বন্যা
ড. মোহাম্মদ জহিরুল হক
প্রকাশ : ২৫ আগস্ট ২০২৪ ০৯:৩৫ এএম
ড. মোহাম্মদ জহিরুল হক
পরিবর্তিত বিশ্বব্যবস্থায়
একটি দেশের দক্ষ পানি ব্যবস্থাপনাকে জাতীয় শক্তির উপাদান হিসেবে বিবেচনা করা হয়। পানি
তথা সুপেয় পানির পর্যাপ্ততা, সেই পানির ওপর নিয়ন্ত্রণ ও দক্ষ ব্যবহারের সঙ্গে একটি
দেশের ভাবমূর্তি জড়িত। বাংলাদেশ বিশ্বের বৃহত্তম ব-দ্বীপ। ভাটির দেশ তথা সমুদ্রোপকূলে
অবস্থিত দেশটি উজানের তথা এশিয়ার ভারত, চীন, ভুটান, নেপাল প্রভৃতি রাষ্ট্রের পানি নিষ্কাশনের
নালা বা ড্রেন হিসেবে খ্যাত। সে পরিপ্রেক্ষিতে পানি ব্যবস্থাপনায় বাংলাদেশের যে ধরনের
সক্ষমতা থাকা উচিত ছিল তা যে নেই তা বলার অপেক্ষা রাখে না। এ ছাড়া অবস্থানগত কারণে
উজানের বিশেষত ভারতের কাছে বাংলাদেশের পানি ব্যবস্থাপনা এক ধরনের জিম্মিই বলা যায়।
এভাবে বছরের পর বছর আমরা বন্যাকবলিত হয়ে পড়ছি। বাংলাদেশের মানুষের মনোবল ও সাহস দিয়ে
বন্যার মতো অনেক প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলায় আমরা বিশ্বে অনন্য নজির স্থাপন করেছি।

বাংলাদেশের পানির
নিয়ন্ত্রণ বাংলাদেশের কাছে পুরোপুরি নেই। ভাটিতে অবস্থানের কারণে উজানের দেশসমূহের
কাছে বাংলাদেশের পানির নিয়ন্ত্রণ অনেকাংশে। যেহেতু বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের সরাসরি
সীমানা এবং বেশিরভাগ নদ-নদী ভারত থেকে নেমে এসেছে এবং এসব নদ-নদীতে বানের ফলে দেশ বন্যাকবলিত
হলে ভারতের দিকেই অভিযোগের অঙ্গুলি নির্দেশ করা হয়। ছোটখাটো প্রতিবাদও হয়। তবে এবারের
বন্যায় ভারতের প্রতি বাংলাদেশের জনগণ তীব্র প্রতিবাদ দেখিয়েছে। সমাজমাধ্যম ও প্রিন্ট-ইলেকট্রনিক
মিডিয়ায় এর ব্যাপক প্রতিক্রিয়া হচ্ছে।
বাংলাদেশ ও ভারতের
ত্রিপুরা রাজ্যের রেকর্ড বৃষ্টি এ দুর্ভোগের জন্য দায়ী। একটি জাতীয় দৈনিকে আবহাওয়াবিদ
মোস্তফা কামাল এর মূলে আবহাওয়াসম্পর্কিত চারটি প্রধান কারণ চিহ্নিত করেছেন। এগুলো হলোÑ১.
এল-নিনো ২. মেডেন-জুলিয়ান দোলন বা সংক্ষেপে এমজেও ৩. জেট স্ট্রিম ও ৪. বঙ্গোপসাগরে
সৃষ্ট মৌসুমি লঘুচাপ। এর যেকোনো একটির উপস্থিতিই এ ধরনের ভারী বৃষ্টির জন্য যথেষ্ট।
অথচ দৈবক্রমে ১৫ আগস্টের পর থেকে একই সঙ্গে চারটি বৈশিষ্ট্যই বাংলাদেশ ও ভারতের পূর্বাঞ্চলীয়
রাজ্যসমূহে লক্ষণীয়। আর এর মিলিত প্রভাবেই রেকর্ড পরিমাণে বৃষ্টিপাত। ১৯ থেকে ২২ আগস্ট
পর্যন্ত ফেনীতে ৪৩৫, কুমিল্লায় ৫৫৭ আর নোয়াখালীতে ৬০৫ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে। আবহাওয়াবিদরা
মনে করেন, ভারতের ত্রিপুরা রাজ্য ও বাংলাদেশ এ রেকর্ড বৃষ্টি ও এর ফলে বন্যার আশঙ্কার
সতর্কতা অন্তত ১০ দিন আগে দিতে পারত। বাংলাদেশের আবহাওয়া অধিদপ্তর থেকে এ ধরনের সতর্কতা
জারি হয়নি। উজানে অবস্থিত যেকোনো দেশে ভারী বৃষ্টিপাতের আশঙ্কা থাকলে ভাটির দেশসমূহকে
সে সম্পর্কে সতর্ক করা শুধু নৈতিকতার মধ্যেই পড়ে না; এর আইনি বাধ্যবাধকতাও রয়েছে। আর
ড্যাম বা ব্যারাজ খুলে দেওয়ার ঘটনা ঘটানো হলে তো অবশ্যই তা পানি বহনকারী দেশ তথা ভাটির
দেশকে জানানো উচিত। অন্তর্বর্তী সরকারের পরিবেশ,
বন ও জলবায়ু পরিবর্তন এবং পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান ২৩
আগস্ট হবিগঞ্জে বলেছেন, ‘পানি ছাড়ার আগে বাংলাদেশকে জানানোর বিষয়টি ভারত প্রতিপালন
করেনি। উজানের দেশে যদি অস্বাভাবিক বৃষ্টিপাত হয় এবং পানি ছেড়ে দেওয়ার প্রয়োজন
হয়, তাহলে ভাটির দেশকে আগে থেকেই জানানোর প্রয়োজন হয়। যাতে ভাটির দেশের লোকজন নিজেদের
প্রস্তুত করতে পারে এবং লোকজনকে সরানো যায়। কিন্তু এবার এ জানানোর বিষয়টি ভারত প্রতিপালন
করেনি। ভারতের সঙ্গে আমাদের চুক্তিতেও এমনটি বলা হয়েছে।’ (প্রতিদিনের বাংলাদেশ, ২৩
আগস্ট, ২০২৪)। যদিও ভারত গেট খুলে দেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করেছে। ত্রিপুরার বিদ্যুৎমন্ত্রী রতন লাল নাথ বিবিসিকে বলেছেন, ‘আমরা ডাম্বুরের গেট
খুলে দিয়েছি, এ তথ্য সঠিক নয়।’ তার ভাষ্য, ‘পানির স্তর স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি উঠলে নিজের
থেকেই তা গেট দিয়ে বেরিয়ে যাবে। গেট খুলে দিতে হয় না। আবার পানির স্তর নিচে নেমে গেলে
নিজের থেকেই গেট বন্ধ হয়ে যাবে।’ তিনি দাবি করেন, ত্রিপুরার সংশ্লিষ্ট এলাকাগুলোয় মাইকিং
করে তা জানিয়ে দেওয়া হয়েছে। অথচ বাংলাদেশকে একটি ইমেইল বা জরুরি ফোন বার্তা দিয়ে সতর্ক
করলে জানমালের ক্ষয়ক্ষতি অনেকাংশেই কম হতো।
ত্রিপুরা থেকে ফেনী, কুমিল্লা, ব্রাহ্মণবাড়িয়া,
হবিগঞ্জ একেবারে কাছাকাছি বা সীমান্তঘেঁষা। ত্রিপুরা থেকে এসব জেলায় নেমে আসা নদ-নদীগুলোর
প্রশস্ততাও কম। ২০০ থেকে ৩০০ মিটার। প্রতি বছরের পাহাড়ি ঢলে নেমে আসা বালুতে পলি পড়ে
তলদেশ ভরাট হয়ে গভীরতাও কমে গেছে নদ-নদীর। অপরিকল্পিত ও বেআইনিভাবে বালু উত্তোলনে এসব
নদ-নদীকে নিয়ে যাওয়া হয়েছে ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে। পানি উন্নয়ন বোর্ডসহ সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর
নির্লিপ্ততায় এসব জেলার আন্তঃসমীনান্ত নদ-নদীর বাঁধের অবস্থা তথৈবচ। দখল-দূষণে এসব
নদ-নদীর টুটি চেপে ধরা হয়েছে। একদিকে নদ-নদীর পানি ধারণ ও বহন ক্ষমতা হ্রাস, অন্যদিকে
ত্রিপুরা থেকে একসঙ্গে নেমে আসা ব্যাপক পানিতে এসব এলাকার নদ-নদী কোথাও উপচে পড়ে, কোথাও
বাঁধ ভেঙে বন্যা পরিস্থিতি স্মরণকালের ভয়াবহ বন্যার রূপ দেয়। এটা আর প্রাকৃতিক বিপর্যয়ে
থাকছে না; মানবিক বিপর্যয়ে পরিণত হয়েছে।
২০২২ সালে সিলেট
বিভাগের বন্যার মূল কারণ ছিল মেঘালয়, আসাম ও ত্রিপুরায় ভারী বৃষ্টিজনিত নেমে আসা পানি।
তবে সে সময় ড্যাম বা ব্যারাজ খুলে দেওয়ার তেমন অভিযোগ ওঠেনি। এবারের মতো পূর্বসতর্কীকরণ
না থাকায় তখনও সিলেট, সুনামগঞ্জ ও হবিগঞ্জ জেলার লোকজনের জানমালের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি
হয়। তখন বাংলাদেশে প্রবেশ করেছিল ভারতের তিন রাজ্যের পানি। এবারের বন্যায় বাংলাদেশের
অভ্যন্তরের ভারী বৃষ্টি ও ভারতের এক রাজ্যের ছেড়ে দেওয়া পানিতেই আট জেলা ভেসে গেছে।
এগুলো হলো ফেনী, কুমিল্লা, নোয়াখালী, লক্ষ্মীপুর, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, চট্টগ্রাম, মৌলভীবাজার
ও হবিগঞ্জ। এর বাইরে বন্যাকবলিত হয়েছে কক্সবাজার, খাগড়াছড়ি, রাঙামাটি জেলাও। এসব জেলার
৭৭ উপজেলা বন্যাকবলিত। ২৩ আগস্ট পর্যন্ত এসব জেলায় প্রায় ৯ লাখ পরিবার পানিবন্দি। ক্ষতিগ্রস্ত
মানুষের সংখ্যা প্রায় ৪৮ লাখ। মৃত্যু হয়েছে ১৫ জনের। অনেকেই নিখোঁজ রয়েছেন। বন্যাকবলিত
মানুষকে উদ্ধার করতে তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে। বন্যাকবলিত এলাকায় দেশের বিভিন্ন স্কুল-কলেজ-মাদ্রাসা-বিশ্ববিদ্যালয়ের
শিক্ষার্থী, সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী, কোস্টগার্ড, বিজিবি, ফায়ার সার্ভিস, পুলিশ, স্কাউট,
বিএনসিসি ও রেড ক্রিসেন্টের সদস্যরা উদ্ধার তৎপরতায় মাঠে আছেন। বন্যার শুরুতে উদ্ধার
তৎপরতা চালানো বেশ ঝুঁকিপূর্ণ। আবার উদ্ধারকাজের অভিজ্ঞতা ও প্রশিক্ষণও থাকা প্রয়োজন।
কিন্তু শিক্ষার্থীরা বন্যার শুরুতেই তাদের সর্বশক্তি দিয়ে জীবন তুচ্ছ করে বন্যাকবলিত
এলাকা বিশেষত ফেনী, নোয়াখালী, লক্ষ্মীপুর, কুমিল্লা, হবিগঞ্জ ও মৌলভীবাজারে নেমে পড়েছেন।
এতে এক উদ্ধারকারী শিক্ষার্থীর প্রাণও গেছে। বন্যাকবলিত এলাকায় ভেসে গেছে অনেক ঘরবাড়ি।
সড়ক যোগাযোগসহ অবকাঠামোর হয়েছে ব্যাপক ক্ষতি। ভেসে গেছে গবাদি পশু। আমন, রোপা আমনসহ
শাকসবজি ও মৎস্য খাত সম্পূর্ণ ক্ষতিগ্রস্ত। কী পরিমাণ লোকজন এবারের বন্যায় সর্বস্বান্ত
হয়েছে তার প্রকৃত হিসাব পুরোপুরি পেতে বেশ কিছু দিন লাগবে। বিদ্যুৎ ও মোবাইল নেটওয়ার্ক
ব্যবস্থাও ভেঙে পড়েছে। প্রাথমিকভাবে ৪ হাজারের মতো আশ্রয়কেন্দ্রে প্রায় ২ লাখ মানুষ
আশ্রয় নিয়েছে। আশ্রয়কেন্দ্রের সংখ্যা প্রতি ঘণ্টায় বাড়ছে। ১১ জেলার ক্ষতিগ্রস্তদের চিকিৎসাসেবা
প্রদানের জন্য ৬৩৭টি মেডিকেল টিম কাজ করছে বলে জানিয়েছে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ
মন্ত্রণালয়।
এবারের বন্যায় দুর্ভোগ ও ক্ষয়ক্ষতি যেমন
অকল্পনীয়; বন্যাকবলিতদের পাশে দাঁড়ানোয় সাড়াও পড়েছে অভাবনীয়। সমাজমাধ্যমে বন্যার খবর
ছড়িয়ে পড়ার সঙ্গে সঙ্গে দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে নৌকা, স্পিডবোটসহ উদ্ধারের জন্য যার
কাছে যা কিছু আছে তা ট্রাক, লরি, ঠেলাগাড়ি, বড় নৌকায় তুলে নেমে পড়েছেন উদ্ধার তৎপরতায়।
প্রধান উপদেষ্টার ত্রাণ তহবিলে অনুদান পাঠানোর আহ্বান জানানো হয়েছে। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র
আন্দোলনের গণত্রাণ কর্মসূচিতে পড়েছে ব্যাপক সাড়া। প্রথম কয়েক ঘণ্টায় টিএসসিতে খাদ্য,
ওষুধ, কাপড়সহ বিভিন্ন ত্রাণসামগ্রী নিয়ে কাতার বেঁধে সর্বস্তরের লোকজন জমা দিয়েছে।
প্রথম দিনেই নগদ জমা পড়েছে কোটি টাকার ওপর। এখনও গণত্রাণ কর্মসূচি অব্যাহত রয়েছে। এর
বাইরে বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী ও রাজনৈতিক দলের কর্মীরা বন্যার্তদের পাশে আছেন। স্কুল-কলেজ-মাদ্রাসা-বিশ্ববিদ্যালয়ের
বিভিন্ন বিভাগ ও ক্লাবের মাধ্যমে চলছে তহবিল ও ত্রাণ সংগ্রহ। অনেকে এক দিনের বেতন দিয়েছেন
বন্যার্তদের সহায়তায়। ছোট ছোট ছেলেমেয়েরা তাদের জমানো টাকা দিয়ে দিচ্ছে ত্রাণ কার্যক্রমে।
প্রবাসী বাংলাদেশিরা সাধ্যমতো সহায়তার হাত বাড়িয়েছেন। বন্যার্তদের সহায়তায় বাংলাদেশ
এক অনন্য নজির স্থাপন করল।
২০২২ সালে সিলেট
বিভাগের বন্যায় ত্রাণ ও পুনর্বাসন তৎপরতায় আমি মাঠ পর্যায়ে কাজ করেছি। সে অভিজ্ঞতা
থেকে বলছি, ত্রাণ সংগ্রহ ও তহবিল গঠন থেকে সেই ত্রাণ প্রকৃত অসহায়দের কাছে পৌঁছানো
বড় চ্যালেঞ্জ। বন্যার শুরুতে জনসাধারণের কাছ থেকে যে উৎসাহ ও তৎপরতা দেখা যায় সপ্তাহ
দুয়েক পর তাতে ভাটা পড়তে থাকে। আবার দুর্গম এলাকাগুলোয় ত্রাণ পৌঁছাতে বিড়ম্বনার জন্য
অনেক এলাকা ত্রাণ কার্যক্রমের বাইরে থেকে যায়। তাই ত্রাণ কার্যক্রমে সমন্বয় প্রয়োজন।
এখনও চলছে উদ্ধার তৎপরতা। পানি কমার সঙ্গে সঙ্গে বন্যার ক্ষত দৃশ্যমান হবে। বন্যার পানি কমে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ছড়িয়ে পড়বে বিভিন্ন রোগ। হাসপাতাল-ক্লিনিকগুলো এখনই প্রস্তুত রাখতে হবে। আশ্রয়কেন্দ্র থেকে নিজ নিজ বসতভিটায় ফেরানোর সময় সহায়তা প্রয়োজন হবে বেশি। অনেকের কেবল ভূমিটি রয়েছে। আবার অনেকের ভূমিও মিশে গেছে নদী বা জলাধারে। যাদের ভূমি রয়েছে তাদের ঘরসহ সবকিছু ভাসিয়ে নিয়ে গেছে বানের পানি। এখন না হয় স্বেচ্ছাসেবীরা তৈরি ও প্যাকেটজাত খাবার দিচ্ছেন। আশ্রয়কেন্দ্র থেকে ফেরার পর আসবে জীবনজীবিকার প্রশ্ন। শুরু হবে জীবনযুদ্ধ। সে যুদ্ধে পাশে থাকা হবে বড় সহায়তা। যোগাযোগব্যবস্থা আগের অবস্থায় ফেরাতে লেগে যাবে কয়েক বছর। বানের পানির আঘাতে ক্ষতবিক্ষত নদী ও বাঁধসমূহ মেরামত করতে হবে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে। নতুবা এ বছরেই আবার বন্যার কবলে পড়তে পারে এসব জেলা। বন্যায় অসহায় মানুষের দুর্দশা পুঁজি করে সুযোগসন্ধানীরা যাতে ফায়দা তুলতে না পারে সে ব্যাপারে সজাগ থাকতে হবে। জনগণের সঙ্গে শেষ পর্যন্ত ও আজীবন পাশে থাকে প্রশাসন। সেই প্রশাসনকে দক্ষতার সঙ্গে উদ্ধার থেকে পুনর্বাসন পর্যন্ত পরিস্থিতি মোকাবিলা করতে হবে। দেশি-বিদেশি তহবিলের দক্ষ ও স্বচ্ছ ব্যবহার নিশ্চিত করার ওপর জোর দিতে হবে। প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলায় বাংলাদেশের স্থান বিশ্বে অনন্য। এবারও আমরা হারব না।