প্রবা প্রতিবেদন
প্রকাশ : ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৪ ০১:১২ এএম
আপডেট : ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৪ ১২:১৭ পিএম
গণতন্ত্র সূচক-২০২৩-এ বাংলাদেশের অবস্থান দুই ধাপ পিছিয়েছে। দশের মধ্যে ৫ দশমিক ৮৭ স্কোর নিয়ে দেশটির অবস্থান এখন পঁচাত্তরের ঘরে। এর আগের সূচকে অর্থ্যাৎ ২০২২ সালে ৭৩তম অবস্থানে এর স্কোর ছিল ৫ দশমিক ৯৯।
তবে দক্ষিণ এশিয়ার সাত দেশের মধ্যে বাংলাদেশ তার আগের (তৃতীয়) অবস্থান ধরে রেখেছে। এই অঞ্চলে শীর্ষে আছে প্রতিবেশি দেশ ভারত। ৭ দশমিক ১৮ স্কোর নিয়ে ৫ ধাপ এগিয়ে গণতন্ত্র সূচকে তাদের অবস্থান ৪১ তম। এর পরই আছে শ্রীলঙ্কা। ৬ দশমিক ১৭ স্কোর নিয়ে দশ ধাপ পিছিয়ে দেশটির অবস্থান ৭০ তম। ভুটান ও নেপাল অবস্থা বাংলাদেশের চেয়ে খারাপ। তবে সবচেয়ে বেশি খারাপ হয়েছে পাকিস্তানের অবস্থান। ৩ দশমিক ২৫ থেকে এর স্কোর নেমে এসেছে শূন্য দশমিক ৮৮-এ। বৈশ্বিক র্যাংকিংয়ে এশিয়ার এই দেশটির অবস্থান ১১৮তম। এশিয়ার একমাত্র দেশে হিসেবে হাইব্রিড শাসন থেকে পাকিস্তানের অবস্থান এখন কর্তৃত্ববাদী শাসন বিভাগে।
বার্ষিক সূচকটি গেল বৃহস্পতিবার প্রকাশ করে ইকনোমিস্ট ইন্টিলিজেন্স ইউনিট (ইআইইউ)। নির্বাচন প্রক্রিয়া এবং বহুত্ববাদ, সরকারের কার্যক্রম, রাজনৈতিক দলের অংশগ্রহণ, রাজনৈতিক সংস্কৃতি এবং নাগরিক স্বাধীনতা- এই পাঁচ ক্যাটাগরির ওপর বিশ্বের গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রগুলোকে স্কোর দিয়ে থাকে ইআইইউ।
এই পাঁচ ধাপের মধ্যে নাগরিক স্বাধীনতা ক্যাটাগরিতে বাংলাদেশের স্কোর ৪ দশমিক ৭১, যা আগের বছর ছিল ৫ দশকি ২৯। অন্য ক্যাটাগরিতে বাংলাদেশের স্কোর অপরিবর্তিত আছে।
মোট অর্জিত স্কোর অনুসারের ‘হাইব্রিড শাসন’ হিসেবে শ্রেণিবদ্ধ হয়েছে বাংলাদেশে। হাইব্রিড শাসনের ব্যাখ্যায় ইআইইউ বলছে- যে সব দেশে মূলত ধারাবাহিকভাবে নির্বাচনে অনিয়ম হয়ে থাকে, যা অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের পথে তৈরি করে প্রতিবন্ধকতা। এ ছাড়া একটি বিষয়ে এই শ্রেণির দেশগুলোর মধ্যে অভিন্নতা দেখা যায়। সেটি হলো-বিরোধী দল এবং প্রার্থীদের ওপর প্রবল সরকারি চাপ।
ইআইইউ গ্রুপের গবেষক ও বিশ্লষকরা বলছে, ওই শ্রেণির (হাইব্রিড শাসন) দেশগুলোতে আইনের শাসনে ব্যাপক দুর্বলতা লক্ষ্য করা যায়। দুর্বল থাকে সিভিল সোস্যাইটি। সাংবাদিকরা হয়রনি ও চাপের মুখে থাকেন এবং স্বাধীনভাবে কাজ করে না বিচার বিভাগ।
২০০৬ সালে গণতন্ত্র সূচক প্রথম প্রকাশিত হয়। ওই বছর ৬ দশমিক ১১ স্কোর দিয়ে বাংলাদেশকে শ্রেণিবদ্ধ করা হয়েছিল ‘ত্রুটিপূর্ণ গণতন্ত্রের’ ঘরে। ২০০৮ সালে এর মর্যাদা ‘হাইব্রিড শাসন’ বিভাগে অবনমিত হয় এবং তখন থেকেই এই বিভাগে রয়েছে। তবে অর্জিত স্কোর চারের নিচে নামলে ‘কর্তৃত্ববাদী শাসন’ এর দেশের তকমা পাবে বাংলাদেশ।