× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

সম্পাদকীয়

ফের জঙ্গি তৎপরতা, সজাগ দৃষ্টি রাখতে হবে

সম্পাদকীয়

প্রকাশ : ৩০ জুন ২০২৪ ০৯:২২ এএম

ফের জঙ্গি তৎপরতা, সজাগ দৃষ্টি রাখতে হবে

দেশে একসময় জঙ্গি-উগ্রবাদীরা মাথাচাড়া দিয়ে উঠলেও বিগত প্রায় দেড় দশকে সরকারের কঠোর অবস্থান এবং গোয়েন্দাসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীগুলোর দক্ষতা-দূরদর্শিতায় তা নিয়ন্ত্রণে আনার অভাবনীয় সাফল্যের সত্যতা অস্বীকার করা যাবে না। কিন্তু সম্প্রতি দেশে জঙ্গি তৎপরতা আবারও হঠাৎ করে দৃশ্যমান হয়ে উঠেছে এবং র‌্যাবের দেওয়া তথ্যে জানা গেছে, নিষিদ্ধ ঘোষিত জঙ্গি সংগঠন ‘আনসার আল ইসলাম’ ভিন্ন নামে সাংগঠনিক তৎপরতা চালাচ্ছে। ২৯ জুন প্রতিদিনের বাংলাদেশ-এ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ‘আনসার আল ইসলাম’ নতুন নাম ‘আস-শাহাদা’ নামে সদস্য সংগ্রহসহ নানা তৎপরতায় জড়িত রয়েছে। এই সংগঠনটির সক্রিয় তিন সদস্যকে কক্সবাজার থেকে গ্রেপ্তারের পর র‌্যাব আরও জানিয়েছে, লাগাতার কয়েক ঘণ্টা অভিযানে ওই জঙ্গিদের গ্রেপ্তারের পাশাপাশি উগ্রবাদী বই, লিফলেট ও বিস্ফোরকসামগ্রী জব্দ করা হয়েছে। আমরা র‌্যাবের কর্মতৎপরতার জন্য তাদের সাধুবাদ জানানোর পাশাপাশি এ কথাও বলতে চাই, জঙ্গি-উগ্রবাদীদের অপতৎপরতা নির্মূলে লাগাতার অভিযান প্রয়োজন।

চলতি মাসে এই সম্পাদকীয় স্তম্ভেই আমরা বলেছিলাম, শুধু জঙ্গি নয়; চরমপন্থিদের দিকেও শ্যেনদৃষ্টি রাখতে হবে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটলে সুযোগসন্ধানী চক্রগুলো মাথাচাড়া দিয়ে ওঠে এবং এর মাশুল গুনতে হয় শান্তিপ্রিয় মানুষকেÑ এমন নজির আমাদের সামনে অনেক আছে। এই প্রেক্ষাপটে আমরা মনে করি, প্রশাসন তো বটেই; এর সঙ্গে প্রগতিশীল রাজনৈতিক দলগুলোর নীতিনির্ধারকদেরও গুরুদায়িত্ব পালন করা জরুরি। আমাদের অভিজ্ঞতায় আছে, অতীতে দেশে যখন জঙ্গি তৎপরতা মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছিল তখন মানবতাবিরোধীরা পরোক্ষভাবে হলেও কোনো না কোনো রাজনৈতিক শক্তির ইন্ধন পেয়েছে। আমরা স্পষ্টতই জানি, তাদের আদর্শ বলে কিছু নেই। হঠাৎ করে দেশে ফের জঙ্গি তৎপরতার কারণ খতিয়ে দেখার পাশাপাশি এর উৎসে নজর দেওয়া জরুরি বলেও আমরা মনে করি। জঙ্গি দমন অভিযান ও গোয়েন্দা নজরদারি অব্যাহত থাকা অবস্থায় কথিত জঙ্গি সংগঠন ‘আনসার আল ইসলাম’ কীভাবে নতুন নামে গোপন তৎপরতা চালানোর অবকাশ পায় তাও খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। জঙ্গি সংগঠনগুলোর অর্থায়ন কখনোই পুরোপুরি বন্ধ হয়নি এবং একই সঙ্গে লক্ষণীয়, তাদের জনবল সংকটও কখনই স্থায়ী হয়নি। এ দুটো বিষয়ের পেছনে কিছু বাস্তবিক প্রণোদনা আছে এবং উগ্র, অসহিষ্ণু ও জবরদস্তিমূলক ধর্মীয় মতাদর্শের প্রচারণায় প্রজন্মকে আকৃষ্ট করার অপচেষ্টায় তাদের নতুন নতুন কৌশলও সচেতন কারোরই অজানা নয়। আমরা মনে করি, ‘আনসার আল ইসলাম’-এর নতুন নামে কার্যক্রম এ থেকে বিচ্ছিন্ন নয়।

