× ই-পেপার প্রচ্ছদ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি ফিচার চট্টগ্রাম ভিডিও সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

সম্পাদকীয়

ব্যয়বহুল প্রকল্প নিয়ে সময়োপযোগী নির্দেশনা

সম্পাদকীয়

প্রকাশ : ২৭ মে ২০২৪ ০৯:৪৭ এএম

ব্যয়বহুল প্রকল্প নিয়ে সময়োপযোগী নির্দেশনা

বিদ্যমান বৈশ্বিক সংকটের প্রলম্বিত ছায়ার বাইরে আমরাও নই। এই পরিস্থিতিতে বিশেষ করে বৈশ্বিক অর্থনীতিতে যে টালমাটাল পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে, এর অভিঘাত লেগেছে আমাদের অর্থনীতিতেও। উপরন্তু আমাদের অভ্যন্তরীণ নেতিবাচক কিছু পরিস্থিতি এক্ষেত্রে বাড়তি উপসর্গের ‍সৃষ্টি করেছে। এই প্রেক্ষাপটে আপাতত অহেতুক ব্যয়বহুল প্রকল্প যেন আর না নেওয়া হয়, সচিবদের প্রতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার এই নির্দেশনা অত্যন্ত সময়োপযোগী বলে আমরা মনে করি। ২৬ মে প্রতিদিনের বাংলাদেশ-এর শীর্ষ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সম্প্রতি সচিব সভায় বিভিন্ন বিষয়ে ৩৪টি গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। একই সঙ্গে এসব নির্দেশনা ও সিদ্ধান্ত যথাযথভাবে বাস্তবায়নের জন্য সব মন্ত্রণালয় ও বিভাগের সচিবদের তাগাদাও দেওয়া হয়েছে।

অল্প ব্যয় করলেই যেসব প্রকল্প বাস্তবায়ন সম্ভব সেগুলো দ্রুত বরাদ্দ দিয়ে নির্দেশনায় বলা হয়েছে, প্রকল্প শেষ করতে সময়ক্ষেপণ যেন না হয়। আমরা জানি, দেশে কোনো কোনো ক্ষেত্রে প্রকল্প বাস্তবায়নের মেয়াদ দফায় দফায় শেষ হলেও প্রকল্প যেন আলোর মুখই দেখতে চায় না। এর ফলে একদিকে যেমন ব্যয় বাড়ে এর পাশাপাশি অনিয়ম-দুর্নীতির ক্ষেত্রও তৈরি হয়, একই সঙ্গে বাড়ে জনভোগান্তিও। সাধারণ মানুষের জীবনমান উন্নত করার প্রকল্পে মনোযোগ বাড়ানোর যে তাগিদ দেওয়া হয়েছে, আমরা এজন্য সাধুবাদ জানাই। কারণ এর সঙ্গে জনগোষ্ঠীর বৃহদাংশের কল্যাণের বিষয়টি সম্পৃক্ত রয়েছে। আমরা জানি, বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভে ঘাটতি কিংবা ডলার সংকট দীর্ঘদিন ধরে জিইয়ে আছে। এই প্রেক্ষাপটে বৈদেশিক মুদ্রা যাতে অযথা ব্যয় না হয়, সেদিকে খেয়াল রাখার নির্দেশনাও দেশের সার্বিক প্রেক্ষাপটের সঙ্গে অত্যন্ত সঙ্গতিপূর্ণ বলে আমরা মনে করি।

আমলাতান্ত্রিক জটিলতা পুরোনো একটি ব্যাধি। এই জটিলতার কারণে আমাদের সম্ভাবনাময় অনেক ক্ষেত্র কণ্টকাকীর্ণ হয়েছে। সম্ভাবনার আলো নিভে গেছে এমন নজিরও কম নেই। এই নিরিখে আমলাতান্ত্রিক জটিলতা দূর করে সংবেদনশীল ও জনমুখী প্রশাসন গড়ার যে প্রত্যয় ব্যক্ত হয়েছে, তা-ও প্রশংসনীয়। জনবান্ধব কিংবা জনমুখী প্রশাসনের বিষয়ে এই সম্পাদকীয় স্তম্ভে নিকট অতীতেও আমরা বলেছি, লালফিতার দৌরাত্ম্য বন্ধ করতেই হবে। জনবান্ধব জনপ্রশাসন যদি নিশ্চিত করা যায়, তাহলে জনকল্যাণ নিশ্চিত হওয়ার পথ মসৃণ হতে বাধ্য। বলা হয়ে থাকে, প্রশাসনের কাঠামো হওয়া উচিত পিরামিড আকৃতির। কিন্তু আমরা দেখেছি, অতীতে কখনও কখনও প্রশাসনিক কাঠামো পদোন্নতি-পদায়ন ইত্যাদি ক্ষেত্রে এমন কিছু জটিলতার সৃষ্টি হয়েছে, যার ফলে এর ভয়াবহ নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে জনপ্রশাসনে।

