প্রবল ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত রেমাল
প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২৬ মে ২০২৪ ১০:১২ এএম
আপডেট : ২৬ মে ২০২৪ ১০:৫৭ এএম
ফাইল ফটো
বঙ্গোপসাগরে সৃষ্টি হওয়া ঘূর্ণিঝড় রেমাল আরও শক্তিশালী হয়ে প্রবল ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নিয়েছে। আজ সকাল ৬টায় এটি প্রবল ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হয়। প্রবল ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নিয়ে বাংলাদেশের উপকূলের দিকে ধেয়ে আসছে। রেমাল বাংলাদেশ ও ভারতে আঘাত হানবে। ঘূর্ণিঝড় রেমালের ক্ষয়ক্ষতি এড়াতে দেশের পায়রা ও মোংলা সমুদ্রবন্দরকে ১০ নম্বর মহাবিপদ সংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে। একই সঙ্গে চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার সমুদ্রবন্দরে ৯ নম্বর মহাপবিদ সংকেত দেখিয়ে যেতে বলেছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। এটি আঘাত হানার সময় জলোচ্ছ্বাসের মাত্রা বেড়ে ৮ থেকে ১২ ফুট পর্যন্ত হতে পারে।
রবিবার (২৬ মে) সকাল ৬টা পর্যন্ত পায়রা সমুদ্রবন্দর থেকে ২৯৫ কিলোমিটার দূরে অবস্থান করছিল বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। আবহাওয়া অধিদপ্তরের দেওয়া সর্বশেষ ১০ নম্বর বিশেষ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের আবহাওয়াবিদ মো. তরিফুল নেওয়াজ কবির প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বলেছেন, ঘূর্ণিঝড় রেমাল বাংলাদেশের উপকূলের দিকে এগিয়ে আসছে। এর প্রভাবে আজ সারা দেশে ভারী থেকে অতিভারী বৃষ্টি হতে পারে। রেমাল আঘাত হানার সময় জলোচ্ছ্বাসের মাত্রাও বাড়বে। আগে আমরা বলেছিলাম ৩ থেকে ৫ ফুট উচ্চতায় বায়ু তাড়িত জলোচ্ছ্বাস হবে। কিন্তু বর্তমানে বিভিন্ন মডেলে যা দেখা যাচ্ছে, তাতে ধারণা করা হচ্ছে জলোচ্ছ্বাসের মাত্রা বেড়ে ৮ থেকে ১২ ফুট হবে।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের সর্বশেষ বিশেষ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ঘূর্ণিঝড় রিমাল গতকাল মধ্যরাতে চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দর থেকে ৪০০ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে, কক্সবাজার সমুদ্রবন্দর থেকে ৩৬০ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে, মোংলা সমুদ্রবন্দর থেকে ৩৩০ কিলোমিটার দক্ষিণে এবং পায়রা সমুদ্রবন্দর থেকে ২৯৫ কিলোমিটার দক্ষিণে অবস্থান করছিল। এটি আরও উত্তর দিকে এগিয়ে ঘনীভূত হতে পারে।
ঘূর্ণিঝড় কেন্দ্রের ৬৪ কিলোমিটারের মধ্যে বাতাসের একটানা সর্বোচ্চ গতিবেগ ঘণ্টায় ৯০ কিলোমিটার। এটি দমকা অথবা ঝড়োহাওয়ার আকারে ১২০ কিলোমিটার পর্যন্ত বৃদ্ধি পাচ্ছে। ঘূর্ণিঝড় কেন্দ্রের কাছের এলাকায় সাগর খুবই উত্তাল রয়েছে।
এখন পর্যন্ত পায়রা ও মোংলা সমুদ্রবন্দরে ৭ নম্বর ও চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার সমুদ্রবন্দরে ৬ নম্বর বিপদসংকেত জারি আছে। এটি অচিরেই বদলে যাবে। রেমালের প্রভাবে উপকূলীয় জেলা সাতক্ষীরা, খুলনা, বাগেরহাট, পিরোজপুর, ঝালকাঠি, বরগুনা, বরিশাল, ভোলা, পটুয়াখালী, নোয়াখালী, লক্ষ্মীপুর, ফেনী, কুমিল্লা, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার এবং তাদের কাছাকাছি দ্বীপ ও চরগুলোর নিচু এলাকা স্বাভাবিক জোয়ারের চেয়ে ৮ থেকে ১২ ফুটের বেশি উচ্চতার বায়ুতাড়িত জলোচ্ছ্বাসে প্লাবিত হতে পারে।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ঘূর্ণিঝড় রেমালের প্রভাবের দেশের সব বিভাগে ভারী থেকে অতিভারী বৃষ্টি হতে পারে।
ঘূর্ণিঝড়ের প্রকারভেদ
ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হওয়ার আগে কয়েকটি পর্যায় অতিক্রম করে থাকে। তারমধ্যে প্রথমটি হচ্ছে সাগরে ঘূর্ণাবর্ত তৈরি হয়। তারপর সেটি লঘুচাপে পরিণত হয়। লঘুচাপটি নিম্নচাপ ও নিম্নচাপটি গভীর নিম্নচাপটি ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হয় বলে আবহাওয়া অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়।
ঘূর্ণিঝড়ের প্রকারভেদ সম্পর্কে আবহাওয়াবিদ ড. মুহাম্মদ আবুল কালাম মল্লিক বলেন, ঘূর্ণিঝড়ের কারণে সৃষ্ট বাতাসের গতিবেগ যদি ঘণ্টায় ৬২ থেকে ৮৮ কিলোমিটার হয়, সেটি ‘ঘূর্ণিঝড়’ বা ট্রপিক্যাল সাইক্লোন বলা হয়। গতিবেগ ৮৯ থেকে ১১৭ কিলোমিটার হলে তাকে ‘প্রবল ঘূর্ণিঝড়’ বলা হয়। আর বাতাসের গতিবেগ ঘণ্টায় ১১৮ থেকে ২১৯ কিলোমিটার হলে ‘অতিপ্রবল ঘূর্ণিঝড়’ বলা হয়। আর সবশেষে গতিবেগ ২২০ কিলোমিটার বা তার বেশি হলে তাকে ‘সুপার সাইক্লোন’ বলা হয়।
গত ২৩ মে বৃহস্পতিবার দক্ষিণ-পশ্চিম বঙ্গোপসাগর ও তার কাছাকাছি এলাকায় একটি লঘুচাপ সৃষ্টি হয়। লঘুচাপটি শুক্রবার সকাল ৬টায় নিম্নচাপ ও সেইদিন গভীর রাতে এটি গভীর নিম্নচাপে রিণত হয়। শনিবার সন্ধ্যা ৬টায় এটি ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নিয়েছে। এতে তার নাম দাঁড়িয়েছে রেমাল। ওমানের দেওয়া আরবি নামটির অর্থ হচ্ছে ‘বালি’।