× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

ঐতিহ্য

জিআই পণ্য হাঁড়িভাঙ্গা আম

বিথি হোসাইন

প্রকাশ : ২৯ জুন ২০২৪ ১৩:৪৩ পিএম

বাংলাদেশের ভৌগোলিক নির্দেশক পণ্যের (জিআই) স্বীকৃতি পেয়েছে রংপুরের হাঁড়িভাঙ্গা আম।

বাংলাদেশের ভৌগোলিক নির্দেশক পণ্যের (জিআই) স্বীকৃতি পেয়েছে রংপুরের হাঁড়িভাঙ্গা আম।

চলতি বছর বাংলাদেশের ভৌগোলিক নির্দেশক পণ্যের (জিআই) স্বীকৃতি পেয়েছে রংপুরের হাঁড়িভাঙ্গা আম। হাঁড়িভাঙ্গা আমের আঁতুড়ঘর রংপুরের মিঠাপুকুর উপজেলার খোড়াগাছ ইউনিয়ন। নফল উদ্দিন পাইকার নামের এক বৃক্ষপ্রেমী এই গাছটির গোড়াপত্তন করেন। আমগাছের চারা রোপণ করার সময় চারা গাছটিতে পানি দেওয়ার জন্য গাছের নিচে মাটির হাঁড়ি দিয়ে ফিল্টার বানিয়ে দেন। পরে মাটির হাঁড়ি ভেঙে গেলে ওই ভাঙা হাঁড়ির মধ্যে আমগাছটি বেড়ে ওঠে। তারপর থেকেই হাঁড়িভাঙ্গা আম নামে বিশেষভাবে পরিচিতি পায়। অল্প কয়েক বছরের মধ্যে বিখ্যাত আমের তালিকায় স্থান করে নিয়েছে হাঁড়িভাঙ্গা আম। শুরুতে এই আমকে মালদিয়া বলা হতো মধু মাসের হরেক রকম ফলমূলের তালিকায় হাঁড়িভাঙ্গা আম অন্যতম। আঁশবিহীন হওয়ায় সব বয়সের মানুষের কাছে এ আম প্রিয়। হাঁড়িভাঙ্গা আম থেকেও চাটনি, আচার, আমসত্ত্ব, মোরব্বা, জ্যাম, জেলি ও জুস তৈরি হয়। রংপুর ছাড়িয়ে ধীরে ধীরে হাঁড়িভাঙ্গা আম দেশব্যাপী পরিচিতি লাভ করেছে। হাঁড়িভাঙ্গা আম এখন বেশ কিছু দেশে রপ্তানি হচ্ছে। সাধারণত জুন মাসের শেষে বাজারে আসে। তাই অন্যান্য আম শেষ হলেও বেশ কিছুদিন পর্যন্ত হাঁড়িভাঙ্গা আম থাকে

ঋতুভিত্তিক ফলের চাহিদা মিটিয়ে আর্থসামাজিক উন্নয়নে অবদান রাখছে হাঁড়িভাঙ্গা আম। অনেকেই আমের ঋতুতে হাঁড়িভাঙ্গা আম নিয়ে ব্যবসা করে লাভের মুখ দেখছেনবিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ের অনেক শিক্ষার্থী অবসর সময়ে হাঁড়িভাঙ্গা আমের অনলাইন বা নিজ ক্যাম্পাসে বিক্রি করে ব্যয় নির্বাহ করছে। স্থানীয় বাজারগুলোয় বিকালবেলা হাঁড়িভাঙ্গা আমের পসরা সাজিয়ে বসে থাকেন। হাঁড়িভাঙ্গা আম চাষের ফলে একদিকে এর চাহিদা পূরণ হচ্ছে, অন্যদিকে নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। ভৌগোলিক বিবেচনায় হাঁড়িভাঙ্গা আম বাংলাদেশের অন্যান্য অঞ্চলের চেয়ে রংপুরে বেশি চাষ হয়; সেহেতু হাঁড়িভাঙ্গা আম চাষের বিশেষ দৃষ্টি রাখা জরুরি। হাঁড়িভাঙ্গা আমের ফলন বাড়াতে হলে আরও কিছু পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। দেশের বেশিরভাগ কৃষক স্বল্প শিক্ষিত তাদের প্রশিক্ষণ বেশি জরুরিতাহলে আরও বেশি ফলন পাওয়া যাবে। বেশিরভাগ আম চাষ হয় প্রান্তিক অঞ্চলে যেখানে যোগাযোগব্যবস্থা চাষিদের প্রতিকূলে ফলে সময়মতো বাজারে আম রপ্তানি করতে পারে না এবং দাম কম পায়। আম রপ্তানির ক্ষেত্রে যাতে বিঘ্ন না হয়, সেদিকে দৃষ্টি দেওয়া উচিত।

 হাঁড়িভাঙ্গা আমের মৌসুমে রপ্তানি বেশি হলে অনেক আমচাষিরা ক্ষতিগ্রস্ত হন। এই ক্ষতির হাত থেকে রক্ষা করতে দরকার রংপুর অঞ্চলে মানসম্মত আম সংরক্ষণের হিমাগার। এ ছাড়াও দরকার বিভিন্ন শিল্পকারখানা, যেখানে হাঁড়িভাঙ্গা আম থেকে উৎপাদন হবে বিভিন্ন রকমের জুস, জেলি ইত্যাদি। যথাযথ কর্তৃপক্ষের সুনজর পড়লে এই আম বিশ্বব্যাপী রপ্তানির ক্ষেত্র তৈরি হবে। তার পাশাপাশি বাণিজ্যিকভাবে হাঁড়িভাঙ্গা আম উৎপাদনে চাষিরা উৎসাহিত হবেন। রংপুর অঞ্চলের আর্থসামাজিক উন্নয়নে ভূমিকা রাখবে এবং পাশাপাশি বহির্বিশ্বে ব্র্যান্ডিং সহজলভ্য হবে।

  • শিক্ষার্থী, বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়, রংপুর
শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা