সাধারণ্যে
ভূঁইয়া শফি
প্রকাশ : ১৩ জুন ২০২৪ ০৯:৩৭ এএম
জামালপুরের সরিষাবাড়ী
পৌরসভার চকহাটবাড়ী গ্রামের চা বিক্রেতা হাসু মিয়া। অভাবের সংসারে হাল ধরতে ২০ বছর
বয়স থেকেই চা বিক্রি করছেন। ১৫ বছর আগে অন্যের দোকানের কর্মচারী হিসেবে চা বিক্রির
মাধ্যমে এ পেশায় যুক্ত হন। এখনও আছেন একই পেশায়। সরিষাবাড়ী স্টেশন চত্বর এলাকার
প্রেস ক্লাবের পাশে হাসুর চায়ের দোকানে চা খেতে এসে তার সঙ্গে আলাপনের কিছু অংশ পাঠকের
জন্য তুলে ধরা হলো-

দোকান কেমন চলে?
ভালো না ভাই।
চা আর আগের মতোন বেচা রয় (হয়) না। গরমের জন্য মানুষ ঘরে থেইকা বাইর হয় না। রাস্তাঘাটেও
মানুষ কম। মানষেরও (মানুষেরও) অভাব-অনটন, ব্যবসাবাণিজ্যে আয়-রোজগার কম। তাই এহন মানসে
চা খাইতে আহে না।
কত দিন ধরে
চা বিক্রি করেন?
তা ধরেন আজ থেইকা
প্রায় ১৫ বছর আগ। তখন আমার বয়স বিশের মতোন। অভাবের সংসারে হাল ধরতে তহন একটা চায়ের
দোকানে কাজ নিই। পাঁচ বছর অন্যের দোকান করার পর নিজেই চায়ের দোকান দিছি। হেই থেইকাই
(সে সময়) চা বিক্রি করি।
দিনে কত টাকার
চা বিক্রি করেন?
আগে দিনে দেড়-দুই
হাজার টাকার চা বিক্রি করছি। এহন ৫০০ টাকার চা বিক্রি জুলুম হয়ে যায়। মিলকারখানা
বন্ধ, জুট মিল বন্ধ, গরমে মানুষ বাইরে বের হয় না, মানুষের অভাব-অনাটন নানা সমস্যার
কারণে চা বিক্রি হয় না।
এ টাকায় সংসার
চলে?
চলে কোনোরকম টেনেটুনে।
আল্লাহ কোনোরকম ডাল-ভাত যা পাই তাই খেয়ে কষ্টেসৃষ্টে চালিয়ে দিই। কী আর করার আছে?
আমরা তো গরিব মানুষ!
বাড়িতে কে
কে আছে? কজনের সংসার আপনার?
বাড়িতে তিন ছেলে,
আমি আর আমার পরিবার (স্ত্রী)। পাঁচজনের সংসার। দুইটা ছেলেকে স্কুলে দিয়েছি। একটা ছেলে
ক্লাস ফাইভে আর একটা থ্রিতে। আর একটা ছোট, দুই বছর বয়স।
ছেলেদের নিয়ে
ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা কী?
ছেলেদের উচ্চশিক্ষায়
শিক্ষিত করতে চাই। তাদের মানুষের মতোন মানুষ করতে চাই। কিন্তু অভাবের সংসারে ঠিকমতোন
ছেলেদের পড়ালেখার খরচ চালাতে পারি না। এ বাজারে সব জিনিসপত্রের দাম বেশি। বই খাতা
কলম কিনতে মেলা টাহা নাগে (লাগে)। তবু কষ্ট করে ছেলেদের মানুষ করার চেষ্টা করছি।
ধন্যবাদ আপনাকে।চা
টা ভালো ছিল।
আবার আসবেন ভাই।
আপনাকেও ধন্যবাদ।