সীমানা পেরিয়ে
কারেন টুমুলটি
প্রকাশ : ০২ জুন ২০২৪ ০৯:২৫ এএম
ম্যানহাটন জুরি তাদের সিদ্ধান্ত দেওয়ার আগ পর্যন্ত ডোনাল্ড ট্রাম্প
তার হম্বিতম্বি জারি রেখেছিলেন। শুরু থেকেই বোঝা যাচ্ছিল তিনি আসলে যে পরিস্থিতির মুখোমুখি
হতে চলেছেন তার পরিণতি কী হতে চলেছে। ২৯ মে একঝাঁক রিপোর্টারের সামনে তিনি বলছিলেন,
‘মাদার তেরেসার বিরুদ্ধেও অনেক অভিযোগ এসেছিল। অধিকাংশ অভিযোগই ছিল বানোয়াট।’ ট্রাম্পের
সবচেয়ে একনিষ্ঠ ভক্তও মেনে নেবেন, ডোনাল্ড ট্রাম্প সাধু কেউ নন। তবে ৩০ মে ৩৪ ফেলোনি
কাউন্টের রায়ে তার নির্বাচনী দলও কিছুটা দুশ্চিন্তায় পড়ে গেছে। অবশ্য প্রতিবাদ করার
ক্ষেত্রে তাদের আগে থেকেই একটি পরিকল্পনা ছিল। বলা যায়, এতদিন ধরে তারা যা করে আসছে
সে পথেই সবকিছু করার সিদ্ধান্ত নিয়ে রেখেছে। বিচারকদের ব্যক্তিগত আঘাত করা এবং সম্পূর্ণ
বিচারপ্রক্রিয়াকে সমালোচনা করাই তাদের লক্ষ্য ছিল। রায়ের কয়েক মিনিটের মধ্যে ট্রাম্পের
ফান্ড সংগ্রাহক ওয়েবসাইট ক্রাশ করেছে। হতে পারে তার অনুদান বেশি আসা শুরু করায় এমনটি
হয়েছে। আবার এর বিপরীতটিও ঘটা অবাস্তব কিছু নয়। ট্রাম্পের সাইটে ডোনারদের উদ্দেশে লেখা:
সাইটটি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। আমাদের ইঞ্জিনিয়াররা দ্রুততম সময়ে সাইটটি ফিরিয়ে আনার কাজে
ব্যস্ত রয়েছেন।
ট্রাম্পের আইনজীবীরা জানিয়েছেন, ঐতিহাসিক এই রায়ের মাধ্যমে ২০২৪
সালের ব্যালটের গতিবিধি অনেকাংশে পরিবর্তিত হবে। এই নির্বাচনের গতিবিধি পরিবর্তনের
জন্যই এমন একটি রায় দেওয়া হয়েছে, এমন অভিযোগও অনেকের। চমৎকার বিষয়, বাইডেনের ক্যাম্পেইনও
এমন অভিযোগের পক্ষে সায় দিয়েছে। বাইডেনের নির্বাচনী ক্যাম্পেইনের ডিরেক্টর মাইকেল টাইলার
বলেছেন, ‘আজকের এই রায় আমেরিকানদের একটি সমূহ বাস্তবের সামনে এনে দাঁড় করিয়েছে। ডোনাল্ড
ট্রাম্পকে ব্যালট বক্স থেকে দূরে রাখার আর একটি উপায় রয়েছে। তবে বিচার হোক বা না হোক,
ট্রাম্প রিপাবলিকানদের তরফে প্রেসিডেন্ট পদে নির্বাচন করবেন।’ ট্রাম্পের বিচার এখনও
চলমান। ট্রাম্পের নির্বাচনী প্রচারণা সংস্থা এখনও কোর্টের ভেতরকার প্রতিটি কার্যকলাপ
সম্পর্কে জানতে পারছে না। ট্রাম্পকে গণতন্ত্রের একজন শত্রু হিসেবেই অভিহিত করার এই
বিচারের রায়ে পরিস্থিতি কেমন হবে তা এখনও শঙ্কার মধ্যেই রয়ে গেছে।
২৯ মে ফিলাডেলফিয়াতে বাইডেন এবং ভাইস প্রেসিডেন্ট হ্যারিস ব্ল্যাক ভোটার আউটরিচ প্রোগ্রাম চালু করেন। তবে অধিকাংশ বড় কেবল নিউজ আউটলেট তাদের এই কার্যক্রমে মনোযোগ দেয়নি। ইতোমধ্যে অনেক ভোটার জানিয়েছেন, ট্রাম্প অভিযুক্ত হলেও তারা তাকেই ভোট দেবেন। এক লাখেরও কম ভোটারের এই নির্বাচনে তিন থেকে সাতটি সুইং প্রদেশ থেকে সামান্য ভোট সংগ্রহ করতে পারলেও ট্রাম্পের জন্য তা অনেক বড় অর্জন। স্মর্তব্য, চার সপ্তাহ পর ট্রাম্প ও বাইডেনের মধ্যকার বিতর্ক অনুষ্ঠিত হবে। আমেরিকানরা ওইদিন ভালোমতো বুঝতে পারবেন তারা যাদের নির্বাচিত করতে চাচ্ছেন তাদের স্বরূপ এই সময়ে কেমন। তাদের সিদ্ধান্তের ওপর আগামী কয়েক বছরের জীবনও অনেকাংশে নির্ভর করবে। আপাতত বিচারের কাজ শেষ হয়ে গেছে। প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের কাজ এখন চলমান। প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের সহজাত ও স্বাভাবিক প্রক্রিয়া নিয়েই এখন সাধারণ আমেরিকানদের সব ভাবনা। এই ভাবনার গতিবিধি কতটা মসৃণভাবে এগিয়ে যাবে তা আগামীই বলে দেবে।
ওয়াশিংটন পোস্ট থেকে সংক্ষেপিত অনুবাদ : আমিরুল আবেদিন