× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

দিবস

সাক্ষরতার উপলব্ধি ও শিক্ষার গুরুত্ব

ড. মোহাম্মদ আলী ওয়াক্কাস

প্রকাশ : ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৪ ০৮:০৬ এএম

ড. মোহাম্মদ আলী ওয়াক্কাস

ড. মোহাম্মদ আলী ওয়াক্কাস

শিক্ষা মানুষের মৌলিক অধিকার যা ধর্ম, সংস্কৃতি, সংবিধান সর্বত্র স্বীকৃত। শিক্ষা ছাড়া মানবের মনন ও মেধার কাঙ্ক্ষিত স্ফুরণ অসম্ভব। শিক্ষার অনুভূতি এবং গভীরতা অনুভবেই সাক্ষরতার সক্ষমতা। আজ ৮ সেপ্টেম্বর। সারা বিশ্বে ভাবগাম্ভীর্য ও গুরুত্বের সঙ্গে বিশ্ব সাক্ষরতা দিবস উদ্‌যাপিত হচ্ছে, যা শিক্ষা ও সাক্ষরতা প্রসারে তাৎপর্যপূর্ণ ভূমিকা রাখার আকাঙ্ক্ষা ব্যাখ্যা করছে। এটি মূলত জাতিসংঘের বিশেষায়িত সংস্থা ইউনেস্কো কর্তৃক ঘোষিত দিবস। ১৯৬৫ সালের ৮-১৯ সেপ্টেম্বর ইউনেস্কোর উদ্যোগে বিশ্ব সাক্ষরতা সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। পরে ১৯৬৬ সালের ২৬ অক্টোবর ইউনেস্কোর সাধারণ অধিবেশনের ১৪তম সভায় ৮ সেপ্টেম্বরকে বিশ্ব সাক্ষরতা দিবস হিসেবে পালনের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।

জাতিসংঘ ১৯৬৭ সাল থেকে এ দিবসটি পালন করে আসছে। এবারের প্রতিপাদ্য বিষয় প্রমোটিং মাল্টিলিঙ্গুয়াল এডুকেশন : লিটারেসি ফর মিউচুয়াল আন্ডারস্টান্ডিং অ্যান্ড পিস। বহুভাষিক শিক্ষার চর্চা ও প্রসারের মাঝে পারস্পরিক সমঝোতা ও শান্তির বার্তা দেওয়াই এবারের সাক্ষরতা দিবসের মূল প্রতিপাদ্য বিষয়। সাক্ষরতা এমন এক বিষয় যার ফলে মানবমন ভালোমন্দ, সত্য-মিথ্যা, ন্যায়-অন্যায়, সাদা-কালো এসবের পার্থক্য অনুভবের সুযোগ পায়। বাংলাদেশ ১৯৭২ সাল থেকে এ দিবস পালন করে আসছে। বর্তমানে  এ দেশে সাক্ষরতার হার ৭৬ দশমিক ৮ শতাংশ। এখনও ২৩ শতাংশ মানুষ শিক্ষার আলো থেকে তিমিরেই আছে। বিবিএসের প্রায়োগিক সাক্ষরতা জরিপ, ২০২৩ অনুযায়ী ৭-১৪ বছরের মানুষের সাক্ষরতার হার ৭৩ শতাংশ এবং ১৪-৪৫ বয়সি মানুষের ৭৩ দশমিক ৬৯ শতাংশ। শিক্ষা মানবের পরিপূর্ণতা আনয়নে যৌক্তিক ঢাল হিসেবে বিবেচিত হয় এবং এর প্রথম শর্তই হলো সাক্ষরতা; যা মানুষকে জ্ঞান, বুদ্ধি এবং সৃজনশীলতা অনুশীলনে জগতের অন্য প্রাণিকুল থেকে শ্রেষ্ঠত্বের আসনে সমাসীন করে।

জাতির অগ্রগতি, প্রগতি, উৎকর্ষতা এসবের মূলে সাক্ষরতা নিয়ামক হিসেবে কাজ করে।নতুন বাংলাদেশের পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে সবার জন্য বাসযোগ্য কাঙ্ক্ষিত সোনার বাংলা রূপায়ণে শিক্ষা এবং সাক্ষরতা সমার্থক হিসেবে রসদ জোগাতে পারে। সাক্ষরতা নানা কারণে নাগরিকের অতীব জরুরি অনুষঙ্গ, যার ওপর ভর করে অধিকার আদায় পারস্পরিক সমঝোতা এবং কাঙ্ক্ষিত শান্তির সারথি হতে পারে। সংবিধানের ১৭ অনুচ্ছেদে মৌলিক শিক্ষার গুরুত্ব দেওয়া আছে। কেননা মানুষের পৃথিবীতে বেঁচে থাকার প্রথম পাঠই হলো মৌলিক অধিকারের নিশ্চয়তা। যা খাদ্য, বস্ত্র, বাসস্থান, শিক্ষা, চিকিৎসা এসব চলক দ্বারা নির্ধারিত হয়। মানুষ বাঁচতে চায় এবং সুন্দর এ ধরায় সুখ, শান্তি ও স্বস্তি চায়। যা কেবল শিক্ষা ও সাক্ষরতা জ্ঞান ব্যবহারে বিচার-বিশ্লেষণে মওকা পাওয়া যায়। সাক্ষরতা জ্ঞানসম্পন্ন ব্যক্তি অন্তত অনুমান করতে পারে ভালোমন্দ, সত্যাসত্যের ফারাক, ন্যায়-অন্যায়, অরাজকতা এবং অস্থিরতা; যা কি না বৈষম্যমুক্ত দেশ গঠনে অন্যতম প্রয়োজনীয় উপাদান।

সাক্ষরতা প্রত্যয়টির বিকাশ ও প্রসার মূলত ব্যক্তি, সম্প্রদায় ও সমাজের মাঝে সচেতনতা সৃষ্টি, অধিকার সম্পর্কে সম্যক ধারণা, লাভক্ষতির অনুভূতি বোঝার সক্ষমতার সঙ্গে সম্পৃক্ত। এবং কোনো কারণে প্রতারিত হচ্ছে কি না তা অনুভব করা। শিক্ষা, সাক্ষরতা বিকাশের ফলে পারস্পরিক সমঝোতার কাঙ্ক্ষিত পরিবেশ তৈরির সুযোগ সৃষ্টি হয়। জবাবদিহি, পারস্পরিক আস্থা-বিশ্বাস এবং সম্মান এসব প্রপঞ্চ সমাজে অস্থিরতা ও বৈষম্য কমাতে সাহায্য করে। সবাই যদি সাক্ষরজ্ঞানসম্পন্ন হয় এবং অধিকার সম্পর্কে ন্যূনতম সচেতন থাকে তাহলে শাসক-শোষক কেউই দাবিয়ে রাখতে পারবে না। মানুষ সামাজিক সত্তা এবং সমাজবদ্ধভাবেই বসবাস করতে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করে। সমাজে কারও পক্ষে একা বসবাস করা সম্ভব নয়। দশের লাঠি একের বোঝা এ থেকে অনুমেয়; কেননা যূথবদ্ধভাবে বসবাস করতে হয়। যে মানুষ সমাজে বসবাস করে না সে হয় পশু না হয় দেবতা (অ্যারিস্টটল)। আর এজন্য সর্বাগ্রে প্রয়োজন শিক্ষা এবং সাক্ষরতার উপলব্ধি, যেখানটায় মানুষ সামাজিক রীতিনীতি, মূল্যবোধ, কৃষ্টি-কালচার, স্বকীয়তা, পারস্পরিক শ্রদ্ধা, সহযোগিতা ও সহমর্মিতার সবক নিতে পারে; যা কাঙ্ক্ষিত বাংলাদেশের জন্য অতীব জরুরি।

রাজনৈতিক জীব হিসেবে যেসব সুবিধা ভোগ করার সুযোগ রয়েছে, সেসব বিষয়ে সম্যক ধারণা প্রয়োজন। ভোটের অধিকার, বাকস্বাধীনতা, নির্বিঘ্ন চলাফেরার সিদ্ধান্ত গ্রহণ যা মানুষের পরিপূর্ণ বিকাশে প্রয়োজন এসবে ধারণা থাকা লাগবে। নিকট অতীতে বাংলাদেশে এসব স্বপ্ন ছিল। নতুন বাংলাদেশে এসব চর্চার সুযোগ এসেছে। সাক্ষরতা এবং শিক্ষা এখানটায় মাইলফলক হিসেবে কাজ করতে পারে। বাজার অর্থনীতি, আর্থিক হিসাব এসবেও প্রাথমিক ধারণা থাকা চাই। প্রতারণা, ভেজাল, কারসাজি নিয়ত চলমান। পণ্যের গুণগতমান, দাম, মেয়াদোত্তীর্ণের তারিখ এসব জানতে ও শিক্ষা সাক্ষরতা প্রয়োজন। ধর্মানুশীলনে ও স্রষ্টা এবং সৃষ্টির সঠিকতা নিরূপণে শিক্ষা ও সাক্ষরতা কাজে লাগে। শিক্ষা মানুষকে পরিপূর্ণতা দেয়। স্রষ্টা মানুষকে তাঁর প্রতিনিধি হিসেবে প্রেরণ করেছেন এবং পবিত্র কুরআনে প্রথম বক্তব্যÑ‘পড়ো তোমার প্রভুর নামে’র মাঝেই সাক্ষরতার মহিমা এবং প্রয়োজনীয়তার স্বীকৃতি রয়েছে। পারস্পরিক সমঝোতা ও শান্তির জন্য বহুভাষায় শিক্ষাচর্চার প্রয়োজনীয়তা অনেক।

প্রজন্ম জেড (জেন-জি) এবং প্রজন্ম আলফাকে বুঝতে হলে এর বিকল্প নেই। ২০২৪-এর ছাত্র-জনতার বিপ্লব মূলত প্রজন্মের ভালোন্দ, ন্যায়-অন্যায়, অসমতা-অসংগতি এসব প্রপঞ্চ রপ্ত এবং উপলব্ধির ফল। প্রজন্ম জেডের বৈষম্য ধারণাটি ভালোভাবে অনুভবই হলো আজকের নতুন বাংলাদেশ । বহুভাষিক শিক্ষাচর্চা এবং প্রসারের মাধ্যমে সাক্ষরতার বিস্তৃতি ঘটিয়ে বিশ্বায়ন এবং চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের আগমনী যুগে মানবসমাজে শান্তি ও স্থিতিশীলতা আনয়ন এবং পারস্পরিক সমঝোতার মাধ্যমে নিরক্ষরমুক্ত বাংলাদেশের মাঝেই দিবসের মর্মার্থ খোঁজা লাগবে এবং এ থেকেই খোঁজে নিতে হবে ভবিষ্যতের পথরেখা। বাংলাদেশ আজ নতুন প্রেরণায় উজ্জীবিত। যেখানটায় সবার চাওয়া শান্তি, স্বস্তি, বৈষম্যমুক্ত-স্বজনপ্রীতিবিহীন সোনার বাংলা। আর এসবে শক্তি এবং প্রেরণার উৎস হিসেবে শিক্ষা এবং সাক্ষরতা সহযোগীর ভূমিকায় অবতীর্ণ হতে পারে। তবেই দেখা মিলবে কাঙ্ক্ষিত আগামীর।

  • অধ্যাপক, সমাজকর্ম বিভাগ, শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়
শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা