দিবস
আবির নজরুল
প্রকাশ : ১১ জুলাই ২০২৪ ০৯:৫৯ এএম
প্রতি বছর জাতিসংঘ
তথা সারা বিশ্ব নানা রকম আয়োজনের মধ্য দিয়ে ১১ জুলাই পালন করে বিশ্ব জনসংখ্যা দিবস।
বিশ্বায়নে জনসংখ্যাÑচ্যালেঞ্জ ও পরিকল্পিত পরিবারের সুবিধাসমূহের ব্যাপারে জনগণের সচেতনতা
বৃদ্ধি করাই এ দিবস পালনের লক্ষ্য। জনসংখ্যা ইস্যুতে সচেতনতা বাড়ানো এবং এ-সংক্রান্ত
পরিবেশ ও উন্নয়নের সম্পর্ক লক্ষ্য রেখে এ দিবসটি ১৯৯০ সাল থেকে জাতিসংঘ ও সদস্য দেশগুলো
আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্যাপন করে আসছে। একটি রাষ্ট্রের যে কয়েকটি মৌলিক উপাদান রয়েছে তার
মধ্যে জনসংখ্যা অন্যতম। আর এ জনসংখ্যা কোনো দেশের জন্য সম্পদ আবার কোনো দেশের জন্য
বোঝা। কোনো কোনো দেশে অতিরিক্ত জনসংখ্যাকে সম্পদ বিবেচনা না করে বোঝা হিসেবে বিবেচনা
করা হয়। তবে প্রযুক্তি ও উন্নত শিক্ষাব্যবস্থার মাধ্যমে অতিরিক্ত জনসংখ্যা দক্ষ করতে
পারলে তা সম্পদে পরিণত করা সম্ভব। বিশ্বের বিভিন্ন দেশের দিকে তাকালে দেখা যায় অপুষ্টি,
পর্যাপ্ত শিক্ষার অভাব, বেকারত্ব, চিকিৎসা সেবার অপ্রতুলতার মূলে রয়েছে অতিরিক্ত জনসংখ্যা।
আর এসব বিষয় সামনে রেখে জনসংখ্যাবিষয়ক সমস্যাগুলো সবাইকে অবহিত করা এবং তা গুরুত্বসহকারে
সমাধানের প্রচেষ্টাই হলো দিবসটি পালনের মূল উদ্দেশ্য।
বাংলাদেশ পৃথিবীর
অন্যতম ঘনবসতিপূর্ণ দেশ। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) পরিসংখ্যান আলোচনা করে
দেখা যায়, ১৮৬০ সালে বাংলাদেশের জনসংখ্যা ছিল মাত্র ২ কোটি। ১৯৪১ সালে তা বেড়ে হয়েছিল
৪.২০ কোটি। অর্থাৎ ৮১ বছরে বাংলাদেশে জনসংখ্যা বাড়ে মাত্র ২.২০ কোটি। আবার ১৯৬১ সালে
জনসংখ্যা ছিল ৫.৫২ কোটি, যা ১৯৯১ সালে বেড়ে দাঁড়ায় ১১.১৫ কোটিতে। অর্থাৎ ৩০ বছরে জনসংখ্যা
বেড়েছে দ্বিগুণ। ২০১২ সালে দেশের জনসংখ্যা ছিল ১৫.২৭ কোটি। ২০১৬ সালের জুলাইতে এ জনসংখ্যা
বেড়ে দাঁড়ায় ১৬.০৮ কোটিতে। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর প্রতিবেদনের যাচাইবাছাই শেষে
উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠান বিআইডিএস ৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২৩-এ চূড়ান্ত প্রতিবেদন প্রকাশ
করেছে। সে হিসাব অনুযায়ী দেশের জনসংখ্যা এখন ১৬ কোটি ৯৮ লাখ ২৮ হাজার ৯১১। এ হারে বৃদ্ধি
পেতে থাকলে ২০৫০ সালে বাংলাদেশের জনসংখ্যা দাঁড়াবে প্রায় ২২ কোটি ২৫ লাখে। অন্যদিকে
জাতিসংঘ জনসংখ্যা তহবিলের (ইউএনএফপি) প্রকাশিত পরিসংখ্যানে দেখা যায়, ১৮০৪ সালে বিশ্বের
জনসংখ্যা ছিল ১০০ কোটি। এর দ্বিগুণ হতে লেগেছিল ১২৩ বছর। অর্থাৎ ১৯২৭ সালে বিশ্বের
জনসংখ্যা দাঁড়ায় ২০০ কোটিতে। এরপর ১৯৫৯ সালে অর্থাৎ ৩২ বছরে জনসংখ্যা দাঁড়ায় ৩০০ কোটিতে।
এর ১৫ বছর পর অর্থাৎ ১৯৭৪ সালে জনসংখ্যা দাঁড়ায় ৪০০ কোটিতে। বিশ্বের জনসংখ্যা ৫০০ কোটিতে
পৌঁছাতে সময় লেগেছিল আরও কম। মাত্র ১৩ বছরে ১৯৮৭ সালে সংখ্যাটি ৫০০ কোটিতে পৌঁছায়।
এরপর প্রতি ১২ বছরে বিশ্বের জনসংখ্যা বেড়েছে ১০০ কোটি করে। ১৯৯৯ সালে এ সংখ্যা দাঁড়ায়
৬০০ কোটিতে। আর ২০১১ সালে তা ৭০০ কোটিতে পৌঁছায়। সর্বশেষ তথ্যানুযায়ী ২০২২ সালের ১৫
নভেম্বরে বিশ্বের জনসংখ্যা ৮০০ কোটি ছাড়িয়েছে। এ হারে জনসংখ্যা বাড়তে থাকলে ২০৫০ সালের
মধ্যে ১০০০ কোটি অতিক্রম করবে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার হিসাবমতে, প্রতি মিনিটে বিশ্বে
প্রায় ২৫০টি শিশু জন্মগ্রহণ করে। আর বাংলাদেশে জন্মগ্রহণ করে প্রায় ১০টি শিশু। সংস্থার
আর এক জরিপে দেখা গেছে, বর্তমানে ১০০ শিশুর মধ্যে ৯৭টি জন্মগ্রহণ করে তৃতীয় বিশ্বে
তথা উন্নয়নশীল দেশগুলোয়। যে দেশগুলোয় এমনিতেই অধিক জনসংখ্যার। তাই বাংলাদেশের মতো উন্নয়নশীল
দেশগুলোয় জনসংখ্যা বৃদ্ধি একটি সামাজিক সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
পৃথিবীর জনসংখ্যা প্রতিনিয়ত বেড়েই চলেছে। জনসংখ্যা বৃদ্ধি নিয়ে আলোচনা-সমালোচনার শেষ নেই। নতুন আর কী কী পদক্ষেপ নেওয়া যায়, কিংবা কীভাবে মানুষের ভোগান্তি কমিয়ে আনা যায় এসব আরও একবার হিসাবনিকাশ করা তো বটেই, বিশ্বে যেন জনবিস্ফোরণ না ঘটে, যেন কাঙ্ক্ষিত পর্যায়ে জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণে রাখা যায় এ উদ্দেশ্য নিয়েও দিনটি পালিত হয়। জনবিস্ফোরণের বৈশ্বিক বিপর্যয় রুখতে বিশ্ব জনসংখ্যা দিবসে প্রতি বছর নানা স্তরের মানুষকে সচেতন করতে জানানো হয়Ñপরিবার পরিকল্পনা পদ্ধতি গ্রহণ করে জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে ছোট পরিবার গড়তে হবে। জনসংখ্যা অবশ্যই কাঙ্ক্ষিত পর্যায়ে নিয়ন্ত্রণ করতে হবে।