কক্সবাজার অফিস
প্রকাশ : ১২ মে ২০২৪ ২০:০০ পিএম
আপডেট : ১২ মে ২০২৪ ২০:৩০ পিএম
রবিবার কক্সবাজারে রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শন করে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাছান মাহমুদ। প্রবা ফটো
পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাছান মাহমুদ বলেছেন, ‘রোহিঙ্গাদের সন্ত্রাসী গ্রুপ এবং পেনাটিক জঙ্গি গ্রুপগুলো রোহিঙ্গা ক্যাম্প থেকে সদস্য সংগ্রহ করছে। এজন্য শুধু বাংলাদেশে সমস্যা তৈরি হচ্ছে তা নয়, আশপাশের দেশগুলোতেও সমস্যা তৈরি হচ্ছে। সন্ত্রাসীদের নিজস্ব কোনো দেশ না থাকলেও তাদের নিজস্ব নেটওয়ার্ক রয়েছে বিভিন্ন দেশে; যেকারণে রোহিঙ্গারা এখন আন্তর্জাতিক হুমকি হচ্ছে।’
রবিবার (১২ মে) বিকালে কক্সবাজারে রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শন করে জাতীয় সংসদে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটি। এদিন শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনারের কার্যালয়ে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে বৈঠকের আগে সাংবাদিকদের পরাষ্ট্রমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
মন্ত্রী বলেন, ‘পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সদস্যরা রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শন করেছেন। সেখানে রোহিঙ্গাদের সঙ্গে আলাপ আলোচনা করে সমস্যা চিহ্নিত করার চেষ্টা করেছেন।’
তিনি বলেন, ‘মূলত বাংলাদেশে রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দেওয়ার পরিপ্রেক্ষিতে নানাবিধ সমস্যা তৈরি হয়েছে। রোহিঙ্গাদের কারণে পরিবেশগত সমস্যা, আইনশৃঙ্খলা সমস্যা, রোহিঙ্গাদের অনেকেই মাদক পাচার এবং মাদক ব্যবসায় যুক্ত হয়েছে। সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে।’
রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের বিষয়ে মিয়ানমারের সঙ্গে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে জানিয়ে হাছান মাহমুদ বলেন, ‘একই সঙ্গে আন্তর্জাতিকভাবে বিভিন্ন রাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে নিয়মিত আলোচনা করে যাচ্ছি। যাতে মিয়ানমারের ওপর কার্যকর চাপ প্রয়োগ করা হয়। যার ফলে মিয়ানমার তাদের নাগরিকদের পূর্ণ নাগরিক অধিকার দিয়ে ফেরত নিয়ে যায়।’
কিন্তু মিয়ানমারের কথা ও কাজে অমিল রয়েছে মন্তব্য করে মন্ত্রী বলেন, ‘আমরা বারবার লক্ষ্য করছি, মিয়ানমার তাদের নাগরিকদের ফেরত নেবে বলে আশ্বস্ত করলেও গত সাত বছরে একজনকেও ফেরত নেয়নি। এর মধ্যে আমাদের ওপর অন্য সমস্যা তৈরি হয়েছে মিয়ানমারের অভ্যন্তরের চলমান তাদের সংঘাতে কারণে। যার কারণে বিভিন্ন দফায় ৫ শতাধিক বিজিপি ও সেনা বাহিনীর সদস্য পালিয়ে আমাদের দেশে এসেছিল। মিয়ানমারের সঙ্গে আলাপ আলোচনা করে তাদের ফেরত পাঠানো হয়েছে।’
দেশটির চলমান সংঘাতের মধ্যে নতুন করে পালিয়ে আসা বিজিপি ও সেনাসদস্যদের নিয়ে তিনি বলেন, ‘নতুন করে আরও ১৩৮ জন বিজিপি ও সেনাসদস্য পালিয়ে এসেছেন। যেখানে একজন লে. কর্নেল ও দুজন মেজরও রয়েছেন। তাদের একই প্রক্রিয়ায় ফেরত পাঠানোর কাজ চলছে।’
পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, ‘মিয়ানমারের অভ্যন্তরীণ সংঘাতের কারণে তাদেরও নানাবিধ সমস্যা তৈরি হয়েছে তা সঠিক; তবে এটাকে অজুহাত হিসেবে ব্যবহার সঠিক না। মিয়ানমারের সংঘাত আজকের না। ওখানে গত ৭০-৮০ বছর ধরেই ধারাবাহিক সংঘাত চলে আসছে। এ অজুহাতে মিয়ানমার থেকে বিতাড়িত রোহিঙ্গাদের ফেরত না নেওয়ার কোনো সুযোগ নেই।’
রবিবার সকাল ১০টায় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি একে আবদুল মোমেনের নেতৃত্বে ৬ সদস্যের প্রতিনিধিদল উখিয়ার ৪ নম্বর ক্যাম্প এক্সটেনশনে যায়। সেখানে ঘণ্টাব্যাপী রোহিঙ্গাদের রেশন বিতরণ কার্যক্রম পরিদর্শন করেন তারা। এরপর যান ৫ নম্বর ক্যাম্পে। সেখানে উপস্থিত ৫০ জনের বেশি রোহিঙ্গা প্রতিনিধির সঙ্গে দীর্ঘক্ষণ বৈঠক করেন প্রতিনিধিদলের সদস্যরা।
পরে প্রতিনিধিদলটি শিশু শিক্ষা কার্যক্রম সেন্টার ও ঘুমধুম ট্রানজিট সেন্টার পরিদর্শন করে। এরপর কুতুপালং নিবন্ধিত ক্যাম্পে বৈঠক করে ক্যাম্প ইনচার্জদের সঙ্গে।
জাতীয় সংসদের হুইপ সাইমুম সরওয়ার কমল বলেন, ‘রোহিঙ্গাদের সঙ্গে দীর্ঘ আলাপ হয়েছে। স্বদেশে ফিরতে রোহিঙ্গারা বাংলাদেশ ও আন্তর্জাতিক মহলের সহযোগিতা চেয়েছেন।’
মূলত রোহিঙ্গা ক্যাম্পের পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ ও সংকট নিরসনে সুপারিশমালা প্রণয়নে ক্যাম্প পরিদর্শন বলে জানিয়েছেন কমিটির সভাপতি একে আবদুল মোমেন।
তিনি বলেন, ‘রোহিঙ্গারা জানিয়েছেন— যেকোনো মূল্যে তারা স্বদেশে ফিরতে চায়।’
মোমেন আরও বলেন, ‘(রোহিঙ্গাদের সঙ্গে) আলাপ করে যা পাওয়া গেছে, তা নিয়ে সংকট নিরসনে সুপারিশমালা প্রণয়ন করা হবে।’