পরিপ্রেক্ষিত
মো. খসরু চৌধুরী
প্রকাশ : ১৬ জুলাই ২০২৪ ১১:০৪ এএম
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার চীন সফরকালে সে
দেশের সর্বোচ্চ নেতা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং এবং প্রধানমন্ত্রী লি কিয়াংয়ের সঙ্গে তার
বৈঠক সফল ও সার্থক হয়েছে। বৈঠকে বাংলাদেশের উন্নয়ন সহযোগী হিসেবে চীনের ভূমিকা অব্যাহত
রাখার সুস্পষ্ট অঙ্গীকার ঘোষিত হয়েছে চীনের পক্ষ থেকে। বাংলাদেশে বিনিয়োগে ব্যবসায়ী
পর্যায়ে বড় ধরনের চুক্তি ও সমঝোতার পর সরকারি পর্যায়েও মিলেছে সুখবর। চীনা প্রধানমন্ত্রীর
সঙ্গে বৈঠকে ২২ সমঝোতা স্মারক, সাত প্রকল্প ঘোষণাপত্র এবং ১ বিলিয়ন ইউয়ান অর্থনৈতিক
সহযোগিতার ঘোষণা এসেছে। চীনের প্রেসিডেন্ট শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশের উন্নয়নকে
অভূতপূর্ব বলে মন্তব্য করে তার দেশের সহায়তা অব্যাহত রাখার অঙ্গীকার করেছেন। প্রধানমন্ত্রী
শেখ হাসিনা চট্টগ্রামের আনোয়ারায় চীনের জন্য বরাদ্দ করা ৮০০ একর জমিসহ বিশেষ অর্থনৈতিক
অঞ্চল ও আইটি ভিলেজগুলোয় বিনিয়োগ বৃদ্ধির প্রস্তাব দেন। বাংলাদেশ থেকে পাট ও চামড়া
জাত, ফার্মাসিউটিক্যালস, সিরামিকসহ অন্যান্য পণ্য আমদানি বৃদ্ধির মাধ্যমে বাণিজ্য ঘাটতি
কমিয়ে আনার আহ্বান জানান। উভয় ক্ষেত্রে চীনের প্রেসিডেন্ট ইতিবাচক সাড়া দেন। বৈঠকে
রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে দৃঢ় সহায়তার প্রত্যয় ব্যক্ত করা হয়েছে। বাংলাদেশের জন্য সুদমুক্ত
ঋণেরও ঘোষণা দিয়েছে চীন।
উন্নয়ন সহযোগী হিসেবে চীনকেও বাংলাদেশ পেতে
চায় সুবন্ধু হিসেবে। কারও সঙ্গে বৈরিতা নয়, সবার সঙ্গে বন্ধুত্বের নীতি অনুসরণ করে
পশ্চিমা বিশ্বের সঙ্গেও ঘনিষ্ঠতার সম্পর্ক রক্ষায় বিশ্বাসী বাংলাদেশ। জাতীয় অগ্রগতির
মূলসূত্র হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে এ কৌশল। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিচক্ষণতার কারণে
চীনের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক ক্রমেই আরও ঘনিষ্ঠ হয়ে উঠছে। বাংলাদেশে চীনের বিনিয়োগ
বাড়ছে। বাংলাদেশের নানামুখী উন্নয়নকাজে চীনের সংশ্লিষ্টতা বাড়ছে। চীনের প্রেসিডেন্ট
নিজে থেকেই বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া প্রায় ১৩ লাখ রোহিঙ্গার মিয়ানমারে প্রত্যাবাসনে সর্বোচ্চ
সহযোগিতা দেওয়ার কথা বলেছেন। মিয়ানমার সেনাবাহিনী এবং প্রয়োজনে আরাকান আর্মির সঙ্গেও
কথা বলবেন বলেও প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন তিনি। চীনের প্রিমিয়ার লি কিয়াং বাংলাদেশকে ১ বিলিয়ন
চীনা মুদ্রা আরএমবি (প্রায় ১ হাজার ৬১৫ কোটি টাকা) সহায়তার ঘোষণা দিয়েছেন। এ সফরে ২১টি
দলিল সই করেছে বাংলাদেশ ও চীন। এর মধ্যে দুটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) নবায়ন করা হয়েছে।
একই সঙ্গে আরও সাতটি প্রকল্প ঘোষণা করা হয়েছে। চীনের সহায়তায় নবম বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী
সেতু প্রকল্প বিষয়ে চিঠি বিনিময় করেছে দুই দেশ। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা চীনের প্রধানমন্ত্রী
লি কিয়াংয়ের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করেছেন। দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে মূলত রোহিঙ্গা ইস্যু,
ব্যবসাবাণিজ্য, বিনিয়োগ, দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের পাশাপাশি বিভিন্ন আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক
বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়।
চীনের সঙ্গে বাংলাদেশের বাণিজ্য সম্পর্ক দীর্ঘদিনের। এ অঞ্চলে চীনের পণ্য আমদানির বড় ক্রেতা বাংলাদেশ, যদিও বাংলাদেশ থেকে চীনে পণ্য রপ্তানির ক্ষেত্রটি খুব একটা গতিশীল নয়। চীন বাংলাদেশের বড় বাণিজ্যিক অংশীদার হলেও দুই দেশের মধ্যে বিশাল বাণিজ্য ঘাটতি রয়েছে। ২০২২ সালে চীনের বাজারে ৯৯ শতাংশ পণ্যে শুল্কমুক্ত সুবিধা দিলেও বাংলাদেশ সে সুযোগ কাজে লাগাতে পারছে না। চীন বর্তমান বিশ্বে দ্বিতীয় বৃহত্তম অর্থনৈতিক শক্তি এবং বাংলাদেশের নিকট প্রতিবেশী। বাংলাদেশ স্বল্পোন্নত থেকে উন্নয়নশীল দেশে উন্নীত হতে যাচ্ছে। বাংলাদেশের লক্ষ্য রয়েছে ২০৪১ সালের মধ্যে উন্নত দেশের কাতারে যাওয়া। এ বাস্তবতায় দেশ দুটির মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতার সম্প্রসারণ খুবই জরুরি। চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশের উন্নয়ন অভূতপূর্ব বর্ণনা করেছেন। বাংলাদেশে চীনা সহায়তা অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছেন। শি জিনপিং বলেছেন, ২০২৫ সালে চীন-বাংলাদেশ কূটনৈতিক সম্পর্কের ৫০ বছর পূর্তিতে সম্পর্ক দ্বিতীয় পর্যায়ে উন্নীত করে এ উদ্যাপন অর্থবহ করতে তারা প্রস্তুত। আঞ্চলিক শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রেখে যেসব আঞ্চলিক ও পারস্পরিক উদ্যোগ রয়েছে, সেগুলো দ্রুত এগিয়ে নিতে হবে।