× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

সমাজ

অনেক চাহিদা না মেটালেও চলে

ডা. মোশাহিদ ঠাকুর

প্রকাশ : ১৫ জুন ২০২৪ ১৩:৩১ পিএম

ডা. মোশাহিদ ঠাকুর

ডা. মোশাহিদ ঠাকুর

আমরা অনেকেই বলি, একা থাকার চেষ্টা করুন। অনেকেই হঠাৎ বদলে যেতে পারে। আজ আপনি যাদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ, আগামীকাল আপনি তাদের কাছে কিছুই না-ও হতে পারেন; বিশেষ করে যখন তাদের প্রয়োজন শেষ হয়। এটা বিদ্যমান সমাজের বাস্তবতা। আমাদের মনে রাখা উচিত, ছায়া আমাদের নিয়ত সঙ্গী, কিন্তু অন্ধকারে এটি আপনাকে দূরে সরিয়ে দেবে। একইভাবে অন্যের ওপর খুব বেশি নির্ভরশীল হওয়া উচিত নয়। যখন তার উদ্দেশ্য শেষ হবে, তখন সে আপনাকে পেছনে কটাক্ষ করবে। সমাজ বাস্তবতায় এমন নজির আছে বিস্তর। এ নজিরগুলো অনুসরণীয় জীবনের কাছে জীবনেরই প্রয়োজনে। যদিও মানুষ একটি উচ্চতর প্রাণী, কিন্তু তাদের মধ্যে বিশ্বাসঘাতকতার প্রবণতা বেশি দেখা যায়। নিম্ন প্রাণীগুলোকে সহজেই নিয়ন্ত্রণ করা যায় এবং একবার এটি তার মালিকের প্রতি অনুগত হলে কোনো বিচ্যুতি ছাড়াই চিরকাল থাকে। এরও নজির কম নেই, বরং বলা ভালো আছে অজস্র। এ অর্থে নিম্ন প্রাণী উচ্চতর ও নির্ভরযোগ্য।

আমাদের মনে রাখা উচিত, জীবনে সহজ এবং সরলতা হলো উজ্জ্বলতার চাবিকাঠি। আমরা আসলে জীবন জটিল করে তুলি আমাদের কার্যকলাপ ও অতিরিক্ত চাহিদার দ্বারা। জীবন জটিল করে তোলার এ অপপ্রক্রিয়া মানুষের সহজাত প্রবৃত্তির বাড়তি উপসর্গ। এ উপসর্গ যখন জীবনের অনুষঙ্গ হয় তখন তা জীবনের জন্যই চরম অহিতকর হয়ে দাঁড়ায়। তাই অন্যের সঙ্গে তুলনা করা বন্ধ করুন, এটি নিজেদের আরও প্রতিযোগিতামূলক, ব্যস্ত এবং চাপগ্রস্ত মানুষে পরিণত করে। সূর্যের সঙ্গে চাঁদের তুলনা করা বোকামি। হতে পারে যে আপনি নিজেকে অন্যের বাইরের চকচকের সঙ্গে তুলনা করছেন; কিন্তু কী যন্ত্রণা তার অভ্যন্তরীণ মনকে যন্ত্রণা দেয় যা আবৃত থাকে। একটি ফুল অন্য ফুলের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে না বরং তারা নিজেরাই ফোটে। উদ্বিগ্ন এবং তাড়াহুড়া জীবনে সুখ আনতে পারে না। প্রসঙ্গত এও বলা যায়, পৃথিবীতে সবচেয়ে বুদ্ধিমান প্রাণী মানুষ। দৃশ্যত সবচেয়ে কর্তৃত্ববানও মানুষই। মানুষের জীবন বিবর্তিত হয়, প্রতিনিয়তই হয়, নানা ভাবে-নানা কারণে। বিবর্তনের জন্য যে পরিবর্তন তা কখনও আমরা প্রবলভাবে টের পাই, আবার কখনও বুঝতেই পারি না। পরিবর্তনজনিত ফলাফল সব সময় মানুষের পক্ষে ইতিবাচকও হয় না। তার পরও পরিবর্তনের ক্ষেত্রে যুক্তির পাশাপাশি চিরকালই মানুষকে পরিচালিত করছে মন।

মানবজীবনে অজস্র চাহিদা থাকতে পারে, থাকেও। কিন্তু চাহিদার নিয়ন্ত্রণটাই হলো মূল কথা। যদি চাহিদার নিয়ন্ত্রণ করা না যায় তাহলে অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটাই স্বাভাবিক। হ্যাঁ, কিছু চাহিদা আছে যা না মেটালেই নয়। যেমন খাবার, কাপড়, বাসস্থান ইত্যাদি। কিন্তু এও মনে রাখা জরুরি, অনেক চাহিদা না মেটালেও জীবন দিব্যি চলে যায়। জীবনধারণে কোনো অসুবিধা হয় না। আমাদের উচিত সেই অপ্রয়োজনীয় চাহিদাগুলোর নিয়ন্ত্রণ করে উচ্চাশা সংবরণ করা। জীবনের সব ক্ষেত্রে চূড়ান্ত ভাবনার প্রয়োজনই নেই এবং সামগ্রিক স্বার্থেই এর ছেদ ঘটানো জরুরি। পরিবর্তনের একটি নির্দিষ্ট মাত্রা ও সীমা রয়েছে; তা যদি আমরা মনে রাখি তাহলে অনেক অনভিপ্রেত ঘটনাই এড়ানো সম্ভব। বলা হয়, আমাদের বরাদ্দ বা ভরণপোষণ নির্ধারিত আছে যতক্ষণ না আমরা তা গ্রাস করি না কেন আমরা এ পৃথিবী থেকে একদিন না একদিন বিদায় নেব। দাতব্য, ভালো কাজ, মানসিক পবিত্রতা আয়ু দীর্ঘ করে। সমাজেও আলো ছড়ায়। এ আলো বিকশিত করে অন্য জীবনও।

জীবনের তরে জীবন এ পাঠ প্রতিটি মানুষ যদি নিতে পারে তাহলে পরিবার-সমাজের চিত্র পাল্টে যেতে বাধ্য। আগেই বলেছি, মানুষ উচ্চতর প্রাণী বটে, তবে এও সত্য, মানুষ শুধুই প্রাণিমাত্র নয়। সমাজে কাঙ্ক্ষিত অনুসরণযোগ্য তো সবাই নয়, কেউ কেউ। কিন্তু সবারই মানুষ হওয়ার প্রক্রিয়া অনুসরণ করা উচিত। এও সত্য, এ সমাজে অনেক শিশু বড় বেশি অবহেলিত। বৈষম্যের ছায়ায় নিমজ্জিত। অধিকারবঞ্চিত। আমাদের সংবিধান তা সমর্থন করে না, মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে তো নয়ই। বৈষম্যের ছায়া সরাতে হবে, সাম্যের আলো ছড়াতে হবে। সাম্যই সঠিক শিক্ষাদীক্ষার পথে নিয়ে যায়, যেতে পারে।

আমাদের শিশুরা সম্ভাবনাময় এবং প্রতিশ্রুতিশীল। আমাদের উচিত প্রত্যেক শিশুকে যথাযথ শিক্ষা দেওয়া কীভাবে জীবনে সফল হওয়ার সক্ষমতা অর্জন করা যায়। ধরুন যাদের সামর্থ্য আছে তারা যদি তাদের সন্তানদের জন্য বিশাল সম্পত্তি রেখে যায়, তাহলে তা তাদের অলস করে তুলবে এবং ভাইবোনদের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টি করবে। যদি সঞ্চিত ওই সম্পদ অবৈধ হয়, তবে উত্তরসূরিরা তাদের হৃদয়ের তৃপ্তিতে তা উপভোগ করবে কিন্তু পরবর্তী পৃথিবীতে আপনার জন্য যন্ত্রণা অপেক্ষা করছে। হতাশা আমাদের শান্তিপূর্ণ জীবন অস্থির করে তোলে, এ ধরনের হতাশাজনক ব্যক্তিকে যত দূর সম্ভব এড়িয়ে চলা বুদ্ধিমানের কাজ।

হতাশা ছোঁয়াচে রোগের মতো। আমাদের মনে রাখতে হবে, বিশাল সম্পত্তির পেছনে অপরাধ আছে। এর নজির কি সংবাদমাধ্যম কিংবা গণমাধ্যমে প্রায়ই উঠে আসছে না? কদাচার-অনাচার-দুরাচারীদের বিত্তবেসাতের লালসা ক্রমেই সমাজে যে অসহনীয় পরিস্থিতি প্রকট করে তুলছে, এর নিরসন ঘটাতেই হবে। মানুষের যূথবদ্ধ প্রচেষ্টা এ ক্ষেত্রে খুব জরুরি। পরিপার্শ্ব থেকে খুব স্পষ্টভাবে বুঝতে পেরেছি, সৎভাবে উপার্জিত অর্থ সর্বদা বিশুদ্ধ, তা জীবনের জন্য অত্যন্ত স্বস্তির। ইল গট ইল স্পেন্ট। আপনি যদি আপনার নিজের এলাকায়, আত্মীয়স্বজন এবং অন্যদের মধ্যে জরিপ করেন, আমি নিশ্চিত আপনি একই ফল পাবেন। তাদের প্রারম্ভিক এবং মধ্য জীবন চমৎকারভাবে বিস্ময়কর কিন্তু জীবনের শেষের কাছাকাছি এটি অত্যন্ত হতাশাজনক! অন্যের অধিকার ও সুখ কেড়ে নিয়ে কেউ নিজের জীবনে সুখ পেতে পারে না।

যারা মহান স্রষ্টাকে বিশ্বাস করেন, ভালো কাজ করেন, ভালো উপদেশ দেন এবং ধৈর্য ধরেন তারা ছাড়া প্রত্যেকেরই ধ্বংসাত্মক অবস্থার মুখোমুখি হতে হবে। প্রকৃতির বিচার বলে একটা কথা আছে। ধর্মীয় অনুশাসন জীবনের স্বচ্ছন্দের জন্যই প্রয়োজন। প্রকৃতির ওপর কশাঘাত করলে প্রকৃতি যেমন এর ভয়ংকর প্রতিশোধ নেয়, তেমন মানুষকে কষ্ট দিলে এর বিরূপ অভিঘাতও নিশ্চয় ফিরে আসবে। অতএব যত দ্রুত হীনচিন্তাধারীদের সংবিৎ ফিরবে ততই মঙ্গল। সুখশান্তি সব নিজের কাছে, যা নিজের কৃতকর্ম দ্বারা নিশ্চিত হয়।

  • অবসরপ্রাপ্ত কর্নেল ও চক্ষুবিশেষজ্ঞ
শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা