প্রবা প্রতিবেদন
প্রকাশ : ১২ নভেম্বর ২০২২ ১৬:১৬ পিএম
আপডেট : ১২ নভেম্বর ২০২২ ১৭:৩৬ পিএম
সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী কে এম খালিদ বলেছেন, শিল্পীরাই সংস্কৃতির ধারক ও বাহক। তাদের সৃজনশীল সৃষ্টিকর্ম চিরস্থায়ী করে রাখতে ও নতুন প্রজন্মের মাঝে ছড়িয়ে দিতে চলতি অর্থবছরেই বাংলাদেশ কপিরাইট অফিসের মাধ্যমে খ্যাতনামা আরও ২০ জন শিল্পীর ওয়েবসাইট তৈরি করা হবে।
তিনি বলেন, এর মাধ্যমে তাদের সৃজনশীল কর্ম সংরক্ষণের পাশাপাশি যথাযথ রয়্যালটি প্রাপ্তির অধিকারও নিশ্চিত হবে।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, সংগীত সংশ্লিষ্ট তিনটি প্রতিষ্ঠান গীতিকবি সংঘ বাংলাদেশ, সিঙ্গার্স অ্যাসোসিয়েশন ও মিউজিক কম্পোজার্স সোসাইটির প্রতিনিধিরা সভা করে ঠিক করবেন কোন ২০ জন শিল্পীর ওয়েবসাইট তৈরি করা হবে। সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয় ও এর আওতাধীন বাংলাদেশ কপিরাইট অফিস এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করবে।
শনিবার (১২ নভেম্বর) সকালে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে জাতীয় আরকাইভস ভবনের সম্মেলন কক্ষে বাংলাদেশ কপিরাইট অফিস আয়োজিত মরমি কবি হাসন রাজা, বাউল সম্রাট শাহ আব্দুল করিম এবং প্রখ্যাত রবীন্দ্র সংগীত শিল্পী রেজওয়ানা চৌধুরী বন্যার সংগীতকর্মের ওয়েবসাইট উদ্বোধন এবং রয়্যালিটির চেক হস্তান্তর অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
রেজিস্ট্রার অফ কপিরাইটস মো. দাউদ মিয়া এনডিসির সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন প্রাক্তন রেজিস্ট্রার অফ কপিরাইটস জাফর রাজা চৌধুরী।
অনুভূতি প্রকাশ করেন প্রখ্যাত রবীন্দ্র সংগীত শিল্পী রেজওয়ানা চৌধুরী বন্যা, হাসন রাজার প্রপৌত্র সামারীন দেওয়ান ও বাউল সম্রাট শাহ আব্দুল করিমের পুত্র বিশিষ্ট বাউল শিল্পী শাহ নূর জালাল।
প্রধান অতিথি বলেন, বর্তমান সরকার শিল্পীদের কল্যাণে নানামুখী পদক্ষেপ গ্রহণ ও বাস্তবায়ন করে যাচ্ছে। ইতোমধ্যে সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের ১৮তম দপ্তর হিসেবে যাত্রা শুরু করেছে বাংলাদেশ শিল্পী কল্যাণ ট্রাস্ট। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সংস্থাটিতে সিড মানি হিসেবে ৫০ কোটি টাকা প্রদান করেছেন।
বর্তমান সরকার সংগীতসহ শিল্পের বিভিন্ন শাখার পৃষ্ঠপোষকতা, চর্চা, সংরক্ষণ ও প্রসারে কাজ করছে উল্লেখ করে সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী বলেন, নান্দনিক স্থাপত্য নকশায় নির্মাণাধীন ১৩ তলা কপিরাইট ভবনের একটি ফ্লোর 'মিউজিক মিউজিয়াম' প্রতিষ্ঠার জন্য বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। তাছাড়া স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের গানগুলোর ডিজিটাল আর্কাইভিংয়ের পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
অনুষ্ঠানে শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন বিশিষ্ট সংগীত শিল্পী খুরশিদ আলম, রফিকুল আলম, সুজিত মোস্তফা, মনির খান, গীতিকবি আসিফ ইকবাল, প্রয়াত আইয়ুব বাচ্চুর স্ত্রী ফেরদৌস আক্তার চন্দনা, প্রয়াত এন্ড্রু কিশোরের স্ত্রী লিপিকা এন্ড্রু প্রমুখ।
অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন কপিরাইট ডেপুটি রেজিস্ট্রার প্রিয়াংকা দেবী পাল। ওয়েবসাইটগুলো সম্পর্কে পাওয়ার পয়েন্ট প্রেজেন্টেশন দেন জেডএম স্টুডিও’র স্বত্বাধিকারী গোলাম মোর্শেদ জুয়েল।
বিশেষ অতিথি সাবেক রেজিস্ট্রার অফ কপিরাইটস জাফর রাজা চৌধুরী বলেন, শিল্পীদের জন্য ওয়েবসাইট তৈরি একটি অনন্য উদ্যোগ। ডিজিটাল আর্কাইভিং শিল্পীদের সৃষ্টিকর্ম সংরক্ষণের পাশাপাশি দেশের জন্য রেমিট্যান্স আয়ের একটি বড় উৎস হতে পারে।
বিশিষ্ট রবীন্দ্র সংগীত শিল্পী রেজওয়ানা চৌধুরী বন্যা বলেন, এ অভিনব অনুষ্ঠানে আসতে পেরে আমি অত্যন্ত সম্মানিত বোধ করছি।
তিনি পুরনো জনপ্রিয় শিল্পীদের গান সংরক্ষণের জন্য ডিজিটাল আর্কাইভিং বা ওয়েবসাইট তৈরিকে সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের একটি বড় উদ্যোগ ও যথার্থ কাজ বলে অভিহিত করেন।
অনুষ্ঠানে প্রতিমন্ত্রী বাউল সম্রাট শাহ আব্দুল করিমের পুত্র বিশিষ্ট বাউল শিল্পী শাহ নূর জালালের হাতে গত এক বছরে শাহ আব্দুল করিমের গানের রয়্যালটি বাবদ বিভিন্ন ডিজিটাল মাধ্যম হতে প্রাপ্ত ১০ হাজার ডলারের চেক হস্তান্তর করেন।