দিবস
তানভীর হাসান তপু
প্রকাশ : ১৯ আগস্ট ২০২৪ ০৯:৫১ এএম
মানবসেবায় ব্রতী যারা
মানবকল্যাণে,
মানবের উন্নতি সাধনে নিজেদের জীবন উৎসর্গ করেছেন
তাদের শ্রদ্ধা জানাতে আজ বিশ্বজুড়ে উদযাপিত হচ্ছে বিশ্ব মানবতা দিবস। ২০০৩ সালের ১৯ আগস্ট ইরাকে জাতিসংঘ কার্যালয়ে বোমা হামলায় ২২ জন কর্মকর্তা নিহত হন। জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদ ২০০৯ সাল থেকে প্রতি বছর
১৯ আগস্ট বিশ্বমানবতা দিবস পালনের সিদ্ধান্ত নেয়। এই দিবসের মাধ্যমে সারা বিশ্বের সাধারণ নাগরিকদের মানবিক কাজের প্রতি সমর্থন জোরদার করার
কাজ আরও গতিশীল হয়ে ওঠে। গণ-অভ্যুত্থানের ক্রান্তিকাল পার করা
সময়ে দেশে এই দিবস পালনের প্রাসঙ্গিকতা আরও জোরদার হয়ে উঠছে।
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি
থেকে শুরু করে বিচারপ্রক্রিয়ায় রাজনৈতিক হস্তক্ষেপে নানাবিধ জটিলতা তৈরি করে। এরই প্রেক্ষিতে
গণ-অভ্যুত্থানের মাধ্যমে সরকার পতনের পর দাবি ওঠে রাষ্ট্র সংস্কারের। যার ধারাবাহিকতায়
বিভিন্ন গোষ্ঠী সংস্কার প্রস্তাব উপস্থাপন করছে। এই বিক্ষিপ্ত স্বরগুলোকে একত্রিত করে
বিবেচনায় আনার সুযোগ তৈরি হয়েছেন। আমরা দেখছি নারীর
প্রতি সহিংসতা, হয়রানি,
ধর্ষণ, হত্যা, পারিবারিক নির্যাতন প্রকট
আকার ধারণ করেছে। গণপরিবহনে ভাড়া নৈরাজ্য এবং সড়কে বিশৃঙ্খলাও কমেনি। সামাজিক নিরাপত্তা
কর্মসূচিও আগের তুলনায় অনেক কমেছে। গত ছয় মাসে ১৪৫ জন সাংবাদিক বিভিন্নভাবে
নির্যাতন,
হয়রানি, হুমকি, মামলা ও পেশাগত কাজ করতে গিয়ে
বাধার সম্মুখীন হয়েছেন, যা সংবাদপত্রের স্বাধীনতার প্রতিও বড় বাধা।
বিচার বিভাগের ওপর রাজনৈতিক হস্তক্ষেপে মানবিক সমাজ গড়ে তোলার প্রতিশ্রুতি নানাভাবে
প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে। নারী নির্যাতন, ধর্ষণের
বিরুদ্ধে টেলিভিশনে সচেতনতামূলক প্রচারণা থাকা উচিত। সামাজিক
নানা বিষয়ে সচেতনতামূলক প্রচারণা থাকার কথা থাকলেও তা নেই, এমন অভিযোগও রয়েছে। গণ-সচেতনতামূলক
প্রচারণা অনলাইন-অফলাইন সব মাধ্যমে বাড়াতে হবে। আমাদের সামাজিক সচেতনতাও কম। বাংলাদেশের
শ্রমিকদের জীবন ধারণের জন্যে ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণ হলেও যুক্তিসংগত হয়নি।
একইভাবে প্রবাসী শ্রমিকদের বেলায়ও তাদের নিরাপত্তা, তত্ত্বাবধান
এবং কোনো রকমের রাষ্ট্রীয় সুবিধা দেওয়ার উদাহরণ নেই। অথচ তৈরি পোশাক শিল্পের
শ্রমিক ও প্রবাসী শ্রমিক এরাই বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করে দেশকে সমৃদ্ধির পথে নিয়ে
যাওয়ার মূল দাবিদার। এ ছাড়াও দেশে অনেক গোষ্ঠী তাদের মৌলিক অধিকার বঞ্চিত বা পিছিয়ে
রয়েছে। তাদের অধিকার নিশ্চিত করার বিষয়েও আশু নজর দেওয়া জরুরি। যদি তা না করা যায়,
তাহলে মানবিক ও সুন্দর সমাজ গড়ার প্রত্যয় শুধু মুখের কথাই হয়ে থাকবে। বাস্তবায়নের সদিচ্ছা
ও সবার সচেতন সহযোগিতা সব সময়ই কাম্য।
মানবিক সমাজ গড়ে তোলার জন্য ইতিহাস সচেতনতাও অনেক জরুরি। ইতিহাস মানুষকে ভাবায়, তাড়িত করে। প্রতিদিনের উল্লেখযোগ্য ঘটনা কালক্রমে রূপ নেয় ইতিহাসে। সেসব ঘটনাই ইতিহাসে স্থান পায়, যা কিছু ভালো, যা কিছু প্রথম, যা কিছু মানবসভ্যতার অভিশাপ-আশীর্বাদ। তাই ইতিহাসের দিনপঞ্জি মানুষের কাছে সব সময় গুরুত্ব বহন করে। বাংলাদেশেও অহরহ ঘটছে মানবতার লঙ্ঘন। তুচ্ছ ঘটনায় অথবা হীন স্বার্থে একজন আরেকজনের ওপর অমানবিক আচরণ করছে সহসাই। বিনা বিচারে বছরের পর বছর নিরপরাধ ব্যক্তি কারাগারে আটকে থাকছে। হিংসা-বিদ্বেষ, কলহ, ব্যক্তি বা গোষ্ঠী স্বার্থ, অসহিষ্ণুতা ইত্যাদি বেড়েই চলেছে। ফলে মানুষই মানুষের প্রতি অমানবিক হচ্ছে প্রতিনিয়ত। তাই যারা চরম আত্মত্যাগ করে, মানবসেবায় ব্রতী হয়েছেন, যারা মানব কল্যাণে, মানবের উন্নতি সাধনে নিজেদের জীবন উত্সর্গ করেছেন জাতিসংঘের নির্দেশনায় তাদের উদ্দেশে বিশ্বজুড়ে প্রতি বছর ১৯ আগস্ট সারা বিশ্বে উদযাপিত হয়Ñ বিশ্ব মানবতা দিবস।