× ই-পেপার প্রচ্ছদ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি ফিচার চট্টগ্রাম ভিডিও সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

এমভি আব্দুল্লাহ ছিনতাই

তৃতীয় পক্ষের মাধ্যমে জলদস্যুদের যোগাযোগ

এস এম রানা, চট্টগ্রাম

প্রকাশ : ২১ মার্চ ২০২৪ ১০:৪৯ এএম

আপডেট : ২১ মার্চ ২০২৪ ১১:১৬ এএম

সোমালিয়ান জলদস্যুর কবলে পড়া বাংলাদেশি পতাকাবাহী জাহাজ এমভি আব্দুল্লাহ। ছবি : সংগৃহীত

সোমালিয়ান জলদস্যুর কবলে পড়া বাংলাদেশি পতাকাবাহী জাহাজ এমভি আব্দুল্লাহ। ছবি : সংগৃহীত

টানা আট দিন রুদ্ধশ্বাস সময় পার করার পর অবশেষে নাগাল পাওয়া গেছে সোমালীয় জলদস্যুদের। বুধবার (২০ মার্চ ) দুপুর ১২টার পর জলদস্যুরা তৃতীয় পক্ষের মাধ্যমে এসআর শিপিং লাইন্স কর্তৃপক্ষের সঙ্গে ফোনে যোগাযোগ করে। তাতে আলোচনা শুরুর পরিবেশ তৈরি হয়। স্বস্তি আসে মালিকপক্ষ ও নাবিকদের পরিবারে। 

মালিকপক্ষের মিডিয়া উপদেষ্টা মিজানুল ইসলাম বলেন, ‘যোগাযোগহীনতা কেটেছে। এখন আলোচনার মাধ্যমে জিম্মি নাবিক ও জাহাজ মুক্ত করে আনতে পারলে স্বস্তি পাওয়া যাবে।’ দস্যুরা মুক্তিপণ চেয়েছে কি না, কিংবা মুক্তিপণ নিয়ে দরকষাকষি শুরু হয়েছে কি না, সে বিষয়ে তিনি বলেন, ‘এখনও মুক্তিপণ চায়নি। তাই দরকষাকষি শুরু হয়নি। পরবর্তী সময়ে আলোচনা পর্যায়ে হয়তো এসব নিয়ে কথা হবে।’ অন্য এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘স্পর্শকাতর বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য দেওয়া সম্ভব নয়।’ দস্যুদের সঙ্গে আলোচনা প্রসঙ্গে মুখপাত্র মিজানুল বলেন, ‘আলোচনায় অগ্রগতি হলে পরে তা জানানো হবে। এই আলোচনায় সরকার, জাহাজ মালিকপক্ষ ছাড়াও বীমা কোম্পানির প্রতিনিধি যুক্ত থাকছেন।’

গত ১২ মার্চ কেএসআরএম গ্রুপের (কবির গ্রুপ) মালিকানাধীন এসআর শিপিং লাইন্সের জাহাজ এমভি আব্দুল্লাহ ও এর ২৩ নাবিককে ছিনতাই করে সোমালিয়ান জলদস্যুরা। একই কোম্পানির জাহাজ এমভি জাহান মনি ছিনতাই হয়েছিল ২০১০ সালের ৫ ডিসেম্বর। সে সময় জলদস্যুরা যোগাযোগ করতে দুই সপ্তাহ সময় নিয়েছিল। এমন অভিজ্ঞতা থাকার পরও এবার এসআর শিপিং কর্তৃপক্ষ দ্রুত যোগাযোগ না হওয়ায় বেশ উদ্বিগ্ন হয়। কারণ ভারত ও যুক্তরাজ্যের নৌবাহিনী এমভি আব্দুল্লাহকে অনুসরণ করে এবং পরে তারা অভিযান পরিচালনার উদ্যোগ নেয়, যার ফলে নাবিকদের জীবন হুমকির মুখে পড়ে।

জাহান মনি জিম্মি হওয়ার সময়ও ভারতীয় নৌবাহিনীর সহযোগিতা চেয়েছিলেন ক্যাপ্টেন। কিন্তু পাননি। এবারও এমভি আব্দুল্লাহ ছিনতাইয়ের সময় ভারত এবং যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনীর সাহায্য চেয়ে বার্তা দিয়েছিলেন ক্যাপ্টেন। কিন্তু তখন মাল্টার পতাকাবাহী এমভি রুয়েন ও এর ১৭ নাবিককে উদ্ধারে অভিযান চালায় ভারতীয় নৌবাহিনী এবং সফল হয়। আত্মসমর্পণ করে জলদস্যুরা। এরপর এমভি আব্দুল্লাহকে উদ্ধার করতে অভিযানের পরিকল্পনা করে ভারতীয় নৌবাহিনী। পরিকল্পনার অংশ হিসেবে এমভি আব্দুল্লাহর খুব কাছে (দুই কিলোমিটারের কম) পৌঁছে যায় দুটি যুদ্ধজাহাজ।

অভিযানের বিষয়ে বাংলাদেশ সরকার এবং এমভি আব্দুল্লাহর মালিকপক্ষের কাছেও বার্তা আসে আন্তর্জাতিক পর্যায় থেকে। কিন্তু জিম্মি নাবিকদের নিরাপত্তা বিবেচনায় মালিকপক্ষ ও সরকার তাতে সায় দেয়নি। আবার আন্তর্জাতিক নৌবাহিনীর অভিযান পরিকল্পনার তথ্য পেয়ে জিম্মি নাবিকদের ওপর কিছুটা চড়াও হয় জলদস্যুরা। তারা জাহাজটির নোঙর তুলে উপকূলের আরও কাছে নিয়ে যায়। সঙ্গে হুমকি দেয় জাহাজটি স্থলভাগে তুলে দেওয়ার। এতে জাহাজটি আটকে যাওয়ার শঙ্কা দেখা দেয়। আন্তর্জাতিক পর্যায় থেকে চাপ দেওয়ায় সোমালিয়ার পুলিশ প্রশাসনও কিছুটা চাপ তৈরি করে জলদস্যুদের ওপর। সোমালীয় পুলিশ অভিযানে অংশ নেবে বলে জানানোর পর জলদস্যুরা নিজদের নিরাপত্তার বিষয়টি হয়তো বিবেচনায় নেয়। ফলে দ্রুত যোগাযোগ শুরু করে। এ কারণে আট দিনের মধ্যেই তৃতীয় পক্ষের মাধ্যমে মালিকপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করে দস্যুরা।

সূত্র জানায়, জিম্মি নাবিকরা মালিকপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারছেন। নাবিকরা এখন জাহাজের ব্রিজে অবস্থান করছেন। জিম্মি জাহাজের আনুমানিক দুই কিলোমিটার দূরে অবস্থান করছে যুদ্ধজাহাজ। যুদ্ধজাহাজ দুটিকে এমভি আব্দুল্লাহর কাছাকাছি না আসতে অনুরোধ জানাচ্ছেন এমভি আব্দুল্লাহর ক্যাপ্টেন। কারণ যুদ্ধজাহাজ কাছে এলেই জলদস্যুরা ক্ষিপ্ত হচ্ছে। এমভি আব্দুল্লাহ এখন সোমালিয়ার নুগাল প্রদেশের উত্তর পূর্বাঞ্চলীয় শহর গদবজিরানের কাছাকাছি নোঙর করা অবস্থায় রয়েছে।

আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সংস্থা চাইছে ভারত মহাসাগরকে জলদস্যুমুক্ত করতে। সেই চাওয়া পূর্ণ করতে গিয়ে যদি সত্যি সত্যিই এমভি রুয়েনের মতো অভিযান হয় তাহলে নাবিকরা বিপদে পড়তে পারেন বলে মনে করছে আব্দুল্লাহর মালিকপক্ষ। যদিও এ ধরনের অভিযানের আগে সংশ্লিষ্ট দেশ ও জাহাজ মালিকের সঙ্গে আলোচনা করা হয়। এ ক্ষেত্রেও আলোচনা হয়েছে। কিন্তু মালিকপক্ষ সায় দেয়নি।

২০১০ সালের ৫ ডিসেম্বর জিম্মি হওয়া এমভি জাহান মনি উদ্ধার করতে সময় লেগেছিল ১০০ দিন। এবার এমভি আব্দুল্লাহকে উদ্ধার করতে হয়তো কম সময় লাগবে। তবে জিম্মি নাবিকরা চাইছেন ঈদের আগেই দেশে ফিরতে। আর জাহাজ মালিকপক্ষ চায় অভিযান এড়িয়ে নির্বিঘ্নে নাবিকসহ জাহাজটি জলদস্যুদের ডেরা থেকে মুক্ত করতে।

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মুস্তাফিজ শফি

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০১৯১১০৩০৫৫৭, +৮৮০১৯১৫৬০৮৮১২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০১৭১২০৩৩৭১৫ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা