দিবস
মুহাম্মাদ মাহতাব হোসাইন মাজেদ
প্রকাশ : ২৮ জুলাই ২০২৪ ১০:৩৮ এএম
হেপাটাইটিস সম্পর্কে সচেতনতা বাড়াতে প্রতি বছর ২৮ জুলাই পালিত হয় বিশ্ব হেপাটাইটিস দিবস। আজকের এ দিনে জন্মগ্রহণ করেন ডা. বারুচ স্যামুয়েল ব্লুমবার্গ। তিনিই প্রথম হেপাটাইটিস বি ভাইরাস আবিষ্কার করেন। হেপাটাইটিস আসলে লিভারের সংক্রমণ। হেপাটাইটিসকে পাঁচ ভাগে ভাগ করা হয়। হেপাটাইটিস এ, বি, সি, ডি, ই। প্রতিটি ভাইরাল হেপাটাইটিসের জন্য বিভিন্ন ভাইরাস দায়ী। সম্প্রতি প্রকাশিত বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও)-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, উচ্চঝুঁকিতে থাকা ১০ দেশের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান সপ্তম। বাংলাদেশে সববয়সি ৮৩ লাখ মানুষ হেপাটাইটিস বি ও সিতে আক্রান্ত। এর মধ্যে ৭২ লাখ হেপাটাইটিস বি ও ১০ লাখ ২০ হাজার হেপাটাইটিস সিতে আক্রান্ত। দুই ধরনের হেপাটাইটিসে আক্রান্তের হার ২ দশমিক ৭ শতাংশ।
সংস্থার প্রতিবেদন অনুযায়ী, সারা বিশ্বে হেপাটাইটিস বি ও সি আক্রান্তের সংখ্যা ৩০ কোটি ৪০ লাখ। এর মধ্যে ২৫ কোটি ৪০ লাখ হেপাটাইটিস বি ও ৫ কোটি হেপাটাইটিস সি ভাইরাস বহন করছে। ভাইরাসটিতে আক্রান্তের অর্ধেকের বয়স ৩০ থেকে ৫৪ বছর। আক্রান্তের ৫৮ শতাংশ পুরুষ ও ১২ শতাংশ শিশু। সংস্থার প্রতিবেদন অনুসারে, ১৮৭ দেশের নতুন তথ্যে দেখা গেছে, ২০১৯ সালে ভাইরাল হেপাটাইটিসে মৃত্যুর সংখ্যা ছিল ১১ লাখ। ২০২২ সালে তা বেড়ে ১৩ লাখে দাঁড়িয়েছে। হেপাটাইটিস সংক্রমণে বিশ্বব্যাপী প্রতিদিন ৩ হাজার ৫০০ মানুষ মারা যাচ্ছে। এর মধ্যে হেপাটাইটিস বিতে ৮৩ ও হেপাটাইটিস সিতে ১৭ শতাংশ। এটা এমন ভাইরাস যা মানবদেহে চুপ করে বসে থাকে। আস্তে আস্তে ভয়ংকর রূপ নেয়। একপর্যায়ে লিভার সিরোসিস ও ক্যানসারে আক্রান্ত হয়ে মারা যায়। হেপাটাইটিস কী, এর লক্ষণ কী, কীভাবে প্রতিরোধ করা যায়, ঠিক সময়ে চিকিৎসা না করা হলে কী কী হতে পারে সেদিকে দৃষ্টি আকর্ষণ করা, হেপাটাইটিসের ঝুঁকি এবং প্রভাব সম্পর্কে মানুষকে অবগত ও সাবধান করার লক্ষ্যেই দিনটি পালন করা হয়।
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ পর্যন্ত হেপাটাইটিসের কারণ বিজ্ঞানের কাছে ছিল প্রহেলিকা। বিংশ শতাব্দীর দ্বিতীয়ার্ধে এর কারণগুলো বোঝা সম্ভব হয়। ১৯৬৩ সালে হেপাটাইটিস বি ভাইরাস আবিষ্কার করেন জেনেটিক বিজ্ঞানী বারুচ স্যামুয়েল ব্লুমবার্গ। তিনি বিভিন্ন অসুখের জিনগত সংবেদনশীলতা পরীক্ষা করছিলেন। কাকতালীয়ভাবে এক অস্ট্রেলীয় আদিবাসীর রক্ত পরীক্ষার সূত্রে আবিষ্কার করলেন হেপাটাইটিস বি ভাইরাস। তাই নাম দিয়েছিলেন অস্ট্রেলিয়ান অ্যান্টিজেন। দুই বছর পরে মাইক্রোবায়োলজিস্ট মিলম্যানের সঙ্গে আবিষ্কার করলেন হেপাটাইটিস বির ভ্যাকসিন। হেপাটাইটিস এ, ডি, সি, ই ভাইরাস আবিষ্কৃত হলো যথাক্রমে ১৯৭০, ১৯৭৭, ১৯৮৯, ১৯৯০ সালে। ব্লুমবার্গ তার আবিষ্কারের জন্য ১৯৭৬ সালে নোবেল পুরস্কার পান।
হেপাটাইটিস হলো ভাইরাসজনিত লিভারের রোগ। হেপাটাইটিসের যে পাঁচ রকম ভাইরাস আছে, তার সবকটির সংক্রমণই বাংলাদেশে আছে। হেপাটাইটিস ই ভাইরাসেই সবচেয়ে বেশি মানুষ ভোগে। এটা ছড়ায় বেশি। ই ভাইরাস মূলত পানির মাধ্যমে ছড়ায়। হেপাটাইটিস এ, ই ভাইরাসের সংক্রমণ থেকে আক্রান্তের ৩ শতাংশের মৃত্যু পর্যন্ত হয়। আর হেপাটাইটিস বি, সি ভাইরাস ছড়ায় মূলত রক্ত ও মানবদেহের তরল পদার্থের মাধ্যমে। তাই জনসচেতনতা তৈরির কোনো বিকল্প নেই। এখন মৃত্যুর এ মিছিল কমিয়ে আনতে হলে সবার আগে মানুষকে সচেতন করতে হবে। হেপাটাইটিস রোগীদের মনে রাখতে হবে, হেপাটাইটিস কোনো সাধারণ রোগ নয়, তাই সঠিক চিকিৎসা পেতে হলে অভিজ্ঞ চিকিৎকের পরামর্শ নিতে হবে।
প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান
জাতীয় রোগীকল্যাণ সোসাইটি