× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

বহুবিচ্যুতি শঙ্কায় ফেলেছে ভারতের ভবিষ্যৎ

প্রবা প্রতিবেদন

প্রকাশ : ০২ জুন ২০২৪ ২৩:১৯ পিএম

আপডেট : ০৩ জুন ২০২৪ ০৮:৪৩ এএম

বহুবিচ্যুতি শঙ্কায় ফেলেছে ভারতের ভবিষ্যৎ

এক দিন পরেই ভারতের লোকসভা নির্বাচনের ফল প্রকাশ। যে দল বা জোটই ক্ষমতারোহণ করুক, তাদের সামনে একাধিক জটিল সমস্যা রয়েছে। নির্বাচনী প্রচারাভিযানে যে উৎসবমুখর পরিবেশ বিদ্যমান ছিল, তা অনেকাংশে এসব জটিলতা থেকে আমাদের দূরে রাখতে পেরেছে। তবে ভারতের ভবিষ্যতের জন্য এসব বিষয়ে মনোযোগ দেওয়া জরুরি। 

প্রথমত রাজনৈতিক দলগুলোয় দুর্নীতি দীর্ঘদিন ধরেই বড় সমস্যা হিসেবে জিইয়ে রয়েছে। গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক ব্যবস্থার ধারক-বাহক হিসেবে রাজনৈতিক দলগুলোর আলাদা ভূমিকা রয়েছে। আমরা দেখছি, রাজনৈতিক দলের সদস্যদের মধ্যেই আস্থার ঘাটতি রয়েছে। ভারতের রাজনৈতিক দলগুলো অনেকাংশে ফ্যামিলি কাল্টের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছে। এক্ষেত্রে বিজেপির নাম উল্লেখ করতে হয়। বিগত এক যুগ ধরে দলটি নরেন্দ্র মোদিকে ক্ষমতার কেন্দ্রে রেখে তাদের কার্যক্রম পরিচালনা করছে। তাদের কাছে নরেন্দ্র মোদি মানুষের চেয়েও বড় কেউ। ভারতের বিভিন্ন অঞ্চলে বিজেপির প্রতিদ্বন্দ্বী দল অর্থাৎ পশ্চিমবঙ্গে মমতা ব্যানার্জি, অন্ধ্র প্রদেশে ওয়াই এস জগন মোহন রেড্ডি, ওড়িশায় নাভিন পাটনায়েকরা যেন অতীতের ভূত ঘাড়ে চেপে রাজনীতি করছেন। 

পরিবারভিত্তিক রাজনৈতিক কাঠামো গড়ে তোলার ক্ষেত্রে কংগ্রেসকেই সবার প্রথমে অভিযুক্ত করতে হয়। এক রাতের ব্যবধানে প্রিয়াঙ্কা গান্ধীকে সাধারণ সম্পাদক নিযুক্ত করার ঘটনায় ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি হয়। কংগ্রেসের প্রেসিডেন্ট মল্লিকার্জুন খাড়গের এক ছেলে ক্যাবিনেট মন্ত্রী হওয়ার পরও তিনি তার জামাতাকে গুলবাগের আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতার জন্য বাছাই করেছেন। বিহারের রাষ্ট্রীয় জনতা দল, উত্তর প্রদেশের সমাজবাদী এবং তামিলনাড়ুর দ্রাবিড় মুনেত্রা কাজাগামও পরিবারকেন্দ্রিক রাজনীতিকেই গুরুত্ব দিচ্ছেন। 

ভারতের রাজনৈতিক কাঠামো ব্রিটিশদের থেকে এসেছে। ব্রিটেনের প্রথম ভারতীয় বংশোদ্ভূত প্রধানমন্ত্রী ঋষি সুনাক কোনো বড় রাজনৈতিক পরিবারের সন্তান নন। কঠোর পরিশ্রম ও অধ্যাবসায়ের মাধ্যমে তিনি রাজনীতিতে জয়যুক্ত হয়েছেন। সুনাকের রাজনৈতিক দল তার ওপর আস্থা হারালে তার পতন অনিবার্য। কিন্তু ভারতে এমনটি নয়। ভারতের রাজনৈতিক সংস্কৃতি জরাজীর্ণ এবং ভঙ্গুর। সংবিধান অনুসারে ভারতের সিভিল সার্ভিস এবং পুলিশ স্বাধীনভাবে দায়িত্ব পালন করতে পারলেও রাজনৈতিক প্রভাবে তাদের কাজ বাধাবিঘ্নের মুখে পড়ছে। কেন্দ্র তো বটেই, প্রাদেশিক পর্যায়েও এ দুটো শক্তিশালী সংস্থা প্রতিবন্ধকতার মুখে পড়ছে। খোদ নির্বাচন কমিশনও স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারছে না, এমন অভিযোগও পাওয়া গেছে। বিশেষত ক্ষমতাসীন দল পরোক্ষভাবে প্রভাব খাটিয়ে কমিশনকে বাধা দিচ্ছে, এ অভিযোগ পুরোনো। ভারতে বিদ্যমান অনেক আইন প্রতিদ্বন্দ্বীদের জন্য নানা সমস্যা তৈরি করছে। 

বিশ্বের সর্ববৃহৎ গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র হিসেবে ভারতের বিরুদ্ধে ভয়াবহ কিছু অভিযোগ রয়েছে। বিশ্বের দ্রুত বর্ধনশীল অর্থনীতির তকমা অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক জটিলতা অনেকাংশে ধামাচাপা দিতে পারছে। মুক্তবাজার অর্থনীতি ভারতের জন্য আশীর্বাদ হয়ে উঠেছে, এ নিয়ে অত্যুক্তি করা যাবে না। তবে সাম্প্রতিক সময়ে জলবায়ু পরিবর্তন ও রাজনৈতিক স্থবিরতা দারিদ্র্যের হারও বাড়িয়ে চলেছে। জাতীয় আয় বাড়লেও বেকারত্ব হ্রাসের বিষয়ে এখনও দৃশ্যমান উদ্যোগ নেই। বিলিয়নিয়ারদের জন্য স্বর্গভূমি ভারতে তরুণ ও যুবসমাজ বেকারত্বের শিকার। নারীদের কর্মসংস্থান নিয়েও শঙ্কা ক্রমান্বয়ে বাড়ছে। ফলে লোকসভা নির্বাচনে বিজয়ী যিনিই হোন না কেন, অর্থনীতির পুনরুদ্ধার ও সংস্কারই থাকবে সর্বাগ্রে। 

সূত্র : স্ক্রল ডট ইনে রামচন্দ্র গুহের কলাম অবলম্বনে

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা