নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ : ৩১ জুলাই ২০২২ ১৮:৪৫ পিএম
ফাইল ছবি
বৈদেশিক মুদ্রা বাঁচাতে গম আমদানি বন্ধের আহ্বান জানিয়েছেন ধর্ম প্রতিমন্ত্রী ফরিদুল হক খান। তিনি গমের বদলে চালের রুটি খাওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন।
ঢাকার নিউ ইস্কাটনে বিয়াম ভবনে রোববার সকালে এক ওয়ার্কশপে প্রতিমন্ত্রী এই আহ্বান জানান।
তিনি বলেন, “গমের আটার রুটি খাব না। তাহলে আমার গম ইমপোর্ট করতে হবে না। ফরেন কারেন্সি যেটা আছে, সেটাতে শর্ট পড়বে না। আমার ডলার শর্ট পড়বে না। আমরা তিন মাস গমের রুটি না খাই। দেখি না কী হয়? আমরা চালের আটার রুটি খাব। অসুবিধা কোথায়?”
করোনাভাইরাস মহামারীতে মানুষ কাজ হারিয়ে দুর্যোগে পড়ে। সেই দুর্যোগ কাটিয়ে ওঠার সময় ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধে বাধলে পরিস্থিতি জটিল হয়ে যায়। পশ্চিমা বিশ্ব ও তাদের মিত্ররা রাশিয়ার ওপর বিভিন্ন নিষেধাজ্ঞা জারি করলে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে লেনদেনে সংকট তৈরি হয়। তাছাড়া যুদ্ধের কারণে ইউক্রেন তেল ও গম রপ্তানি না করতে পারায় বাজারে অস্থিরতা তৈরি হয়। শ্রীলঙ্কার মত উন্নয়নশীল দেশ ঋণখেলাপি হয়। পাকিস্তানসহ আরও ডজনখানেক দেশ খাদের কিনারে দাঁড়িয়ে।
বাংলাদেশে অনেক জিনিসের দাম বাড়ার পাশাপাশি ডলারের বাজারে চলছে অস্থিরতা।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, “গমের রুটি না খেলে আমদানি করতে হবে না। এতে বৈদেশিক মুদ্রার সাশ্রয় হবে। সবাই বলে, জিনিসের দাম বেড়েছে। সবাই বলে এটা হয়েছে, সেটা হয়েছে। জিনিসের দাম কী বেড়েছে বাংলাদেশের মানুষ বুঝতে পারছেন না।
“এখানে সামান্য বেড়েছে। তাতেই মানুষের মনে অশান্তির সৃষ্টি হয়েছে। এই যে ভোজ্যতেল, সেটি আসে কোত্থেকে? সব আসে ইউক্রেন-রাশিয়া থেকে। আজকে ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধ হওয়ার কারণে সারা বিশ্বে ধস নেমেছে। এমনও দেশ আছে, এক কেজি চালের দাম ৫০০ টাকা। অথচ বাংলাদেশের মানুষ এখনও স্বল্পমূল্যে সব খাচ্ছেন।”
ফরিদুল হক খান তার লন্ডন ভ্রমণের অভিজ্ঞতা শেয়ার করে বলেন, “লন্ডনে পেট্রলের দাম তিন গুণ বেড়েছে। আজ বাংলাদেশে পেট্রলের দাম ৯০ টাকা। লন্ডনে গিয়ে দেখি, পেট্রলের দাম এক পাউন্ড ছিল। এখন সেখানে পেট্রলের দাম ৩.৫৩ পাউন্ড। এর মানে হচ্ছে, লন্ডনে ৩৭০-৩৮০ টাকা এক লিটার পেট্রলের দাম। আর আমাদের এখানে সরকার দিচ্ছে ৯০ টাকায়। অথচ মানুষ বুঝতে পারে না কিছু।”
প্রতিমন্ত্রী ফরিদুল সৌদি আরবের প্রসঙ্গ তুলে বলেন, “সৌদি যান না কেন? আমাদের হজযাত্রীদের জিজ্ঞাসা করেন। তারা একটা ডিম খেয়েছেন পাঁচ রিয়াল দিয়ে। এক রিয়াল মানে ২৪ টাকা হলে ১২০ টাকা একটা ডিমের দাম। আর বাংলাদেশে ১২০ টাকায় খাচ্ছেন কতগুলো ডিম?”
অস্ট্রেলিয়ার প্রসঙ্গ টেনে ফরিদুল হক বলেন, “আমার মেয়ে অস্ট্রেলিয়ায় থাকে। আসছিল দেশে। গতকাল চলে গেছে। ও বলল, ‘বাবা, যদি আমরা গোশত কিনতে যাই, সেটি ভাগ করে বিক্রি করে। মুরগির কলিজা, গিলা বা রান তারা কেটে ভাগ করে বিক্রি করে। দাম শুনলে মাথা ঘুরে যায়।’ ওই দেশে একটা মুরগির দাম বাংলাদেশি টাকায় তিন হাজার।”
বাঙালির অনভিজ্ঞতার সমালোচনা করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, “বাঙালি মায়ের পেটে বাস করছেন। বোঝেন না যে, মা এই দেশের জন্য কতটুকু করছেন।”
প্রতিমন্ত্রী বিদ্যুতের ঘাটতি প্রসঙ্গেও কথা বলেন।
তিনি বিদ্যুতের ঘাটতির কথা স্বীকার করে বলেন, “বিদ্যুতের একটু ঘাটতি হয়েছে। কেন হয়েছে, দেশ-জাতিকে বুঝতে হবে।”
বিদ্যুৎ তৈরির জন্য তেল-গ্যাস দরকার হয় জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, “দুটিই ইউক্রেন-রাশিয়া থেকে আমদানি করতে হয়। সেখান থেকে এখন এগুলো আনতে গেলে বিদ্যুতের দাম তিন-চার গুণ বেড়ে যায়। অন্য দেশ থেকে এনে বিদ্যুতে দ্বিগুণ ভর্তুকি দিচ্ছে (সরকার)। টাকা ভর্তুকি দিতেই শেষ। তবে তিন মাসের মধ্যে এসব সমস্যার অনেকটাই সমাধান হবে। ইতোমধ্যেই রাশিয়া গ্যাস ও ভোজ্যতেল দেওয়ার জন্য রাজি হয়েছে।”
প্রতিনিধি/টিকে