বর্তমান বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে সুনীল অর্থনীতির আওতায় সমুদ্রসম্পদ আহরণের মধ্য দিয়ে দেশের অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি অর্জনের পথ বহুলাংশে সুগম হয়েছে। আমরা জানি, আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন সরকারের সাফল্যের পালকের মধ্যে অন্যতম হচ্ছে সমুদ্রজয়। এই জয়ের ফলে সমুদ্রভিত্তিক অর্থনীতির বিকাশ ঘটানোর অনেক ক্ষেত্রও আমাদের সামনে এসেছে। তা ছাড়া পর্যটন শিল্পের অপারসম্ভাবনাও বিদ্যমান। প্রকৃতিগতভাবেই আমাদের অনেক কিছুই রয়েছে, যেগুলো জাতীয় অর্থনীতির জন্য আশীর্বাদের বার্তাবহ। কিন্তু এই সম্ভাবনাগুলো কাজে লাগানোর ক্ষেত্রে সরকারের উচ্চপর্যায়ের নির্দেশনা বরাবরই মিলেছে কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য, এর বাস্তবায়ন যথাযথভাবে দৃশ্যমান হয়নি। সম্প্রতি সচিবদের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর বৈঠকে উল্লেখিত এসব বিষয়ই ফের উঠে এসেছে। আমরা আশা করব, সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীল পক্ষগুলো প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা বাস্তবায়নে যথাযথ নিষ্ঠার পরিচয় দিতে সক্ষম হবে।

প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনাগুলোর মধ্যে উল্লেখ রয়েছে সরকারি ব্যয়ের ক্ষেত্রে মিতব্যয়ী হওয়ার ব্যাপারেও। আমরা জানি, ইতঃপূর্বে বিদ্যমান বৈশ্বিক সংকট ও দেশের মুদ্রাস্ফীতির হার নিয়ন্ত্রণে রাখতে সরকার নানা উদ্যোগ গ্রহণ করে এবং এর মধ্যে সরকারের অহেতুক খরচ কমাতে প্রত্যয়ও ব্যক্ত হয়েছিল। কৃচ্ছ্রসাধনের কৌশল গ্রহণ করে মন্ত্রণালয়গুলোর কাজ করার বিষয়েও সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় এবং এর ফলে প্রতীয়মান হয়েছে, সরকার ব্যয় সংকোচননীতি বাস্তবায়ন করতে চায়। আগামী অর্থবছরের বাজেট আসন্ন। আমরা আশা করব, বাজেটে চমকের আয়োজনের চেয়ে জনস্বার্থ কিংবা জনকল্যাণের বিষয়গুলো পরিস্ফুট করার দিকে মনোযোগ বাড়বে। আমরা এ-ও জানি, বিশ্বব্যাপী ব্যয়সংকোচন নীতির ক্রমপ্রসার ঘটছে। উন্নয়নশীল এবং অর্থনীতিতে ধাক্কা লাগা দেশগুলোতে বিশ্বব্যাংক, আইএমএফসহ বিভিন্ন লগ্নি এবং দাতা সংস্থাগুলোও সরকারি ব্যয় সংকোচনের ব্যাপারে বরাবরই তাগিদ দিয়ে আসছে। উন্নয়নমূলক খাতসহ সেবা খাতগুলোতে বিনিয়োগ বৃদ্ধি করে কর্মক্ষম মানুষের হাতে অর্থ পৌঁছে দেওয়ার আয়োজনও কম নেই। এর বাইরে আমরাও নই। কিন্তু সমস্যা হলো, আমাদের দায়িত্বশীল অনেকেই নিজ নিজ দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে যথাযথভাবে নিষ্ঠ নন উপরন্তু তাদের উল্লেখযোগ্য একটি অংশ অনিয়ম-দুর্নীতির জরাগ্রস্ত। অনিয়ম-দুর্নীতি-অস্বচ্ছতা-জবাবদিহির অভাব ইত্যাদির ঘাটতি তখনই দূর করা সম্ভব, যখন সুশাসন নিশ্চিত করা যাবে। অর্থাৎ সর্ব রোগের ‘দাওয়াই’ হলো সুশাসন।

প্রকল্প নিয়ে অনেক নেতিবাচক কথা আছে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে প্রকল্প প্রণয়নে জনস্বার্থের চেয়ে অসাধু দায়িত্বশীলদের স্বার্থকে প্রাধান্য দেওয়া হয়, এমন অভিযোগও কম নেই। সরকারের উচ্চপর্যায় থেকেও এ ব্যাপারে ইতঃপূর্বে কথা উঠেছে। তা ছাড়াও আমাদের অভিজ্ঞতায়ও আছে, ব্যয়বহুল কোনো কোনো বাস্তবায়িত প্রকল্পে গলদের কারণে প্রত্যাশিত সুফল মেলেনি। এ-ও দেখা গেছে, সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীল মহলগুলো কিছু অবকাঠামো বানানোই যেন সব মনে করছে, কিন্তু এর ব্যবস্থাপনা যে গুরুত্বপূর্ণ সেদিকে নজর নেই। সুষম উন্নয়ন ছাড়া কোনো উন্নয়নই যেমন টেকসই হতে পারে না। তেমনি এর সুফলও সবার জন্য উপভোগ্য হয়ে ওঠে না। আমরা মনে করি, যেকোনো প্রকল্প প্রণয়নের আগে প্রযুক্তির উৎকর্ষ এই যুগে বৈজ্ঞানিক গবেষণার বিষয়টি সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ। প্রেক্ষাপট বিশ্লেষণক্রমে মেধাভিত্তিক গবেষণার পরিবর্তে নামসর্বস্ব গবেষণালব্ধ প্রতিবেদন কিংবা সুপারিশ থেকে প্রকল্প প্রণয়ন কিংবা বাস্তবায়নের সুফল না মেলারই কথা। এসব কিছুর প্রেক্ষাপটে আমরা মনে করি, আমাদের সামর্থ্যের বিষয়টি সর্বাধিক প্রাধান্য দিয়ে এবং সাধারণ মানুষের জীবনমানসংশ্লিষ্ট প্রকল্পের ব্যাপারে গুরুত্বারোপ করা জরুরি।

যেকোনো আকারের প্রকল্প বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে কম-বেশি অনিয়মের নজিরও কম নেই। এই সম্পাদকীয় স্তম্ভে আমরা ইতঃপূর্বে এরও যথাযথ প্রতিবিধানের তাগিদ দিয়েছি। দেশজুড়ে বিপুল উন্নয়ন কর্মকাণ্ড হয়েছে, হচ্ছেÑ এ নিয়ে কোনো সন্দেহ নেই। কিন্তু কোনো কোনো ক্ষেত্রে টেকসই উন্নয়ন নিয়ে যে প্রশ্ন রয়েছে, তা খতিয়ে দেখে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। অনেক উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডই আছে যেখানে অনিয়ম-অব্যবস্থাপনা বা দুর্নীতি হয়নি। এমনটি সামগ্রিকভাবে আমাদের জন্য চরম ক্ষতিকর। আমরা আশা করব, প্রকল্প প্রণয়নসহ বাস্তবায়ন ও অন্যান্য ক্ষেত্রে প্রধানমন্ত্রীর সব নির্দেশনা যথাযথ বাস্তবায়নে দায়িত্বশীলরা নিষ্ঠ হবেন।

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মুস্তাফিজ শফি

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০১৯১১০৩০৫৫৭, +৮৮০১৯১৫৬০৮৮১২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০১৭১২০৩৩৭১৫ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা