× ই-পেপার প্রচ্ছদ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি ফিচার চট্টগ্রাম ভিডিও সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

সাভারের ট্যানারি থেকে ক্যানসারের উপাদান ক্রোমিয়াম নির্গত হচ্ছে : পরিবেশমন্ত্রী

প্রবা প্রতিবেদক

প্রকাশ : ১৪ মার্চ ২০২৪ ১৪:৩৭ পিএম

আপডেট : ১৪ মার্চ ২০২৪ ১৫:৪৯ পিএম

বৃহস্পতিবার দুপুরে সচিবালয়ের নিজ কার্যালয়ে কথা বলেন পরিবেশমন্ত্রী সাবের হোসেন চৌধুরী। ছবি : সংগৃহীত

বৃহস্পতিবার দুপুরে সচিবালয়ের নিজ কার্যালয়ে কথা বলেন পরিবেশমন্ত্রী সাবের হোসেন চৌধুরী। ছবি : সংগৃহীত

সাভারের ট্যানারি বর্জ্য থেকে ক্রোমিয়ামের মতো রাসায়নিক নির্গত হয় বলে জানিয়েছেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনমন্ত্রী সাবের হোসেন চৌধুরী। তিনি বলেন, এ ধাতুর কারণে মানুষের ক্যানসার হচ্ছে। যা খুবই দুঃখজনক।

বৃহস্পতিবার (১৪ মার্চ) দুপুরে সচিবালয়ের নিজ কার্যালয়ে মার্কিন উন্নয়ন সংস্থা ইউএসএআইডি ও ডাকা কলিংয়ের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠকের পর সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।

পরিবেশমন্ত্রী বলেন, ‘সেখানে (ট্যানারি) বিশেষ করে আমরা যেটা বলি, ক্রোমিয়ামের যে বিষয়টা আছে, যেটা ভারী ধাতু, যেটার কারণে ক্যানসার হয়, মানুষ মারা যায়। সেই ক্রোমিয়াম আমাদের ট্যানারি থেকে বের হয়ে আসছে। এটা খুবই দুঃখজনক।’

সাবের হোসেন চৌধুরী বলেন, ‘আমরা এত বড় একটা পরিকল্পনা গ্রহণ করলাম, হাজারিবাগ থেকে এটা স্থানান্তরিত করলাম। হাজারিবাগে যখন এটা ছিল, তখন আশপাশের নদীগুলোকে মৃত করলাম। এখন সেটা যেখানে স্থানান্তরিত করা হয়েছে, সেখানকার আশপাশের নদীগুলোকে শেষ করছি। কাজেই এখানে একটা বড় ধরনের পরিবর্তন আসা দরকার। ইনশাআল্লাহ সেটি আমরা করব।’

তিনি বলেন, ‘একটা ট্যানারিতে কঠিন বর্জ্য ব্যবস্থাপনার কোনো সুযোগ থাকবে না, এটা হতে পারে না। আমাদের ট্যানারিতে কঠিন বর্জ্য ব্যবস্থাপনার জন্য কিছুই নেই।’

ট্যানারির বর্জ্য আমাদের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, ‘এতদিন শিল্প মন্ত্রণালয় থেকে বলা হতো, সেখানে দূষণ হচ্ছে না। কিন্তু তারাও এখন বুঝতে পেরেছেন, কারণ আমরা সেখানে গিয়ে দেখে এসেছি। আগে আমরা যখন এ নিয়ে বলতাম, তখন মনে হতো, আমরাই অপরাধী। কারণ পরিবেশ মানেই এসব কথা বলবে। কিন্তু এখন সমস্যা যে আছে, সেটা স্পষ্ট হয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘বর্জ্য থেকে আমরা যদি সার তৈরি করতে পারি, তাহলে প্রতি বছর আমরা যে পরিমাণ সার আমদানি করি, সেটা আমদানি না করে স্থানীয়ভাবে বর্জ্য থেকে তৈরি করতে পারব।’

সাবের হোসেন চৌধুরী বলেন, ‘একটা হচ্ছে, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, সার্বিকভাবে সেটাকে কীভাবে উন্নত করা যায়, কার্যকর করা যায়, সেটাও আমাদের জন্য চ্যালেঞ্জিং। আরেকটা হচ্ছে, আমদানির ওপর নির্ভরতা কমাতে বর্জ্য ব্যবহার করতে পারি, সেটাকে সম্পদে রূপান্তর করছি। এতে আমাদের অনেক বৈদেশিক মুদ্রার সাশ্রয় হবে।’

সার আমদানির বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘সার আমদানির যে স্পেসিফিকেশন আছে, সেটার সঙ্গে আমরা স্থানীয়ভাবে যেটা উৎপাদন করি, সেটার মধ্যে কোনো পার্থক্য আছে কি না, সেটা দেখব। কেননা আমদানির ক্ষেত্রে আমরা জানি, যারা সাপ্লাই করেন, তাদের স্বার্থ থাকে। তারা স্পেসিফিকেশন একভাবে তৈরি করে নেন। আমরা দেখব, বাংলাদেশে আমরা যে মানটা পাচ্ছি, সেটা যদি বিএসটিআই অনুমোদন দেয়, কৃষি মন্ত্রণালয় যদি উপযোগী মনে করি, তাহলে আমদানি কেন করব? আমরা স্থানীয়ভাবে বর্জ্যটাকে সারে রূপান্তর করব। এটা এখন পরীক্ষামূলক হচ্ছে, খুবই ছোটোমাপে।’

তিনি বলেন, আমাদের একশ দিনের কর্মসূচিতে বলেছিলাম, জাতীয় পর্যায়ে সেটা নিয়ে একটা ফ্রেমওয়ার্কের (কাঠামো) কথা চিন্তা করছি। এখন ঢাকা, চট্টগ্রাম ও অন্যান্য বিভাগীয় শহরগুলোতে একটা চাপ আছে, কিন্তু পরবর্তীতে আমাদের অর্থনীতি যেভাবে এগিয়ে যাচ্ছে, নগরায়ন যেভাবে হচ্ছে, এটার চাহিদা দিন দিন বাড়বে। আমাদের এখন প্রজেকশন হচ্ছে, ২০২৫ সাল থেকে প্রতিদিন প্রায় ৫০ হাজার মেট্রিক টন বর্জ্য বাংলাদেশে তৈরি হয়। এটা একটি বড় চ্যালেঞ্জ।

এই বর্জ্য একদিকে পরিবেশকে ক্ষতি করে, অন্যদিকে জনস্বাস্থ্যের ওপরও এটার প্রভাব আছে। সেই বিষয়গুলো নিয়ে এখন থেকেই ভাবছি। কেবল বড় বড় শহরগুলোর কথাই ভাবছি না, আমাদের চিন্তা হচ্ছে সারা বাংলাদেশ। আমরা এখন বোঝার চেষ্টা করছি, কোন কোন জায়গায় আগামী পাঁচ, দশ, পনেরো ও ২০ বছরে কী পরিমাণ বর্জ্য তৈরি হবে। যদি দরকার পড়ে, এখন থেকেই সেই সব জায়গা চিহ্নিত করে জমি অধিগ্রহণ করে বর্জ্য ব্যবস্থাপনার জন্য পরিকল্পনা হাতে নিতে যাচ্ছি।

তিনি বলেন, সার্বিকভাবে একটা পরিকল্পনা কীভাবে দাঁড় করানো যায়, সেটা নিয়ে ভাবছি। এ ছাড়া একবার ব্যবহারযোগ্য প্লাস্টিকও বর্জ্য ব্যবস্থাপনার জন্য চ্যালেঞ্জ। বর্জ্য ব্যবস্থাপনাকে একটা জাতীয় অগ্রাধিকার হিসেবে বিবেচনা করতে পারি।

সাবের হোসেন চৌধুরী বলেন, কীভাবে বস্তিবাসীদের সম্পৃক্ত করা যায়, তা নিয়ে মার্কিন উন্নয়ন সংস্থা ইউএসএআইডির সঙ্গে কথা হয়েছে। কারণ এতে ইনফরমাল সেক্টর একটা বড়ো ভূমিকা রাখে। সাভারে দেখবেন বর্জ্যগুলো এক জায়গায় চলে আসে। একেবারে উৎসেই যদি বর্জ্যকে আলাদা করা যায়, সেটা সবচেয়ে ভালো। তাহলে পরে আর আলাদা করা যাবে না।

তিনি বলেন, বর্জ্য ব্যবস্থাপনার পুরো ইকোসিস্টেমের দিকে আমরা তাকাচ্ছি। কীভাবে সেটার উন্নয়ন ও কার্যকর করা যায়। বর্জ্য থেকে সার উৎপাদনের পাশাপাশি রিসাইকেলও আছে।

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মুস্তাফিজ শফি

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০১৯১১০৩০৫৫৭, +৮৮০১৯১৫৬০৮৮১২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০১৭১২০৩৩৭১৫ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা