প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২০ জানুয়ারি ২০২৪ ২২:১৫ পিএম
আপডেট : ২০ জানুয়ারি ২০২৪ ২৩:০৮ পিএম
চালের দাম অস্বাভাবিক বেড়ে যাওয়ায় বাজার তদারকিতে নেমেছে খাদ্য মন্ত্রণালয়। দাম নিয়ন্ত্রণে বিভাগীয় শহরসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় আড়তদার ও খুচরা ব্যবসায়ীদের দোকানে তদারক করা হচ্ছে। কোথাও কোথাও তাদের সতর্কও করা হয়েছে। কিন্তু এতে তেমন সুফল মিলছে না। খুচরা ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, দাম বাড়ানোর মূল কারিগর মিলমালিক ও বড় ব্যবসায়ীরা। তাদের গুদামে অভিযান না চালালে দাম নিয়ন্ত্রণ সম্ভব নয়। তাই এবার ভিন্ন চিন্তা করছে খাদ্য মন্ত্রণালয়। এ জন্য রবিবার (২১ জানুয়ারি) বড় ব্যবসায়ীদের নিয়ে বৈঠক ডাকা হয়েছে।
এ ব্যাপারে খাদ্যসচিব মো. ইসমাইল হোসেন শনিবার (২০ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বলেন, তারা সব জায়গায় অভিযান চালাচ্ছেন। কারা বড় কারা ছোট তা দেখা হচ্ছে না। আইন সবার জন্য সমান। গত মঙ্গলবার নওগাঁয় একটি বড় কোম্পানির গোডাউনে অভিযান চালিয়ে জরিমানা করা হয়েছে।
তিনি জানান, অভিযান চালানোর কারণে নওগাঁ, দিনাজপুর, রংপুর, চট্টগ্রামে চালের দাম কমে এসেছে। যেসব বড় ব্যবসায়ী ও কোম্পানি গুদামে ধান-চাল মজুদ করে রেখেছে তাদের বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। আর এজন্য বড় কোম্পানির মালিকদের সঙ্গে বৈঠক হতে পারে।
এদিকে শনিবার খাদ্য মন্ত্রণালয়ের উপসচিব মর্জিনা আক্তার মিরপুর শাহ আলী বাজারে অভিযান চালিয়েছেন। তিনি বলেন, তারা খুচরা ব্যবসায়ীদের বস্তাপ্রতি (৫০ কেজি) ৫০ টাকা দাম বাড়ানোর সত্যতা পেয়েছেন। কোনো কোনো ব্যবসায়ী কেজিতে এক থেকে দেড় টাকা দাম বাড়িয়েছে। উপসচিব ড. জয়নাল আবদিনের নেতৃত্বে আরেকটি দল বাড্ডা বাজারে অভিযান চালিয়েছে। ড. জয়নাল আবদিনের সঙ্গে মোবাইলে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলে তা বন্ধ পাওয়া যায়।
এদিকে দেখা গেছে, খাদ্য মন্ত্রণালয়ের তদারকি টিম অভিযান চালানোর সময় নানা অসংগতি পেলেও কাউকে জরিমানা করেনি বা কোনো শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়নি। আবার অনেক স্থানে অভিযানের খবর পেয়ে ব্যবসায়ীরা দোকান ছেড়ে চলে গেছেন। এসব ব্যাপারে ভোক্তারা বলছেন, গোড়ায় অভিযান না চালিয়ে শুধু খুচরা ব্যবসায়ীদের কাছে গিয়ে বাজার নিয়ন্ত্রণ সম্ভব না। অভিযান সূত্র জানায়, অধিকাংশ ব্যবসায়ীই চাল ক্রয়ের রশিদ রাখে না। আবার রাখলেও তার সঙ্গে মূল্যতালিকায় লেখা দামের মিল পাওয়া যায় না।
গত দুই সপ্তাহের ব্যবধানে বিআর-২৮ চালের দাম বেড়েছে ১২ টাকা, মিনিকেটে ১৫ টাকা ও নাজিরশাইলের দাম বেড়েছে ১০ টাকা। বিআর-২৮ চাল জানুয়ারির শুরুতে বিক্রি হয়েছে ৪৮-৫০ টাকা কেজিতে। সেই চাল বর্তমানে বিক্রি হচ্ছে ৫৬-৬০ টাকায়। মিনিকেট চালের দাম ছিল ৬০-৬৫ টাকা কেজি, বর্তমানে বিক্রি হচ্ছে ৭০-৭৫ টাকা। নাজিরশাইল ছিল ৭০-৭২ টাকা, এর দাম বর্তমানে ৭৫-৮০ টাকা।