প্রজন্মের ভাবনা
বিথী হোসাইন
প্রকাশ : ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৪ ১৩:১৮ পিএম
শিশুর আত্ম-উন্নয়নে শৈশব ও কৈশোর
থেকে বাড়তি নজর রাখতে হয়। পড়াশোনা, খেলাধুলা ও চলাফেরায় ইতিবাচক প্রতিযোগিতা রাখতে
হয়। ইতিবাচক প্রতিযোগিতা শিশুর মানসিক বিকাশ করে। পঞ্চম শ্রেণির বৃত্তি পরীক্ষা ছিল
শিশুদের জন্য ইতিবাচক একটি প্রতিযোগিতা। কিন্তু কয়েক বছর থেকে বন্ধ পঞ্চম শ্রেণির বৃত্তি
পরীক্ষা। শিশু যখন বৃত্তি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে, তখন তার পড়াশোনার প্রতি মনোবল বাড়ে।
নিজের প্রতি একটা বোধ তৈরি হয়Ñ ‘আমাকেও পারতে হবে’। শিশুরা তাদের রোল মডেলকে অনুসরণ
করে সামনে এগিয়ে চলে। একটি শিশুকে যখন কোনো একটি ফুল কিংবা ফলের ছবি এঁকে দেওয়া হয়
এবং অনুরূপ আরেকটা ছবি আঁকতে বলা হয়, তখন সে সহজেই তা আঁকতে পারে। কারণ তার সামনে একটি
মডেল থাকে। তেমনি স্কুলে অথবা বাসায় যদি শিশুর সামনে সাফল্যের রোল মডেল থাকে তাকেও
শিশু সহজে অনুসরণ করে। ইতিবাচক প্রতিযোগিতা শিশুকে সামনের দিকে এগিয়ে যেতে অনুপ্রাণিত
করে। প্রতিযোগিতা মানুষের অনুপ্রেরণার প্রধান উৎস, প্রতিযোগিতা শেষ হলে মানুষ আর অনুপ্রেরণা
পায় না।
আমরা সবাই জানি, শিশুর মন সাদা
কাগজের মতো। সাদা কাগজে চাইলেই যেমন যেকোনো কিছু আর্ট করা যায় এবং সহজে তা ফুটে ওঠে,
তেমনি শিশুকে শৈশব ও কৈশোরে যা শেখানো হবে তা পরবর্তী জীবনে লালন করবে। শিশুর প্রথম
জীবনের সামাজিকীকরণ সঠিক হলে পরবর্তী সময়ে বিরাট প্রভাব রাখবে।
শিশুরা অনুকরণপ্রিয়। যখন আশপাশের
সাফল্য দেখে ঠিক সেভাবে নিজেকেও কল্পনা করে এবং কল্পনাকে বাস্তবে প্রস্ফূটিত করার জন্য
আপ্রাণ চেষ্টায় রত হয়। সাফল্যের স্বাদ পেলে আনন্দিত হয় অথবা ব্যর্থ হলেও নিজেকে সুধরে
নিতে পারে। তা ছাড়া শিশুরা প্রতিযোগিতার মাধ্যমে আত্মসমালোচনা করার সুযোগ পায়। আত্মসমালোচনা
শিশুর মনস্তাত্ত্বিক বিকাশে সহায়ক ভূমিকা রাখে। তখন নিজের ভালো-মন্দ, সঠিক-ভুল অনুধাবন
করতে পারে।
বৃত্তি পরীক্ষা ঘিরে কতশত স্মৃতি
জমা থাকে শিশুর মনের পরতে পরতে। বইয়ের সঙ্গে নতুন বইয়ের সংযোজন, জীবনের প্রথম পাবলিক
পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করার সাহস শিশুর মনোবল বৃদ্ধি করে, নতুন নতুন নিয়মশৃঙ্খলা শেখায়,
সময়ানুবর্তিতা ইত্যাদি অভিজ্ঞতার সঞ্চয় হয়। এ ছাড়াও সাফল্যের পরবর্তী সময়ে সবার অনুপ্রেরণায়
সামনের দিকে তাকে অগ্রসর হতে সাহায্য করে। শৈশবের আবেগঘন এমন স্মৃতিগুলো শিশুমনে আঁকা
থাকে। অনেকেই পঞ্চম শ্রেণির বৃত্তি পরীক্ষার নেতিবাচক দিক সম্পর্কে আলোকপাত করে বলেন,
এতে শিশুর মনে চাপ ফেলে, শিশুর জন্য বিরূপ প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়। কিন্তু আমি মনে করি,
এটা তার চেয়েও বেশি ইতিবাচক প্রভাব ফেলে শিশুর মনে। প্রতিযোগিতার মধ্য দিয়ে শিশু যেমন
পরিস্থিতি মোকাবিলা করতে শেখে, তেমনি বাড়তি চাপ নিতে সক্ষম হয়, সময়ানুবর্তিতা শৈশব
থেকে রপ্ত হয়, আত্মবিশ্বাস বাড়ে, উপস্থিত বুদ্ধি দিয়ে অভিযোজন করতে পারে। সর্বোপরি
শিশুর মনোবৃত্তি বিকাশে সহায়তা করে। হাজারো নেতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গির ভিড়ে পঞ্চম শ্রেণির
বৃত্তি পরীক্ষা শিক্ষার্থীর জন্য ইতিবাচক হোক। আমরা নেতিবাচক চিন্তাভাবনা বর্জন করে
ইতিবাচক ভাবনা শুরু করি। শিক্ষার্থীর মনস্তাত্ত্বিক বিকাশ বা সঠিক সামাজিকীকরণের কথা
ভেবে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বৃত্তি পরীক্ষা আবার শুরু হোকÑ এই প্রত্যাশা। সঠিক সামাজিকীকরণে
শিশুর জীবন হোক পুষ্পের মতো কোমল ও সুবাসিত।
শিক্ষার্থী, বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়,
রংপুর