প্রবা প্রতিবেদন
প্রকাশ : ০৪ নভেম্বর ২০২২ ০৯:৫৯ এএম
আপডেট : ০৪ নভেম্বর ২০২২ ১১:১৩ এএম
সংসদ অধিবেশন। ফাইল ফটো
আদালতের অনুমতি ছাড়া ধর্ষণ বা ধর্ষণচেষ্টা মামলায় জেরার সময় ভুক্তভোগীকে তার চরিত্র ও অতীত যৌন আচরণ নিয়ে প্রশ্ন করা যাবে না, এ বিধান যুক্ত করে ‘এভিডেন্স অ্যাক্ট, ১৮৭২ (অ্যামেন্ডমেন্ট) বিল-২০২২’ বৃহস্পতিবার (৩ নভেম্বর) জাতীয় সংসদে পাস হয়েছে।
ব্রিটিশ আমলের সাক্ষ্য আইনে সংশোধন এনে এ ধারা যুক্ত করা হয়। নতুন আইনে বিচারকাজে বিভিন্ন ডিজিটাল তথ্যকেও সাক্ষ্য হিসেবে উপস্থাপনের সুযোগ রয়েছে।
আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী আনিসুল হক এদিন জাতীয় সংসদে বিলটি পাসের জন্য উত্থাপন করেন। এরপর স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী বিলের ওপর দেওয়া জনমত যাচাই-বাছাই কমিটিতে প্রেরণ ও সংশোধন প্রস্তাবগুলো নিষ্পত্তি করেন।
বিএনপিসহ বিরোধী দলের বেশিরভাগ সদস্যই আইন পাসের আলোচনায় অংশ নিয়ে আইনটি সংশোধনের উদ্যোগ নেওয়ার প্রশংসা করেন।
এ সংশোধন পাস হওয়ার ফলে বিদ্যমান সাক্ষ্য আইনের ১৫৫(৪) ধারা বাতিল হবে। ওই ধারায় বলা হয়েছে—কোনো ব্যক্তি যখন ধর্ষণ কিংবা শ্লীলতাহানির চেষ্টার অভিযোগে অভিযুক্ত হন, তখন দেখানো যেতে পারে যে অভিযোগকারী সাধারণভাবে দুশ্চরিত্রা।
বিলে জেরার সময় প্রশ্ন করার ক্ষেত্রে নতুন বিধান যুক্ত করা হয়েছে। এতে বলা হয়েছে—ধর্ষণ বা ধর্ষণচেষ্টা মামলার ভিকটিমকে তার নৈতিক চরিত্র বা অতীত যৌন আরচণ নিয়ে প্রশ্ন করা যাবে না। ন্যায়বিচারের স্বার্থে যদি আদালত মনে করেন এ ধরনের প্রশ্ন করা প্রয়োজন, তাহলে আদালতের অনুমতি নিয়েই কেবল তা করা যাবে।
মানবাধিকারকর্মী ও আইনজীবীরা দীর্ঘদিন ধরে সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক এ ঔপনিবেশিক আইনটি সংশোধনের দাবি জানিয়ে আসছিলেন। তারা বলছিলেন, এ আইনের কিছু ধারা নারীর প্রতি অবমাননাকর।
এ ছাড়া সাক্ষ্য আইনের বিভিন্ন ধারা সংশোধন ও নতুন ধারা যুক্ত করে মামলার বিচারে ডিজিটাল তথ্যপ্রমাণ উপস্থাপনেরও সুযোগ তৈরি করা হয়েছে। এতে বলা হয়েছে—কেউ যাতে ভুয়া বা জাল সাক্ষ্যপ্রমাণ ডিজিটাল মাধ্যমে হাজির করতে না পারে, আদালত যদি মনে করেন যে কোথাও আপত্তিজনক কিছু আছে অথবা কেউ যদি আপত্তি তোলে, তাহলে ওই সাক্ষ্যপ্রমাণের ফরেনসিক পরীক্ষা করা যাবে।
তবে ডিজিটাল তথ্যকে সাক্ষ্য হিসেবে গ্রহণের ধারা রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করতে ব্যবহার করা হতে পারে বলে আশঙ্কা করেন বিএনপির সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা, যিনি নিজেও একজন আইনজীবী।
এ আইন পাসের আলোচনায় অংশ নিয়ে জাতীয় পার্টির সদস্য কাজী ফিরোজ রশীদ আদালতে মামলাজট নিরসনে সালিশি বোর্ড গঠনের প্রস্তাব করেন।
একই দলের এমপি পীর ফজলুর রহমান মিসবাহ বলেন, ৩০ জুন পর্যন্ত আদালতে বিচারাধীন মামলা ৪১ লাখ ৬৩ হাজার ৫৫৩টি। মামলার এ সংখ্যা বাড়ছে। এ মামলা দ্রুততম সময়ে নিষ্পত্তিতে বিকল্প চিন্তা করা দরকার।
মিথ্যা অভিযোগ দিয়ে মামলা প্রসঙ্গে বিএনপিদলীয় সদস্য হারুনুর রশীদের এক বক্তব্য প্রসঙ্গে আইনমন্ত্রী বলেন, মিথ্যা অভিযোগে মামলা হতে পারে। কিন্তু কেউ মিথ্যা অভিযোগে মামলা করলে আইনে ওই ব্যক্তির বিরুদ্ধে মামলা করারও সুযোগ রয়েছে। এখন আইনের মাধ্যমেই দেশ চলছে।
ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের বিষয়ে তিনি বলেন, বিরোধী দলকে টার্গেট করে এ আইন করা হয়েছে, তা সঠিক নয়। সাইবার অপরাধ নিয়ন্ত্রণে এটি করা হয়েছে। এ আইনের অপব্যবহার হয়েছে তা তারা স্বীকার করে শোধরানোর চেষ্টা করেছেন।