× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন ঘটানোর প্রত্যয় নিয়ে দেশে ফিরেছিলাম : প্রধানমন্ত্রী

প্রবা প্রতিবেদক

প্রকাশ : ১৭ মে ২০২৪ ১৫:১৬ পিএম

আপডেট : ১৭ মে ২০২৪ ১৬:৩৪ পিএম

শুক্রবার সকালে গণভবনে শুভেচ্ছা জানাতে বক্তব্য দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ছবি : ফোকাস বাংলা

শুক্রবার সকালে গণভবনে শুভেচ্ছা জানাতে বক্তব্য দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ছবি : ফোকাস বাংলা

সাধারণ মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন ঘটানোর প্রত্যয় নিয়ে দেশে ফিরেছিলাম বলে জানিয়েছেন আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি আক্ষেপ করে বলেন, ‘দেশে ফিরে আসার পর জিয়াউর রহমান আমাকে ধানমন্ডি ৩২ নম্বরে মিলাদ পড়ার জন্য ঢুকতে দেয়নি।’ 

শুক্রবার (১৭ মে) সকালে ৪৪তম স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস উপলক্ষে গণভবনে শুভেচ্ছা জানাতে গেলে দলের নেতাদের উদ্দেশে দেওয়া বক্তব্যে এসব কথা বলেন শেখ হাসিনা। 

এর আগে দলীয় সভাপতিকে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানান দলটির কেন্দ্রীয় নেতারা। এ ছাড়া সহযোগী ও ভাতৃপ্রতিম সংগঠনের পক্ষ থেকেও ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানানো হয়। দিনটি উপলক্ষে সারা দেশে মসজিদ, মন্দির, গির্জা ও প্যাগোডাতে বিশেষ প্রার্থনা দোয়া ও মোনাজাত করা হয়। দিবসের মূল আলোচনা সভা বেলা ৩টায় তেজগাঁওয়ে ঢাকা জেলা আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত হয়। 

আওয়ামী লীগ সভাপতি বলেন, ‘আমি যখন ফিরে আসলাম তখনও জানতাম না কই থাকব, কই খাব। কিন্তু আমার সাথে আওয়ামী লীগের হাজার হাজার মানুষ ছিল। তারাই আমার শক্তি ছিল। একটা প্রত্যয় নিয়ে এসেছিলাম, আমার আব্বা সারা জীবন কষ্ট করেছে। আওয়ামী লীগের অগণিত নেতাকর্মী জেল খেটেছে, কষ্ট করেছে। জাতির পিতার স্বপ্ন পূরণ হয়নি। উল্টো মানুষের অবস্থা আরও খারাপ হয়েছে। তাদের ভাগ্যের পরিবর্তন ঘটাবমাথায় কেবল এ চিন্তাটাই ছিল।’

শেখ হাসিনা বলেন, ‘আজকে শেখ মুজিব নেই। কিন্তু এটুকু বলতে পারি, তিনি যে আকাঙ্ক্ষা নিয়ে দেশ স্বাধীন করেছিলেন, তার কিছুটা হলেও আমরা পূরণ করতে পেরেছি। আমার সব শক্তি-সাহস আমি আমার মা-বাবার কাছ থেকে পেয়েছি। যত দিন বেঁচে থাকব তত দিন এ দেশের মানুষের জন্য কাজ করে যাব। এ মানুষগুলোই এখন আমার শক্তি।’

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর তাদের দুই বোনকে দেশে আসতে দেওয়া হয়নি জানিয়ে আওয়ামী লীগ সভাপতি বলেন, শুধু দেশের মানুষের কথা ভেবে সব বাধা উপেক্ষা করে তিনি ফিরে এসেছেন। এ সময় দুঃখ প্রকাশ করে আরও বলেন, ‘ওই দিন ধানমন্ডি ৩২ নম্বরে আমাদের ঢুকতে দেয়নি জিয়াউর রহমান; মিলাদ পড়তেও দেয়নি।’

কান্নাবিজড়িত কণ্ঠে বঙ্গবন্ধুকন্যা বলেন, ‘সব থেকে বড় কথা হলো আমি যখন যাই, তখন কামাল, জামাল, রাসেল- সবাই এয়ারপোর্টে ছিল। আর আমি যখন ফিরে আসলাম তখন ওরা কেউ নেই। এয়ারপোর্টে হাজার হাজার মানুষ আমাকে নিতে এসেছিল। ৩২ নম্বরে আমরা মিলাদ করতে চাইলাম। কিন্তু জিয়াউর রহমান ঢুকতে দেয়নি।’ 

তিনি বলেন, ‘উল্টো বলেছে, গাড়ি দেবে, বাড়ি দেবে। আমি বলেছি, আমি কিছুই নেব না। খুনির কাছ থেকে আমি কিছু নিতে পারি না।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমি যখন দিল্লিতে ছিলাম, তখন জিয়াউর রহমান দেখা করতে চেয়েছিল, আমরা দেখা করিনি। লন্ডনে থাকার সময়ও জিয়াউর রহমান দেখা করতে চেয়েছিল, আমরা দেখা করিনি। আর যখন আমি আসলাম, তখন আমাকে ৩২ নম্বরে ঢুকতে দিল না।’

আওয়ামী লীগ সভাপতি বলেন, ‘আজ আওয়ামী লীগ সবচেয়ে শক্তিশালী ও বড় সংগঠন। জনগণের কাছে গ্রহণযোগ্য দল আওয়ামী লীগ। প্রতিবার চক্রান্ত হয়, সেটা মোকাবিলা করে আমরা বেরিয়ে আসি। আমাদের তা ধরে রাখতে হবে। বাংলাদেশের মানুষ রক্ত দিয়ে যে অধিকারগুলো আদায় করেছিল, সেটা আমরা সমুন্নত করতে পেরেছি। কিন্তু আমাদের সামনে এগিয়ে যেতে হবে।’

তিনি বলেন, ‘সেদিন (১৯৮১ সালের ১৭ মে) ফিরে এসেছিলাম। এত বড় দল পরিচালনা করার অভিজ্ঞতা ছিল না। ছাত্রলীগ করার সময় নেতা হওয়ার চেষ্টা করিনি। দলের প্রয়োজনে যে দায়িত্ব দিয়েছে সেটাই পালন করেছি। কিন্তু যখন এ দায়িত্ব (আওয়ামী লীগ সভাপতি) পেলাম, এটা বড় দায়িত্ব।’

শেখ হাসিনা বলেন, ‘কী পেলাম না পেলাম সেই চিন্তা করিনি। ভবিষ্যৎ কী সেই চিন্তাও করি না। চিন্তা করি দেশের মানুষের ভবিষ্যৎটা আরও সুন্দরভাবে গড়ে দিয়ে যাব, সেটাই আমাদের লক্ষ্য।’

দলীয় নেতাদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘এটাই মনে রাখবেন, একটা দল করি শুধু নেতা হওয়া না, মানুষের জন্য কতটুকু করতে পারলাম, কী দিতে পারলাম, কী দিয়ে গেলাম– এটাই রাজনীতিকের জীবনের বড় কথা। এই কথাটা মাথায় রাখতে পারলে দেশের মানুষের জন্য অনেক কিছুই করা যেতে পারে।‘

সংগঠনকে শক্তিশালী করার তাগিদ দিয়ে আওয়ামী লীগ সভাপতি বলেন, ‘আর যেন যুদ্ধাপরাধী-খুনিরা বাংলাদেশের মানুষের ভাগ্য নিয়ে ছিনিমিনি খেলতে না পারে। এ ব্যাপারে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে, বলিষ্ঠ ভূমিকা রাখতে হবে।’ 

১৯৭৫-পরবর্তী যুদ্ধাপরাধীরা মন্ত্রী-এমপি-উপদেষ্টা হয়েছিল উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘মুক্তিযুদ্ধ যারা করেছেন তারাই অপরাধী হয়ে গেল; যারা বিরোধিতা করেছিল, গণহত্যা করেছিল তারাই ক্ষমতায়– ওই অবস্থায় দেশে ফিরেছিলাম। আমার তো কিছুই ছিল না। একটা বিশ্বাস ছিল দেশের জনগণ ও আওয়ামী লীগের অগণিত নেতাকর্মীর ওপর। এরপর লড়াই-সংগ্রাম করে এইটুকু বলতে পারি পঞ্চমবারের মতো আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এসেছে।’

আজকের বাংলাদেশ বদলে যাওয়া বাংলাদেশ মন্তব্য করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘মানুষের যদি রাজনৈতিক চিন্তাচেতনা না থাকে, দেশপ্রেম না থাকে, সামনের দিকে এগিয়ে যাওয়ার প্রত্যয় না থাকে, তাহলে সেটা এগোতে পারে না। পঁচাত্তরে যারা ক্ষমতায় ছিল তারা নিজেদের ক্ষমতা কুক্ষিগত করার চেষ্টা করেছিল, দেশের কোনো উন্নতি করতে পারেনি। আজ আমরা বলতে পারি দেশটা বদলে যাওয়া, বদলাতে পেরেছি। সামনে আরও বদলাতে হবে। কারণ আমার বাবার একটাই স্বপ্ন ছিল, দেশটাকে গড়ার। আমাদের পরিকল্পনা সেটাই আছে।’

আওয়ামী লীগের সংগ্রামের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনা, কারফিউ, প্রতি রাতে মার্শাল ল, দেশের মানুষের কোনো আশা নেই, শুধু হতাশা। এই হতাশ জাতিকে টেনে তোলা যায় না। তাদের মাঝে আশার আলো জাগাতে হয়, ভবিষ্যৎ দেখাতে হয়, উন্নত জীবনের চিত্র তুলে ধরতে হয়। তবেই মানুষকে নিয়ে কাজ করা যায়। আমরা সেটাই করার চেষ্টা করছি।’

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা