× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

ভারতের রাজনীতিতে নতুন মেরুকরণ

এম হুমায়ুন কবির

প্রকাশ : ০৫ জুন ২০২৪ ১৩:২৭ পিএম

আপডেট : ০৫ জুন ২০২৪ ১৩:৫৯ পিএম

এম হুমায়ুন কবির

এম হুমায়ুন কবির

বুথফেরত সমীক্ষার অনুমানকে অনেকাংশে ভুল প্রমাণ করে দিয়েছে ভারতের লোকসভা নির্বাচনের ভোটগণনার প্রাপ্ত ফল। ভারতের এই নির্বাচনটি সত্যিই উত্তেজনাপূর্ণ হয়েছে। ভোটগণনার প্রাপ্ত ফলাফল থেকে ভারতের তিন রাজনৈতিক শক্তির আঙ্গিকগত জয় দৃশ্যমান। ভারতের সংবিধান অনুসারে, বিজেপি ২৭২টি আসনে জয়ী হলে সরকার গঠন করতে পারবে। ভোটগণনার ফল অনুযায়ী কিংবা এই লেখার সময় পর্যন্ত এনডিএ এখনও সরকার গঠন করার মতো অবস্থায় রয়েছে। অর্থাৎ আবারও মোদি সরকার ক্ষমতা গ্রহণ করবে- এমনটি দোদুল্যমান মনে হলেও বলা যেতে পারে।

২০১৯ সালে বিজেপি লোকসভা নির্বাচনে ৩০৩টি আসনে জয়ী হয়। গতবারের তুলনায় এবার তারা নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করতে পারেনি। গতবার বিজেপি নিজ শক্তিবলেই ২৭২টির বেশি আসনে জয়ী হয়। অথচ এবার তাদের জোটের ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে। বিজেপির এনডিএ মিত্রদের ফলাফলের সঙ্গে সম্মিলিতভাবে তারা এগিয়ে রয়েছে এখন পর্যন্ত।

কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন ইন্ডিয়া জোটও অন্য আঙ্গিকে জয়ী হয়েছে। ভারতের লোকসভা নির্বাচনকে বৃহত্তর রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে বিচার করলে দেখা যাবে, ইন্ডিয়া জোট পরাজিত হয়নি। গত লোকসভা নির্বাচনে কংগ্রেস কোনোমতে ৪২টি আসনে জয়ী হয়েছিল। কংগ্রেসের রাজনৈতিক শক্তিমত্তা নিয়ে যখন দেশটির রাজনৈতিক মহলে হতাশা-শঙ্কা প্রবল আকার ধারণ করেছিল, তখন এবারের নির্বাচনে তাদের প্রতিদ্বন্দ্বিতা আশার বার্তা দিয়েছে। কংগ্রেস যে ঘুরে দাঁড়িয়েছে তা ভোটগণনার ফল দেখেই প্রতীয়মান। কংগ্রেসের ঘুরে দাঁড়ানোর বিষয়টির রাজনৈতিক গুরুত্ব অপরিসীম। ‘আব কি বার ৪০০ পার’ স্লোগান বা রাজনৈতিক এজেন্ডা নিয়ে বিজেপি এবার নির্বাচনী প্রচারণা চালিয়েছিল। এজন্য তাদের কিছু লক্ষ্যমাত্রা ও বিজয়ের পর রোডম্যাপও ছিল। কংগ্রেসের ঘুরে দাঁড়ানোর ফলে লোকসভায় এসব লক্ষ্যমাত্রা বাস্তবায়ন ও রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনার ক্ষেত্রে বিজেপিকে আরও ভাবতে হবে। ইন্ডিয়া জোট এবার যথেষ্ট শক্তি নিয়েই লোকসভায় থাকবে। ফলে বিরোধী দলের চাপ তাদের ওপর থাকবেই যদি তারা সরকার গঠন করে। 

লোকসভা নির্বাচনে ভারতীয় জনগণও এক আঙ্গিকে জয়ী হয়েছে। ৬৪ কোটি ২৪ লাখেরও বেশি ভোটার এই নির্বাচনে ভোট দিয়েছে। লোকসভা নির্বাচনে সাংগঠনিক, রাজনৈতিক, সংবাদমাধ্যম ও বিভিন্ন সংস্থার ওপর সরকারি প্রভাবের মতো সংকট ছিল। এসব সংকটের মধ্যে ভারতের ভোটাররা বাস্তববাদী সিদ্ধান্ত প্রয়োগ করতে পেরেছে। ভোটারদের মতপ্রকাশের বিষয়টি ভারতীয় গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করার ক্ষেত্রে ব্যাপক অবদান রেখেছে, এ বিষয়ে দ্বিমত রাখার সুযোগ নেই।  

আমরা জানি, উত্তর প্রদেশকে বিজেপির ক্ষমতাপ্রাপ্তির কেন্দ্রবিন্দু বিবেচনা করা হয়। এই উত্তর প্রদেশেই বাবরি মসজিদ ধ্বংস করে রামমন্দির প্রতিষ্ঠা করা হয়। বিজেপির উত্থানস্থল বলে পরিচিত উত্তর প্রদেশে বিজেপি বড় ধরনের ‘মার’ খেয়েছে বলা চলে। পশ্চিমবঙ্গে তৃণমূল কংগ্রেসও ভালো প্রতিদ্বন্দ্বিতা দেখিয়েছে। ভারতের পূর্ব ও উত্তরে বিজেপি নিজেদের অবস্থান আরও শক্তিশালী করার প্রত্যাশা রেখেছিল। তাদের সে প্রত্যাশা পূরণ হয়নি। উল্টো ভারতের রাজনীতিতে আঞ্চলিক দলগুলোর প্রভাব বাড়ার সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। আশি-নব্বইয়ের দশকের ভারতে আমরা এমনটি দেখেছিলাম। এতদিন ভারতে বিজেপির একচ্ছত্র আধিপত্য দেখা গেলেও এখন এ ধরনের রাজনীতিতে বড় পরিবর্তন আসতে পারে।

লোকসভা নির্বাচনে বিজেপির চূড়ান্ত বিজয় নির্ভর করছে অন্ধ্র প্রদেশ ও বিহারে নীতিশ কুমারের বিজয়ের ফলের ওপর। তবে এই দুটো জায়গায় জিতলেই যে বিজেপির ঘাটতি পূরণ হচ্ছে তা কিন্তু নয়। কারণ এই দুই অঞ্চলে বিজেপির প্রতিদ্বন্দ্বী দলের রাজনীতিকরা অত্র অঞ্চলে বিজেপির উত্থানের আগ থেকেই শক্তিশালী অবস্থানে রয়েছে। ইতোমধ্যে নরেন্দ্র মোদি পিডিপি প্রধানের সঙ্গে ফোনালাপ করে নিজ দলে সংযুক্ত করার প্রচেষ্টা চালিয়েছেন। অর্থাৎ সরকার গঠন করার ক্ষেত্রে বিজেপিকে এখন সতর্ক অবস্থানেই থাকতে হবে। পিডিপি এনডিএর অংশ। তারপরও ভারতের রাজনীতিতে নতুন মেরুকরণ লক্ষ করা যাচ্ছে। নতুন অনেক উপাদানই দেখা দিয়েছে, যা একক দলের সংখ্যাগরিষ্ঠতার ক্ষেত্রে প্রতিবন্ধকতা তৈরি করেছে। ভারতে ২০ বছর ধরে একক দলের নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা দেখেছি। এমন ব্যবস্থায় পরিবর্তন আসতে চলেছে। ক্ষমতায় এখন নতুন ধরনের বিন্যাস আসতে চলেছে। তবে ক্ষমতায় যে-ই আসুক, বাংলাদেশের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে বড় কোনো পরিবর্তন আসবে না বলেই আমার বিশ্বাস। 

  • কূটনীতি-রাজনীতি বিশ্লেষক ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে নিযুক্ত বাংলাদেশের সাবেক রাষ্ট্রদূত
শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা