× ই-পেপার প্রচ্ছদ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি ফিচার চট্টগ্রাম ভিডিও সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

ব্যালটে বেশি ভোট ইভিএমে কম

বিশেষ প্রতিবেদক

প্রকাশ : ১০ মে ২০২৪ ০৯:৩৪ এএম

আপডেট : ১০ মে ২০২৪ ০৯:৫৩ এএম

ফাইল ফটো

ফাইল ফটো

উপজেলা পরিষদের ষষ্ঠ সাধারণ নির্বাচনের প্রথম ধাপের ভোটে ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিনের (ইভিএম) চেয়ে ব্যালটে ভোট বেশি পড়েছে। যে ২১টি উপজেলায় ইভিএমে ভোটগ্রহণ হয়, সেসব উপজেলায় তুলনামূলক কম ভোট পড়েছে। ইভিএমে গড়ে ভোট পড়েছে মাত্র ৩১ দশমিক ৩১ শতাংশ। অন্যদিকে ব্যালটে অনুষ্ঠিত বাকি উপজেলাগুলোতে ভোট পড়েছে ৩৭ দশমিক ৩১ শতাংশ। ইভিএম এবং ব্যালটে মিলিয়ে ১৩৯ উপজেলায় গড়ে ভোট পড়েছে ৩৬ দশমিক ১৮ শতাংশ।

গত এক দশকের মধ্যে স্থানীয় সরকারের এ নির্বাচনে এবারই সবচেয়ে কম ভোট পড়েছে। এর আগে সর্বশেষ ২০১৯ সালে উপজেলার পঞ্চম সাধারণ নির্বাচনে গড়ে ৪১ শতাংশের বেশি ভোট পড়েছিল। তার আগে ২০১৪ সালে উপজেলার চতুর্থ সাধারণ নির্বাচনে ৬১ শতাংশ এবং ২০০৯ সালে তৃতীয় সাধারণ নির্বাচনে ৬৭ দশমিক ৬৯ শতাংংশ ভোট পড়ে।

ইভিএমের চেয়ে ব্যালটে ভোট বেশি পড়ার কারণ হিসেবে অনেকে বলছেন, ব্যালট পেপারে ভোটের ক্ষেত্রে অনিয়ম হয় বেশি। কেন্দ্র দখল করে ব্যালট পেপারে জোর করে সিল মারার ঘটনাও ঘটে। ইভিএমে ব্যালটের চেয়ে অনিয়মের মাত্রা কিছুটা কম হয়। এখানে কেন্দ্র দখল হলেও ভোটারের ফিঙ্গার ছাড়া ভোট দেওয়া সম্ভব নয়। এ কারণে ব্যালট পেপারে অনুষ্ঠিত উপজেলাগুলোয় ভোটের প্রদত্ত হার বাড়তে পারে।

বর্তমান নির্বাচন কমিশন দায়িত্ব নেওয়ার পরপরই দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের রোডম্যাপ বা কর্মপরিকল্পনা প্রকাশ করে। তাতে ইভিএম ব্যবহারের পক্ষে যুক্তি হিসেবে উল্লেখ করে, ‘ব্যালটে ভোট হলে কেন্দ্র দখল করে ভোটের আগে-পরে ইচ্ছামতো বাক্সে ব্যালট ভর্তি করা সম্ভব। ইভিএমে এ ধরনের অন্যায় করার কোনো সুযোগ নেই।’

ভোটের হার নিয়ে সন্তুষ্ট নয় ইসি

উপজেলা পরিষদের নির্বাচনে ভোটের হার নিয়ে সন্তুষ্ট নয় ইসি। প্রথম ধাপের নির্বাচনে ৩৬ শতাংশ ভোট পড়ার এই হারকে ‘কম’ আখ্যা দিয়ে দায়ী কিছু কারণও চিহ্নিত করা হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার নির্বাচন কমিশনার মো. আলমগীর সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, মোটাদাগে পাঁচ কারণে ভোট কম পড়েছে। এগুলোর মধ্যে বৈরী আবহাওয়া, ভোটে বিএনপি অংশ না নেওয়া, জনপ্রিয় প্রার্থীর অভাব, ধান কাটার মৌসুম এবং সাধারণ ছুটি থাকায় শ্রমিকরা নিজ এলাকায় চলে যাওয়ায় ভোট কম পড়েছে।

নির্বাচন কমিশনার মো. আলমগীর বলেন, সবচেয়ে কম ভোট পড়েছে সোনাতলা, মিরসরাই ও কুষ্টিয়া সদর উপজেলায়। সেখানে ভোট পড়েছে ১৭ শতাংশ। সর্বোচ্চ ভোট পড়েছে জয়পুরহাট জেলার ক্ষেতলাল উপজেলায়। সেখানে ভোট পড়েছে ৭৩ দশমিক ১ শতাংশ। সর্বোচ্চ এবং সর্বনিম্ন দুটো উপজেলায় ব্যালট পেপারে ভোট অনুষ্ঠিত হয়।

কম ভোটের কারণ হিসেবে নির্বাচন ভবনের ইসি আলমগীর সাংবাদিকদের আরও বলেন, ধান কাটার মৌসুম বিশেষ করে হাওর অঞ্চলে বোরো ধান যেসব এলাকায় আছে, এটা আমাদের আগেই মাঠ প্রশাসন থেকে বলেছে যে, ধান কাটার মৌসুমের জন্য ভোট কম পড়তে পারে। এ ছাড়া ঝড়-বৃষ্টি হয়েছে। আবার একটি বড় দল রাজনৈতিকভাবে অংশ না নেওয়ায় ভোট কম হয়েছে। শহর এলাকায় ছুটি থাকলে শ্রমিকরা বাড়ি চলে যান। গাজীপুরে কিন্তু ভোট কম পড়েছে। শুধু ধান কাটা না, নানা কারণে ভোট কম পড়েছে। আরও কোনো কারণ থাকলে তা গবেষকরা বলতে পারেন। এ ছাড়া প্রার্থীর জনপ্রিয়তার ওপরও ভোট পড়ার হার নির্ভর করে। এই নির্বাচনের ৭৩ শতাংশ ভোট পড়েছে এমন এলাকাও আছে। আবার ১৭ শতাংশও ভোট পড়েছে এমন উপজেলাও আছে।

জোর করে সিল মারার সংস্কৃতি থেকে কীভাবে বেরিয়ে আসবেন, এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, রাজনীতি তো সংস্কৃতির অংশ। তাই এ নিয়ে বুদ্ধিজীবী ও বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে আলাপ করতে হবে। যারা গবেষণা করেন তাদের সঙ্গে বসতে হবে।

তিনি বলেন, এবারের নির্বাচনে আমাদের কড়া বার্তা ছিল যে নির্বাচনে কোনোভাবে অনিয়ম হওয়া যাবে না। নির্বাচন কমিশন চেয়েছে বলেই সবার সহযোগিতায় সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ ভোট হয়েছে। ছোটখাটো ত্রুটি হতেই পারে, সেই ত্রুটিকে বড় করে দেখার কোনো কারণ নেই। যারা জাল ভোট দেওয়ার চেষ্টা করেছেন, তাদের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। একজন প্রিসাইডিং কর্মকর্তাকে জেল, একজনের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। মাঠপর্যায়ে যারা দায়িত্বে ছিলেন তারা খুব সক্রিয়ভাবে কাজ করেছেন।

অপর এক প্রশ্নের জবাবে এই নির্বাচন কমিশনার বলেন, এটা স্থানীয় সরকার নির্বাচন। এই নির্বাচনে জাতীয় সরকার পরিবর্তন হবে না। তাই দলগুলোকে ভোটে আসার জন্য আলোচনায় ডাকা হয়নি। এই নির্বাচন নিয়ে সংলাপ করার কোনো দরকার নেই। তবে সব দল এলে ভোট পড়ার হার আরও বেশি হতো।

ইসি থেকে পাওয়া প্রথম ধাপের নির্বাচনের ফলাফল বিশ্লেষণে জানা যায়, ইভিএমে যে ২১টি উপজেলায় ভোট হয়েছে তার মধ্যে সর্বোচ্চ ভোট পড়েছে পাবনার সুজানগরে। সেখানে ভোট পড়ে ৪৯ দশমিক ৭৮ শতাংশ। সর্বনিম্ন ২২ দশমিক ৭০ শতাংশ ভোট পড়ে সিরাজগঞ্জের সদরে।

১০ উপজেলায় বেশি ভোট 

এবারের উপজেলা নির্বাচনে ভোটকেন্দ্রগুলোতে ভোটার উপস্থিত থাকলেও ১০টি উপজেলায় অস্বাভাবিকভাবে বেশি ভোট পড়েছে। উপজেলাগুলো হলো- জয়পুরহাটের ক্ষেতলাল, কালাই, গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়া, রাঙামাটির কাউখালী, পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়া, কুড়িগ্রামের রাজিবপুর, ঠাকুরগাঁওয়ের হরিপুর, কুষ্টিয়ার খোকসা, বাগেরহাটের কচুয়া ও মাগুরার শ্রীপুর।

২০ শতাংশের নিচে ভোট ছয় উপজেলায় 

ছয়টি উপজেলায় ২০ শতাংশের নিচে ভোট পড়েছে। এসব উপজেলা হলোÑ ঢাকার নবাবগঞ্জ, চট্টগ্রামের মিরসরাই, কুষ্টিয়ার সদর, জয়পুরহাটের আক্কেলপুর, বগুড়ার সোনাতলা ও চট্টগ্রামের সন্দ্বীপ।

উল্লেখ্য এবার চার ধাপে উপজেলার ভোট হচ্ছে। এর মধ্যে গত বুধবার প্রথম ধাপে ১৩৯ উপজেলায় ভোট হয়; পরবর্তী সময়ে দ্বিতীয় ধাপে ১৫৯ উপজেলার ভোটগ্রহণ ২১ মে; তৃতীয় ধাপের ১১২ উপজেলায় ভোটগ্রহণ ২৯ মে এবং চতুর্থ ধাপে ৫৫ উপজেলায় ভোট হবে আগামী ৫ জুন। আইনি জটিলতার কারণে কিছু উপজেলার ভোট স্থগিত রাখা হয়েছে।

প্রথম ধাপে ২১টি, দ্বিতীয় ধাপে ২৪টি, তৃতীয় ধাপে ২১টি ও চতুর্থ ধাপে ২টি উপজেলায় ইভিএমে ভোটগ্রহণ করা হবে।

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মুস্তাফিজ শফি

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০১৯১১০৩০৫৫৭, +৮৮০১৯১৫৬০৮৮১২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০১৭১২০৩৩৭১৫ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা