ায় এসব পণ্যে সিসার পরিমাণ নির্ধারণ করেছে। আমাদের দেশে এ নিয়ে কোনো আইন নেই।

শিশুদের পণ্যে ক্ষতিকর রাসায়নিকের উপস্থিতি সামগ্রিকভাবে কতটা গুরুতর জনস্বাস্থ্যঝুঁকি এ নিয়ে ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণ নিষ্প্রয়োজন। ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে সুরক্ষার পরিবর্তে কতটা অরক্ষিত রাখা হয়েছে, তা এই গবেষণা প্রতিবেদনটি স্পষ্ট করে দিয়েছে। যে খেলনা বা শিশুসামগ্রী তাদের স্বাস্থ্য ও মানসিক বিকাশের ওপর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ফেলছে, বিষয়টি কোনোভাবেই উপেক্ষণীয় থাকতে পারে না। নিরাপদভাবে শিশুদের বেড়ে ওঠার পরিবেশ নিশ্চিত করার দায় সরকার এড়াতে পারে না। আমরা জানি, দেশে সিসাযুক্ত রঙ আমদানি আইনিভাবে নিষিদ্ধ। কিন্তু কীভাবে এসব রঙ শিশুদের খেলনা ও ব্যবহার্য পণ্যে মিশছে, তা অনুসন্ধানে সরকার ও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোকে অবশ্যই মনোযোগ গভীর করতে হবে। আমরা মনে করি, এ ব্যাপারে রাষ্ট্রীয়ভাবে আমদানি নীতিমালা প্রণয়নের পাশাপাশি সর্বস্তরের মানুষের মধ্যে সচেতনতা সৃষ্টির বহুমুখী জোরদার প্রয়াস চালানো জরুরি। তা ছাড়া যেসব খেলনা বা সামগ্রীতে এ ধরনের ক্ষতিকর বিষাক্ত ধাতুর উপস্থিতি রয়েছে, সেসব আমদানি বন্ধ করা প্রয়োজন। শিক্ষাসামগ্রী হিসেবে ব্যবহৃত প্লাস্টিকসামগ্রীগুলো শিশুর স্কুলব্যাগ পর্যন্ত বিষিয়ে তুলছে এবং বিরূপ প্রভাব শিশুদের স্বাস্থ্যের জন্য আরও ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। কোন পরিস্থিতিতে ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে ঠেলে দেওয়া হচ্ছে?

আমরা দেখছিÑ চিপস, চকলেট, ওয়েফারসহ নানা ধরনের প্যাকেটজাত শিশুখাদ্যের মধ্যে এমন কিছু খেলনা শিশুদের আকর্ষণ করতে দেওয়া হয়। বাজারে বিভিন্ন কোম্পানির নানা রকমের শিশুখাদ্য রয়েছে এবং এগুলোর বিক্রি বাড়াতে এর সঙ্গে বিভিন্ন সময় যে খেলনা দেওয়া হচ্ছে, নানা মাধ্যমে এর বিজ্ঞাপনও প্রচারিত হয়। দেশি-বিদেশি প্রায় সব শিশু খাদ্যপণ্যের ক্ষেত্রেই এ ধরনের ঘটনা ঘটছেÑ এই তথ্যও নিকট অতীতে আরেকটি গবেষণা প্রতিবেদনে উঠে এসেছিল। শিশুদের অধিকাংশ খেলনা তৈরি হয় প্লাস্টিক থেকে এবং এগুলো আকর্ষণীয় করতে যে ধরনের উপকরণ ব্যবহৃত হয়, তা বিষ ছাড়া কিছু নয়। আমরা জানি, এই প্রেক্ষাপটেই শিশুদের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় খেলনায় রাসায়নিক পদার্থের ব্যবহার নিষিদ্ধ করতে ইউরোপীয় ইউনিয়ন আইন প্রণয়নের পদক্ষেপ নেয়। শিশুদের মস্তিষ্ক পূর্ণাঙ্গভাবে বিকাশের আগেই রাসায়নিক পদার্থ-সংমিশ্রিত নানা ধরনের খেলনার সংস্পর্শে এসে তারা যে স্বাস্থ্যঝুঁকির মুখে পড়ছে, এ নিয়ে উদাসীন থাকার অবকাশ আছে বলে আমরা মনে করি না। নিকট অতীতে সংবাদমাধ্যমে এ সম্পর্কে সতর্কবার্তা প্রকাশিত-প্রচারিত হওয়ার পরও এ ব্যাপারে কার্যকর পদক্ষেপ দেখতে না পাওয়ায় আমরা বিস্মিত, যুগপৎ উদ্বিগ্ন।

আমরা জানি, আমাদের বাজার ভেজাল খাদ্যপণ্যে সয়লাব। এখন দেখা যাচ্ছে শুধু শিশু খাদ্যপণ্যই নয়, শিশুদের ব্যবহার্য জিনিসপত্র কিংবা খেলনাসামগ্রীতে ক্ষতিকারক রাসায়নিকের উপস্থিতি রয়েছে এবং এ ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীল কোনো মহলেরই শিরঃপীড়া পরিলক্ষিত হচ্ছে না। আমরা মনে করি, এই উদাসীনতা চরম আত্মঘাতের শামিল। ভবিষ্যৎ প্রজন্মের স্বাস্থ্য চরম ঝুঁকির মধ্যে রেখে আমরা আরও কী ভয়াবহ বিপজ্জনক পরিস্থিতির সৃষ্ট হওয়ার পথ করে দিচ্ছি, তা ভাবলে বিস্ময় জাগে। সার্বিক পরিস্থিতি বিশ্লেষণে বলা যায়, আমরা আমাদের পরবর্তী প্রজন্মকে যে অবস্থায় রেখেছি এর ভবিষ্যৎ পরিণতি অত্যন্ত ভয়ংকর। রাষ্ট্রীয় উদাসীনতা কিংবা প্রয়োজনীয় পদক্ষেপে ঘাটতির পাশাপাশি পারিবারিক ক্ষেত্রেও সচেতনতার যথেষ্ট অভাব পরিলক্ষিত হয়। দেখা যাচ্ছে, শিশুর স্বাস্থ্য বিকাশে অন্তরায় এমন অনেক কিছু ঘটছে পরিবারের সদস্যদের মাধ্যমেই অজ্ঞতা কিংবা অসচেতনতার কারণে। শিশুর খেলনা বা অন্য সামগ্রী নিয়ে গবেষণায় যে তথ্য উঠে এসেছে এর পর সরকারসহ সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীল কোনো পক্ষেরই আর উদাসীন থাকা কিংবা সময়ক্ষেপণের অবকাশ আছে বলে আমরা মনে করি না।  একই সঙ্গে এ ব্যাপারে সমাজ ও পরিবারের প্রতিনিধিদেরও কাঙ্ক্ষিত ভূমিকা পালন করতে হবে। শিশুদের মানসিক ও শারীরিক বিকাশে খেলা অত্যন্ত জরুরি। তাই তাদের খেলনাসহ ব্যবহার্য সামগ্রী নিরাপদ করতেই হবে। 

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা