এইচআরডব্লিউ প্রতিবেদন
প্রবা প্রতিবেদন
প্রকাশ : ১৩ জানুয়ারি ২০২৪ ০০:৪০ এএম
আপডেট : ১৩ জানুয়ারি ২০২৪ ১০:৫৯ এএম
ফাইল ছবি
সুষ্ঠু নির্বাচনের দাবিতে কথা বলায় বাংলাদেশে ব্যাপক দমন-পীড়ন চালানো হয়েছে বলে দাবি করেছে এইচআরডব্লিউ (হিউম্যান রাইটস ওয়াচ)। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক মানবাধিকার সংগঠনটি বৃহস্পতিবার তাদের ২০২৪ সালের বৈশ্বিক প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে বিরোধী দলের সদস্যদের ওপর ব্যাপক দমন-পীড়ন হয়েছে, যা একটি অবাধ ও সুষ্ঠু ভোটের অঙ্গীকার ব্যাহত করেছে। গত ৭ জানুয়ারি নির্বাচনের পর শেখ হাসিনার সরকার টানা চতুর্থ মেয়াদে ক্ষমতায় এসেছে। সুষ্ঠু ভোটপ্রক্রিয়ার বিষয়ে আস্থা না থাকায় প্রধান বিরোধী দলগুলো এই নির্বাচন বর্জন করেছে। নির্বাচনের আগে সরকার বিএনপির প্রায় আট হাজার নেতা-কর্মী-সমর্থককে গ্রেপ্তার করেছে। প্রতিবেদনের দাবি করা হয়, গ্রেপ্তারের উদ্দেশ্য ছিল যাতে তারা নির্বাচনে অংশ নিতে না পারে। পুলিশ বিরোধীদের গ্রেপ্তার করে আদালতে হাজির করার আগে বেআইনিভাবে আটকে রাখে।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ২০০৯ সাল থেকে এ পর্যন্ত ৬০০টির বেশি গুমের ঘটনা ঘটিয়েছে দাবি করে প্রতিবেদনের বলা হয়, গুমের ঘটনায় এখনও ১০০ জন নিখোঁজ রয়েছেন। যুক্তরাষ্ট্র র্যাবকে নিষেধাজ্ঞার আওতায় নিয়ে আসার পর গুম হওয়ার ঘটনা উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে বলে বাংলাদেশের পর্যবেক্ষকদের বরাতে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়। হিউম্যান রাইটস ওয়াচের এশিয়া অঞ্চলের উপপরিচালক মীনাক্ষী গাঙ্গুলির বরাতে প্রতিবেদনের বলা হয়, বাংলাদেশের প্রধান বাণিজ্য অংশীদারদের উচিত তাদের ব্যবসা-বাণিজ্য অব্যাহত রাখার শর্ত হিসেবে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নিপীড়নের বিষয়ে একটি স্বাধীন তদন্তের ওপর জোর দেওয়া। জবাবদিহির অভাবে দুর্নীতির সংস্কৃতি বেড়ে যাচ্ছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, মত প্রকাশের অধিকারের জন্য বাংলাদেশে মানবাধিকারকর্মী ও সাংবাদিকরা ক্রমবর্ধমান হারে আক্রমণের শিকার হচ্ছেন। নির্বাচনের আগে সহিংসতায় অনেক সাংবাদিক আহত হন। প্রতিবেদনে সাইবার নিরাপত্তা আইনের সমালোচনা করে বলা হয়েছে, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ক্ষুণ্ন করতে এবং সরকার সমালোচকদের শায়েস্তা করতে এই আইন ব্যবহার করা হয়েছে।
রোহিঙ্গা প্রসঙ্গে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ প্রায় ১০ লাখ রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দিয়েছে। কিন্তু কর্তৃপক্ষ আশ্রয়শিবিরে ক্রমেই বৈরী পরিবেশ সৃষ্টি করছে। ফলে শরণার্থীরা নৌকায় বিপজ্জনক পথে নিরাপদ আশ্রয়ের উদ্দেশে অন্য দেশে ছুটছে। প্রতিবেদনে রোহিঙ্গাদে খাদ্য ও ওষুধ বাবদ ব্যয় কমানোর সমালোচনা করা হয়েছে। প্রায় ৩০ হাজার রোহিঙ্গাকে বিচ্ছিন্ন ভাসান চরে নির্বাসিত করে রাখা হয়েছে বলে সমালোচনা করা হয়েছে।
প্রায় ৭৪০ পৃষ্ঠার প্রতিবেদনে ১০০টির বেশি দেশে মানবাধিকার চর্চা পর্যালোচনা করেছে এইচআরডব্লিউ। সূচনা প্রবন্ধে সংস্থাটির নির্বাহী পরিচালক তিরানা হাসান বলেছেন, ২০২৩ সালে শুধু মানবাধিকার দমন এবং যুদ্ধকালীন নৃশংসতার জন্যই নয়, বরং নির্বাচনকালীন সরকারি ক্ষোভ এবং অনৈতিক লেনদেনের জন্যও উল্লেখযোগ্য।
সূত্র : এইচআরডব্লিউ ওয়েবসাইট