× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

অর্থছাড় হোক প্রকল্পের গুরুত্ব বিবেচনায়

সম্পাদকীয়

প্রকাশ : ০৪ অক্টোবর ২০২৪ ১৬:১৮ পিএম

অর্থছাড় হোক প্রকল্পের গুরুত্ব বিবেচনায়

আমাদের উন্নয়ন প্রকল্পগুলোর সিংহভাগ বাস্তবায়িত হয় বিদেশি ঋণ কিংবা অনুদানের অর্থে। কিন্তু রাজনৈতিক সরকারের শাসনামলে বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই পরিলক্ষিত হয়েছে, গৃহীত প্রকল্পের সিংহভাগই রাজনৈতিক বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে। আবার দেখা গেছে, এমনও প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে যেগুলোর কোনো প্রয়োজনই নেই। প্রকল্প নিয়ে রাজনৈতিক সরকারের আমলে ‘নয়ছয়’-এর অভিযোগ কম নয়। এও দেখা গেছে, প্রকল্পের মেয়াদ ফুরিয়ে যায় কিন্তু প্রকল্প বাস্তবায়িত হয় না, উপরন্তু মেয়াদ বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে বাড়ে প্রকল্পের ব্যয়ও। এই প্রেক্ষাপটে অপ্রয়োজনীয় প্রকল্পে অর্থছাড়ে লাগাম টেনেছে অন্তর্বর্তী সরকার। ৩ অক্টোবর প্রতিদিনের বাংলাদেশ-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চলতি ২০২৪-২৫ অর্থবছরের প্রথম দুই মাস জুলাই-আগস্টে ছয় বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন অর্থছাড় হয়েছে এবং এর প্রভাবে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি) বাস্তবায়নের হার এক যুগের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে চলে গেছে। অপ্রয়োজনীয় প্রকল্প বাদ দেওয়ার চিন্তাভাবনাও করছে অন্তর্বর্তী সরকার এবং এর ফলে এডিপির আকার এক লাখ কোটি টাকা কমে যেতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। 

অন্তর্বর্তী সরকারের এই সিদ্ধান্তকে আমরা স্বাগত জানাই। প্রকল্পের নামে সরকারি অর্থ লোপাট এবং অপ্রয়োজনীয় প্রকল্প গ্রহণ করে রাজনৈতিক স্বার্থসিদ্ধির যে চিন্তাভাবনা অতীতে পরিলক্ষিত হয়েছে তা আমাদের অর্থনৈতিক প্রেক্ষাপটে অত্যন্ত ক্ষতিকর। আমরা দেখেছি, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের অধীন রাজনৈতিক সরকারের আমলে সবচেয়ে বেশি প্রকল্প নেওয়া হয়েছে। অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহ উদ্দিন আহমেদ সম্প্রতি বলেছেন, ‘মেগা প্রকল্পের বদলে জীবন-জীবিকা ও ব্যবসা-বাণিজ্য সচল রাখার প্রকল্পে গুরুত্ব দেওয়া হবে। দেশের অর্থ অপচয় বন্ধ করতে হবে। স্বচ্ছতা-জবাবদিহি ছাড়া কিছু চলবে না।’ আমরা তার এই প্রত্যয়েরও সাধুবাদ জানানোর পাশাপাশি স্মরণ করিয়ে দিতে চাই, রাজনৈতিক বা প্রশ্নবিদ্ধ প্রকল্পগুলো অব্যশ্যই খতিয়ে দেখা উচিত। কারণ, একদিকে আমাদের আর্থিক সংকট, অন্যদিকে রাজস্ব আয়েও ঘাটতি রয়েছে। সার্বিক স্বার্থ ও প্রয়োজনেই সরকারের ব্যয় কমাতে হবে। 

পরিবর্তিত প্রেক্ষাপটে প্রকল্পের যাচাই-বাছাই অব্যশই গুরুত্বের সঙ্গে পর্যালোচনার দাবি রাখে। আমাদের অভিজ্ঞতায় আছে, সরকারের বিভিন্ন বিভাগ ও সংস্থার অধীনে নানারকম প্রকল্প বাস্তবায়নের কাজে দীর্ঘসূত্রতা ও ব্যয় বৃদ্ধি একটি সাধারণ প্রবণতায় পরিণত হয়ে পড়েছিল। নির্ধারিত সময় ও প্রথম প্রাক্কলিত ব্যয়সীমার মধ্যে প্রকল্পের বাস্তবায়ন সম্পন্ন হওয়ার নজির অত্যন্ত বিরল। সব উন্নয়ন কাজের পরিকল্পনাই করা হয় জনগণের স্বার্থের কথা উল্লেখ করে। কিন্তু অনেক ক্ষেত্রেই দেখা গেছে, এর সঙ্গে জনস্বার্থের তেমন কোনো সম্পর্কই নেই, নিজেদের আখের গোছানোই মুখ্য উদ্দেশ্য। বিদেশ থেকে ঋণ নিয়ে প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হলেও সেই ঋণের বোঝা দেশের জনগণকেই টানতে হয়। আরও দুঃখজনক হলো, দফায় দফায় প্রকল্পের মেয়াদ ও ব্যয় বৃদ্ধির ফলে একদিকে রাষ্ট্রের বিপুল অপচয় তো হয়েছেই, অন্যদিকে জনগণও কাঙ্ক্ষিত সেবাপ্রাপ্তি থেকে বঞ্চিত হয়েছে। অত্যন্ত অরুচিকরভাবে এই অপচর্চা অতীতের প্রতিটি সরকারের শাসনামলে কমবেশি পরিলক্ষিত হয়েছে। অনিয়ম-অসঙ্গতির প্রমাণ সত্ত্বেও শাস্তি তো দূরের কথা, ন্যূনতম জবাবদিহির মুখোমুখিও সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীলদের হতে হয়েছে এমন নজির বিরল। 

আমরা মনে করি- সরকারি, আধা সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত, বেসরকারি সব ধরনের সংস্থা কিংবা প্রতিষ্ঠানেরই প্রকল্প বাস্তবায়নে স্বচ্ছতা-দায়বদ্ধতা-জবাবদিহি নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি। জবাবদিহি নিশ্চিত হয়নি বিধায়ই প্রকল্প গ্রহণ কিংবা বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে অনেক অনাকাঙ্ক্ষিত বিষয় পরিলক্ষিত হয়েছে। আমরা মনে করি, অন্তর্বর্তী সরকার জনস্বার্থে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয় আমলে নিয়েছে। আমরা এ ব্যাপারে সরকারকে ধন্যবাদ জানাই এবং প্রকল্প বাস্তবায়নের নামে অনিয়ম ও স্বেচ্ছাচারিতার উৎসে নজর দিয়ে যথাযথ প্রতিবিধানেরও আহ্বান জানাই। কোনো প্রকল্প যথাসময়ে বাস্তবায়ন করা গেলে অহেতুক ব্যয় যেমন হ্রাস পাবে, তেমনি কমবে জনদুর্ভোগও। আমাদের সীমিত সম্পদের দেশে সবকিছুই খুব পরিকল্পিত ও দীর্ঘমেয়াদি চিন্তা মাথায় রেখে করা দরকার। কোনো কোনো প্রকল্পের ক্ষেত্রে এও দেখা গেছে, সমন্বয়হীনতার কারণে শেষ পর্যন্ত প্রকল্প আর আলোর মুখই দেখেনি। এ ধরনের উপসর্গ পুনরাবৃত্তি রোধেও ব্যবস্থা নিতে হবে। সবার আগে জনস্বার্থ।

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা