× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

সম্পাদকীয়

গ্যাস-বিদ্যুৎ সংকট কাটান, স্বস্তি ফেরান

সম্পাদকীয়

প্রকাশ : ০২ জুলাই ২০২৪ ১০:০২ এএম

গ্যাস-বিদ্যুৎ সংকট কাটান, স্বস্তি ফেরান

গ্যাস-বিদ্যুৎ সংকটে সারা দেশের মানুষ অবস্থানগত দিক থেকে যে কমবেশি নাকাল, সেই চিত্রই উঠে এসেছে ১ জুলাই প্রতিদিনের বাংলাদেশ-এর প্রতিবেদনে। বলা হয়েছে, ঢাকার বাইরে বাড়ছে লোডশেডিং এবং জেলা শহরগুলোতে লোডশেডিং তুলনামূলক কম হলেও উপজেলা পর্যায়ে তা প্রকট রূপ ধারণ করেছে। দেশের বিভিন্ন এলাকায় ইতোমধ্যে পল্লী বিদ্যুৎ অফিসে হামলার ঘটনাও ঘটেছে। সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীলদের বক্তব্য, চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কম পাওয়ায় তারা লোডশেডিং দিতে বাধ্য হচ্ছেন। এমন প্রেক্ষাপটে ২৯ জুন জাতীয় সংসদে প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গ্রামে লোডশেডিং না দিয়ে রাজধানীর অভিজাত এলাকায় লোডশেডিং দেওয়ার নির্দেশনা দিয়েছেন। আমরা দেখছি, একদিকে আবহাওয়ার বৈরী পরিস্থিতি অন্যদিকে গ্যাস-বিদ্যুৎ সংকট প্রকট হয়ে ওঠায় জনজীবনে এর বিরূপ অভিঘাত লেগেছে।

গ্যাসের ক্ষেত্রেও প্রায় একই পরিস্থিতি বিরাজমান। শিল্প, বাসাবাড়িসহ পরিবহনে গ্যাস সরবরাহের ক্ষেত্রে সংকট দৃশ্যমান হয়ে উঠেছে। ফিলিং স্টেশনগুলোতে গাড়ির লাইন দীর্ঘ হচ্ছে এবং গ্যাস স্বল্পতার পাশাপাশি সংস্কারের কারণে কয়লাভিত্তিক একাধিক বিদ্যুৎকেন্দ্র আংশিক বন্ধ রয়েছে বলেও ওই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। মফস্বলে কোনো কোনো এলাকায় দৈনিক গড়ে দশ-বারো ঘণ্টা লোডশেডিং দেওয়া হচ্ছে। অন্যদিকে গ্যাস সংকটের কারণে শিল্পকারখানায় উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি গৃহস্থালি জীবনেও এর বিরূপ ধাক্কা লাগায় জনজীবনে চরম অস্বস্তি সৃষ্টি হয়েছে। বর্তমানে দেশে বিদ্যুতের চাহিদা রয়েছে প্রায় ১৫-১৬ হাজার মেগাওয়াটের। অন্যদিকে উৎপাদন হচ্ছে ১৩-১৪ হাজার মেগাওয়াট। তাতে দৈনিক ঘাটতি থাকছে প্রায় ৩ হাজার মেগাওয়াট। পেট্রোবাংলার সূত্রের বরাত দিয়ে জানানো হয়েছে, গত সপ্তাহে দেশে গ্যাসের চাহিদা ছিল প্রায় ৪২০ কোটি ঘনফুট, এর বিপরীতে সরবরাহ ছিল প্রায় ২৫৫ কোটি ঘনফুট। এলএনজি থেকে ৬০ কোটি ঘনফুট গ্যাস পাওয়া গেলেও ঘাটতি পুষিয়ে ওঠা সম্ভব হয়নি। সেবা খাতের বিদ্যমান সংকট জনজীবনের স্বস্তি কেড়ে নিয়েছে। শিল্পকারখানায় উৎপাদন কমায় রপ্তানিযোগ্য পণ্য লক্ষ্যমাত্রা থেকে অনেক কম হচ্ছে। আমদানি করা এলএনজি রূপান্তর করে পাইপলাইনে যেটুকু সরবরাহ করা হচ্ছে তা সিন্ধুর মাঝে বিন্দুর মতো।

গত বছর গ্রাহকদের নিরবচ্ছিন্ন গ্যাস-বিদ্যুৎ সরবরাহের কথা বলে গ্যাসের দাম বাড়ানো হয় গড়ে ৮০ শতাংশ। আর শিল্পকারখানায় নিরবচ্ছিন্ন গ্যাস সরবরাহ দেওয়ার নামে তা বাড়ানো হয়েছে ১৭৯ শতাংশ। দাম বাড়ানোর পরও কেন সংকট প্রকট হয়ে উঠলÑ এই প্রশ্ন রয়েছে ভোক্তাদের। আমরা জানি, গ্যাস-বিদ্যুৎ খাতের অনিয়ম-অব্যবস্থাপনা-অপচয়-চুরি ইত্যাদি অভিযোগ নতুন নয়। নতুন গ্যাসক্ষেত্র অনুসন্ধানে পরিকল্পিত পরিকল্পনায় ঘাটতির বার্তাও মিলেছে সংবাদমাধ্যমেই। তবে দুঃসংবাদের মধ্যেও ক্ষীণ আশার আলো দেখিয়েছে সিলেট-১০ (জৈন্তাপুর ও গোয়াইনঘাট) এলাকায় নতুন করে তেল-গ্যাসের সন্ধান পাওয়ায়। জ্বালানি বিশেষজ্ঞরা বিদ্যমান সংকটের পেছনে সরকারের জ্বালানি নীতি দায়ী বলে অভিমত ব্যক্ত করেছেন। বিগত বছরগুলোতে নিজেদের উত্তোলিত গ্যাসের উৎপাদন না বাড়িয়ে আমদানিকৃত গ্যাসের ওপর নির্ভরশীলতার কারণে আরও বহুমাত্রিক সংকটের কথাও উঠে এসেছে।

আমরা জানি, বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ সংকট রয়েছে। এর মধ্যে বিদ্যমান পরিস্থিতি সার্বিক অবস্থা আরও জটিল করে তুলেছে। গ্যাস-বিদ্যুৎ খাতে সিস্টেম লসের নামে যে অপচয় দীর্ঘদিন ধরে হচ্ছে তা বন্ধ করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার ক্ষেত্রে ঘাটতি রয়েছে বলেও অভিযোগ আছে। ডলার সংকটের কারণে এলএনজি আমদানি কাঙ্ক্ষিত মাত্রায় বাড়ানো সম্ভব হচ্ছে না। এই প্রেক্ষাপটে সরকারি কর্মকর্তাদের বিদেশ সফর কিংবা বিলাসবহুল গাড়ি কেনার চেয়ে গ্যাস আমদানি জরুরিÑ এমন বক্তব্যও বিশেষজ্ঞ মহলের তরফে ইতোমধ্যে কয়েকবার ব্যক্ত হয়েছে। শিল্পকারখানায় উৎপাদন কমলে মূল্যস্ফীতির চলমান উল্লম্ফনকালে তা আরও বিরূপ প্রভাব সৃষ্টি করবে। এর অভিঘাত লাগবে রপ্তানিতেও। গ্যাস-বিদ্যুৎ পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে বিচ্ছিন্ন ও বিক্ষিপ্ত পদক্ষেপে সংকট কাটবে না, এ বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে অনেক আগেই। একদিকে চলমান বৈশ্বিক আর্থিক সংকট, অন্যদিকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে সার্বিক পরিস্থিতি বিশ্বের প্রায় সর্বত্রই বিরূপ হয়ে উঠেছে। গত প্রায় ১৪ বছরে দেশীয় সম্পদ গ্যাস অনুসন্ধান ও আহরণের চেষ্টা কাঙ্ক্ষিত মাত্রায় হয়নিÑ এ অভিযোগও নতুন নয়। সরকারের তরফে ইতঃপূর্বে আশ্বস্ত করা হয়েছে, গ্যাস-বিদ্যুতের অভাবে কোনো কারখানা বন্ধ থাকবে না। কিন্তু দেখা যাচ্ছে, শিল্পকারখানা বন্ধ না থাকলেও গ্যাস-বিদ্যুৎ সরবরাহ ঘাটতির কারণে লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী উৎপাদন সম্ভব হচ্ছে না।

নিকট অতীতে এই সম্পাদকীয় স্তম্ভেই আমরা বলেছিলাম, জ্বালানির বিষয়ে কোনো ধোঁয়াশা রাখলে চলবে না। কারণ, বর্তমান জমানায় শুধু উৎপাদন ব্যবস্থাই নয়, প্রাত্যহিক জীবনযাপনের অনেক কিছুই গ্যাস-বিদ্যুৎনির্ভর হয়ে পড়েছে। আমরা মনে করি, এর চেয়েও জরুরি হলো সংকট মোকাবিলায় সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা নিশ্চিত করা। গ্যাস-বিদ্যুৎ সংকট আরও গুরুতর হয়ে ওঠার আগেই পরিস্থিতি উত্তরণে টেকসই ও দীর্ঘমেয়াদি পদক্ষেপ নেওয়া ছাড়া কোনো গত্যন্তর আছে বলে আমরা মনে করি না। লোডশেডিং যাতে মফস্বলের জনজীবন আরও অস্বস্তিকর করে না তোলে সেদিকে গভীর মনোযোগ দেওয়া প্রয়োজন। ঘণ্টার পর ঘণ্টা বিদ্যুৎ না থাকায় জনজীবন যেভাবে অতিষ্ঠ হয়ে উঠছে দীর্ঘমেয়াদে এর ফল ভালো না হওয়ার আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যায় না।

ঘরে ঘরে বিদ্যুৎ পৌঁছে দেওয়ার অঙ্গীকার সরকারের রয়েছে। বিদ্যুৎ খাতে সরকারের সাফল্যও কম নয়। কিন্তু ব্যবস্থাপনাগত ত্রুটির কারণে জনজীবনে সংকট জেঁকে বসেছে। জ্বালানি বিশেষজ্ঞদের অনেকেই মনে করেন, বিদ্যুৎ খাতে কাঙ্ক্ষিত মাত্রায় সুফল না পাওয়ার অন্যতম কারণ, পরনির্ভরশীল জ্বালানিনীতি। দেশের স্থল ও সমুদ্র উপকূলে গ্যাস অনুসন্ধান ও আহরণের চেষ্টা জোরদার নয়Ñ এই অভিযোগও তাদেরই। সব মিলিয়ে গ্যাস-বিদ্যুৎ সংকট জনজীবনে যে বাড়তি বিড়ম্বনার সৃষ্টি করেছে তা মেনে নেওয়া যায় না। সেবার দাম বাড়বে অথচ যথাযথভাবে সেবা পাওয়া যাবে না, তা তো হতে পারে না।

আমরা মনে করি, গ্যাস সংকট উত্তরণে জরুরি ভিত্তিতে দেশি উৎসগুলোর অনুসন্ধান জরুরি। দেশের অনেক অঞ্চলেই গ্যাস সংগ্রহ স্বাভাবিক অবস্থার চেয়ে অনেক কম। দেশের অর্থনীতি ও জনজীবন এমনিতেই ঝুঁকিমুক্ত নয়। বিদ্যমান বাস্তবতার প্রেক্ষাপটে জ্বালানি খাতে সক্ষমতা বাড়ানোর কোনো বিকল্প নেই। মনে রাখা দরকার, বিশ্বব্যাপী অর্থনৈতিক সংকটের মধ্যেও বাংলাদেশ রেকর্ড পরিমাণ রপ্তানি করতে সমর্থ হয়েছিল। বিশেষ করে তৈরি পোশাক, চামড়া ও পাটজাত পণ্য রপ্তানি ঊর্ধ্বমুখী ছিল। এমন অবস্থায় গ্যাস-বিদ্যুৎ ঘাটতির কারণে রপ্তানি আয় সংগতই কমে যাবে। জনজীবনে স্বস্তি ফেরাতে এবং উৎপাদনের চাকা গতিশীল রাখলে বিশেষজ্ঞদের পরামর্শক্রমে সংকট উত্তরণে মনোযোগ গভীর করার বিকল্প নেই। 

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা