মো. নাহিয়ান হোসেন
প্রকাশ : ১১ অক্টোবর ২০২৪ ১৪:৪১ পিএম
শিক্ষা জীবনের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। শিক্ষার্থীর জীবনে মূল্যবোধ, জ্ঞান ও দক্ষতা গঠনে বড় ভূমিকা পালন করেন একজন শিক্ষক। তবে শিক্ষার্থীর পাঠে অমনোযোগিতা, শিক্ষকদের মানসিক অবস্থা, শ্রেণিকক্ষের বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে শিক্ষা দান করা ক্রমে কঠিন হয়ে উঠছে। শিক্ষার্থীদের মানসিক অস্থিরতা আজকের দিনে গুরুতর শিক্ষা ও সামাজিক সমস্যা হিসেবে বিবেচিত। প্রযুক্তির সহজলভ্যতা, সমাজমাধ্যমের প্রভাব, প্রতিযোগিতামূলক শিক্ষাব্যবস্থা (শিক্ষার্থীর চেয়ে অভিভাবকদের মাঝেই বেশি) ও পারিবারিক চাপে শিক্ষার্থীরা মানসিকভাবে অস্থির হয়ে উঠছে। শিক্ষার্থীদের মধ্যে অস্থিরতা তাদের পড়ালেখা, মানসিক স্বাস্থ্য এবং সামাজিক আচরণের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। শিক্ষকদের জন্য বর্তমান শ্রেণিকক্ষের পরিবেশ অনেক বেশি চ্যালেঞ্জিং। শ্রেণিকক্ষে শিক্ষার্থীদের পরস্পরের সঙ্গে লাগামহীন অপ্রাসঙ্গিক কথা, শিক্ষকের নির্দেশ অনুসরণ না করা এরূপ নানাবিধ কারণে অনেক শিক্ষকই খুব দ্রুত তার মেজাজ হারান। অন্যদিকে প্রযুক্তির প্রভাব শিক্ষার্থীদের মনোযোগ নষ্ট করছে, যার ফলে অনেক সময় শ্রেণিকক্ষে শৃঙ্খলা বজায় রাখাও কঠিন হয়ে ওঠে। শিক্ষার্থীরা অনেক সময় ক্লাসে মনোযোগ না দিয়ে বিশৃঙ্খল আচরণ করে, যা পুরো শ্রেণিকক্ষের পরিবেশে নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। এতে শিক্ষকদের পক্ষেও মানসম্পন্ন শিক্ষা প্রদান করা কঠিন উঠছে।
এ ছাড়া শিক্ষাব্যবস্থায় শিক্ষার্থীদের মূল্যবোধের অভাবও অনেক ক্ষেত্রেই পরিলক্ষিত। তাদের মধ্যে শৃঙ্খলা, দায়িত্ববোধ এবং সামাজিক মূল্যবোধ কমে যাওয়ার অভিযোগও বিস্তর। শিক্ষার্থীদের মধ্যে সম্মান ও শৃঙ্খলার অভাব থাকলে শিক্ষকদের শিক্ষাদান প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত হয়। বর্তমান সময়ে শ্রেণিকক্ষে শিক্ষার্থীদের নেতিবাচক আচরণেও মারাত্মক প্রভাব পড়ছে। এরই প্রেক্ষাপটে শিক্ষকদের আচরণও শিক্ষার্থীদের প্রতি রূঢ় হচ্ছে। ফলে ছাত্র-শিক্ষক সম্পর্ক নষ্ট হচ্ছে।
অনেক শিক্ষার্থীর মাঝেই নিজ খেয়ালখুশিমতো জীবনে চলার চেষ্টা রয়েছে, যা তারা অনুসরণও করছে। সেই খেয়ালখুশির অংশ হিসেবেই নানা অজুহাতে শিক্ষার্থীদের একটি অংশ বিদ্যালয়ে অনুপস্থিত থাকছে, কেউ কেউ ক্লাসে অমনোযোগী, নিজের দায়িত্বের প্রতিও উদাসীন থাকায় শ্রেণিকক্ষে শৃঙ্খলা বজায় থাকছে না। অতিরিক্ত প্রযুক্তি যেমন মোবাইল ফোন, ভিডিও গেমস ও সমাজমাধ্যমের ব্যবহার শিক্ষার্থীদের মধ্যে অমনোযোগিতার মাত্রা বাড়িয়ে তুলেছে; যা তাদের শিক্ষার প্রতি আগ্রহ কমিয়ে দিচ্ছে। অনেক শিক্ষার্থী তার নিজ পাঠে মনোযোগ না দিয়ে বিভিন্ন অনলাইন প্ল্যাটফর্মে অনেক সময় ব্যয় করছে। ফলে শিক্ষার্থী তার কাঙ্ক্ষিত ফল লাভ করতে ব্যর্থ হচ্ছে। এর দায়ভার এসে পড়ে আবার সেই শিক্ষকের ওপরই। এভাবে শিক্ষার প্রতি শিক্ষার্থীদের আগ্রহের অভাব এবং শিক্ষকদের ওপর অতিরিক্ত চাপ শিক্ষার মানের অবনতি ঘটাচ্ছে। তাই প্রকৃত শিক্ষার মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের নৈতিক মূল্যবোধ, শিক্ষার্থী হিসেবে তার নিজ দায়িত্ব সম্পর্কে সচেতন করে গড়ে তোলার জন্য শিক্ষক-অভিভাবক উভয় পক্ষকেই নজর বাড়াতে হবে।
শিক্ষা শুধু শিক্ষকদের দায়িত্ব নয়, অভিভাবকদেরও এতে সক্রিয় অংশগ্রহণ থাকা প্রয়োজন। অভিভাবকদের উচিত তার নিজ সন্তানের শিক্ষার প্রতি মনোযোগী হওয়া এবং শিক্ষার মান উন্নত করার জন্য শিক্ষকদের সঙ্গে সহযোগিতা করা। অনেক অভিভাবক শিক্ষার্থীদের সময়মতো পড়াশোনা করানো, সঠিক দিকনির্দেশনা প্রদান এবং স্কুলের কার্যক্রমে তাদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে ব্যর্থ হন। এটা বলার অপেক্ষা রাখে না, শিক্ষার্থীদের অস্থিরতা-অমনোযোগিতা বর্তমান সমাজে গুরুত্বপূর্ণ সমস্যা। এর সমাধানের জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ এখনই গ্রহণ না করলে ভবিষ্যতে শিক্ষার্থীদের মানসিক এবং শারীরিক স্বাস্থ্যের ওপর আরও বড় প্রভাব ফেলবে। সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে শিক্ষকদের মানসিক চাপ কমিয়ে, শিক্ষার্থীদের অস্থিরতা দূর করে শ্রেণিকক্ষের শিখন শেখানো পরিবেশের উন্নয়ন ঘটানো সম্ভব।
সহকারী শিক্ষক
সেন্ট যোসেফ উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়