দিবস
ডা. মুহাম্মাদ মাহতাব হোসাইন মাজেদ
প্রকাশ : ১২ জুন ২০২৪ ০৯:২৬ এএম
আইন অনুসারে শিশু শ্রমিক নিয়োগদানকারীকে পাঁচ হাজার টাকা অর্থদণ্ড করা হবে।
আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা (আইএলও) ১৯৯২ সালে প্রথম
শিশুশ্রমের জন্য প্রতিরোধ দিবস পালনের সিদ্ধান্ত নেয়। সেই মোতাবেক ২০০২ সালের ১২
জুন থেকে আইএলও বিভিন্ন কর্মসূচির মাধ্যমে প্রতি বছর দিবসটি ‘শিশুশ্রম প্রতিরোধ দিবস’
হিসেবে পালন করে আসছে। জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৭৪ সালে শিশু আইন
প্রণয়ন ও প্রাথমিক শিক্ষাকে বাধ্যতামূলক করেন। আর আওয়ামী লীগ সরকার উন্নয়ন ও
সুরক্ষার বিভিন্ন কার্যক্রমের সঙ্গে জাতীয় শিশুনীতি-২০১১, শিশু আইন-২০১৩, বাল্যবিবাহ নিরোধ আইন-২০১৭ প্রণয়ন
করেছে। আর শিশুশ্রম নিষিদ্ধ করে বাংলাদেশ শ্রম (সংশোধন) আইন ২০১৮-এর খসড়া নীতিগত
অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা।
আইন অনুসারে শিশু শ্রমিক নিয়োগদানকারীকে পাঁচ
হাজার টাকা অর্থদণ্ড করা হবে। ১৪ থেকে ১৮ বছর বয়স পর্যন্ত কিশোররা হালকা কাজ করতে
পারবে। জাতীয় শিশুশ্রম জরিপ অনুসারে, পল্লী এলাকায় ২৭ লাখ ৩০
হাজার শ্রমজীবী শিশু রয়েছে এবং শহরাঞ্চলে রয়েছে ৮ লাখ ১০ হাজার। শিশুশ্রমে নিয়োজিত শিশুর সংখ্যা পল্লী এলাকায় ১৩ লাখ ৩০ হাজার এবং
শহরাঞ্চলে ৪ লাখ ৪০ হাজার। অন্যদিকে ঝুঁকিপূর্ণ শিশুশ্রমে নিয়োজিত শিশুর সংখ্যা
পল্লী এলাকায় ৮ লাখ ২০ হাজার এবং শহরাঞ্চলে ২ লাখ ৪০ হাজার রয়েছে। প্রতিবেদনে ৫-১৭
বছর বয়সি শিশু শ্রমিকের সংখ্যা ৩ কোটি ৯৯ লাখ ৬০ হাজার।
জরিপ হতে প্রাপ্ত ফল অনুযায়ী, শিশু
শ্রমিকের ৮২ শতাংশ তাদের নিজস্ব বাড়িতে বসবাস করে, উৎপাদনে
৩৩.৩ শতাংশ এবং কৃষি, বনায়ন ও মাছ ধরায় ২৩.৬ শতাংশ নিযুক্ত
রয়েছে। সামগ্রিকভাবে শিশু শ্রমিক কর্মচারী হিসেবে শ্রেণিভুক্ত ৬৮.৮ শতাংশ এবং
স্কুলে যায় ৫২.২ শতাংশ। শিশু শ্রমিকদের গড় মাসিক আয় ৬ হাজার ৬৭৫ টাকা। এ ছাড়াও ২০ লাখ ১০ হাজার শিশু
গৃহকর্মী রয়েছে, যাদের পারিশ্রমিক দেওয়া হয় না এবং ৮০ হাজার যারা
পারিশ্রমিকপ্রাপ্ত, উভয় ক্ষেত্রেই পুরুষের তুলনায় নারীর সংখ্যা
বেশি। তিনটি প্রাথমিক খাত যেখানে কৃষি, শিল্প ও পরিষেবা
যথাক্রমে ১০ লাখ ৭০ হাজার, ১১ লাখ ৯০ হাজার এবং ১২ লাখ ৭০
হাজার শিশু শ্রমিক রয়েছে।
শিশুরাই দেশ-জাতির কর্ণধার।
আজকের শিশুরাই আগামী দিনের দেশ, জাতি ও রাষ্ট্র পরিচালনার
দায়িত্ব গ্রহণ করবে। এজন্য শিশুদের যোগ্য নাগরিক হিসেবে গড়ে তোলা অত্যাবশ্যক। দেশে
শিশুরা অশিক্ষা ও দারিদ্র্যের কারণে তাদের মৌলিক অধিকার থেকে নানাভাবে বঞ্চিত
হচ্ছে। অভাবের কারণে জীবনের শুরুতেই তারা বিভিন্ন শ্রমের পেশায় জড়িত হতে হচ্ছে।
সবচেয়ে বেশি শিশু শ্রমিক ব্যবহার হয়– টেক্সটাইল, পোশাক শিল্প,
চামড়া শিল্প, ইটভাটা,
জুতার কারখানা, হোটেল, রেস্টুরেন্ট ও
ওয়েল্ডিং ওয়ার্কশপগুলোতে। বর্তমানে অনেক শিশুকে ঢাকার রাস্তায় রিকশা চালাতেও দেখা
যায়। এ ছাড়াও মাঝারি যানবাহনÑ লেগুনা, টেম্পোতে চলন্ত
অবস্থায় ঝুঁকির মধ্যে যাত্রী ওঠানো, ভাড়া আদায় করার মতো
ঝুঁকিপূর্ণ কাজ করে থাকে।
শ্রমবাজারে শিশু শ্রমিকের সংখ্যা দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। সম্প্রতি কিশোর গ্যাং নামক উপদ্রবও শিশুদের বিপথে যাওয়ার অশনিসংকেত হয়ে দাঁড়িয়েছে। দরিদ্র শিশুরাই এ ধরনের গ্যাংয়ে বেশি। শিশুশ্রম
থাকলে শিশুদের অপরাধীকরণও থাকবে। শিশু-কিশোরদের মৌলিক চাহিদা,
খাদ্য, বাসস্থান, শিক্ষা
ও সাংস্কৃতিক বিকাশ নিশ্চিত করার উপযুক্ত কর্মসূচির অনুপস্থিতি যে এ সমস্যাগুলো
উদ্ভবের জন্য দায়ীÑ তা অস্বীকার করা যাবে না।