প্রবা প্রতিবেদন
প্রকাশ : ০৮ নভেম্বর ২০২২ ১২:৩৮ পিএম
আপডেট : ০৮ নভেম্বর ২০২২ ১৫:০৬ পিএম
চলমান এইচএসসি পরীক্ষায় ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের বাংলা প্রথম পত্রের পরীক্ষায় ‘বিতর্কিত’ প্রশ্নপত্রটি প্রণয়ন করেছে যশোর শিক্ষা বোর্ড। প্রশ্নপত্রটি প্রণয়নকারী ও পরিশোধনকারীদেরও চিহ্নিত করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে তদন্ত করে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির আহ্বায়ক ও ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক তপন কুমার সরকার প্রতিদিনের বাংলাদেশকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
ঢাকা শিক্ষা বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, বিতর্কিত সেই প্রশ্নপত্রটি প্রণয়ন করেন ঝিনাইদহের মহেশপুরের ডা. সাইফুল ইসলাম ডিগ্রি কলেজের সহকারী অধ্যাপক প্রশান্ত কুমার পাল। আর প্রশ্নপত্রটি পরিশোধন করেন নড়াইলের সরকারি ভিক্টোরিয়া কলেজের সহযোগী অধ্যাপক সৈয়দ তাজউদ্দিন শাওন, সাতক্ষীরা সরকারি মহিলা কলেজের সহযোগী অধ্যাপক মো. শফিকুর রহমান, নড়াইলের মির্জাপুর ইউনাইটেড কলেজের সহকারী অধ্যাপক শ্যামল কুমার ঘোষ ও কুষ্টিয়ার ভেড়ামারা আদর্শ কলেজের সহকারী অধ্যাপক মো. রেজাউল করিম।
ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক তপন কুমার সরকার প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বলেন, বিতর্কিত প্রশ্ন প্রণয়নকারী ও পরিশোধনকারীদের চিহ্নিত করা হয়েছে। এখন তাদের বিরুদ্ধে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হবে। নোটিশের জবাবসহ বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য মন্ত্রণালয়কে সুপারিশ করব। মন্ত্রণালয় বিভাগীয় ব্যবস্থা নেবে।
এর আগে গত বরিবার থেকে সারা দেশের ৯টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডসহ মাদ্রাসা এবং কারিগরি মিলিয়ে ১১টি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে শুরু হয়েছে এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা। প্রথম দিন ছিল বাংলা প্রথম পত্র (আবশ্যিক) সৃজনশীল পরীক্ষা। এর মধ্যে সাধারণ ৯টি শিক্ষা বোর্ডের মধ্যে ঢাকা বোর্ডের প্রশ্ন নিয়ে তৈরি হয় বিতর্ক। অভিযোগ ওঠে, ওই প্রশ্নে ধর্মীয় সংবেদনশীলতাকে ক্ষুণ্ন করা হয়েছে, যা রীতিমতো ধর্মীয় উসকানির শামিল।
ঢাকা বোর্ডের বিতর্কিত ওই প্রশ্নপত্রের সিরাজউদ্দৌলা অংশের ১১ নম্বর প্রশ্নে ধর্মকে সামনাসামনি করে উদ্দীপকে বলা হয়েছে, ‘নেপাল ও গোপাল দুই ভাই। জমি নিয়ে বিরোধ তাদের দীর্ঘদিন। অনেক সালিশ-বিচার করেও কেউ তাদের বিরোধ মেটাতে পারেনি। কেউ কাউকে ছাড় দিতে নারাজ। এখন জমির ভাগ বণ্টন নিয়ে মামলা চলছে আদালতে। ছোট ভাই নেপাল বড় ভাইকে শায়েস্তা করতে আব্দুল নামে এক মুসলমানের কাছে ভিটের জমির এক অংশ বিক্রি করে। আব্দুল সেখানে বাড়ি বানিয়ে স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করে। কোরবানির ঈদে সে নেপালের বাড়ির সামনে গরু কোরবানি দেয়। এই ঘটনায় নেপালের মন ভেঙে যায়। কিছুদিন পর কাউকে কিছু না বলে জমি-জায়গা ফেলে সপরিবারে ভারতে চলে যায় সে।’
এরপর প্রশ্ন করা হয়েছে—‘(ক) মিরজাফর কোন দেশ হতে ভারত আসেন। (খ) ঘরের লোক অবিশ্বাসী হলে বাইরের লোকের পক্ষে সবই সম্ভব।—ব্যাখ্যা কর। (গ) উদ্দীপকের ‘নেপাল’ চরিত্রের সঙ্গে ‘সিরাজউদ্দৌলা’ নাটকের ‘মিরজাফর’ চরিত্রের তুলনা কর। (ঘ) ‘খাল কেটে কুমির আনা’—প্রবাদটি উদ্দীপক ও ‘সিরাজউদ্দৌলা’ নাটক উভয় ক্ষেত্রেই সমানভাবে প্রযোজ্য।—উক্তিটির সার্থকতা নিরূপণ কর।’
অন্যদিকে প্রশ্নপ্রত্রে সাম্প্রদায়িক উসকানিমূলক এই প্রশ্নে উষ্মা প্রকাশ করে গত সোমবার শিক্ষামন্ত্রী দীপু মনি বলেন, বাংলাদেশ অসাম্প্রদায়িক গণতান্ত্রিক দেশ। এই বাংলাদেশে কোনো পরীক্ষার প্রশ্নপত্রে সাম্প্রদায়িক উসকানিমূলক কোনো কিছু থাকবে এটি অত্যন্ত দুঃখজনক। এটি একেবারেই গ্রহণযোগ্য নয়। এই কাজের সঙ্গে যারা জড়িত তাদের পরে এই ধরনের কার্যক্রমের সঙ্গে কোনোভাবেই জড়িত রাখা হবে না।
তিনি বলেন, আমাদের সুস্পষ্ট নির্দেশিকা দেওয়া থাকে প্রশ্ন তৈরির ক্ষেত্রে অবশ্যই কোনো ধরনের যেন সাম্প্রদায়িকতার কোনো কিছু না থাকে। খুবই দুঃখজনক কোনো একজন প্রশ্নকর্তা হয়তো এই প্রশ্নটি করেছেন। যিনি মডারেট করেছেন তার দৃষ্টিও হয়তো কোনো কারণে এড়িয়ে গেছে। তিনিও হয়তো স্বাভাবিকভাবে বিষয়টি নিয়েছেন। আমরা চিহ্নিত করছি এই প্রশ্নটি কোন সেটার করেছেন এবং কে মডারেটর করেছেন। আমরা তাদের খুঁজে বের করে সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নেব।