× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

সম্পাদকীয়

রাষ্ট্রীয় সম্পদ সুরক্ষার দায়িত্ব সবার

সম্পাদকীয়

প্রকাশ : ০৬ আগস্ট ২০২৪ ১০:১৯ এএম

রাষ্ট্রীয় সম্পদ সুরক্ষার দায়িত্ব সবার

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে অসহযোগ কর্মসূচির দ্বিতীয় দিনে ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানের মুখে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ৫ আগস্ট পদত্যাগ করে দেশ ত্যাগ করেন। সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান ওই দিন জাতির উদ্দেশে ভাষণ দিতে গিয়ে দেশের দায়িত্বভার গ্রহণের কথা জানিয়েছেন। আমরা দেশের ক্রান্তিলগ্নে সেনাপ্রধানের উদ্যোগকে স্বাগত জানাই। তিনি এও জানান, যত দ্রুত সম্ভব গঠিত হবে অন্তর্বর্তী সরকার। এই অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের অধীনে আপাতত দেশের সব কার্যক্রম চলবে। রাষ্ট্রপতির নেতৃত্বে অন্তর্বর্তী সরকার গঠনের প্রক্রিয়া ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে। আমরা আশা করব, দেশের সহিংস পরিস্থিতি উত্তরণক্রমে যত দ্রুত সম্ভব দেশকে আবার গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক সংস্কৃতির আবহে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা বেগবান থাকবে।

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে আমরা সরকারি অনেক গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় অগ্নিসংযোগসহ ভাঙচুরের অনেক ধ্বংসাত্মক কার্যক্রম দেখেছি। এমনকি ৫ আগস্ট পরিবর্তিত প্রেক্ষাপটেও কোনো কোনো ক্ষেত্রে এমনটি পরিলক্ষিত হয়েছে। আমরা এর তীব্র নিন্দা জানাই। রাষ্ট্রীয় সম্পদ যেহেতু জনসম্পত্তি সেহেতু এর সুরক্ষার দায় কমবেশি সবার। আমরা আশা করব, এমনটি যাতে আর পরিলক্ষিত না হয় এজন্য দায়িত্বশীল প্রত্যেকটি মহল নিজ নিজ অবস্থান থেকে সহযোগিতা করবে। রাষ্ট্রীয় সম্পদ থেকে শুরু করে যেকোনো কিছু ধ্বংসযজ্ঞের সঙ্গে যারা যুক্ত তাদের ব্যাপারে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানাই। একই সঙ্গে সর্বস্তরে জননিরাপত্তা নিশ্চিত করার ব্যাপারেও সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীল মহলকে যথাযথ দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানাই।

বিগত এক মাসেরও বেশি সময় ধরে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে হতাহতের যে মর্মস্পর্শী ঘটনা ঘটেছে তাতে আমরা অত্যন্ত বেদনাকাতর। আমরা আশা করব, এ ব্যাপারে যথাযথ তদন্তক্রমে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা হবে। যেকোনো দেশে বা সমাজে বৈপ্লবিক পরিবর্তনের প্রেক্ষাপটে গণ-আন্দোলনের জয়ীদের কোনো কোনো অংশ সুযোগ সন্ধানে ব্যস্ত থাকেÑ এমন নজির আমাদের সামনে আছে। মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে অর্জিত এ দেশের প্রজন্ম মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় কতটা ঋদ্ধ এর সাক্ষ্য মিলেছে উল্লেখযোগ্য অংশের আন্দোলনকারীর মাথা এবং হাতে জাতীয় পতাকার বেষ্টনীতে। আমরা মনে করি, সবার আগে দেশ। আর দেশকে সুরক্ষিত রাখার দায়িত্ব দেশের জনগণেরও কম নয়।

আমরা আশা করব, অনতিবিলম্বে সহিংসতার দাবানল নিভে যাবে। সহিংসতা শান্তির বড় অন্তরায়। সহিংসতায় কোনো পক্ষই লাভবান হতে পারে না, এই নজিরও আমাদের সামনে কম নেই। আমরা এমনিতেই অনেক সংকটের মধ্য দিয়ে চলেছি। জাতীয় অর্থনীতি যখন সংকটকাল অতিক্রম করছিল তখন ধ্বংসাত্মক কর্মকাণ্ডের অভিঘাত এর ওপর নতুন করে লাগে। রাজনৈতিক-সামাজিক স্থিতিশীলতা সমৃদ্ধ অর্থনীতির অন্যতম অনুষঙ্গ। আমরা জানি, মুক্তিযুদ্ধে এই জাতি ভয়কে জয় করতে শিখেছে। এমন একটি জাতির দেশপ্রেম বোধে কোনোভাবেই ঘাটতি থাকতে পারে না। আমরা ইতোমধ্যে অনেক অপ্রীতিকর এবং মর্মস্পর্শী ঘটনার মুখোমুখি হয়েছি। আমাদের আহ্বান আর যাতে একবিন্দু রক্তও না ঝরে, আর যাতে কোনো মায়ের বুক খালি না হয় এবং রাষ্ট্রীয় সম্পদ থেকে শুরু করে সামাজিক সব স্তরের কোনোকিছুই যাতে বিনষ্ট না হয় এদিকে বিশেষ গুরুত্ব দিতে হবে। দেশের সামগ্রিক অর্থনীতি ও জীবন-জীবিকার কথা ভাবার পাশাপাশি আগামীর আলোকোজ্জ্বল দিনের কথা দেশপ্রেমিক প্রত্যেককে সমগুরুত্বে ভাবতে হবে। দেশটা আমাদের সবার এবং দেশের ভাবমূর্তি যাতে কোনোভাবেই প্রশ্নবিদ্ধ না হয় এ ব্যাপারেও সজাগ থাকতে হবে। ধৈর্য জীবনাচারের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ।

আমরা আশা করি, প্রতিহিংসার আগুন নিভে যাবে এবং অশান্তি-অবিশ্বাস আর বিভাজনের ছায়া সরিয়ে শান্তির পথ মসৃণ করা হবে। দেশের উদ্বিগ্ন মানুষের পরম আরাধ্য শান্তি প্রতিষ্ঠিত হতে পারে সবার যূথবদ্ধ প্রচেষ্টায়। আর কোনোরকম বিরাগ বা অনুরাগের বশবর্তী না হয়ে অন্ধকার কাটিয়ে আলোর দ্যুতি ছড়াতে হবে। আমরা সেনাপ্রধানের সঙ্গে দ্বিমত পোষণ করি না। তিনি তার ভাষণে বলেছেনÑ ধ্বংসযজ্ঞ, অরাজকতা ও সংঘর্ষ থেকে বিরত হয়ে সবাই মিলে সুন্দর ভবিষ্যতের দিকে অগ্রসর হতে হবে। তিনি জনগণকে ধৈর্য ধরার এবং একটু সময় দেওয়ার আহ্বানও জানিয়েছেন। তিনি এও আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন, সবাই মিলে সব সমস্যা সমাধান করতে আমরা সক্ষম হব। আমরাও মনে করি, জানমালের ক্ষতির পথ রুদ্ধ করতেই হবে। 

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা