× ই-পেপার প্রচ্ছদ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি ফিচার চট্টগ্রাম ভিডিও সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

নৌপথে চালু হবে ভারতের অন অ্যারাইভাল ভিসা

ফসিহ উদ্দীন মাহতাব

প্রকাশ : ৩০ মার্চ ২০২৪ ১৪:১৯ পিএম

আপডেট : ৩০ মার্চ ২০২৪ ১৭:৩১ পিএম

ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

নৌপথে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে যাতায়াত সহজ হতে যাচ্ছে। চালু হবে অন অ্যারাইভাল ভিসা। তবে স্থলপথে নয়, আপাতত নৌপথে এই প্রক্রিয়া চালু হবে।

দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশের নাগরিকরা ভারতে যেতে অন অ্যারাইভাল ভিসার দাবি জানিয়ে আসছিলেন। বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকেও এ বিষয়ে কূটনৈতিক তৎপরতা শুরু করা হয়। ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারও বিষয়টিতে ইতিবাচক সাড়া দেয়। গত বছর ডিসেম্বরে বাংলাদেশ ও ভারতের নৌসচিব পর্যায়ে বৈঠকে আলোচনার পরিপ্রেক্ষিতে এ বিষয়ে উভয়পক্ষ ঐকমত্যে পৌঁছায়। অবশেষে নৌপথে অন অ্যারাইভাল ভিসা চালু করতে ভারত সরকার সম্মতি দিয়েছে।

সবকিছু ঠিক থাকলে চলতি বছরের শেষে এটি চালু হতে পারে। অন অ্যারাইভাল ভিসা চালু হলে বাংলাদেশের মানুষের যাতায়াতের নবদিগন্তের সূচনা হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। শুধু বাংলাদেশ নয়, দুই দেশের নাগরিকরাই এর সুফল পাবেনÑ এমনটাই প্রত্যাশা সরকারের 

নীতিনির্ধারকদের। এ ছাড়া দুই দেশের মধ্যে পর্যটন খাতে সুবিধা আদায় এবং পোর্ট অব কল অন্তর্ভুক্তি ইস্যুতে চলছে দেনদরবার। এ দুটি বিষয়ে যৌক্তিক দাবিনামায় একমত হতে ইতোমধ্যে ৮০ শতাংশ কাজের অগ্রগতি হয়েছে। গঠিত হয়েছে বিভিন্ন কমিটি। শিগগিরই দুই দেশ নিজেদের স্বার্থ সমুন্নত রেখে ধারাবাহিক সভার মাধ্যমে চুক্তি বা সমঝোতায় পৌঁছবেন বলে কমিটির সদস্যরা আশাপ্রকাশ করছেন। নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

মন্ত্রণালয়ের নথিপত্র থেকে জানা গেছে, বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে নৌপথে যোগাযোগ, বাণিজ্য ও পর্যটক বৃদ্ধির জন্য অন অ্যারাইভাল ভিসা এবং প্রটোকল রুট বৃদ্ধিসহ একাধিক বিষয়ে সম্মত হয় সচিব পর্যায়ের সভায়। এ ছাড়া সমুদ্রপথে পণ্য পরিবহন আরও সহজ করার জন্য দুই দেশের বিভিন্ন বন্দর ‘পোর্ট অব কল’ অন্তর্ভুক্ত করার প্রস্তাব ছিল। তবে নৌবাণিজ্য সহজ করার লক্ষ্যে অন অ্যারাইভাল ভিসা বা ভিসা অন অ্যারাইভাল ইস্যুটি ছিল গুরুত্বপূর্ণ। এই ভিসায় সুবিধা পাবেন যাত্রীরা। কারণ ভারতে পৌঁছানোর পর যাত্রীরা ভিসা হাতে পাবেন। এক্ষেত্রে যাত্রার আগে ভিসা করতে হবে না। এটি ভিসা আবেদন প্রক্রিয়াকে সহজ, ভ্রমণকে দ্রুত ও সুবিধাজনক করে তুলবে। এখন পর্যন্ত নেপাল, ভুটান, শ্রীলংকা, মালদ্বীপসহ বেশ কয়েকটি দেশে এ সুযোগ পেয়ে থাকেন বাংলাদেশের নাগরিকরা। পার্শ্ববর্তী দেশে পর্যটন কিংবা চিকিৎসার প্রয়োজনে এদেশের মানুষ বেশি ভ্রমণ করলেও অন অ্যারাইভাল ভিসা চালু করার বিষয়ে অনাগ্রহ ছিল ভারতের। এটি আরও সহজ করার লক্ষ্যে প্রাথমিক পর্যায়ে নৌপথে বাণিজ্যের জন্য বাংলাদেশ থেকে অন অ্যারাইভাল ভিসা চালুর প্রস্তাব দেওয়া হয়। ভারতের পক্ষ থেকে ইতিবাচক হিসেবে সাড়া পাওয়া যায়। সিদ্ধান্তটি বাস্তবায়নের জন্য নৌ মন্ত্রণালয় থেকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে চিঠির মাধ্যমে অনুরোধ জানানো হয়। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় দেশের লাভ-ক্ষতি যাচাই সম্পন্ন করে শিগগির প্রস্তাবটি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠাবে। এ ছাড়াও বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে সংশোধিত ভ্রমণ ব্যবস্থা (আরটিএ) সংশোধনের কাজও ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। এখন ভারতের সঙ্গে কনস্যুলার মিটিং এবং আরটিএ সংশোধন করার মাধ্যমে অন অ্যারাইভাল ভিসা প্রক্রিয়া চূড়ান্ত করা হবে। যা চলতি বছরের মধ্যেই চূড়ান্ত রূপ পাবে। এর মাধ্যমে নৌপথে যাত্রী চলাচলে সুবিধা আরও সম্প্রসারিত হবে। 

প্রাপ্ত তথ্যমতে, দুদেশের মধ্যে উপকূলীয় ও প্রটোকল রুটে যাত্রী ও ক্রুজ পরিষেবা সংক্রান্ত সমঝোতা স্মারকের আওতায় এখন পর্যন্ত ৯টি সমুদ্রযাত্রা সম্পন্ন হয়েছে। এর মধ্যে সাতটি ভারতীয় জাহাজ এবং দুটি বাংলাদেশি জাহাজ। বাংলাদেশ ও ভারতের পর্যটন খাতে সাম্প্রতিক উন্নয়নের কারণে, অনেক বাংলাদেশি পর্যটক ভারত ভ্রমণ এবং নদী ভ্রমণের অভিজ্ঞতা নিতে আগ্রহী। বাংলাদেশের ট্যুর অপারেটররাও ঢাকা থেকে কলকাতা নিয়মিত ক্রুজ পরিচালনা করতে চায়। এটি চালু হলে দুই দেশের মধ্যে নৌপথে যাত্রী এবং ক্রুজ পর্যটক ভবিষ্যতে বৃদ্ধি পাবে বলে ধারণা করছেন সংশ্লিষ্টরা। ফলে, নৌপথে ভ্রমণকারীর জন্য ভিসা পদ্ধতি সহজ করে অন অ্যারাইভাল ভিসা চালুতে সম্মত হয় উভয় দেশ। দুই দেশের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় পর্যায়ে বিষয়টি নিয়ে ঐকমত্য হয়েছে। সম্প্রতি নৌ-সচিব পর্যায়ের বৈঠকে বাংলাদেশের ২১টি ও ভারতের ১১টি এজেন্ডা নিয়ে আলোচনা হয়। এর মধ্যে একাধিক বিষয়ে সম্মত হন উভয় দেশের প্রতিনিধিরা। পাশাপাশি দুই দেশের নৌ-প্রটোকল রুট সচল করা এবং পর্যবেক্ষণের জন্য একটি যৌথ কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত হয়। ইতোমধ্যে এ সংক্রান্ত কমিটি গঠন করার পরপরই সকল কার্যক্রম শুরু হয়েছে বলে জানা গেছে। 

এ বিষয়ে কমিটির অন্যতম সদস্য ও নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব এস এম মোস্তফা কামাল প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বলেন, নৌপথে বাংলাদেশ হয়ে ভারত এবং ভারত থেকে এখানে আসা-যাওয়ার ক্ষেত্রে অন অ্যারাইভাল ভিসা খুবই কার্যকর ভূমিকা পালন করবে। এটির মূল স্টেকহোল্ডার দুই দেশের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। মন্ত্রণালয় দুটি বিষয়টি খতিয়ে দেখছে। এ ক্ষেত্রে সন্তোষজনক অগ্রগতিও হয়েছে। সব প্রক্রিয়া শেষে চলতি বছরের মধ্যে নৌপথে চলাচল করা যাত্রীরা এর সুফল পেতে পারেন বলে তিনি আশা ব্যক্ত করেন। 

নৌ মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মো. মোস্তফা কামাল বলেন, দুই দেশের নৌবাণিজ্য ও যোগাযোগ বৃদ্ধির জন্য একাধিক প্রস্তাব করা হয়েছে। এর মধ্যে নৌপথে যাতায়াতের জন্য নাবিক, ক্রু ও পর্যটকদের জন্য অন অ্যারাইভাল ভিসার বিষয়ে সম্মত হয়েছে উভয় দেশ। এ বিষয়ে দুই দেশের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে যথাযথভাবে প্রস্তাব পাঠানো হবে। এ ছাড়া দুই দেশের নৌ-প্রটোকল রুট সচল রাখা ও পর্যবেক্ষণের জন্য একটি যৌথ কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত হয়। পাশাপাশি নৌপথে পর্যটক বৃদ্ধির জন্য নতুন রুট প্রস্তাব করা হয়েছে। এই বৈঠকে দুই নৌপথের যোগাযোগ বৃদ্ধির বিভিন্ন বিষয় নিয়ে ফলপ্রসূ আলোচনা হয়। এরই ফলে অন অ্যারাইভাল ভিসা প্রক্রিয়ার বাইরে পর্যটন ইস্যুতেও বিভিন্ন প্রস্তাব করা হয়। 

উল্লেখ্য, বাংলাদেশ ও ভারত সরকারের মধ্যে স্বাক্ষরিত বাণিজ্য চুক্তির অনুসরণে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এবং ভারতের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধী ১৯৭২ সালের ১ নভেম্বর প্রটোকল অন ইনল্যান্ড ওয়াটার ট্রানজিট অ্যান্ড ট্রেড (পিআইডব্লিউটিটি) স্বাক্ষর করেন। ১৯৭২ সালে স্বাক্ষরের পর থেকে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে বিদ্যমান পিআইডব্লিউটিটি নবায়নের ভিত্তিতে অব্যাহত আছে। বাংলাদেশ-ভারতের মধ্যে পাঁচটি (আপ-ডাউন হিসেবে দশটি) নৌরুট বিদ্যমান রয়েছে।


শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মুস্তাফিজ শফি

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০১৯১১০৩০৫৫৭, +৮৮০১৯১৫৬০৮৮১২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০১৭১২০৩৩৭১৫ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা