প্রজন্মের ভাবনা
তানজিদ শুভ্র
প্রকাশ : ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৪ ০৮:৪২ এএম
জুলাইয়ে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে প্রযুক্তি ছিল বড় সহায়ক মাধ্যম। আন্দোলনে
দ্রুত জনমত গঠনের মাধ্যম ছিল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুক। এক পর্যায়ে বিগত সরকার
ইন্টারনেট সেবা বন্ধ করে দেয়। প্রায় দশ দিন পর ইন্টারনেট পরিষেবা চালু হয়। কিন্তু ফেসবুকে
আসার পর দেখা যায় নানা অপপ্রচারমূলক ফেসবুক পেজ রয়েছে। এসব পেজে যেমন সরকারি পক্ষের
নানা বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়িয়ে পড়ে তেমনি শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষকে নিয়েও অপতথ্যমূলক
পেজ দেখা যায়। সম্প্রতি দেশের প্রথম সারির বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের লোগো
জুড়ে দিয়ে মিথ্যা ফটো কার্ড বানিয়ে ছড়ানো হচ্ছে। অনেক সময় লোগোটাকেই ব্যবহার
করা হচ্ছে কিন্তু ফেসবুক পেজের মূল নামটি আলাদা। অনেক সময় সূত্র হিসেবে নির্ভরযোগ্য ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের নাম জুড়ে বিভিন্ন
গুজব ছড়ানো হচ্ছে। কখনও অনেক পুরোনো ছবিকে সাম্প্রতিক ছবি বলে
অপপ্রচার করা হচ্ছে। এসব বিভ্রান্তিমূলক তথ্য প্রচারের ফলে অনেকের ভাবমূর্তিও ক্ষুণ্ন হচ্ছে
ফেসবুকে এখনও আমরা অনেকেই যাচাই-বাছাই ছাড়াই যেকোনো কিছু শেয়ার করে ফেলছি। যা থেকে
গুজব ছড়াচ্ছে। এসব গুজবের অধিকাংশেরই ভিত্তি নেই। অভিযোগ করা হলে তা সরাসরি নির্ধারিত
প্রতিষ্ঠানকে করা উচিত। আমরা দেখছি, এসব গুজব অধিকাংশ ক্ষেত্রেই মব জাস্টিসের দিকে
ঠেলে নিচ্ছে। অনেকে দুর্নীতির বিষয়ে সোচ্চার হতে গিয়ে এমন তথ্য উপস্থাপন করছেন, যা
ফেসবুক পেজনির্ভর। অধিকাংশ ক্ষেত্রে তিনি না জেনেই এসব তথ্য শেয়ার দিচ্ছেন। অনেক সেলিব্রিটির
নাম ব্যবহার করে ভুয়া ফেসবুক আইডি ও পেজ খোলা হচ্ছে। ইউটিউব ও ফেসবুকে তারা মূলত ভিউ
ব্যবসার জন্য এমনটি করে। ফলে যাদের নামে এসব পেজ খোলা হচ্ছে তাদের ভাবমূর্তি নষ্ট হচ্ছে।
ইতোমধ্যে এ নিয়ে অনেক আলোচনা-সমালোচনা ও লেখালেখি হলেও ভুয়া পেজের
দৌরাত্ম্য থামেনি। এসব পেজ দেখলে রিপোর্ট করে ফেসবুক কর্তৃপক্ষকে জানানো নাগরিক দায়িত্ব।
কিন্তু এ ক্ষেত্রে তথ্য ও প্রযুক্তি অধিদপ্তরেরও উচিত এসব ভুয়া পেজ বন্ধের জন্য ফেসবুক
কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম বিশেষত, ফেসবুক ব্যবহার নিয়ন্ত্রিত করার চেয়ে আরও মনোযোগী হওয়া উচিত, যাতে এর অপব্যবহার কমানো যায়। এ ক্ষেত্রে ভুয়া ফেসবুক পেজ অপসারণের জন্য কার্যক্রম নেওয়া জরুরি। ভুয়া ফেসবুক পেজ ব্যক্তির জন্য মানহানিকরই শুধু নয় অনেক সময় ভুয়া পেজ দিয়ে পণ্য বিক্রি করার কথা বলে অসাধুরা ক্রেতার টাকাও হাতিয়ে নেয়। এসব ক্ষেত্রে ভিউ ব্যবসার পাশাপাশি অর্থ লোপাটের বহু অভিযোগ রয়েছে। ফলে ফেসবুক পেজভিত্তিক উদ্যোক্তারা বিপাকে পড়েন। তাদের কার্যক্রম পরিচালনায় অসুবিধায় পড়তে হয়। এসব অসুবিধা বিবেচনা করে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম বিভিন্নভাবে আমাদের জীবনের সঙ্গে জড়িয়ে পড়েছে। কিন্তু এই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের প্রতি মানুষের এক ধরনের বিতৃষ্ণাও তৈরি হচ্ছে। ফেসবুকে ভুয়া অপতথ্য বন্ধের জন্য পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতেও ফেসবুকের নির্দিষ্ট কার্যালয় রয়েছে। আমাদেরও এ বিষয়টি উপস্থাপনের বিষয়ে ভাবতে হবে।