× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

সম্পাদকীয়

চাল নিয়ে ফের চালবাজি—উৎসে নজর দিন

সম্পাদকীয়

প্রকাশ : ০৩ জুলাই ২০২৪ ০৯:২২ এএম

চাল নিয়ে ফের চালবাজি—উৎসে নজর দিন

চাল নিয়ে চালবাজি থামছেই না। ‘উৎপাদন বেড়েছে, তবু দাম বাড়ছে চালের’ শিরোনামে ২ জুলাই প্রতিদিনের বাংলাদেশে ফের চালের দাম বৃদ্ধির পেছনে উঠে এসেছে বাজার বা ভোগ্যপণ্যের দাম বৃদ্ধি সম্পর্কে আমাদের সমাজে বহুল কথিত শব্দ সেই ‘সিন্ডিকেট’-এর কারসাজি। প্রতিদিনের বাংলাদেশের অনুসন্ধানে জানা যায়, প্রায় সব রকম চালের দাম কেজিতে ২ থেকে ৪ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। অথচ বোরো মৌসুমে চলতি বছর চাহিদার চেয়ে বেশি চাল উৎপাদন হয়েছে, কিন্তু বাজারে এর কোনো ইতিবাচক প্রভাব নেই। ব্যবসায়ীরা বলছেন, ঈদের সময় মিল বন্ধ থাকায় এই মূল্যবৃদ্ধি। খুচরা ব্যবসায়ীদের দাবি, পরিবহন খরচও বেড়ে গেছে। বোরো মৌসুমে উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি হলেও চালের দাম বাড়ছে কেনÑ প্রতিদিনের বাংলাদেশ-এর প্রতিবেদকের এ প্রশ্নের উত্তরে বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউটের (ব্রি) মহাপরিচালক বলেছেন, ‘ধান কাটার পর থেকেই বিক্রি শুরু হয়। অনেকে ক্ষেত থেকেই ধান বিক্রি করে দেন। এসব ধান ফড়িয়া হয়ে করপোরেট গোষ্ঠীর হাতে চলে যায়। সব না হলেও বেশিরভাগ ধানই এর মধ্যে করপোরেট গোষ্ঠীর গুদামে উঠেছে। তারা ইচ্ছা অনুযায়ী দাম বাড়ায়, আবার ইচ্ছা হলে কমিয়ে থাকে।’

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের হিসাবে, ২০২৩-২৪ অর্থবছরে বোরো মৌসুমে চাল উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছিল ২২২ দশমিক ৬৬৪ লাখ টন। সেখানে উৎপাদন হয়েছে ২২৩ দশমিক ৯৪৮ লাখ টন। সে হিসেবে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে উৎপাদন বেড়েছে ১ দশমিক ২৮৪ লাখ টন। চাল আমাদের প্রধান খাদ্যশস্য। আমাদের সমাজে ‘মোটা ভাত, মোটা কাপড়’ প্রবাদটি বহুল প্রচলিত। কিন্তু আমরা দেখছি, মোটা ভাত কিংবা মোটা কাপড়Ñ এই দুই-ই মোট জনগোষ্ঠীর উল্লেখযোগ্য অংশের পক্ষে জোগাড় করা কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে। একই দিন অন্য সংবাদমাধ্যমে প্রকাশ, ডব্লিউএফপির জরিপে জানা যায়Ñ খাদ্যপণ্যের মূল্যবৃদ্ধির ফলে দেশের ৬৭ শতাংশ মানুষ জীবনযাত্রার ব্যয় কমিয়ে দিয়েছে। এর মধ্যে ৭০ শতাংশ মানুষ খাদ্যমূল্য নিয়ে বেশি দুশ্চিন্তায় আছে বলে জানিয়েছে। এপ্রিলে প্রতি চার পরিবারের তিনটির মাসিক খরচ বেড়ে যায়। এসব পরিবারের ১০ শতাংশে ছিল কাজ করতে সক্ষম নয়, এমন সদস্য।

সরকার প্রায় ২০ লাখ টন চাল আমদানির অনুমতি দিলেও দেশে গত এপ্রিল পর্যন্ত কোনো চাল আমদানি করা হয়নি বলে উল্লেখ করা হয় ডব্লিউএফপির প্রতিবেদনে। বলা হয়, আমদানিতে সুবিধা দিতে সরকার গত বছরের মে মাসে আমদানি শুল্ক উঠিয়ে নিলেও চাল আমদানি হয়নি। গত বছর মূলত গমের আমদানি বেশি হয়েছে। ওই বছরের তুলনায় চলতি বছর গমের আমদানি ৯ শতাংশ বেড়েছে। এপ্রিল পর্যন্ত এটি আমদানি করা হয়েছে ৫৬ লাখ টন। কিন্তু এরপরও আটা-ময়দার দাম ঊর্ধ্বমুখী। খাদ্যপণ্যের দাম বাড়লে সরকার খোলাবাজারে চাল-আটা বিক্রি ও খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির মতো ইতিবাচক উদ্যোগগুলো বাড়িয়ে দেয় এবং বর্তমানেও তা চলছে কিন্তু প্রশ্ন উঠেছেÑ এসব কর্মসূচির আওতায় দেওয়া খাদ্যপণ্য সাধারণ বা যেসব দরিদ্র মানুষের উদ্দেশে দেওয়া হয়, তারা পাচ্ছে কি? এগুলো কি নিরপেক্ষ বা তৃতীয় কোনো প্রতিষ্ঠান দিয়ে মূল্যায়ন করা হচ্ছে? আমরা মনে করি, প্রশ্নগুলো অমূলক নয়। অভিযোগ আছে, স্বার্থানেষী মহল নিজেদের হীনস্বার্থ চরিতার্থ করতে অনিয়ম-দুর্নীতির পথ খুঁজে এবং এর ফলে ভুক্তভোগীরা বঞ্চিত হন তাদের ন্যায্য অধিকার থেকে। এমন নজির কমও নেই বটে।

আমরা দেখেছি, বিগত সরকারের অনেক দায়িত্বশীল ব্যক্তিও বাজারের সিন্ডিকেটের কারসাজির কথা অকপটে স্বীকার করেছেন এবং কোনো কোনো ক্ষেত্রে সিন্ডিকেট নিয়ে তাদের বক্তব্য যেন ওই স্বেচ্ছাচারী-লুটেরাদের কাছে অসহায় আত্মসমর্পণের মতো মনে হয়েছে। এই সম্পাদকীয় স্তম্ভেই আমরা বহুবার বলেছি, সিন্ডিকেটের হোতাদের হাত কোনোভাবেই আইনের হাতের চেয়ে শক্তিশালী হতে পারে না। আমরা এই প্রশ্নও বহুবার উত্থাপন করেছিÑ সিন্ডিকেটের শিকড় কি এতই গভীরে প্রোথিত যে, এর মূল উৎপাটন করা যায় না? চালসহ নিত্যপণ্যের দাম এখন আর কোনো নির্দিষ্ট শ্রেণি নয়, বলতে গেলে সব শ্রেণির মানুষেরই দুর্ভোগ বাড়িয়েছে। কী কারণে চালের বাজার আবার হঠাৎ অস্থির হয়ে উঠলÑ এ প্রশ্নের জবাব কর্তৃপক্ষের যেমন খুঁজতে হবে, তেমনি অনতিবিলম্বে চালের দাম নিয়ন্ত্রণেও কঠোর কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। আমরা বাজারে তদারকি-নজরদারি বাড়ানোর তাগিদও ইতোমধ্যে বহুবার এই সম্পাদকীয় স্তম্ভেই দিয়েছি। কিন্তু বাজারের অস্থিতিশীলতা কেন থামানো যাচ্ছে নাÑ এ যেন অন্তহীন প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই পরিস্থিতি কোনোভাবেই চলতে পারে না।

সরকারের সামনে যে চ্যালেঞ্জগুলো রয়েছে এর মধ্যে অন্যতম মূল্যস্ফীতির কশাঘাত যেভাবেই হোক বন্ধ করতে হবে। অতি মুনাফাখোর ব্যবসায়ীদের প্রতি কোনো রকম অনুকম্পা দেখানো যাবে না। টানা চতুর্থবারের মতো এই সরকারের সাফল্যের খতিয়ান কম বিস্তৃত নয়। কিন্তু মূল্যস্ফীতি-অনিয়ম-দুর্নীতির ক্ষেত্রে সরকার কাঙ্ক্ষিত মাত্রায় সাফল্য দৃশ্যমান করতে পারেনিÑ নানা মহলের এই অভিযোগ এড়ানো কঠিন। চালসহ নিত্যপণ্যের দাম স্থিতিশীল করতে নতুন কর্মকৌশল নির্ধারণ করাও জরুরি। একই সঙ্গে টিসিবির ট্রাকসেল, ডিলারদের মাধ্যমে চালসহ যেসব ভোগ্যপণ্য বিক্রয় কার্যক্রম চলমান রয়েছে এর পরিসরও বাড়াতে হবে। আমরা মনে করি, সুশাসন নিশ্চিত করা গেলে স্বেচ্ছাচারীদের আস্ফালন বন্ধ করা মোটেও দুরূহ কোনো বিষয় নয়। চালসহ নিত্যপণ্যের দামে স্বস্তি ফেরানোর দায় অবশ্যই সরকারের।

আসলে পণ্যের সরবরাহ বা সংকটের সঙ্গে দাম বাড়ার কোনো সম্পর্ক নেই। এটা হচ্ছে ব্যবসায়ীদের হীন মানসিকতা। বর্তমানে সীমিত ও নিম্ন আয়ের মানুষ এমনিতেই পরিবারের সব ব্যয় মেটাতে হিমশিম খাচ্ছে। দরিদ্র পরিবারের অনেকে ঋণ করে ব্যয় মেটাতে বাধ্য হন। এ অবস্থায় হঠাৎ যদি চালসহ নিত্যপণ্যের দাম বেড়ে যায়, তাহলে সীমিত ও দরিদ্র পরিবারে কী দুর্ভোগ সৃষ্টি হয়, তা সহজেই অনুমান করা যায়। এ দুর্ভোগ দীর্ঘ সময় চললে এর অনিবার্য পরিণতি হিসেবে দরিদ্র পরিবারের সদস্যরা পুষ্টিহীনতায় ভোগেন, অনেক পরিবারের শিশুদের শিক্ষাজীবনের অবসান ঘটে। এমন প্রেক্ষাপটে চালসহ নিত্যপণ্যের বাজারে যেন অস্থিরতা সৃষ্টি না হয়, সেজন্য দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া বাঞ্ছনীয়।

বাজারে যারা কারসাজি চালিয়ে নিজেদের উদোরপূর্তি করছেন তারা অস্পর্শিত থাকতে পারেন না। মনে রাখতে হবে, কেউই আইনের ঊর্ধ্বে নন। অসাধু ব্যবসায়ীদের শিকড় অনেক গভীরে প্রোথিত। কার্যত বাজার নিয়ন্ত্রণে সরকারের পদক্ষেপের সুফল কখনোই মিলবে না, যতক্ষণ না উৎসে নজর দিয়ে শিকড় উৎপাটন সম্ভব না হবে। এসব নিয়ে কথা হয়েছে বিস্তর কিন্তু পরিকল্পিতভাবে কাজের কাজ কতটা হয়েছেÑ এর উত্তর নিহিত রয়েছে বিদ্যমান বাস্তবতার মধ্যেই।

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা