প্রেক্ষাপট
কামরুজ্জামান তোতা
প্রকাশ : ৩০ জুলাই ২০২৪ ০৯:৪৮ এএম
অর্থনৈতিক উন্নয়নের সঙ্গে মানুষের মানবিক মূল্যবোধ ও
নীতিনৈতিকতার উন্নতির বিষয়টি পুরোপুরি সম্পৃক্ত নয়। শুধু অর্থনৈতিক উন্নয়ন দিয়ে
মানবিকতাকে বিচার করা যায় না। এটি পরিবার, সমাজ ও সাংস্কৃতিক মূল্যবোধের সঙ্গে
জড়িত। অর্থ থাকলেই সুখী হওয়া যায় না, যদি না এর সঙ্গে মূল্যবোধ ও নৈতিকতার সম্পর্ক
থাকে। মানুষের জীবনে অর্থের প্রয়োজনীয়তা যেমন অনস্বীকার্য, তেমনি মূল্যবোধের
অনিবার্যতাও প্রশ্নাতীত। উন্নত বিশ্বের অনেকে দেশ এখন অর্থনৈতিক উন্নতির চেয়ে
নাগরিকদের মানবিক মূল্যবোধের প্রতি বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন। সুশাসন সুসংহতকরণ,
গণতন্ত্র চর্চা ও উন্নয়ন কর্মসূচিতে সর্বস্তরের জনগণের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে।
স্বচ্ছতা, জবাবদিহি, পরমতসহিষ্ণুতা, মানবাধিকার ও আইনের শাসন সুসংহতকরণ এবং জাতির
অগ্রযাত্রায় ভূমিকা পালন করতে হবে।
সামাজিক পরিবর্তন সামগ্রিক সমাজব্যবস্থার একটি
স্বাভাবিক পরিক্রমা। সমাজ প্রতিনিয়ত পরিবর্তন হয়। বলা যায় পরিবর্তনই সমাজের ধর্ম।
সামাজিক পরিবর্তনের মৌলরূপ হলো এর গুণগত পরিবর্তন। পরিবর্তনের পরিক্রমাই আদিম
মানুষ আগের বর্বর অবস্থা হতে পরিবর্তন হয়ে আধুনিক যুগের এই অবস্থায় উপনীত হয়েছে
এবং অনাগত ভবিষ্যতের দিকে ধাবমান রয়েছে। সমাজ বলতে বোঝায় পারস্পরিক
ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়া ও মিথস্ক্রিয়ার সমষ্টি। পারস্পরিক নির্ভরশীলতা মিথস্ক্রিয়ার
উদ্ভব ঘটায়। এই আন্তঃব্যক্তিক মিথস্ক্রিয়া আবর্তনশীল। সুতরাং দেখা যায়, সমাজ
সর্বদাই পরিবর্তনের পরিক্রমায় ঘূর্ণয়মান। সমাজবিজ্ঞানীরা নানা প্রকরণে সামাজিক
পরিবর্তনকে ব্যবচ্ছেদ করেন। যেমনÑ মৌলিক এবং কাঠামোগত পরিবর্তন। মরিস গিনসবার্গ
বলেছেন, সমাজের কাঠামোগত পরিবর্তনই সামাজিক পরিবর্তন। তার অভিমত অনুসারে যেসব
পরিবর্তন সমাজের রূপান্তর ঘটায় তাই সামাজিক পরিবর্তন।
প্রকৃতির অধিকতর সুবিধাভোগী হলেও তা মানুষের জন্য
শর্তহীন ও অবারিত নয়, বরং তা বিধিবদ্ধ করে দেওয়া হয়েছে। মানুষের পক্ষে কোনোভাবেই
স্বেচ্ছাচারী হওয়ার সুযোগ নেই। মানুষ যখন সৃষ্টির প্রথাগত নিয়মে নিজেদের কর্মকাণ্ড
পরিচালনা করে, তখন এই বিশ্বচরাচর গতিশীল, শান্তিময় ও আনন্দঘন হয়ে ওঠে। কিন্তু যখন
এর অন্যথা ঘটে, তখনই তা ছন্দ হারিয়ে ফেলে; ভারসাম্যও নষ্ট হয় এই ধরণির। আর এই
নিয়মভঙ্গকে অপরাধ বলে গণ্য করা হয়।
আধুনিক রাষ্ট্রব্যবস্থায় প্রকৃতি ও বিবেকবিরুদ্ধ
কাজগুলোকে ‘অপরাধ’ হিসেবে গণ্য করা হয়েছে। আধুনিক রাষ্ট্রব্যবস্থায় অপরাধের
সংজ্ঞায়ন এবং তা প্রতিবিধানের জন্য আইন, সংবিধান, দণ্ডবিধি, আদালত, বিচারকসহ
যাবতীয় ব্যবস্থাও করা হয়েছে। কিন্তু নানাবিধ দুর্বলতার কারণে সভ্যতা এ ক্ষেত্রে
পুরোপুরি সফল হতে পারেনি। আসলে মানুষের কোনো কাজই নির্ভুল হওয়ার সুযোগ নেই।
মানুষের পক্ষে ষড় রিপুর প্রভাবমুক্ত হওয়াও সম্ভব নয়। তাই মানবসৃষ্ট প্রক্রিয়ায়
অপরাধের প্রতিবিধান করা অনেক ক্ষেত্রেই সফল হয় না বা ইহজাগতিক নিয়মে অপরাধের যথাযথ
শাস্তি বিধানও সম্ভব নয়।
সবার জন্য উন্নত ভবিষ্যৎ নিশ্চিতকল্পে পরিবেশ
সংরক্ষণ ও এর ধ্বংস রোধে যে শিক্ষা, সচেতন প্রচেষ্টা, সহযোগিতার কৌশল অবলম্বন,
সাময়িক সুখ বিসর্জন, এ বিষয়ের প্রচার-প্রসার সবই পরিবেশবাদী মূল্যবোধের সঙ্গে
সংশ্লিষ্ট। আর এভাবেই মানুষের মানবিক মূল্যবোধ ও দৃষ্টিভঙ্গিই প্রকৃতির প্রতি সঠিক
আচরণের নির্দেশক হয়ে দাঁড়ায়।
এটি আমাদের যুবকদের সঙ্গে গভীরভাবে অনুরণিত হয়,
ব্যাখ্যাতীত কারণে। একটি খাঁচা দিয়ে সূর্যকে তার ডান বাহুর নিচে বন্দি করে,
লোকটিকে পালিয়ে যাওয়ার এবং কখনও ফিরে না আসার জন্য অনুরোধ করা হয়, কারণ সময় তার
অনুকূলে নয়, কারণ মানুষ কীভাবে ভালোবাসতে হয় তা ভুলে গেছে। তবুও নতুন ভোরের
অপেক্ষায়... সুবোধ কবে হবে ভোর??