× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

সম্পাদকীয়

বাজারে অসাধু ব্যবসায়ীদের দৌরাত্ম্য আর কতদিন

সম্পাদকীয়

প্রকাশ : ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৪ ০৮:৫৫ এএম

বাজারে অসাধু ব্যবসায়ীদের দৌরাত্ম্য আর কতদিন

মূল্যস্ফীতির অভিঘাতে দেশের মানুষ টানা অনেক দিন ধরে পিষ্ট হচ্ছে। নিত্যপণ্য ভোক্তার নাগালের মধ্যে আনার জন্য দীর্ঘদিন ধরে একের পর এক সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীল মহলগুলো নিয়মনীতি চালু করলেও কার্যত এর কোনো সুফলই দৃশ্যমান হচ্ছে না। কোনো কারণ ছাড়াই নিত্যপণ্যের দাম ভোক্তার সাধ্যের বাইরে কেন চলে যায় এর কারণ জানতে চাইলে বরাবরই ব্যবসায়ীদের নানানরকম অজুহাত দাঁড় করাতে দেখা গেছে। এখনও এর ব্যত্যয় ঘটছে না। দেশের পরিবর্তিত প্রেক্ষাপটে সাধারণ মানুষ যখন সমাজে বিরাজমান অনিয়ম-অরাজকতা থেকে মুক্তির আশা করে তখনও তাদের কোনো কোনো ক্ষেত্রে হতাশ হতে হচ্ছে। ২১ সেপ্টেম্বর প্রতিদিনের বাংলাদেশ-এ বাজার পরিস্থিতির যে চিত্র উঠে এসেছে তা এর বাইরে নয় এবং এটি একটি মাত্র খণ্ডিত চিত্র। আমরা দেখছি, অনেক ক্ষেত্রেই অনিয়ম-অরাজকতার হোতারা নানাভাবে অপতৎপরতায় লিপ্ত রয়েছেন।

সরকারের পক্ষ থেকে ডিম-বয়লার ও সোনালি মুরগির দাম বেঁধে দেওয়ার প্রায় এক সপ্তাহ পরও বাজারে এর কোনো ইতিবাচক প্রভাব না পড়ার তথ্যও উঠে এসেছে প্রতিবেদেনে। উল্টো কোথাও কোথাও দেখা যাচ্ছে এসবের দাম আরও বেড়েছে। অভিযোগ আছে, প্রতি ডজন ডিমে ঢাকায় ২৩ ও ঢাকার বাইরে ২৮ টাকা বেশি নেওয়া হচ্ছে। অন্যদিকে বয়লার ও সোনালি মুরগি কেজিতে গড়ে ১০ টাকা, কোথাও কোথাও আরও বেশি দামে বিক্রি হওয়ার অভিযোগ রয়েছে। একই দিন প্রতিদিনের বাংলাদেশ-এর ভিন্ন প্রতিবেদনে ফলের দামের যে চিত্র উঠে এসেছে তা-ও এক কথায় অস্বাভাবিক। উভয় ক্ষেত্রেই ব্যবসায়ীরা ফের নানানরকম অজুহাত দাঁড় করিয়েছেন।

‘এক টুকরো ফল খাওয়া এখন বিলাসিতা’ শিরোনামযুক্ত প্রতিবেদনে যে তথ্য উঠে এসেছে এর পরিপ্রেক্ষিতে বলা যায়, ফল খাওয়া নয়; দর্শনেই তৃপ্ত থাকতে হচ্ছে ভোক্তাদের। ব্যবসায়ীদের বক্তব্য, আমদানি কম হওয়ায় সব ধরনের ফলের দাম বেড়েছে আবার বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ফলের মৌসুম শেষের দিকে তাই দাম বেড়েছে। আমদানিকারকদের সংগঠনের দায়িত্বশীলদের বরাত দিয়ে বলা হয়েছে, নতুন করে এখন কোনো ফলই আমদানি হচ্ছে না। মোট জনগোষ্ঠীর উল্লেখযোগ্য একটি অংশের মানুষের পুষ্টি ঘাটতির কথা নতুন করে বলার নয়। খাদ্য মানুষের শুধু ক্ষুধা নিবারণের জন্যই নয়, স্বাস্থ্য সুরক্ষার জন্যও অপরিহার্য। কিছু কিছু খাদ্য উপাদান সুস্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত অপরিহার্য এবং ফল এরই একটি অনুষঙ্গ। আমদানিকৃত ফলের দাম ক্রমাগত বৃদ্ধির বিষয়ে ব্যবসায়ীরা অজুহাত দাঁড় করিয়ে পার পেতে চাইলেও প্রশ্ন দাঁড়ায়Ñযেসব আমদানি করতে হয় না সেগুলোর দামও বৃদ্ধির কারণ কী? দেশি ফলের দামও ঊর্ধ্বমুখী কেন?

‘ডিম-মুরগির যৌক্তিক মূল্য শুধু কাগজেই’ শিরোনামযুক্ত প্রতিবেদনে যে চিত্র উঠে এসেছে তাতে প্রশ্ন দাঁড়ায়Ñদেশের পরিবর্তিত প্রেক্ষাপটেও কি অসাধু ব্যবসায়ীদের দৌরাত্ম্য বন্ধের পথ বের করা যাচ্ছে না? ডিম-মুরগির যৌক্তিক মূল্য কার্যকর না হওয়ার পেছনে ব্যবসায়ীরা যে অজুহাত দাঁড় করিয়েছেন, তা ধোপে টেকে না। কারণ সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীলরা যৌক্তিক দাম নির্ধারণের ক্ষেত্রে নিশ্চয়ই উৎপাদন খরচসহ আনুষঙ্গিক সবকিছু আমলে রেখেই তা করেছেন। তাহলে কেন ব্যবসায়ীরা সরকারের বেঁধে দেওয়া মূল্যে ডিম-মুরগি বিক্রি করছেন না? ওই প্রতিবেদনেই ভোক্তাদের বরাত দিয়ে বলা হয়েছে, নিত্যপণ্যের মূল্য বেঁধে দেওয়া পর্যন্তই সরকারি সংস্থাগুলোর কাজ সীমাবদ্ধ। আমরা এ কথার সঙ্গে সহমত পোষণ করি। সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীল সংস্থাগুলোর বাজার মনিটরিংয়ে ব্যর্থতা নতুন নয়। আমরা বিস্মিত, দেশের পরিবর্তিত প্রেক্ষাপটেও এসব ক্ষেত্রে সেই পুরোনো ছায়াই এখনও দৃশ্যমান! এমন প্রেক্ষাপটে নিশ্চয়ই বলা যায়, ধ্রুপদি নিয়ম কিংবা ধর্মের কাহিনী শুনিয়ে বাজার নিয়ন্ত্রণ করা যাবে না। ইতঃপূর্বেও আমরা দেখেছি, বাজার নিয়ন্ত্রণ-তদারকির দায়দায়িত্ব যাদের তারাও দায়সারা গোছের বক্তব্য দিয়েই পার তো পেতে চান-ই, একই সঙ্গে কোনো কোনো ক্ষেত্রে তাদের অসাধুদের সঙ্গেও যোগসাজশের অভিযোগ উঠেছে।

বস্তুত চাহিদা ও সরবরাহের ধ্রুপদি নিয়মের কারণে নয়, বরং আমরা অনেক ক্ষেত্রেই দেখছি, অসাধু আড়তদার, আমদানিকারক, পাইকারি ও খুচরা ব্যবসায়ীরা যূথবদ্ধভাবে কীভাবে নিত্যপণ্যের দাম বাড়াতে পারেন এবং নিয়মনীতির প্রতি বৃদ্ধাঙ্গুলি প্রদর্শন করে নিজেদের আখের গুছিয়ে নেন। এসব তিক্ত অভিজ্ঞতার আলোকে পরিবর্তিত প্রেক্ষাপটে আমরা প্রত্যাশা করি, সরকারের সিদ্ধান্তক্রমে গৃহীত নিয়মনীতির যারা ব্যত্যয় ঘটাচ্ছেন তাদের আইনের আওতায় আনা হবে। আমাদের অভিজ্ঞতায় এও আছে, যেসব নিত্যপণ্য আমদানি করতে হয় এর কোনো কোনোটির আমদানি শুল্ক হ্রাস করার পরও বাজারে এর ইতিবাচক প্রভাব দৃশ্যমান হয়নি। তাতে প্রতীয়মান হয়, সময় বদলায় কিন্তু অসাধুদের কারসাজির পথ রুদ্ধ হয় না। আমরা অতীতে রাজনৈতিক সরকারের শাসনামলে দেখেছি, অযৌক্তিকভাবে বেড়ে যাওয়া নিত্যপণ্যের দাম কমানোর আহ্বানকে বরং সরকারের ‘দুর্বলতা’ জ্ঞান করে অসাধুরা তাদের উদরপূর্তির নতুন নতুন কৌশল অবলম্বন করেছেন। কিন্তু যে অনিয়ম-অনাচার-কদাচার-বৈষম্যের পরিপ্রেক্ষিতে অশুভ মহলকে সহযোগিতা কিংবা সুযোগসুবিধা দেওয়ার প্রেক্ষাপটে ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে রাজনৈতিক সরকারের পতন ঘটেছে, সেই অশুভ মহলের কারসাজি এখন কীভাবে চলছে এর উৎসে নজর দেওয়া জরুরি।

অপ্রিয় হলেও সত্য, বাজারে কোনো বিধিবদ্ধ নিয়মই যেন কাজ করছে না; বাজার চলছে মূলত অসাধু ব্যবসায়ী ও প্রতিষ্ঠানের মর্জিমাফিক। সরকারের বেঁধে দেওয়া পণ্যমূল্যের তোয়াক্কা কেন ব্যবসায়ীরা করছেন না, কোন শক্তিবলে তারা খেয়ালখুশিমতো ভোক্তার পকেট কাটছেন এর অনুসন্ধানে এখন ব্যর্থতার অবকাশ নেই। বাজার মনিটরিং সংস্থার অসাধু কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গে অসাধু ব্যবসায়ীদের আঁতাতের যে বহু পুরোনো অভিযোগ রয়েছে তা-ও খতিয়ে দেখে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। অনিয়ম-স্বেচ্ছাচারিতার হোতাদের প্রতি কোনোরকম অনুকম্পা দেখানোর অবকাশ নেই। আমরা জানতে চাই, কেন সরকারের বেঁধে দেওয়া নিয়মনীতির প্রতিপালন বাজারে দৃশ্যমান হচ্ছে না। আগের মতোই এটা এখনও স্পষ্ট, নিত্যপণ্যের বাজার নিয়ন্ত্রণে জটিলতা যেমন কাটেনি, তেমন স্বেচ্ছাচারীদের আস্ফালনও বন্ধ হয়নি। এর প্রতিবিধান নিশ্চিত করতেই হবে। মূল্যস্ফীতির অভিঘাতে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা ব্যাহত হবে না এবং একই সঙ্গে মূল্যস্ফীতির প্রেক্ষাপট তৈরিকারীদের বিরুদ্ধে যথাযথ প্রতিবিধান নিশ্চিত হবেÑএটাই প্রত্যাশা। আমাদের আরও প্রত্যাশাÑবদলে যাওয়া সময়ের প্রেক্ষাপটে পুরোনো ব্যাধি আর জিইয়ে থাকতে পারে না।

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা