× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

আইনশৃঙ্খলা

বৈধ-অবৈধ অস্ত্রের ব্যবহার-অপব্যবহার

ড. নাসির উদ্দিন আহাম্মেদ

প্রকাশ : ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৪ ০৮:১১ এএম

ড. নাসির উদ্দিন আহাম্মেদ

ড. নাসির উদ্দিন আহাম্মেদ

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় থানা ও পুলিশ ফাঁড়ি থেকে লুট করা অস্ত্র জমা দেওয়ার শেষ সময় ছিল গতকাল। আজ থেকে শুরু হচ্ছে দেশব্যাপী যৌথ অভিযান। এই প্রেক্ষাপটে ফিরে তাকাই ইতিহাসের দিকে। ১৮৩৩ সালের ১০ অক্টোবর সুইজারল্যান্ডের স্টকহোমের এক ধনাঢ্য শিল্পপতির ঘরে জন্মেছিলেন বিখ্যাত বিজ্ঞানী আলফ্রেড বের্নহার্ড নোবেল, সংক্ষেপে আলফ্রেন্ড নোবেল। রসায়ন, পদার্থবিদ্যা ও যান্ত্রিক কলাকৌশলে তার প্রাতিষ্ঠানিক জ্ঞানের বাইরেও বিশাল পাণ্ডিত্য ছিল। বস্তুত তার বাবা এবং ভাইও যুগপৎ বিজ্ঞানী ও শিল্পপতি ছিলেন, যারা নানা ধরনের রাসায়নিক দ্রব্য, ধাতব পদার্থ তথা স্টিল ও লোহালক্কড় ভিত্তিক নির্মাণ শিল্পের সঙ্গে জড়িত ছিলেন। সেই ধারাবাহিকতায় আলফ্রেড নোবেল ডিনামাইড, নাইট্রো গ্লিসারিন, জেলিগনাইট, বালস্ট্যাট, গান পাউডার, ব্লাস্টিং ক্যাপ, ডেটনেটরÑ এক কথায় বিস্ফোরক সংক্রান্ত নানা ধরনের উপাদান উদ্ভাবন, উন্নয়ন ও বিপণনের সঙ্গে জড়িয়ে যান। তিনি দাবি করছেন যে, মূলত পাহাড় ধ্বংস করে সড়ক ও রেললাইন নির্মাণের উদ্দেশ্যেই তিনি ডিনামাইড ও বিস্ফোরক ঘটানোর অন্যান্য সামগ্রী উদ্ভাবন, উন্নয়ন ও বাজারজাত করতে চেয়েছিলেন। কিন্তু বাস্তবে তার শিল্পপ্রতিষ্ঠানসমূহ ক্রমেই কামানসহ ভারী অস্ত্র ও বিস্ফোরক সমৃদ্ধ গোলাবারুদ তৈরি ও বিপণনের সঙ্গে জড়িয়ে পড়ে।

১৮৬৪ সালের ৩ সেপ্টেম্বর তথা আজ থেকে ঠিক ১৮০ বছর আগে স্টকহোমেরই হেলেনবার্গ অঞ্চলে আলফ্রেড নোবেলের পারিবারিক শিল্পপ্রতিষ্ঠানের একটি বড় ছাউনিতে নাইট্রো গ্লিসারিন নামক এক ধরনের বিস্ফোরক তৈরির সময় দুর্ঘটনাবশত একটি বিস্ফোরণ ঘটে। এতে আলফ্রেড নোবেলের ছোট ভাই এমিল অস্কার বাবেলসহ ৫ জন মৃত্যুবরণ করেন। এমন মৃত্যু আলফ্রেড বাবেলকে বেশ ব্যথিত করে। কিন্তু ততদিনে নানাভাবে বিস্ফোরকের ব্যবহার বেড়ে যায়, বিশেষত যুদ্ধক্ষেত্রে বিস্ফোরকের ব্যবহার ধ্বংসযজ্ঞের এক নতুন মাত্রা যোগ করে। বিস্ফোরকের অনিয়ন্ত্রিত ব্যবহার এমন এক পর্যায়ে পৌঁছে যে, আলফ্রেড নোবেলের আরেক ভাই লুডভিগ ১৮৮৮ সালে ফ্রান্সে মৃত্যুবরণ করলে স্থানীয় একটি সংবাদপত্র ভুলে আলফ্রেড নোবেল মৃত্যুবরণ করেছেন বলে মনে করে এবং এ নিয়ে শিরোনাম করে যে ‘মার্চেন্ট অব ডেথ ইজ ডেড’ অর্থাৎ মৃত্যুর ব্যবসায়ী এখন মৃত। এই সংবাদপত্র আরও লেখে ড. নোবেল যিনি পূর্বের যেকোনো সময়ের চেয়ে দ্রুত ও আরও বেশি মানুষ মারার রাস্তা বের করে ধনী হয়েছেন, তিনি গতকাল মৃত্যুবরণ করেছেন।

এই ঘটনার পর আর মাত্র ৮ বছর বেঁচে ছিলেন আলফ্রেড নোবেল এবং জনশ্রুতি মতে নাইট্রো গ্লিসারিন বিস্ফোরক নিয়ে দীর্ঘদিন কাজ করায় তার শরীরে নানা রকম জটিলতা তৈরি হয় এবং এর ফলে অল্প বয়সেই তার মৃত্যু ঘনিয়ে আসে। ১৮৯৬ সালের ১০ ডিসেম্বর মৃত্যুবরণের এক বছর ১৩ দিন পূর্বে (১৮৯৫ সালের ২৭ নভেম্বর) আলফ্রেড নোবেল তার সম্পদের ৯৪% পৃথিবীময় ৫টি ক্ষেত্রে শ্রেষ্ঠত্বের জন্য নোবেল পুরস্কার প্রবর্তনের জন্য দান করে যান। তৎকালে সুইস মুদ্রায় তার দানকৃত অর্থের পরিমাণ ছিল ৩ কোটি ১২ লাখ ২৫ হাজার। সেই বিচারে ২০২২ সালে এই অর্থের মূল্য আলফ্রেড নোবেলের দানকৃত অর্থে এই নোবেল শান্তি পুরস্কার চালুর পরও পৃথিবী ক্রমেই অশান্তিময় হয়ে ওঠে। এ সময় পৃথিবীতে দুটি বিশ্বযুদ্ধ এবং হিরোশিমা ও নাগাসাকিতে পারমাণবিক বোমা নিক্ষেপের বীভৎসতা দেখেছে মানবজাতি। সেই থেকে বিশ্বময় অস্ত্র ও গোলাবারুদের উৎপাদন, বিপণন ও ব্যবহারবিধি নিয়ে তর্ক-বিতর্কের শেষ নেই। বলা হয়, যে ছুরি দিয়ে একজন চিকিৎসক অপারেশন করেন ও রোগীর জীবন বাঁচান, সেই একই ছুরি অপরাধীর হাতে পড়লে তা মানুষের জীবন কেড়ে নেয়। এ ক্ষেত্রে ছুরি নয়, দায়ী যিনি ছুরি চালান সেই মানুষটি।

আইনশৃঙ্খলা রক্ষা বা যুদ্ধের বাইরে অস্ত্র ও গুলি রাখার ক্ষেত্রে যেকোনো নাগরিকের লাইসেন্স থাকা আবশ্যক। বিভিন্ন দেশ বিভিন্ন বিষয় বিবেচনা করে বেসামরিক নাগরিকদের অস্ত্রের লাইসেন্স দিয়ে থাকে। তারপরও লাইসেন্স করা অস্ত্রের অপব্যবহার প্রায়ই খবরের শিরোনাম হয়। বিশেষত, যুক্তরাষ্ট্রসহ বেশ কিছু সভ্য দেশে জনসমাগম হয় এমন স্থান, প্রার্থনা স্থল, এমনকি কোমলমতি শিশুদের শিক্ষাঙ্গনে লাইসেন্সধারী অস্ত্রের মালিক কর্তৃক অস্ত্রের অপব্যবহার ও বহু মানুষের বিশেষত শিশুদের করুণ মৃত্যু বেসামরিক ব্যক্তিদের পক্ষে অস্ত্র রাখার অধিকার বা সুযোগ প্রদানের বিষয়টি নিয়ে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।একই রকম বিতর্ক আছে বাংলাদেশেও। প্রচলিত আইন মোতাবেক প্রতিরক্ষা বাহিনী তথা সেনা, নৌ ও বিমানবাহিনীর অফিসার ও অন্য সদস্যরা নিজ নিজ জেলা প্রশাসক থেকে আবেদনের মাধ্যমে আত্মরক্ষা ও বন্য পশুপাখি শিকারের উদ্দেশ্যে অস্ত্রের লাইসেন্স পেয়ে থাকেন।