আমরা আগেও বলেছি, জঙ্গিদের মূল উৎপাটনে কঠোর দমন-অভিযান, গ্রেপ্তার-বিচার-শাস্তি প্রদান ইত্যাদি আরও জোরদার করতে হবে। কিন্তু শুধু এভাবেই এই গভীর সমস্যার সমাধান মিলবে নাÑ এও মনে রাখতে হবে। এজন্য ব্যাপক ও গভীর সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলা জরুরি। আমরা জানি, যখনই জঙ্গিরা তাদের রূপ পাল্টিয়ে অন্যভাবে কর্মকাণ্ড শুরু করে তখন তাদের প্রধান লক্ষ্য থাকে উঠতি বয়সি কিশোরদের দিকে। জঙ্গি আস্তানা উপড়ে ফেলার চেষ্টা নিশ্চয়ই সর্বাংশে বিফলে যায়নি, কিন্তু একই সঙ্গে এও লক্ষ্য করার বিষয়, এর ফাঁকেও তারা নতুন নতুন নাম ধারণ করে কার্যক্রম চালাতে থাকে। জঙ্গি কিংবা উগ্রবাদীদের দমনে দেশের গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর তথ্যানুসারে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীগুলোর তৎপরতা সময়ের নিরিখে আশাব্যঞ্জকভাবে দৃশ্যমান হলেও উগ্রবাদীরা যে থেমে নেই সম্প্রতি কক্সবাজারে কয়েকজন জঙ্গি আটকের মধ্য দিয়ে তা প্রতীয়মান হয়েছে। উগ্রবাদী-জঙ্গিদের হিংসাশ্রয়ী নিষ্ঠুরতা-বর্বরতায় আমরা দেশের প্রগতিমনা বিশেষ করে যুব সম্প্রদায়ের অনেককেই হারিয়েছিÑ যা অত্যন্ত মর্মবেদনার।

২০২১ সালের ডিসেম্বরে সংবাদমাধ্যমে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিভিন্ন সূত্রের বরাত দিয়ে বলা হয়েছিল, নিষিদ্ধ ঘোষিত জঙ্গি সংগঠন আনসারুল্লাহ বাংলা টিম নামে যে সংগঠনটি গজিয়েছিল তারা ধর্মনিরপেক্ষ ব্লগার ও লেখকদের ওপর হামলায় সরাসরি সম্পৃক্ত ছিল। হিযবুত তাহরীর, জামা’আতুল মুজাহিদীন বাংলাদেশ (জেএমবি), হরকাত-উল-জিহাদ বাংলাদেশ (হুজি), বাংলাদেশ জাগ্রত মুসলিম জনতা, শাহাদাত-ই-আল-হিকমা সংগঠনগুলো ভিন্ন ভিন্ন নামে অতীতে আত্মপ্রকাশ করলেও তাদের একে অপরের সঙ্গে যোগসূত্রের বার্তাও সংবাদমাধ্যমে উঠে এসেছিল। তখন গোয়েন্দা প্রতিবেদন থেকে এও স্পষ্ট হয়ে উঠেছিল, জঙ্গি সংগঠনে নিয়োগপ্রাপ্ত ও প্রশিক্ষকরা দেশের অভ্যন্তরে নানাভাবে সক্রিয় রয়েছে। তারা নিজে নিজে প্রত্যন্ত অঞ্চলে প্রশিক্ষণ নিতে পারে না এবং এটা স্পষ্ট, তাদের প্রতি সহানুভূতি আছেÑএমন লোকজন আশ্রয় ও মৌলিক রসদের জোগান দিয়ে থাকে। এই প্রেক্ষাপটে, জঙ্গি নির্মূল অভিযান ক্ষান্ত দেওয়ার অবকাশ নেই। গোয়েন্দা নেটওয়ার্ক প্রসারিত করার মাধ্যমে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা সেই সহানুভূতিশীলদের শিকড় সন্ধান করে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে হবে। তা না হলে গাছ কাটা হলেও মাটির নিচে শিকড়-বাকড় থেকেই যাবে।

এটা অস্বীকার করার উপায় নেই, দেশে জঙ্গিবাদের অপতৎরতায় পদ্ধতিগত পরিবর্তন হয়েছে। নতুন করে জঙ্গি সংগঠনগুলোকে একত্রিত করা বা একই প্ল্যাটফর্মে আনার অপচেষ্টা কোনো না কোনোভাবে ক্রিয়াশীলÑ আমরা তা ধারণা করি। আমরা দেখেছি, বিভিন্ন সময়ে জঙ্গিদের অনলাইন তৎপরতার বিষয়টি আলোচনায় এসেছে। তারা নতুন নতুন সদস্য সংগ্রহ করতে অনলাইনে প্রচারণা চালিয়েছেÑ এমন নজিরও আছে। বিভিন্নভাবেই জঙ্গিরা সদস্য বৃদ্ধির চেষ্টা করে থাকে এবং তরুণদের সরলতার সুযোগ নিয়ে তাদের বিভ্রান্ত করতে চায়। আমরা মনে করি, জঙ্গিরা সদস্য সংগ্রহে যেভাবেই উদ্বুদ্ধ করতে চেষ্টা করুকÑ তা রুখতে হবে। এ ব্যাপারে সরকারের আরও পরিকল্পিত উদ্যোগ যেমন জরুরি, তেমনি প্রগতিশীল সব রাজনৈতিক শক্তির ঐকমত্যও জরুরি। আমাদের জানা আছে, জঙ্গি অর্থায়নে কিছু এনজিওর দিকে অভিযোগের আঙুল উঠেছিল। জঙ্গি অর্থায়নে ধর্মান্ধ কিছু রাজনৈতিক দল ও এনজিওর জড়িত থাকার অভিযোগ নতুন কিছু নয়। আমরা দেখেছি, যখন যুদ্ধাপরাধী ও মানবতাবিরোধী কর্মকাণ্ডে লিপ্ত অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে বিচার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছিল তখন তারা ভিন্ন কৌশলে সক্রিয় হওয়ার নানারকম অপচেষ্টা চালিয়েছে।

জঙ্গি ও উগ্রবাদীদের কার্যক্রম নির্মূলে তাদের অর্থায়নের উৎস খুঁজে বের করা অধিক জরুরি। বিষয়টি ইতোমধ্যে বহুবার আলোচনায় এসেছে বটে, কিন্তু এক্ষেত্রে কাজের কাজ কতটা কী হয়েছে তা আমাদের জানা নেই। মনে রাখা বাঞ্ছনীয়, জঙ্গি সমস্যাটি কেবল আইনশৃঙ্খলাজনিত নয়; দেশ-বিদেশে তাদের নেটওয়ার্ক রয়েছে। জঙ্গিদের মামলাগুলোর দ্রুত নিষ্পত্তির ব্যাপারেও মনোযোগ গভীর করতে হবে। তাদের অর্থ ও অস্ত্রের সব উৎস যেমন বন্ধ করতে হবে, তেমনি ভেঙে দিতে হবে দেশি-বিদেশি নেটওয়ার্কও।

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা