ডয়চে ভেলের তথ্যচিত্র
ড. ইফতেখার উদ্দিন চৌধুরী
প্রকাশ : ২৭ মে ২০২৪ ০৯:৪৫ এএম
ড. ইফতেখার উদ্দিন চৌধুরী
২২ মে, ২০২৪ দেশের সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুসারে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী ও র্যাবকে নিয়ে জার্মানির ডয়চে ভেলে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করে। অতিসম্প্রতি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডোনাল্ড লু বাংলাদেশ সফর করেছেন। তার সফরে ঢাকা-ওয়াশিংটন সম্পর্ক এক নতুন মোড় নেওয়ার আভাস পাওয়া গেছে। কিন্তু ২০ মে সাবেক সেনাপ্রধান জেনারেল আজিজ আহমদ ও তার পরিবারের ওপর মার্কিন নিষেধাজ্ঞার পরদিন প্রকাশিত প্রতিবেদনটি সচেতনরা বিরূপ দৃষ্টিভঙ্গি থেকে বিবেচনা করছেন। এটিকে তারা জাতিসংঘের শান্তিরক্ষী মিশন থেকে বাংলাদেশের নিরাপত্তা বাহিনীকে বাদ দেওয়ার গভীর চক্রান্তের উৎস হিসেবে দেখছেন। ২১ মে, ২০২৪ ‘হিউম্যান রাইটস অ্যাবিউজারস গো অন ইউএন মিশনস’ শিরোনামে প্রতিবেদনটি প্রচার করে ডয়চে ভেলে। মূলত এটি তৈরিতে সাংবাদিক তাসনিম খলিলের প্রতিষ্ঠান নেত্র নিউজ জড়িত। আধুনিক সিআইএখ্যাত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল এনডাউমেন্ট ফর ডেমোক্রেসির (এনইডি) অর্থায়নে পরিচালিত নেত্র নিউজ বরাবরই দেশের বিরুদ্ধে বিভ্রান্তিকর প্রতিবেদন প্রকাশ করে থাকে। যে তথ্যচিত্রের মাধ্যমে বিষয়টি তুলে ধরার চেষ্টা করা হয়, এটিকে অনেকেই কল্পকাহিনী হিসেবেই দেখছেন। প্রচারিত বক্তব্য ও চরিত্র প্রদর্শনে অসঙ্গতি পূর্ণ প্রামাণ্য চিত্রটিকে রহস্যজনক এবং ষড়যন্তমূলক ভাবছেন।

দেশবাসী সম্যক অবগত আছেন, ১৯৮৮ সালে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে বাংলাদেশের অংশগ্রহণ
সূচিত হওয়ার পর থেকেই এক গৌরবোজ্জ্বল অধ্যায় রচনা করেছে। দেশের সামরিক বাহিনী, র্যাবসহ
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিপুলসংখ্যক সদস্যের অন্তর্ভুক্তি এবং কার্যকলাপ দেশের
ভাবমূর্তিকে শান্তি মিশনের শীর্ষ অবস্থানে উন্নীত করেছে। অত্যন্ত দায়িত্বশীলতার সঙ্গে
একনিষ্ঠ দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে এ পর্যন্ত ১৬৬ জন বাংলাদেশি শান্তিরক্ষা মিশনে প্রাণ
বিসর্জন দিয়েছেন। জাতিসংঘসহ আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে বাংলাদেশ থেকে প্রেরিত শান্তিরক্ষী
বাহিনীর ভূমিকা অনবদ্য হওয়ার বিষয়টি সর্বত্রই সমাদৃত ও স্বীকৃত। দেশপ্রেমিক বাংলাদেশ
সেনাবাহিনীর শান্তিরক্ষী সদস্যরা মিশন এলাকায় বিবদমান দলগুলোকে নিরস্ত্রীকরণ, মাইন
অপসারণ, সুষ্ঠু নির্বাচনে সহায়তা প্রদান, সড়ক ও জনপথ এবং স্থাপনা তৈরিতে সক্রিয় কর্মযজ্ঞ
পালনসহ কঙ্গো, মালি, সুদান, সাউথ সুদান, সাহারা, লেবানন, হাইতি, পূর্ব তিমুরে শান্তিশৃঙ্খলা
প্রতিষ্ঠায় ঈর্ষণীয় সাফল্য দেখিয়েছেন। প্রায় তিন যুগ ধরে বিশ্বের বিভিন্ন যুদ্ধবিধ্বস্ত
এলাকায় শান্তি প্রতিষ্ঠা ও মানবাধিকার রক্ষার ক্ষেত্রে বাংলাদেশ জাতিসংঘের বিশ্বস্ত
ও পরীক্ষিত বন্ধু হিসেবে স্বীকৃতি লাভ করেছে। সব প্রান্তের দুর্গত-নিপীড়িত-নিরীহ মানুষের
সেবায় বাংলাদেশের শান্তিরক্ষীদের মানবিক হস্ত সর্বদা প্রসারিত।
১৯৯৩-৯৪ সালে সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ রুয়ান্ডা, সোমালিয়া ও বসনিয়াÑ এ তিনটি দেশে
শান্তি মিশনে নিজেদের সক্ষমতা-দক্ষতার পরিচয় দিয়ে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে
আসে। তখন জাতিসংঘসহ সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর কর্মকর্তাদের হতবাক করে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী
দক্ষতা ও সামরিক জ্ঞানে উক্ত দেশগুলোর মিশনে দায়িত্ব পালনরত বেলজিয়ান, আমেরিকান ও ফ্রান্স
সেনাবাহিনীকে ছাপিয়ে যায়। মূলত তখন থেকেই জাতিসংঘ শান্তিরক্ষী মিশনে বাংলাদেশের অবস্থান
সুদৃঢ় হতে থাকে। বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর শান্তিরক্ষীরা বিদেশের মাটিতে শত্রুদের সামনে
মাথা নত না করে, কঠিন বিপদ-সংকটময় মুহূর্তে জীবন ঝুঁকির মধ্যেও জটিল ও বিপজ্জনক পরিস্থিতিতে
কাজ করে যাচ্ছেন। আইভরি কোস্টের গোলযোগপূর্ণ অবস্থাকালীন লাইবেরিয়ায় নিয়োজিত বাংলাদেশি
কন্টিনজেন্টগুলো প্রত্যক্ষভাবে শরণার্থী পরিস্থিতি মোকাবিলাসহ লাইবেরিয়ার সামগ্রিক
আর্থসামাজিক উন্নয়নে প্রত্যক্ষ ভূমিকা রেখেছে। বিশেষ করে কৃষি, শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও
প্রকৌশল সহায়তায় বাংলাদেশি শান্তিরক্ষীদের বহুমাত্রিক কর্মকাণ্ড স্থানীয় জনগণ ও সর্বমহলে
উচ্চকিত। আমরা জানি, ২৯ মে, ২০২৪ শান্তিরক্ষী দিবস পালিত হতে যাচ্ছে। এর আগেই এ ধরনের
কদর্য অপপ্রচার কীসের ইঙ্গিত বহন করছে, তা সহজেই অনুমেয়।
এটি সর্বজনবিদিত-জঙ্গি, সন্ত্রাস, দুর্নীতি, মাদক, অনিয়ম, স্বজনপ্রীতি, বিরোধ,
বিচ্ছেদ, সংঘাত, সংঘর্ষ, অবৈধ ভূমি দখল, অনৈতিক প্রভাব বিস্তার ইত্যাদিকে ‘শূন্যসহিষ্ণুতা’
নীতি অবলম্বন করার জন্য যেকোনো রাষ্ট্রকে অবশ্যই দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হয়। এর
ব্যত্যয় হলে সমাজে নৈরাজ্য এবং ফলস্বরূপ নানাবিধ বিশৃঙ্খলা, অসঙ্গতি, হতাশা, বিচ্যুতি,
আত্মহত্যা এবং অসামাজিক কার্যকলাপ বিস্তার লাভ করে। ব্যক্তিস্বার্থ চরিতার্থ করার জন্য
অর্থ-প্রভাব-ক্ষমতালিপ্সু ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর দুর্বৃত্তায়ন রাষ্ট্রকে অকার্যকর রাষ্ট্রে
পরিণত করার নেতি-সহায়ক শক্তিরূপে আবির্ভূত হয়। এক্ষেত্রে অনানুষ্ঠানিক সামাজিক নিয়ন্ত্রণের
নিয়ামকসমূহ অধিকতর অসহায় হয়ে পড়ে। সমাজকে পরিপূর্ণ বিধি ব্যবস্থায় নিয়ন্ত্রণে রাখা
এবং জননিরাপত্তা ও জনজীবন সুসংহত করার অতীব গুরুত্বপূর্ণ বাহন হিসেবে রাষ্ট্রের আনুষ্ঠানিক
প্রতিষ্ঠানগুলোর কার্যকারিতা অপরিহার্য হয়ে পড়ে। এর জন্য আদালত বা আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা
এবং শাস্তির বিধান কার্যকরভাবে প্রয়োগ করা রাষ্ট্রের প্রধানতম দায়িত্ব হিসেবে পরিগণিত।
বেসামরিক আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, পুলিশ, র্যাব, বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থা এবং গুরুতর প্রয়োজনে
সামরিক বাহিনীর মাধ্যমে অভিযান পরিচালনা করে সমাজের স্বাভাবিক গতিধারাকে অক্ষুণ্ন রাখতে
হয়।
দেশের অভ্যন্তরে বাংলাদেশের সামরিক বাহিনী, র্যাব ও পুলিশসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী
বাহিনীর সব সংস্থার নিরপেক্ষ কার্যক্রম সমধিক প্রশংশিত। বিপুলসংখ্যক রোহিঙ্গার আশ্রয়,
পার্বত্য অঞ্চলে শান্তিশৃঙ্খলা রক্ষা, জঙ্গি দমন থেকে শুরু করে দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষায়
অতন্দ্রপ্রহরী হিসেবে সব অনাকাঙ্ক্ষিত দুর্ঘটনা রোধে এদের সামগ্রিক অভিযানের সুনাম
উঁচুমার্গে অধিষ্ঠিত। সন্ত্রাস ও জঙ্গি দমনে ইতোমধ্যেই এসব সংস্থার পারদর্শিতা, বিচক্ষণতা,
সাহসিকতা সমুজ্জ্বল এবং সুদৃঢ় অবস্থান তৈরি করেছে। আমাদের তরুণ সমাজ ও কিশোর-কিশোরীরা
আইনত দণ্ডনীয় যেসব অপরাধ কর্মের সঙ্গে সম্পৃক্ত হচ্ছে; দেশের সব সচেতন মহল, পরিবার,
অভিভাবক এবং পুরো জনগোষ্ঠী যে কারণে মারাত্মক আতঙ্কিত হয়ে পড়ছে, এর থেকে পরিত্রাণ পাওয়া
ও জনগণের আস্থার সংকট মোচন করার লক্ষ্যে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে অধিকতর পেশাদারিত্ব
ও দায়িত্বশীল ভূমিকায় অবতীর্ণ হতে হবে।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তত্ত্বাবধানে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির সার্বিক উন্নয়নে
বাংলাদেশ পুলিশের অধীনে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব) এলিট ফোর্স হিসেবে ২৬
মার্চ ২০০৪ জাতীয় স্বাধীনতা দিবস প্যারেডে অংশগ্রহণের মাধ্যমে সর্বপ্রথম আত্মপ্রকাশ
করে। মূলত র্যাব প্রাথমিক পর্যায়ে গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহের কাজে নিয়োজিত থাকলেও ২১
জুন, ২০০৪ থেকে পরিপূর্ণভাবে অপারেশনাল কার্যক্রম সূচনা করে। প্রতিরক্ষা-স্বরাষ্ট্র
মন্ত্রণালয়ের অধীনে সেনা-নৌ-বিমান ও গোয়েন্দা সংস্থাসহ বিভিন্ন বেসামরিক আইনশৃঙ্খলা
বাহিনীর সদস্যদের সমন্বয়ে গঠিত সংস্থা ‘র্যাব’ ইতোমধ্যে আপামর জনগণের ব্যাপক আস্থা-বিশ্বাস
অর্জনে সমর্থ হয়েছে। কার্যকর সাংগঠনিক কাঠামোর ভিত্তিতে আইনের শাসন সমুন্নত রাখা, সকল
নাগরিকের নিরাপত্তা সুনিশ্চিতকরণ, জনগণের অংশীদারত্বের ভিত্তিতে সামাজিক শান্তিরক্ষা,
অপরাধ চিহ্নিতকরণ ও প্রতিরোধ, আইন লঙ্ঘনকারীকে বিচারের আওতায় আনা, শান্তি ও জনশৃঙ্খলা
রক্ষা, জনগণকে সুরক্ষা, সাহায্য ও সেবা প্রদান এবং আশ্বস্তকরণ, সমব্যথী, বিনম্র ও ধৈর্যশীল
হওয়া, বিভিন্ন সংস্থার সঙ্গে সমন্বয় সাধন, অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষাগ্রহণ এবং উন্নততর কর্মসম্পাদনের
পন্থা অন্বেষণ ইত্যাদি লক্ষ্য বাস্তবায়নে পুলিশ বাহিনীর কার্যক্রমকে অত্যধিক গতি-দায়িত্বশীল
করতে র্যাব সংস্থার সম্পূরক ও পরিপূরক কার্যক্রম নিষণ্ন সমাদৃত।
করোনাকালের শুরু থেকেই গণমানুষের দুর্বিষহ জীবনযাত্রাকে সহনীয়-সচল রাখা ও স্বাস্থ্য
সুরক্ষা নিশ্চিতকল্পে সবক্ষেত্রে সম্মুখযোদ্ধা হিসেবে র্যাবসহ দেশপ্রেমিক আইনশৃঙ্খলা
বাহিনী মানবিক প্রচেষ্টার অবগাহনে দুর্নীতি-দুর্বৃত্তায়নের বিরুদ্ধে সরকারি নির্দেশনায়
কঠোর অবস্থান গ্রহণ করে। জনবান্ধব-মানবসেবী পরিচয়ে করোনায় আক্রান্ত রোগীদের সেবা প্রদান,
নিঃস্ব-দরিদ্র-দুঃখ-দুর্দশা ও অভাব-অনটনে নিপতিত জনগণকে বিশাল উন্মুক্ত ময়দানে পরিপূর্ণ
স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিত করে খাদ্যপণ্য-ওষুধপত্র-নিত্যনৈমিত্তিক ব্যবহারে প্রয়োজনীয়
উপকরণাদি বিনা মূল্যে প্রদানের ব্যবস্থা গ্রহণ ছিল সমধিক স্মরণযোগ্য। ফলে মনুষ্যত্ব-মানবিকতার
উচ্চতর মাঙ্গলিক অধ্যায় রচনায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সম্মান ও মর্যাদার মহিমা দেশবাসীর
হৃদয়ের গভীরে প্রোথিত করে চলছে। বিপরীতে এটি সুস্পষ্ট যে, জাতির দুঃসময় বা দুর্যোগে
অবাঞ্ছিত, অনাকাঙ্ক্ষিত ও অনভিপ্রেত মনোবৃত্তির বহিঃপ্রকাশ ঘটিয়ে নির্মম কার্যসিদ্ধির
মানবরূপী দানবের কুপ্রবৃত্তিও অতিশয় বিরাজিত থাকে।
মাদক-অস্ত্রের জঘন্য অপব্যবহার, ক্রয়-বিক্রয়, হত্যা-আত্মহত্যা, কিশোর গ্যাং অপরাধ;
কথিত ফেসবুক-সামাজিক যোগাযোগ বা তথ্যপ্রযুক্তির অপব্যবহারে পরকীয়া-ব্যভিচার-শিশু ও
নারীর প্রতি আদিম পাশবিকতা পুরো সমাজকে বিপর্যস্ত করে তুলছে। এসব অপকর্ম প্রতিরোধে
ইতিবাচক কর্মকৌশল বাস্তবায়নে র্যাবসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভূতপূর্ব প্রচেষ্টায় আপামর
জনগণ আশ্বস্ত হলেও কথিত বিভিন্ন দেশীয় ও আন্তর্জাতিক জরিপের বহুলাংশে এসব উদ্যোগকে
প্রশ্নবিদ্ধ করার অপচেষ্টা অব্যাহত আছে। মোদ্দাকথা সামরিক ও বেসামরিক দেশরক্ষা-অভ্যন্তরীণ
নিরাপত্তা রক্ষার যে পবিত্র দায়িত্ব তারা পালন করছে। তা শুধু দেশে নয় বিশ্বপরিমণ্ডলেও
অত্যধিক খ্যাতির স্মারক হিসেবে সুপ্রতিষ্ঠিত। তাদের ভূমিকাকে নানা অবাস্তব-ভিত্তিহীন-বানোয়াট
এবং অসৎ উদ্দেশ্যে প্ররোচিত বলেই প্রতীয়মান। এসব প্রসঙ্গ তুলে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষী
হিসেবে অসাধারণ খ্যাতি অর্জনকারী বাহিনীকে শুধু অসম্মানিত করা হচ্ছে না, বরং বাংলাদেশকে
শান্তিরক্ষা মিশন থেকে বিরত রাখার অন্ধকারের অশুভ শক্তির কূট পরিকল্পনা বলেই বিবেচ্য।
শান্তিরক্ষী মিশনে দেশের বিরুদ্ধে যেসব কুচক্রী ভুলবার্তা দিয়ে দেশ-জাতির সুনাম ক্ষুন্ন করতে চাইছেন তারা কোনোভাবেই আমাদের মিত্র নন, হতে পারেন না। জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে বাংলাদেশের অর্জন অনন্য এবং এ কৃতিত্বের দাবিদার অংশীজন সবাই। তারা আমাদের গর্ব ও গৌরব। তাদের মর্যাদাহানি মানে দেশের মর্যাদাহানি। তাই কুচক্রীদের সন্ধানক্রমে যথাবিহীত ব্যবস্থা নিশ্চিত করা প্রয়োজন।