কূটনৈতিক প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১৩ মে ২০২৪ ১৯:৪৪ পিএম
আপডেট : ১৩ মে ২০২৪ ২০:১০ পিএম
পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ। ছবি : সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়া বিষয়ক সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডোনাল্ড লু মঙ্গলবার (১৪ মে) দুই দিনের সফরে ঢাকায় আসছেন। ৭ জানুয়ারি দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের উচ্চপর্যায়ের কোনো কর্মকর্তার প্রথম সফর এটি। এ সফরে অর্থনৈতিক নানা সম্পর্কের বিষয়সহ ভিসানীতি বা নিষেধাজ্ঞা বন্ধ বা সহজীকরণে আলোচনা হবে বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ।
সোমবার (১৩ মে) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে ড. কাজী খলীকুজ্জমান আহমেদ সম্পাদিত ‘পদ্মা ব্রিজ : অ্যান এপিক অ্যাকমপ্লিশমেন্ট’ বইয়ের মোড়ক উন্মোচন শেষে এক প্রশ্নের উত্তরে এ কথা বলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী।
ডোনাল্ড লুর সফরের আলোচ্য বিষয় নিয়ে জানতে চাওয়া হলে হাছান মাহমুদ বলেন, ‘মার্কিন প্রশাসন থেকে যারাই বাংলাদেশ সফর করুক না কেন, আমরা এই সম্পর্ককে এগিয়ে নেওয়ার লক্ষ্যে একসঙ্গে কাজ করব। সেখানে অর্থনৈতিক সম্পর্ক আছে, নানা ক্ষেত্রে কো-অপারেশন আছে, সেগুলো নিয়ে আলোচনা হবে।‘
পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘ভিসানীতি ও র্যাবের কিছু ব্যক্তিবিশেষের ওপর নিষেধাজ্ঞা, সেগুলো আমাদের সম্পর্কের ক্ষেত্রে কিছুটা রেখাপাত করেছে তো বটেই। সেগুলো আমরা অবশ্যই আলোচনা করব। এই বিষয়গুলো যাতে সহজীকরণ হয় বা ওঠে তা নিয়ে আমরা ইতঃপূর্বে মার্কিন প্রশাসনের হোয়াইট হাউস বা স্টেট ডিপার্টমেন্টের যেসব কর্মকর্তা এসেছিলেন তাদের সঙ্গে আলোচনা করেছি। সে প্রসঙ্গগুলো স্বাভাবিকভাবে আলোচনায় আসবে।’
রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন নিয়ে জানতে চাওয়া হলে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘মিয়ানমারের সঙ্গে আমাদের যোগাযোগ রয়েছে, রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন শুরু করতে অনুরোধও জানানো হয়েছে, কিন্তু আরাকানের বর্তমান পরিস্থিতিতে প্রত্যাবাসনে বাধা রয়েছে। তবে এটাকে যদি তারা পুঁজি করে সেটি ঠিক নয়।’
এ সময় বিএনপির ভারতীয় পণ্য বর্জনের আন্দোলন মুখ থুবড়ে পড়েছে বলে মন্তব্য করেন হাছান মাহমুদ। তিনি বলেন, ‘এটার মূল উদ্দেশ্য ছিল দেশের বাজারকে অস্থিতিশীল করা। তাদের সকল প্রচেষ্টাই ব্যর্থ হয়েছে।’
এর আগে বইয়ের মোড়ক উন্মোচনকালে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘নিন্দুকের সঙ্গে চ্যালেঞ্জ করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে পদ্মা সেতু হয়েছে। পদ্মা সেতু নিয়ে সিপিডি, টিআইবিসহ সমালোচনাকারীদের জাতির কাছে ক্ষমা চাওয়া উচিত।’ তিনি বলেন, ‘জাতি ঐক্যবদ্ধ থাকলে দেশে যেকোনো উন্নয়ন সম্ভব, সেটির বড় প্রমাণ পদ্মা সেতু।’
মন্ত্রী বলেন, ‘পদ্মা সেতু নির্মাণ আমাদের জন্য চ্যালেঞ্জ ছিল। যখন বিশ্বব্যাংক সরে গেল, তখন অনেকেই বলেছে পদ্মা সেতু আর হবে না। একটি পত্রিকা শিরোনাম করল ‘পদ্মা সেতু হচ্ছে না।’ এরপর প্রধানমন্ত্রী ঘোষণা দিলেন নিজেদের টাকায় পদ্মা সেতু নির্মাণের। আজ পদ্মা সেতু দৃশ্যমান। দেশের অর্থনীতিতে ভূমিকা রেখে চলেছে। যারা পদ্মা সেতুর নির্মাণ নিয়ে নেতিবাচক কথা বলেছিলেন, সমালোচনা করলেন, তারা এখনও নিজেদের ভুল স্বীকার করেননি।’
মন্ত্রী বলেন, ‘বিশ্বব্যাংক যখন পদ্মা সেতু থেকে সরে গেল, তখন একটি অনুষ্ঠানে এশিয়া অঞ্চলের সংস্থাটির একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাকে আমি প্রশ্ন করেছিলাম, আমরা যদি নিজেদের অর্থে পদ্মা সেতু নির্মাণ করি, তাহলে সেটা কি তোমাদের জন্য বিব্রতকর হবে না? প্রত্যুত্তরে তিনি ছোট্ট একটি হাসি দিয়েছিলেন।’