× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

পাকিস্তান ভেঙে দিয়েছিলেন বলেই চার নেতাকে হত্যা : মুনতাসীর মামুন

প্রবা প্রতিবেদন

প্রকাশ : ০৩ নভেম্বর ২০২২ ১৫:৪৫ পিএম

আপডেট : ০৩ নভেম্বর ২০২২ ১৫:৫৬ পিএম

জেলহত্যা দিবসের আলোচনা সভায় ইতিহাসবিদ মুনতাসীর মামুনসহ অন্যরা। ছবি : প্রবা

জেলহত্যা দিবসের আলোচনা সভায় ইতিহাসবিদ মুনতাসীর মামুনসহ অন্যরা। ছবি : প্রবা

পাকিস্তান ভেঙে বাংলাদেশের জন্ম দিয়েছিলেন বলেই জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে হত্যার পর জাতীয় চার নেতাকে হত্যা করা হয়েছিল বলে মন্তব্য করেছেন ইতিহাসবিদ অধ্যাপক মুনতাসীর মামুন।

আজ (বৃহস্পতিবার) দুপুরে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ে এক আলোচনা সভায় তিনি এ মন্তব্য করেন। ১৯৭৫ সালের ৩ নভেম্বর কেন্দ্রীয় কারাগারে জাতীয় চার নেতার হত্যাকাণ্ডের দিন স্মরণে এ আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের বঙ্গবন্ধু চেয়ার ও ১৯৭১; গণহত্যা-নির্যাতন আর্কাইভ ও জাদুঘরের প্রতিষ্ঠাতা মুনতাসীর মামুন বলেন, ‘বঙ্গবন্ধু ও জাতীয় চার নেতাকে হত্যা করা হয়েছে, তার প্রধান কারণ তারা পাকিস্তান ভেঙে দিয়েছেন। সেই পরাজয়ের গ্লানি মেটাতে বাংলাদেশকে আবারও পাকিস্তানের ভাবধারায় পরিচালিত করতে ও ধর্মকে ব্যবহার করে আধিপত্যবাদ বিস্তারে তারা ১৫ আগস্ট ও ৩ নভেম্বরের হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছিল। বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যার পর জাতীয় চার নেতাকে টার্গেট করা হয়েছিল, কেননা তারাই তো একাত্তরে বঙ্গবন্ধুর আদর্শ ও চেতনা বাস্তবায়ন করেছিলেন।’

বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে চার নেতা সৈয়দ নজরুল ইসলাম, ক্যাপ্টেন মনসুর আলী, এ এইচ এম কামারুজ্জামান ও তাজউদ্দীন আহমদ বাংলার মানুষের মুক্তির জন্য আজীবন কাজ করে গেছেন বলে জানান ইতিহাসের এই অধ্যাপক।

মুনতাসীর মামুন বলেন, ‘মুজিবনগর সরকার যে চার মূলনীতির ভিত্তিতে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল, তার বাস্তবায়নের মূল দায়িত্ব অর্পিত হয়েছিল জাতীয় চার নেতার ওপর। তখন যুবলীগ, ছাত্রলীগ বা আওয়ামী লীগের বহু নেতা তাদের মানতে পারেননি। একসময় তাজউদ্দীন আহমদকে সরে যেতে হলো। তাই তো বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ড বা জাতীয় চার নেতাকে হত্যার পর ছাত্রলীগের কজনের প্রতিবাদ ছাড়া আর কিছু দেখিনি।’

ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগের সমালোচনা করে এ সময় তিনি বলেন, ‘রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম করে যারা বঙ্গবন্ধুর আদর্শ নিকষ করেছে, আওয়ামী লীগ তাদের সংসদে নিয়ে গেছে। আওয়ামী লীগ বঙ্গবন্ধুর আদর্শ থেকে সরে এসেছে।’

মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস পাঠের ক্ষেত্রে একাত্তরের গণহত্যার স্মৃতিগুলো যথাযথভাবে সংরক্ষণ ও গবেষণায় মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের আর্থিক সহযোগিতা চান তিনি।

আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে অনলাইনে যুক্ত হয়েছিলেন মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক।

তিনি বলেন, ‘পঁচাত্তরের ১৫ আগস্ট, ৩ নভেম্বর, ২১ আগস্ট সব একসূত্রে গাঁথা। বাংলাদেশকে পাকিস্তানের মতো একটি ব্যর্থ রাষ্ট্রে পরিণত করতে, বাংলাদেশের জাতীয়তাবাদ মুছে দিতে একাত্তরের ওই পরাজিত শক্তি এখনও তৎপর রয়েছে৷  মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে বহুবার হত্যাচেষ্টা করা হয়েছে। আসলে ওই শক্তির পাকিস্তানি এজেন্ডা তো এখনও শেষ হয়নি।’

বিএনপি নেতারা আওয়ামী লীগকে হুঁশিয়ার করে দিয়ে বলেছেন, ১০ ডিসেম্বরের পর তারা সরকারের পতন ঘটাবেন।

তাদের উদ্দেশে আ ক ম মোজাম্মেল হক বলেন, ‘এর মানে হলো তারা আবারও দেশে একটা অসাংবিধানিক সরকার প্রতিষ্ঠা করতে চায়। তারা আবারও দেশে ১৫ আগস্ট ঘটাতে চায়।’

বুধবার রাজধানীর পল্টনে বিচারপতি শামসুদ্দিন চৌধুরী মানিকের ওপর হামলার নিন্দাও জানান মোজাম্মেল হক ও অধ্যাপক মুনতাসীর মামুন।

মোজাম্মেল হক বলেন, ‘একাত্তরের যুদ্ধাপরাধীদের বিচার প্রক্রিয়ায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখার পাশাপাশি জিয়াউর রহমানের শাসনামল নিয়েও তিনি রায় দিয়েছেন, তাতে ক্ষিপ্ত হয়েছে একাত্তরের পরাজিত শক্তি। তারা বর্ণচোরার মতো নিজেদের নাম-পরিচয় বদলে জাতীয়তাবাদী দলের পরিচয়ে এখন সক্রিয় হয়ে উঠছে। তাদের বিরুদ্ধে পেশিশক্তি নয়, আমাদের সময় এসেছে আদর্শিক লড়াই আরও জোরদার করার।’

যুদ্ধাপরাধীদের বিরুদ্ধে রায় দেওয়ায় তারা বিচারপতি শামসুদ্দিন চৌধুরী মানিকের ওপর ক্ষিপ্ত হয়ে এ হামলা করেছে বলে সভায় দাবি করেন মুনতাসীর মামুন।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব খাজা মিয়া।

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা