× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

প্রেক্ষাপট

শিক্ষা কারিকুলামে সংস্কার চাই

মো. হাসান-উল-বারী

প্রকাশ : ১৩ আগস্ট ২০২৪ ০৯:৫২ এএম

শিক্ষা কারিকুলামে সংস্কার চাই

শিক্ষা ও কারিকুলামে সংস্কার দেশে বিদ্যমান পরিস্থিতিতে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। শিক্ষা হলো শিশুর সর্বাঙ্গীণ বিকাশ সাধনের একটি প্রক্রিয়া। যেটি জীবনব্যাপী ধরে চলতে থাকে। অর্থাৎ শিক্ষা জীবনের সঙ্গে যুক্ত ধারাবাহিক প্রক্রিয়া। শিক্ষা এমন একটি বিষয় যার মধ্য দিয়ে শিক্ষার্থীদের জীবন বিকাশের সমস্ত দিকের প্রতি গুরুত্ব আরোপ করা হয়। আর শিক্ষা কারিকুলাম হচ্ছে শিক্ষার সংবিধান। একটি শিক্ষাব্যবস্থার কারিকুলাম ও মূল্যায়ন পদ্ধতি হঠাৎ করে শতভাগ পরিবর্তন পৃথিবীর কোনো দেশই করে না। পরিবর্তন আনতে হয় সাম্যাবস্থা বজায় রেখে একটু একটু করে, যাতে ভুল হলেও ক্ষতি কম হয়। বিগত সরকার দেশে যে নতুন শিক্ষাব্যবস্থা চালু করেছে তা পৃথিবীর বেশ কিছু উন্নত দেশে চালু আছে। নতুন কারিকুলাম নিঃসন্দেহে ভালো কিন্তু তা বাস্তবায়নের জন্য যে চ্যালেঞ্জ রয়েছে তা বিবেচনায় না এনে হুট করেই বাস্তবায়নের কাজ শুরু হয়।

নতুন কারিকুলামে গতানুগতিক বিষয় তো থাকবেই। তবে এর সঙ্গে সঙ্গে যুগ তথা দেশ-বিদেশের চাহিদা অনুযায়ী আমাদের বিষয় নির্ধারণ করা প্রয়োজন। বাংলাদেশ মানব সম্পদের দেশ। দেশ থেকে প্রতি বছর বহু লোক কর্মসংস্থানের জন্য বিদেশে যান, যাদের বড় অংশই শ্রমিক। নতুন কারিকুলামে সিনিয়র হাইস্কুল (১০ম শ্রেণি হতে ১২শ শ্রেণি) পর্যায়ে বৃত্তিমূলক শিক্ষা রয়েছে। এই বৃত্তিমূলক শিক্ষার বিষয়গুলো এমনভাবে নির্ধারণ করতে হবে যেন শিক্ষার্থীরা সিনিয়র হাইস্কুল থেকে বেরিয়ে দেশ-বিদেশে কর্মসংস্থানের সুযোগ পায়। উন্নত দেশগুলোতে সিনিয়র হাইস্কুলগুলোর সবই স্পেশালাইজড। সিনিয়র হাইস্কুলগুলো নির্দিষ্ট বৃত্তিমূলক শিক্ষায় শিক্ষার্থীদের স্পেশালাইজড হিসেবে গড়ে তোলে। ফলে শিক্ষার্থীরা সিনিয়র হাইস্কুল থেকে বেরিয়ে বিভিন্ন পেশায় কর্মসংস্থানের সুযোগ পায়। উল্লেখ্য, উন্নত দেশগুলোতে সবাই উচ্চশিক্ষা গ্রহণের সুযোগ পায় না। শতকরা ১৫ থেকে ২০ শতাংশ শিক্ষার্থী উচ্চশিক্ষা গ্রহণের সুযোগ পায়। বাস্তবতার নিরিখেই আমাদেরও সিনিয়র হাইস্কুলগুলো সব স্পেশালাইজড করে গড়ে তুলতে হবে। কারণ জাতি হিসেবে আমরা আর শ্রমিক হয়ে থাকতে চাই না।

কারিকুলাম বাস্তবায়নের অগেই বিষয়ভিত্তিক বইয়ের পাণ্ডুলিপি প্রস্তুত করতে হবে। এতদসঙ্গে পাণ্ডুলিপিগুলোর পরিবর্তন, পরিবর্ধন, বানান সংশোধনসহ সকল ধরনের কাজ দেশ সেরা লেখকদের দ্বারা শেষ করতে হবে। অতঃপর বিষয়ভিত্তিক একাধিক শিক্ষক দিয়ে নানাভাবে পাণ্ডুলিপিগুলো দেখতে হবে বা রিসার্স করতে হবে। দুনিয়ার কোনো দেশের বইতেই সাধারণত ভুল থাকে না। অথচ, আমাদের সরকারিভাবে ছাপানো এনসিটিবির বইগুলোও অনেকাংশেই ভুলে ভরা।

আমাদের এখানে মূল্যায়ন পদ্ধতি/নীতিমালা প্রণয়ন না করেই শিক্ষকদের দিয়ে জোর করে নতুন কারিকুলামের শিখন শেখানোর কাজ শুরু হয়। আমরা দেখেছি, ষাণ্মাসিক পরীক্ষার আগে তড়িঘড়ি করে মূল্যায়ন নীতিমালা প্রণয়ন করা হয়েছে। বিশ্লেষণে দেখা গেছে, একজন শিক্ষককে প্রতিদিনই কোনো না কোনো ক্লাসে শিক্ষার্থীদের মূল্যায়ন করতে হচ্ছে এবং গড়ে একজন শিক্ষার্থীর জন্য শিক্ষককে শতাধিক ডেটা ইনপুট দিতে হয়। বিষয়টি সময়সাপেক্ষ। এ ছাড়াও মূল্যায়নের জন্য নির্ধারিত নৈপুণ্য অ্যাপ্সটি কারিগরি ত্রুটিতে ভরপুর।

শিক্ষকের মর্যাদা বাড়লে সে দেশের শিক্ষার গুণগত মান যেমন বাড়ে, আবার ঠিক একইভাবে শিক্ষার গুণগত মান বাড়লেও তা শিক্ষকের মর্যাদা বাড়ায়। বিষয়টি বিবেচনা করত শিক্ষকের মর্যাদা ও সুযোগ-সুবিধা বাড়ানোও একান্ত প্রয়োজন।

  • শিক্ষক, মিলেনিয়াম স্কলাস্টিক স্কুল অ্যান্ড কলেজ, বগুড়া
শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা