× ই-পেপার প্রচ্ছদ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি ফিচার চট্টগ্রাম ভিডিও সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

রাজনীতি

১৪-দলীয় জোট : এই দিন দিন নয়…

মোস্তফা হোসেইন

প্রকাশ : ০৩ জুন ২০২৪ ০৯:৩৭ এএম

মোস্তফা হোসেইন

মোস্তফা হোসেইন

কেউ কেউ বলেন, রাজনীতি এখন এক পক্ষের খেলা। প্রতিপক্ষ বাউন্ডারির বাইরে থেকে নিজেদের অস্তিত্ব ঘোষণায় ব্যস্ত। সারা দেশে উপজেলা পরিষদের নির্বাচনেও বাস্তবে শুধু আওয়ামী লীগেরই দৌড়ঝাঁপ। সেখানেও দু-চার জন বিএনপিদলীয় সদস্য নির্বাচনে অংশ নিয়ে দলের কথা মনে করিয়ে দিচ্ছেন। যদিও নির্বাচনে যাওয়ায় তাদের দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। এমন খোলা মাঠে শাসকদলের অন্যের সহযোগিতা জরুরি নয়, এমনটাই মনে হওয়ার কথা। কিন্তু রাজনীতিতে ‘এই দিন দিন নয়, আরও দিন আছে’ বলে একটা কথা আছে। সুতরাং রাজনীতির খেলার মাঠে এক পক্ষের উপস্থিতির পরও সহযোগীদের প্রয়োজনীয়তা সরাসরি অস্বীকার করা যায় না। স্থির-ঠান্ডা পরিস্থিতি থাকার পরও শাসকদলের প্রধান ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তাদের সহযোগী ১৪-দলীয় নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। তাদের কথা শুনেছেন। তারাও প্রধানমন্ত্রীর চিন্তাভাবনার কথা শুনেছেন। মনে করা যায়, ‘আরও দিনের’ কথা ভুলে যাননি আওয়ামী লীগ নেত্রী। সেই সুবাদেই ১৪-দলীয় নেতাদের নিয়ে বৈঠক করেছেন আওয়ামী লীগপ্রধান শেখ হাসিনা।

বৈঠক শেষে ১৪-দলীয় নেতারা বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী বলেছেন ১৪-দলীয় জোট আছে এবং থাকবে। জোটনেতাদের অভিমান-অভিযোগের কথাও শুনেছেন প্রধানমন্ত্রী। বলেছেন, জনপ্রিয়তা অর্জনের জন্য তারা যেন মনোযোগী হন। মূল কথাগুলোই সংবাদমাধ্যমে এসেছে। নিশ্চয়ই ব্যাপক আলোচনা হয়েছে দীর্ঘ বৈঠকে; যা হয়তো প্রতিটি দলই নিজেদের মতো করে মূল্যায়ন করবে। তবে দলীয় রাজনীতির বাইরে থেকে পর্যবেক্ষক হিসেবে দেখা গেছেÑপ্রতিটি দল এতটাই দুর্বল অবস্থানে চলে গেছে যে, সহজে তাদের শক্তি সঞ্চয় হবে এমন আলামত দেখা যাচ্ছে না। কেউ বলতে পারেন আওয়ামী লীগ ছাড়া ১৪-দলীয় জোটের বাকি দলগুলো তো ক্ষুদ্র হিসেবে সব সময়ই গণ্য। সুতরাং তাদের নিয়ে উচ্ছ্বসিত হওয়ার কী আছে। আর তাদের সরকারে না থাকায়ও এত আফসোস করার কী আছে। বিষয়টি এত সহজ সমীকরণ ঠিক হবে বলে মনে করি না। ১৪-দলীয় জোটের শরিক দলগুলো বিশেষ করে আওয়ামী লীগের দৃষ্টিভঙ্গি সমালোচিত হচ্ছে। মনে করি ক্ষুদ্র দলগুলোর বিষয়ও বিবেচনায় আনা উচিত।

দশম সংসদীয় নির্বাচনের পর সরকারে আওয়ামী লীগের বাইরের ক্ষুদ্র দলগুলো থেকে মন্ত্রিপরিষদে সদস্য করা হয়েছিল। তাদের আসনও ছেড়ে দেওয়া হয়েছিল অনেক বেশি। তখন মনে করা হয়েছিল, এ দলগুলো হয়তো সে সুযোগে নিজেদের গুছিয়ে আনতে পারবে। বাস্তবতা হচ্ছে, সরকারে থেকেও সে সুবিধা তারা ভোগ করতে পারেনি যথাযথ। সরকারে থেকে সাংগঠনিক কর্ম পরিচালনা সহজতর হয়। সেটা সরকারি দলের সমর্থনপুষ্ট হলেও সম্ভব। তবে মন্ত্রী থাকাকালে তাদের যে বেশি সুবিধা থাকে তা অবশ্যই স্বীকার্য। বাস্তবতা হচ্ছে, ১৪-দলীয় জোটের শরিকরা সে সুযোগ কাজে লাগাতে ব্যর্থ হয়েছে। ব্যর্থতার ফল হিসেবেই দ্বাদশ নির্বাচনের পর তাদের অবস্থান আকাঙ্ক্ষার ধারেকাছেও নেই। মনে হতে পারে, তারা আগে থেকেই মনে করেছিল আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় গেলেই হলো, তাদের ক্ষমতার অংশ পাওয়া হয়ে যাবে। কিন্তু রাজনীতিতে হিসাবনিকাশের বিষয়টিকে তারা তেমন গুরুত্ব দিয়েছে বলে মনে হয় না। যদি দিত তাহলে তারা প্রথম মেয়াদে তাদের দলীয় শক্তি বৃদ্ধিতে মনোযোগী হতো।

জাসদের খণ্ডিত অংশ হলেও হাসানুল হক ইনুর ব্যক্তিগত ইমেজ আছে। বিভিন্ন জেলায়ও তাদের শাখা আছে। সে শাখাগুলো কার্যকরের উদ্যোগ এখনও চোখে পড়ে না। রাশেদ খান মেননের ক্ষেত্রেও এই বক্তব্য প্রযোজ্য। স্বাধীনতা আন্দোলন থেকে শুরু করে মুক্তিযুদ্ধ-পরবর্তী বাংলাদেশে রাজনৈতিক মাঠ চষে বেড়ানোর অভিজ্ঞতাসম্পন্ন নেতা তিনি। ছাত্র আন্দোলন সংগঠিত করারও যে অভিজ্ঞতা তার আছে রাজনৈতিক সংগঠনে তার প্রতিফলন দেখা যায়নি। একইভাবে হাসানুল হক ইনুর ক্ষেত্রেও দেখা যায়। মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক ও একাত্তরের উত্তাল আন্দোলনে তার যে অবদান, তার কিয়দংশ জাসদ সৃষ্টিকালে দৃষ্টিগ্রাহ্য হয়েছিল। জাসদ রাজনীতিতে তার বড় ভূমিকা থাকলেও মূল নেতৃত্বে তিনি ছিলেন না। কিন্তু বিভক্ত জাসদে নিজের নেতৃত্বে দল গঠিত হওয়ার পর অতীতের সে ইমেজ তিনি ধরে রাখতে পারেননি। এমন পরিস্থিতিতে আওয়ামী লীগের সঙ্গে জোটবদ্ধ হয়ে এমন দলগুলো মান রক্ষার সুযোগ পেয়েছিল। এখন তারা সরকারে নেই, আবার সরকারবিরোধী অবস্থানেও নেই।

যে চেতনা সূত্র ধরে এ দলগুলো জোট গঠন করেছিল সেই মুক্তিযুদ্ধবিরোধী সাম্প্রদায়িকতাবাদ এখন বহাল তবিয়তে আছে। দেশকে আফগান-তালেবান-পাকিস্তান বানানোর উদ্যোগ এখনও দৃশ্যমান হয়। মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ধারণকারী ১৪-দলীয় জোটভুক্ত দলগুলো এর বিপক্ষে সাংগঠনিক তৎপরতা চালাতে পারে। জেলা-উপজেলা পর্যায়ে তাদের রাজনৈতিক কর্মসূচি পালনে সরকারি বাধার কোনো কারণ নেই। অর্থাৎ এতদ্‌সংশ্লিষ্ট কর্মসূচি পালনে তারা সরকারি সহযোগিতাই পাওয়ার কথা। সে সুবাদে তাদের জনসম্পৃক্ততা বেড়ে যেতে পারে। কর্মসূচি না থাকলে ঢাকাকেন্দ্রিক আরও স্পষ্ট করে বলতে গেলে দলগুলো কেন্দ্রীয় অফিসকেন্দ্রিক হয়ে পড়তে বাধ্য। আর সে ক্ষেত্রে আগামীতেও আওয়ামী লীগের কাছ থেকে মূল্যায়নে হেরফের হবে না। দুনিয়ারই নিয়মÑশক্তি না থাকলে রাজনৈতিক মূল্যায়ন হয় না।

১৪-দলীয় জোটভুক্ত দলগুলো যদি অর্থসংকটের কারণে তৃণমূলে তাদের কাজ করতে বাধাগ্রস্ত হয়ে থাকে, তাহলে অন্তত সমাজমাধ্যমেও তাদের রাজনৈতিক প্রচার চালাতে পারে। সরকারি দলেরও তাদের সুযোগ করে দেওয়া দরকার। তাদের মনে রাখা প্রয়োজন, আওয়ামী লীগ ব্যক্তি পর্যায়ে হয়তো দুয়েকজন নেতাকে মূল্যায়ন করতে পারে। কিন্তু রাজনৈতিক স্বার্থরক্ষায় কোন দল কতটা প্রয়োজনীয়, তা নির্ভর করবে ওই দলটির শক্তিমত্তার ওপর। এই শক্তি অর্জনে সরকারের নয়, সংশ্লিষ্ট দলগুলোকেই অগ্রণী ভূমিকা পালন করতে হবে। না হলে জোটের শরিক হিসেবে না-পাওয়ার অভিযোগ আর অভিমান চলতেই থাকবে, রাজনৈতিক অর্জন কিছুই হবে না।

  • সাংবাদিক, শিশুসাহিত্যিক ও মুক্তিযুদ্ধ গবেষক
শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মুস্তাফিজ শফি

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০১৯১১০৩০৫৫৭, +৮৮০১৯১৫৬০৮৮১২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০১৭১২০৩৩৭১৫ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা