আর্টিকেল নাইনটিনের প্রতিবেদন
প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২১ মে ২০২৪ ২০:১৮ পিএম
আপডেট : ২১ মে ২০২৪ ২০:২৯ পিএম
রাজধানীর একটি হোটেলে সংবাদ সম্মেলনে বৈশ্বিক মতপ্রকাশ প্রতিবেদন প্রকাশ করে আর্টিকেল নাইনটিন। প্রবা ফটো
বৈশ্বিক মতপ্রকাশের স্বাধীনতায় বাংলাদেশের অবস্থান ১২৮তম। ২০২২ সালে বাংলাদেশের অবস্থান ছিল ১৩০তম। বাংলাদেশের মতপ্রকাশের স্বাধীনতা সংকটজনক। দক্ষিণ এশিয়ায় বাংলাদেশের মতো সংকটজনক অবস্থায় আছে ভারত ও আফগানিস্তান। আফগানিস্তানের পরেই অবস্থান করছে বাংলাদেশ। মতপ্রকাশে বাংলাদেশের স্কোর মাত্র ১২। দশ বছরে বাংলাদেশের স্কোর কমেছে দুই পয়েন্ট। যা দুই যুগে কমেছে ৩২ পয়েন্ট।
আর্টিকেল নাইনটিনের বৈশ্বিক মতপ্রকাশ প্রতিবেদনে বাংলাদেশের এই অবস্থান উঠে এসেছে। মঙ্গলবার (২১ মে) রাজধানীর একটি হোটেলে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে প্রতিবেদনটি উপস্থাপন করেছেন আর্টিকেল নাইনটিনের আঞ্চলিক পরিচালক শেখ মনজুর-ই-আলম।
প্রতিবেদনে বলা হয়, ২৫টি সূচকের মধ্যে সবগুলো ক্ষেত্রেই বাংলাদেশের স্কোর সম্পূর্ণ ঋণাত্মক। ২০০৯ সাল থেকে আটটি সূচকেই ক্রমাগত খারাপ করে। সবচেয়ে খারাপ অবস্থা সরকারের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সেন্সরশিপে। ধর্ম পালন ও নারী-পুরুষের আলোচনার স্বাধীনতা সূচকে বাংলাদেশের অবস্থান ইতিবাচক। খারাপ অবস্থায় আছে সমাবেশ করার স্বাধীনতা ও একাডেমিক-সাংস্কৃতিক মতপ্রকাশের স্বাধীনতার স্কোর। ২০১৮-২৩ সালের মধ্যে বাংলাদেশের স্কোর আটকে আছে ১১ ও ১২-এর মধ্যে। দশ বছরে বাংলাদেশের স্কোর কমেছে আট পয়েন্ট, দুই যুগে কমেছে ৩২ পয়েন্ট। ২০০০ সালে বাংলাদেশের স্কোর ছিল ৪৪।
রাজনীতিতে অংশগ্রহণের ক্ষেত্রে দেখা গেছে– দুটি সূচকের মধ্যে রাজনৈতিক হত্যা থেকে মুক্ত থাকার সূচকটি বেশি সংকটাপন্ন অবস্থায় রয়েছে। এ ছাড়া গণমাধ্যমে স্বাধীনতার ক্ষেত্রে তিনটি সূচকই খারাপ অবস্থায় রয়েছে। সবচেয়ে বেশি খারাপ অবস্থায় আছে সাংবাদিকদের হয়রানিমুক্ত পরিবেশে কাজ করার স্বাধীনতা সূচকে। আইনের ক্ষেত্রে মানহানির মামলা দেওয়া হয়রানির সূচকের স্কোর সবচেয়ে খারাপ অবস্থায় আছে।
সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য দেন ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান, প্রথম আলোর যুগ্ম সম্পাদক সোহরাব হোসেন, বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতির (বেলা) নির্বাহী পরিচালক সৈয়দ রিজওয়ানা হাসান।
সোহরাব হাসান বলেন, ‘মতপ্রকাশের স্বাধীনতা থাকতে হলে মানবাধিকার থাকতে হবে, মানবাধিকার থাকতে হলে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা থাকতে হবে। সংবাদপত্রের ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন একটি বড় কারণ। তার পরে যে আইনটি করা হয়েছে তা একটু নমনীয়, কিন্তু বিপদ একই রকম। এতে করে ভয়ের সংস্কৃতি রয়ে গেছে। সেখান থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। সেটা না পারলে উন্নতি সম্ভব না।‘
ইফতেখারুজ্জামান বলেন, ‘গণমাধ্যমসহ নাগরিক সমাজের জন্য ভয়ের সংস্কৃতি তৈরি হয়েছে। আইন করা হচ্ছে নিবর্তনমূলক, ব্যক্তির পরিচয় ভেদে ভালো আইনের অপপ্রয়োগ হয়েছে।’