× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

জনস্বাস্থ্য

ই-সিগারেটকে ‘না’ বলি

নাছিমা বেগম

প্রকাশ : ২৫ জুলাই ২০২৪ ১৩:০৮ পিএম

ই-সিগারেটকে ‘না’ বলি

সিগারেট এবং ই-সিগারেট দুটোই জনস্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর। বাংলাদেশে বর্তমানে সিগারেটের ক্ষতি সম্পর্কে জনসচেতনতা বাড়লেও ই-সিগারেট ব্যবহার, বিক্রয়, বিপণন নিষিদ্ধ বা নিয়ন্ত্রণসংক্রান্ত কোনো সুস্পষ্ট আইন বা নির্দেশনা নেই। এ সুযোগে বহুজাতিক তামাক কোম্পানিগুলো ই-সিগারেটের প্রসার ও বাজারজাতকরণের অনুমোদনে যেমন সর্বাত্মক চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে, তেমন কোম্পানিগুলো নানা কৌশল অবলম্বন করে তাদের ব্যবসার প্রসারে ই-সিগারেট কম ক্ষতিকর পণ্য এবং ধূমপান ছাড়ার একটি অন্যতম উপায় হিসেবে বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচার করছে। ফলে বিভিন্ন দোকান ও অনলাইন মাধ্যমে অবাধে বিক্রি হচ্ছে এ ক্ষতিকর ই-সিগারেট জাতীয় পণ্য। এটি শুধু ঢাকা শহরেই নয়, এখন দেশের বিভিন্ন শহর থেকে গ্রামাঞ্চলেও ছড়িয়ে পড়েছে। নাটক, সিনেমা, ওয়েব সিরিজগুলোতে ই-সিগারেটের ব্যবহারের ফলে তরুণসমাজ এতে প্রলুব্ধ হচ্ছে এবং এর বিক্রয় ও ব্যবহার বেড়েই চলেছে।

ঢাকা ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির টোব্যাকো কন্ট্রোল অ্যান্ড রিসার্চ সেল (টিসিআরসি)-এর গবেষণায় দেখা গেছে, বাংলাদেশে বিশ্ববিদ্যালয়কেন্দ্রিক ই-সিগারেট বিক্রির দোকান গড়ে তোলা হয়েছে। তরুণদের আকৃষ্ট করতে তারা অবৈধভাবে বিভিন্ন ধরনের বিজ্ঞাপন তৈরি করছে। ইউটিউব, ফেসবুক, ওয়েবসাইট ও অন্যান্য সমাজমাধ্যমে বিজ্ঞাপন প্রচার করছে। এ ছাড়া তাদের নিজস্ব কিছু চিকিৎসকের মাধ্যমেও যারা ধূমপান ছাড়তে চায়, তাদের প্রচলিত সিগারেটের বদলে ই-সিগারেট ব্যবহারে উৎসাহিত করছে। ২০২০ সালে ঢাকা আহ্‌ছানিয়া মিশন পরিচালিত ঢাকা শহরের কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রীর মধ্যে পরিচালিত এক গবেষণায় দেখা গেছে, তাদের বেশিরভাগই জানেন না ই-সিগারেট স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর। ই-সিগারেটের বিভিন্ন ফ্লেভারের কারণে তরুণরা সহজেই এর প্রতি আকৃষ্ট হচ্ছে এবং ই-সিগারেটকে নিরাপদ ভেবে সেদিকে ঝুঁকে পড়ছে; যা একসময় তাদের মারাত্মক স্বাস্থ্যগত ঝুঁকিতে ফেলবে বলে সচেতন মহল উদ্বেগ প্রকাশ করছে।

ইতোমধ্যে ই-সিগারেট জনস্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর প্রমাণিত হওয়ায় বিশ্বের বিভিন্ন দেশ এ-জাতীয় পণ্যের বিক্রয়, বিপণন, আমদানি ও ব্যবহার নিষিদ্ধ ও নিয়ন্ত্রণে কার্যকর পদক্ষেপ নিয়েছে। কোনো কোনো দেশ ই-সিগারেটের ব্যবহারকে সে দেশের জনস্বাস্থ্যের চরম বিপর্যয়ের কারণ হিসেবে মনে করছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্যের আলোকে ই-সিগারেটের ক্ষতিকর দিক বিবেচনায় ১২১টি দেশ ই-সিগারেট নিষিদ্ধ ও নিয়ন্ত্রণে কার্যকর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এর মধ্যে ৩৯টি দেশ ই-সিগারেট বিক্রি নিষিদ্ধ করেছে। এখানে উল্লেখ্য, আমাদের দেশে বিভিন্নভাবে ই-সিগারেটের ব্যবহার বাড়লেও এখনও তা অনিয়ন্ত্রণযোগ্য পর্যায়ে যায়নি। অতএব এর আগেই ক্ষতিকর এ পণ্য এবং কোম্পানির বিভিন্ন কৌশলে বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচার রুখে দিতে হবে।

আশার কথা হলো, আমাদের দেশের সরকার ও তামাকবিরোধী সংগঠন এবং সচেতন সুশীলসমাজ তামাকজাত পণ্যের নিষিদ্ধকরণে যেভাবে সচেষ্ট ছিল, সেভাবেই ই-সিগারেট নিয়ন্ত্রণ ও নিষিদ্ধকরণে বদ্ধপরিকর। জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. লেলিন চৌধুরীর মতে, ‘ই-সিগারেট সিগারেটের মতোই স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর। এতে শারীরিক ও মানসিক ক্ষতি এবং ক্যানসারসহ নানা ধরনের শারীরিক জটিলতা দেখা দিতে পারে। চিন্তাশক্তি কমে যেতে পারে। পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে যেভাবে আইন করে এটি বন্ধ করা হয়েছে, আমাদের দেশেও সেরূপ আইন করে ই-সিগারেট বন্ধ করতে হবে।’

জাতীয় হৃদরোগ ফাউন্ডেশন হাসপাতাল ও গবেষণাকেন্দ্রের চিকিৎসক অধ্যাপক সোহেল রেজা চৌধুরীর মতে, ‘আমাদের দেশে ই-সিগারেটের ব্যবহার এখন একটা ফ্যাশন হয়ে গেছে। অসংখ্য তরুণ ছেলেমেয়ে ই-সিগারেটের মাধ্যমে ধূমপান জগতে প্রবেশ করছে। সিগারেটের চেয়ে ই-সিগারেটে নিকোটিনের পরিমাণ বেশি থাকায় এতে আসক্তি বাড়ে। এ ছাড়া বাজারে সস্তায় যেসব ভ্যাপ জুস পাওয়া যায় তার উপাদানগুলো অজানা। নিকোটিন ফুসফুসের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকারক। আমাদের দেশে যেহেতু এটি এখনও প্রাথমিক পর্যায়ে আছে, সেহেতু এটা রোধ করা সহজ। এজন্য পাশের বিভিন্ন দেশ যেভাবে এটাকে নিষিদ্ধ করেছে, সেভাবে আমাদের দেশেও নিষিদ্ধ করা দরকার।’

বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থার ৪ জুলাই, ২০২৩-এ প্রকাশিত ‘তরুণ সমাজের জন্য নতুন হুমকি ই-সিগারেট’ প্রতিবেদনে দেখা যায়, টিসিআরসি সভাপতি ব্যারিস্টার শামীম হায়দার পাটোয়ারী এমপি উল্লেখ করেছেন, ‘১৫৩ জন এমপি ই-সিগারেট বন্ধে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রীর কাছে চিঠি লিখেছেন। ই-সিগারেট বন্ধে এখনই কঠোর আইন প্রণয়ন ও প্রচলিত আইনের কঠোর প্রয়োগ জরুরি।’ ডা. আ ফ ম রুহুল হক এমপি (সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রী) ১ জানুয়ারি, ২০২২-এ দৈনিক বণিকবার্তায় প্রকাশিত ‘দানবীয় হওয়ার আগেই ই-সিগারেট নিষিদ্ধ করুন’ নিবন্ধে উল্লেখ করেছেন, ‘প্রধানমন্ত্রী ২০৪০ সালের মধ্যে দেশ তামাকমুক্ত করার ঘোষণা দিয়েছেন। সে ঘোষণা বাস্তবায়নে সবাই যখন এক হয়ে কাজ করছে, তখন ই-সিগারেট ও হিটেড টোব্যাকো প্রডাক্টসসহ (এইচটিপি) সব ইমার্জিং টোব্যাকো প্রডাক্টের মতো নতুন ধরনের পণ্যের বাজারজাত করা খুবই হতাশাজনক।’ এ প্রসঙ্গে স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রী থাকাকালে জাহিদ মালেক এক অনুষ্ঠানে বলেছিলেন, ‘ইতোমধ্যে ই-সিগারেট নিষিদ্ধ করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। দেশে ই-সিগারেটের ব্যবসা করতে দেওয়া হবে নাÑএ বিষয়ে শক্ত অবস্থানে আছি।’

অতএব আমরা বলতেই পারি, বিড়ি ও সিগারেটের মতো নতুন ধরনের এ হিটেড টোব্যাকো ই-সিগারেটের ব্যবহার নিষিদ্ধ করার লক্ষ্যে বিদ্যমান ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহার (নিয়ন্ত্রণ) আইন সংশোধনের মাধ্যমে ই-সিগারেট আমদানি, উৎপাদন, বিক্রি, বিপণন ও ব্যবহার নিষিদ্ধ করা এখন সময়ের দাবি। ই-সিগারেটের ক্ষতিকর দিক বিবেচনায় সামাজিক আন্দোলন গড়তে হবে। বিভিন্ন সচেতনতামূলক কার্যক্রমের মাধ্যমে ই-সিগারেট বর্জন আন্দোলন জোরদার করতে হবে।

লেখক : সাবেক চেয়ারম্যান, জাতীয় মানবাধিকার কমিশন ও সিনিয়র সচিব

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা