কূটনৈতিক প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১৯ মে ২০২৪ ১৯:২৩ পিএম
আপডেট : ২০ মে ২০২৪ ০০:৫১ এএম
অস্ট্রেলিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী পেনি ওং। সংগৃহীত ফটো
দুই দিনের সফরে ঢাকায় আসছেন অস্ট্রেলিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী পেনি ওং। মঙ্গলবার (২১ মে) ঢাকা পৌঁছে বুধবার পর্যন্ত অবস্থান করবেন তিনি। সফরে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করবেন পেনি। এ ছাড়া প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করবেন তিনি।
ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলের কৌশলগত জোট কোয়াডের সদস্য অস্ট্রেলিয়া। এ জোটে আরও আছে যুক্তরাষ্ট্র, জাপান ও ভারত। ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে চীনবিরোধী বলয় হিসেবে পরিচিত এই জোটে ভারত ছাড়া এশিয়ার কোনো দেশ নেই।
ঢাকার কূটনৈতিক সূত্রে জানা গেছে, ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতি বিবেচনা এবং ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চল কেন্দ্র করে বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্ক জোরদারে আগ্রহী অস্ট্রেলিয়া। দুদিনের সফরে এসে উভয় দেশের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও দৃঢ় করার বার্তা দেবেন পেনি ওং। একই সঙ্গে আলোচনায় আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক নিরাপত্তা ইস্যু গুরুত্ব পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
উল্লেখ্য, এর আগে ২০১৯ সালে তৎকালীন অস্ট্রেলিয়ান পররাষ্ট্রমন্ত্রী মেরিস পেইন বাংলাদেশ সফর করেন। ভারত মহাসাগরীয় তীরবর্তী দেশগুলোর জোট ইন্ডিয়ান ওশান রিম অ্যাসোসিয়েশনের (আইওআরএ) পররাষ্ট্রমন্ত্রী পর্যায়ের সম্মেলনে অংশ নিতে পেইন ঢাকা সফর করেছিলেন।
অস্ট্রেলিয়ার ঢাকা হাইকমিশনের তথ্য বলছে, মেরিস পেইনের সফরটি ছিল ২১ বছর পর দেশটির কোনো পররাষ্ট্রমন্ত্রীর প্রথম বাংলাদেশ সফর। তবে সেটি দ্বিপক্ষীয় সফর ছিল না।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, ঢাকা সফরের সময় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করবেন পেনি ওং। পাশাপাশি পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করবেন তিনি। রোহিঙ্গা ক্যাম্পও পরিদর্শন করবেন তিনি। পেনির সফরে দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ জোরদার, রোহিঙ্গা সংকট, অভিবাসন, শিক্ষা, সুনীল অর্থনীতিসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা হবে। এ ছাড়া আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক নিরাপত্তা ইস্যু উঠে আসবে আলোচনার টেবিলে।
দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে অস্ট্রেলিয়ার মনোভাব ইতিবাচক ছিল না। তবে পুনরায় প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হওয়ায় নির্বাচনের চার মাস পর সম্প্রতি শেখ হাসিনাকে অভিনন্দন জানিয়েছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী এন্থনি এলবানিজ। আগামীতে অস্ট্রেলিয়া ও বাংলাদেশের মধ্যে সম্পর্ক আরও জোরদার করার লক্ষ্যে একসঙ্গে কাজ চালিয়ে যাওয়ার জন্য উন্মুখ বলে জানান এন্থনি।
কূটনৈতিক সূত্র বলছে, অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রীর শুভেচ্ছা বার্তা বলে দেয়– ঢাকার সঙ্গে সম্পর্ক জোরদার করতে চায় ক্যানবেরা। পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে পাঠিয়ে এন্থনি সে বার্তাই পৌঁছে দিতে চান। জাতীয় নির্বাচনের পর এটি অস্ট্রেলিয়া সরকারের তরফ থেকে প্রথম উচ্চ পর্যায়ের সফর হতে যাচ্ছে। ধারণা করা হচ্ছে– অস্ট্রেলিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইন্দো-প্যাসিফিক নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করতে চাইবেন। তবে বাংলাদেশের স্পষ্ট বার্তা– ইন্দো-প্যাসিফিকের কোনো সামরিক কর্মকাণ্ডে নয়, বরং অর্থনৈতিক কোনো সুবিধা থাকলে তাতে যুক্ত হতে আপত্তি নেই।