অনেক ক্ষেত্রেই অস্ত্রকে সামরিক পোশাকের একটি অংশ বিবেচনায় কোনো প্রকার কর প্রদান ছাড়াই প্রতিরক্ষা বাহিনীর সদস্যদের অস্ত্র আমদানির ও নিজের কাছে রাখার অনুমতি দেওয়া হয়। অন্যান্য সরকারি কর্মকর্তা ও কর্মচারীরাও বিশেষ প্রক্রিয়া অনুসরণ করে লাইসেন্স লাভ করতে পারেন। পুরোপুরি বেসামরিক ব্যক্তিরা মূলত আত্মরক্ষা বা ব্যক্তিগত নিরাপত্তার জন্য অস্ত্রের লাইসেন্স লাভের উদ্দেশ্যে নিজ নিজ জেলা প্রশাসকের কাছে আবেদন করেন। নিরাপত্তাবাহিনী বিশেষত পুলিশের বিশেষ শাখা থেকে নিরাপত্তা ছাড়পত্র পেলে বিভিন্ন দিক বিবেচনা করে এমন আবেদন মঞ্জুর করেন জেলা প্রশাসক। এ ক্ষেত্রে ধনাঢ্য ব্যক্তিদের নিজেদের নিরাপত্তার জন্য এবং তার কাছে থাকা বৈধ ধনসম্পদ রক্ষার্থে অস্ত্রের লাইসেন্স লাভ করে থাকেন। অতীতে অস্ত্রের লাইসেন্স প্রাপ্তদের তালিকায় আরও ছিলেন একশ্রেণির সৎ রাজনীতিবিদ, যারা তাদের ন্যায়নিষ্ঠা ও যোগ্যতার কারণে প্রতিদ্বন্দ্বিদের লক্ষ্যে পরিণত হন। তখন তাদের নিরাপত্তার জন্য লাইসেন্স দেওয়া হয়। উগ্রবাদের বিস্তার লাভ করায় রাজনীতিবিদদের নিরাপত্তা ঝুঁকি বেড়ে যাওয়ার পাশাপাশি অস্ত্রের লাইসেন্স লাভ তথা সঙ্গে অস্ত্র রাখার প্রবণতাও বাড়তে থাকে।

সম্প্রতি প্রতিদিনের বাংলাদেশসহ বিভিন্ন মূলধারার গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে গত ২৫ আগস্ট রবিবার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র তথ্য অফিসার স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে বেসামরিক জনগণকে গত ১৫ বছরে দেওয়া আগ্নেয়াস্ত্রের লাইসেন্স স্থগিত করার ঘোষণা প্রকাশিত হয়েছে । ওই ঘোষণায় ২০০৯ সালের ৬ জানুয়ারি থেকে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট তারিখের মধ্যে যেসব লাইসেন্স দেওয়া হয়েছে তা স্থগিত করে গোলাবারুদসহ সকল আগ্নেয়াস্ত্র সংশ্লিষ্ট থানায় জমা দেওয়ার জন্য বলা হয়। এ প্রসঙ্গে এমন ঘোষণার প্রেক্ষাপট স্মরণ করা যেতে পারে। বৈধ অস্ত্র হলেও তা যত্রতত্র প্রদর্শন, কাউকে ভয়ভীতি দেখানো এবং রাজনীতি বা ব্যবসায়িক ক্ষেত্রে প্রতিদ্বন্দ্বীদের ঘায়েল করার অপব্যবহার কখনও কাম্য বা আইনসিদ্ধ ছিল না। কিন্তু বাস্তবে তাই হয়েছে। প্রকাশ্যে বৈধ ও অবৈধ অস্ত্রের মহড়া, চাঁদাবাজি ও দখলদারিত্ব বজায় রাখতে আগ্নেয়াস্ত্রের ব্যবহার ছিল নিত্যদিনের রুটিন। ছাত্রাবাস, শিক্ষাঙ্গন, চাঁদা আদায়ের নানা ক্ষেত্র, টেন্ডার ও ঠিকাদারি বাণিজ্য সবই নিয়ন্ত্রণ হতো অস্ত্রের ইশারায়, যার অনেকাংশই আইনের দৃষ্টিতে ছিল বৈধ অস্ত্র। বিগত প্রায় ১৬ বছরের বাস্তবতা বিশেষত অতি সম্প্রতি ছাত্র-জনতার বিপ্লব মোকাবিলায় পুলিশের পাশাপাশি তথাকথিত হেলমেট বাহিনীর প্রকাশ্যে গুলি করার দৃশ্য সমগ্র জাতিকে স্তম্ভিত করেছে এবং কাঁদিয়েছে। এমন বাস্তবতায় গত ১৬ বছরে প্রদত্ত আগ্নেয়াস্ত্রের লাইসেন্স বাতিল ও অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে যৌথ অভিযান সময়ের দাবি। সেই অর্থে এমন ঘোষণা সর্বমহলে আশার সঞ্চার করেছে।

বিভিন্ন সংবাদপত্রে পুলিশের বরাতে লেখা হয়েছে যে, দেশে বৈধ অস্ত্রের সংখ্যা ৫০ হাজার ৩১০টি। এর মধ্যে ব্যক্তির হাতে রয়েছে ৪৫ হাজার ২২৬টি ও প্রতিষ্ঠানের কাছে আছে ৫ হাজার ৮৪টি অস্ত্র। দলীয় বিবেচনায় আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের কাছে ৭ হাজার ৫৪৯টি, বিএনপির হাতে ২ হাজার ৫৮৭টি ও অন্যান্য দলের কাছে ৭৯টি অস্ত্র থাকার সংবাদও পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছ। এর বাইরে যে ৩৫ হাজারেরও বেশি বৈধ অস্ত্র আছে, তার মালিক সেনা, নৌ ও বিমানবাহিনীসহ বিভিন্ন পোশাকধারী বাহিনীর কর্মরত ও অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ও অন্যান্য পদবির সদস্য, গ্রহণযোগ্য ও অগ্রহণযোগ্য সরকারি, আধা-সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের বর্তমান বা প্রাক্তন কর্মকর্তা ও কর্মচারী, বিতর্কিত ব্যবসায়ী ও রাজনীতিবিদ প্রমুখ। ঢালাওভাবে তাদের সবাইকে অস্ত্র জমা দেওয়ার নির্দেশ বেশ কিছু প্রশ্ন সামনে এনেছে। কিছু বিতর্কিত সদস্য বাদে সেনা, নৌ ও বিমানবাহিনীর সদস্যসহ পোশাকধারী বিভিন্ন বাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত সদস্যরা বর্তমানে বিভিন্ন শিল্পপ্রতিষ্ঠান, আর্থিক প্রতিষ্ঠান, বিদেশি দূতাবাস ও বিদেশি সাহায্য সংস্থা এবং বেসামরিক নিরাপত্তা সংস্থাসমূহে সুনামের সঙ্গে কাজ করছেন। তাদের কাজের ধরন বিশেষত টাকা ও মূল্যবান সম্পদ পরিবহনের কথা বিবেচনায় নিলে তাদের বৈধ অস্ত্র এক দিনের জন্য স্থানীয় থানায় জমা করা জনজীবনে আতঙ্ক ছড়াবে।

আমরা জানি যে, স্পেশাল সিকিউরিটি ফোর্সের (এসএসএফ) অত্যাধুনিক স্নাইপার রাইফেল ও ড্রোন বিধ্বংসী অস্ত্রসহ বিভিন্ন ধরনের অস্ত্র এবং বিভিন্ন থানায় থাকা পুলিশ সদস্যদের অস্ত্র বিপ্লব চলাকালে লুট হয়েছে, যা আছে দুষ্কৃতকারীদের কাছে। বিপ্লব পরবর্তী রাতসমূহে এসব অস্ত্রের মহড়া এবং বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও জমি দখলের প্রবণতা জনমনে ব্যাপক আতঙ্ক ছড়িয়েছিল। একটি ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ দখলেও অস্ত্রের ব্যবহার জাতিকে হতবাক করেছে। তখন বিভিন্ন বাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ও সাধারণ সদস্যদের অস্ত্র বিশেষত, নিরাপত্তা সেবায় নিয়োজিত সংস্থা ও প্রতিষ্ঠানের সদস্যদের কাছে থাকা বৈধ অস্ত্র কিছুটা হলেও জনমনে স্বস্তি দিয়েছিল। ব্যাংকসহ বিভিন্ন আর্থিক প্রতিষ্ঠানে নিরাপত্তার জন্য নিয়োজিত বিভিন্ন কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের বৈধ অস্ত্র জমা করা হলে সেসব প্রতিষ্ঠানের ঝুঁকি অনেক বেড়ে যাবে। বর্তমানে পোশাকধারী পুলিশ ও পুলিশি টহলের সীমিত কার্যক্রম ও গোয়েন্দা নজরদারিতে ভাটা পড়ায় অপরাধপ্রবণতা বেড়ে যাওয়ার সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যায় না। তা রোধকল্পে শতভাগ বৈধ অস্ত্র জমা করা বিচক্ষণ সিদ্ধান্ত হবে না।

এমন সিদ্ধান্তের বিপরীতে প্রাথমিক পর্যায়ে সেনা, নৌ ও বিমানবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত সদস্য বিশেষত ব্যাংক, দূতাবাস ও বিদেশি সংস্থা এবং নিরাপত্তা সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানে কর্মরতদের অস্ত্র তাদের কাছে রাখার অনুমতি বিবেচনার দাবি রাখে। সাধারণ নাগরিকদের মধ্যে যারা কোনো রাজনীতি বা অপরাধমূলক কাজে জড়িত নয়, তাদেরকে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে নিজ জেলা প্রশাসকের প্রতিনিধি ও প্রতিরক্ষা বাহিনী প্রতিনিধির যৌথ অনুমোদনে অস্ত্র রাখার সুযোগ দেওয়া যেতে পারে। বিগত দিনে যারা রাজনীতি করেছেন, ব্যানার ও ফেস্টুনে ছবি ছাপিয়ে শুভেচ্ছা জানিয়ে চাঁদার অঙ্ক বড় করেছেন আর ‘অমুক ভাইয়ের চরিত্র-ফুলের মতো পবিত্র’ বলে কদর্য চরিত্রের পরিচয় দিয়েছেন, তাদেরকে এলাকার মানুষ কমবেশি সবাই জানে। আজ তাদের হাতে ফুল দিয়ে এতদিন হাতে থাকা অস্ত্র অবশ্যই ফেরত নিতে হবে। অস্ত্রধারী অঙ্গীভূত আনসার সদস্যদের সচিবালয় ঘেরাও এবং ইউটিউবে তাদের অস্ত্র নির্দিষ্ট অস্ত্রাগারের বদলেÑ যার যার সঙ্গে রাখার উস্কানিও ছিল উদ্বেগের কারণ।

শুরুর কথার রেশ ধরে বলতে চাই, ব্যবহারকারীর ইচ্ছা ও চরিত্রের ওপর নির্ভর করে কোনো অস্ত্রের উপকার বা অপকার। এ ক্ষেত্রে ঢালাও সিদ্ধান্তে হিতে বিপরীত হওয়ার সম্ভাবনা থেকে যায়। অস্ত্র নয় , অস্ত্রধারী মানুষের পরিচয় ও অপরাধের প্রমাণ অনুসন্ধানপূর্বক দ্রুততম সময়ে তাদের বিচারই জনজীবনে শান্তি ও স্বস্তি ফিরিয়ে দিতে ব্যাপক ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা যায়। চলমান যৌথ অভিযান সময়ের প্রেক্ষাপটে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অভিযান পরিচালনাকারী সেনাবাহিনী, বিজিবি, পুলিশ, র‍্যাবসহ আরও বিভিন্ন বাহিনীর সদস্যরা থাকবেন। তাদের সাফল্য কামনা করি।

  • অবসরপ্রাপ্ত মেজর, নিরাপত্তা বিশ্লেষক এবং কলাম লেখক
শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা